২১ জুন ২০১৮

ব্রিটিশ সাঁতারুর বাংলা চ্যানেল জয়

-

সাঁতার কেটে ১৬ কিলোমিটার দূরত্বের বাংলা চ্যানেল অতিক্রম করেছেন ব্রিটিশ সাঁতার প্রশিক্ষক ও সাংবাদিক বেকি হর্সব্রো। আজ তিনি বাংলা চ্যানেলটি অতিক্রম করেছেন।

সকালে তিনি টেকনাফ থেকে সাঁতার শুরু করেন এবং ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময় নিয়ে বঙ্গোপসাগরের মোহনা দিয়ে সেন্ট মার্টিন পৌঁছান। বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুহার কমানোর কার্যক্রমের জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষেই তিনি এই বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন।
কোন ব্রিটিশ নাগরিকের এটিই প্রথম বাংলা চ্যানেল অতিক্রমের ঘটনা। নির্ধারিত পথ অতিক্রম করার পর এই নারী সাঁতারু বাসসকে বলেন, ‘কোন ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে প্রথম এই বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে পেরে আমি গর্বিত।’

এটিকে অসাধারণ এক সফলতা উল্লেখ করে এই সাঁতার প্রশিক্ষক ও সাংবাদিক বলেন, ‘আমার এই সাঁতারের মাধ্যমে বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোতে ভুমিকা রাখতে পেরে আমি খুশি। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনসন এন্ড রিসার্চের (সিআইপিআরবি) উদ্যোগে এই কাজে আমি মানুষের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি।’
বেকি বলেন, ‘বাংলাদেশে এটি আমার জন্য বিশাল এক সফলতা। কারণ এই দেশ এবং এখানকার জনগণের প্রতি আমার রয়েছে অগাধ ভালবাসা।

এসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এই সাংবাদিক সকাল সাড়ে ৮টায় সাঁতার শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় ডাক্তারী পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পাদনে বেশি সময় লাগার কারণে সেটি বিলম্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত সকাল ৯টা ২০ মিনিটে টেকনাফ থেকে তিনি শুরু করেন দূরপাল্লার এই রোমঞ্চকর সাঁতার। টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সমুদ্রপথটি বাংলা চ্যানেল হিসেবে পরিচিত।
বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ৫০টি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এই পরিসংখ্যান দেখে বিস্মিত বেকি। অথচ যুক্তরাজ্যে বছরে মারা যায় মাত্র ১৫টি শিশু। যে কারণে এই বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

১৯৫৮ সালে বাংলাদেশের কিংবদন্তী সাঁতারু ব্রজেন দাস প্রথম এশীয় সাঁতারু হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিলেও এ পর্যন্ত কোনো ব্রিটিশ নাগরিক বাংলা চ্যানেল পাড়ি জমায়নি। যেটি সম্পন্ন করে দেখালেন বেকি।

বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেবার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বেকি বলেন, ‘আমি যদি বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে সফল হতে পারি তাহলে যুক্তরাজ্যে এটিকে পরিচিত করে তুলব।’ তিনি গত বছর প্রথম বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘তখন থেকেই ফের বাংলাদেশ সফরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং এর মাধ্যমে সিআইপিআরবি’র জন্য তহবিল গড়ার বিষয়ে মনোযোগী হই।’


আরো সংবাদ