২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পাশে থাকছে চীন

মিয়ানমার সেনাপ্রধানের সাথে বৈঠকে চীনের দূত - ছবি: সংগৃহীত

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় মিয়ানমারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। গতকাল বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে মিয়ানমারের কমান্ডার ইন চিফ (সেনাপ্রধান) মিন অং হ্লাইংয়ের সাথে এক সাক্ষাতে এ কথা জানান সফররত চীনা দূত চেন হাই।

দেশটির সেনাবাহিনীর একটি ওয়েবসাইট সূত্রে এ খবর দিয়েছে থাইল্যান্ডভিত্তিক গণমাধ্যম ইরাবতী। খবরে প্রকাশ, চীনা দূত ও মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের মধ্যে বৈঠকের পর এ বিষয়ে এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের কার্যালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। বিষয়গুলো হলো—রোহিঙ্গা ও মানবাধিকার বিষয়ে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপের বিরুদ্ধে চীনের অবস্থান; মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্য ও মান্দালায় অঞ্চলের গ্যারিসন শহরে সহিংস হামলা এবং জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সাথে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ও মিয়ানমার সরকারের গৃহীত শান্তি প্রক্রিয়ায় চীনের সহায়তা অব্যাহত রাখা।

গত ১৫ আগস্ট শান প্রদেশের অন্তত পাঁচটি স্থানে বিদ্রোহী তিনটি গ্রুপের যৌথ হামলায় মিয়ানমারের ১৫ জন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় ১৯ আগস্ট চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে নিন্দা জানানো হয়। বৃহস্পতিবার চেন ব্যক্তিগতভাবে চীনের কূটনৈতিক বার্তা দিতে মিয়ানমার ছুটে এসে সেনাপ্রধানের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

এদিকে, বাংলাদেশে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন। তাদের বেশির ভাগই মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বর্বর অভিযান থেকে জীবন বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

মিয়ানমার সরকার ৩ হাজার ৪৫০ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণায় অনেকটা তড়িঘড়ি করেই প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। গত মঙ্গলবার থেকে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাতকার নেয়ার মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। এসময় জাতিসঙ্ঘ শরণার্থী হাই কমিশনের কর্মকর্তারা প্রথমে তালিকায় থাকা রোহিঙ্গাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের মিয়ানমার সরকারের ফিরিয়ে নেয়ার বার্তা পৌছে দেয়। পরে তাদের সংশ্লিষ্ট সিআইসি অফিসে নিয়ে এসে সাক্ষাতকার বা মতামত নেয়া হচ্ছে।

গত দুই দিনে টেকনাফের ৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রত্যাবাসনের তালিকায় থাকা ২৩৫ পরিবারের সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে। ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনের জন্য সব ধরণের প্রস্তুত রয়েছে সরকারের। সেচ্ছাসম্মতিতে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ট্রানজিট পয়েন্ট দিয়ে প্রত্যাবাসন করা হবে। সেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের জন্য যানবাহন ও নিরাপত্তা সহ সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সরকারের সকল প্রস্তুতি থাকলেও রোহিঙ্গাদের নানা দাবীতে প্রত্যাবাসন অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নানা দাবি জুড়ে দিচ্ছে। তাদের দাবি পূরণ না হলে মিয়ানমারে ফিরে যাবে না বলে জানান এসব রোহিঙ্গারা।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat Paykasa buy Instagram likes Paykwik Hesaplı Krediler Hızlı Krediler paykwik bozdurma tubidy