২৭ জানুয়ারি ২০২০

রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার : পাথরের মতো বসে ছিলেন সু চি

আইসিজের শুনানিতে উপস্থিত অং সান সু চি। - ছবি : বিবিসি

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে শুনানির প্রথম দিনে যখন রোহিঙ্গাদের ওপর সে দেশের সামরিক বাহিনীর একের পর এক নৃশংসতার ঘটনা তুলে ধরা হচ্ছিল তখন সেখানে পাথরের মতো মুখ করে বসে ছিলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি।

এসব অভিযোগের জবাব দেয়ার জন্য মিয়ানমার যে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে ফার্স্ট মিনিস্টার সু চি নিজেই তার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

দ্য হেগ শহরের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।

সে দেশের বিচারমন্ত্রী আবুবাকার তাম্বাদু শুনানির শুরুতে বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচার হত্যার প্রশ্নে বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করতেই তার দেশ আইসিজেতে এই অভিযোগ এনেছে।

‘সারা বিশ্ব কেন এখন নীরব দর্শক? কেন আমাদের জীবদ্দশাতে এটা আমরা ঘটতে দিচ্ছি?’ তিনি বলেন, ‘সবাই মনে করে এখানে মিয়ানমারের বিচার হচ্ছে। আসলে এখানে বিচার চলছে আমাদের সামগ্রিক মানবিকতার।’

শুনানির প্রথম দিনে বাদীপক্ষের বক্তব্য শোনা হচ্ছে।

মিয়ানমার এসব অভিযোগের জবাব দেবে বুধবার। এরপর বৃহস্পতিবার দু’পক্ষের মধ্যে যুক্তি-তর্ক হবে।

দ্য হেগ থেকে বিবিসি সংবাদদাতারা খবর দিচ্ছেন, প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে সু চি যুক্তি দেখাবেন যে, এই বিষয়ে বিচার করার অধিকার আইসিজের নেই।

শুনানিতে বক্তব্য রাখার সময় গাম্বিয়ার নিযুক্ত একজন কৌসুঁলি অ্যান্ড্রু লোয়েনস্টিন রাখাইনের মংডু শহরে বেশ কয়েকটি পাইকারি খুনের বিবরণ পেশ করেন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, যাকে টাটমাডাও নামেও ডাকা হয়, ওই শহরের শত শত রোহিঙ্গা বেসামরিক পুরুষকে হত্যা করে এবং নারীদের ধর্ষণ করে।

আইসিজের ওয়েবসাইট থেকে লাইভ স্ট্রিম করা শুনানিতে এসব বিবরণ যখন পড়ে শোনানো হচ্ছিল তখন অং সান সু চির মুখে কোনো অভিব্যক্তি লক্ষ্য করা যায়নি।

কখনো সোজা সামনে তাকিয়ে, কখনো মাটির দিকে তাকিয়ে তাকে বাদীপক্ষের বক্তব্য শুনতে দেখা যায়।

শুনানির প্রথম দিকে গাম্বিয়ার লক্ষ্য হচ্ছে, আদালতের কাছ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ লাভ করা।

উদ্দেশ্য, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যে প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা রয়ে গেছেন তাদের ওপর যেন কোনো ধরনের নির্যাতন না চলে, তা সুনিশ্চিত করা।

পাশাপাশি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ধ্বংস করার বিরুদ্ধেও ওই আদেশ কার্যকরী হবে বলে বাদীপক্ষ আশা করছে।

‘আদালত এই রায় দেবে কি দেবে না, সেটা নতুন বছরের শুরুর দিকেই জানা যাবে,’ বলছেন অক্সফোর্ডের ট্রিনিটি কলেজের আইনের অধ্যাপক মাইকেল বেকার।

‘এটা এক দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সূচনা মাত্র। এই মামলাটির নিষ্পত্তি হতে কয়েক বছর লেগে যাবে। কিন্তু গোড়ার দিকেই মিয়ানমারের অভ্যন্তরের রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপত্তা বিধানের প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ

হামলার পর ইশরাকের বাসায় এসে যা বললেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার (১৫৭৬৮)ওমর আবদুল্লাহকে দেখে চিনতেই পারলেন না, কষ্টে মুষড়ে পড়ছেন মমতা (১৩০৮৮)হামলার পর জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে যে ঘোষণা দিলেন ইশরাক (৯০৮৩)চীনের পক্ষে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না, বলছেন বিজ্ঞানীরা (৬৯৫২)স্ত্রী হিন্দু, তিনি মুসলিম, ছেলেমেয়েরা কোন ধর্মাবলম্বী? মুখ খুললেন শাহরুখ (৬৫৮৮)সাকিবের বাসায় প্রাধানমন্ত্রীর রান্না করা খাবার (৬৪৭৬)শ্বাসরোধ করে হত্যার রুদ্ধশ্বাস রহস্যের উদঘাটন (৫৬৬১)কোলে তুলে দেড়ঘণ্টা লাগাতার উদ্দাম নাচ, হিজড়াদের 'অত্যাচারে' নবজাতকের মৃত্যু (৫১০৯)সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস (৪৭৮১)ইশরাকের গণসংযোগ জনস্রোতে পরিণত (৪৫৯৬)