২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

‘কাশ্মিরি গাজা’য় নজিরবিহীন প্রতিরোধ

‘কাশ্মিরি গাজা’য় নজিরবিহীন প্রতিরোধ - ছবি : সংগৃহীত

আবর্জনার স্তূপে আগুন জ্বালিয়ে পাশের একটি পাথরের স্তূপের কাছে বসে আছেন একদল তরুণ। মসজিদের মাইকে ভেসে আসছে স্বাধীনতার স্লোগান। ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের অবরুদ্ধ একটি গ্রাম সৌরা; যা ‘কাশ্মিরি গাজা’ হিসেবে পরিচিত। এই গ্রামের প্রবেশ পথে বসে পাহারা দিচ্ছেন তরুণরা। গ্রামে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের প্রবেশ ঠেকাতে তারা প্রবেশ পথে নিয়ম করে পাহারা বসিয়েছেন। 

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন বাতিলে নয়াদিল্লির নেয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কাশ্মিরিদের প্রকাশ্য অবাধ্যতার নজির এটি। কাশ্মিরের প্রধান শহর শ্রীনগরের কাছে ‘সৌরা’র অবস্থান। এই এলাকাটিই কাশ্মিরি গাজা নামে পরিচিত। নিরাপত্তাবাহিনীর কোনো সদস্যই গ্রামটিতে প্রবেশ করতে পারে না।

কাশ্মিরির বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর আগস্টের শুরু থেকেই এখানকার বাসিন্দারা টিনের পাত, কাঠের গুঁড়ি, তেলের ট্যাঙ্ক, কংক্রিটের পিলার ও মাটি খুঁড়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন। ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিদিনের তীব্র বিক্ষোভ-প্রতিবাদের পাশাপাশি তারা এসব করেছেন সেনা সদস্যদের গ্রামে প্রবেশ ঠেকাতে। রাতের বেলা গ্রামের প্রবেশ পথে যে যুবকরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পাহারা দেন, তাদের একজন মুফিদ। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘তারা শুধু আমাদের লাশের ওপর দিয়ে সৌরায় ঢুকতে পারে। আমরা ভারতকে আমাদের এক ইঞ্চি মাটিও দেবো না।’

‘গাজায় যেভাবে ইসরাইলকে প্রতিরোধ করা হচ্ছে, আমরা সেভাবেই আমাদের মাতৃভূমির জন্য সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করব।’ ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে কাশ্মিরে তিন দশকের বেশি সময় ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহ চলছে। নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে; যাদের অধিকাংশই বেসামরিক।
কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের আগেই ভূস্বর্গখ্যাত এই উপত্যকায় হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনাসদস্য মোতায়েন করে ভারত। তার আগে থেকেই কাশ্মিরে ৫ লাখের বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে ছড়াতে না পারে সে জন্য সব ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু তারপরও প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নি¤œ মধ্যবিত্ত সৌরা এলাকা এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছে। গত ৯ আগস্ট এখানে কমপক্ষে ১৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন, এখন পর্যন্ত এটিই কাশ্মিরের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তাবাহিনী তাজা গুলি, টিয়ার গ্যাস ও পেলেট গান নিক্ষেপ করেছে। এতে দুই ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

ভারত ফিরে যা
লেকের পাশে অবস্থিত সৌরায় দুই হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এই এলাকাটি তিন দিক থেকে ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। এই বসতির বিক্ষোভের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে ‘জেনাব সায়েব’ নামের বিখ্যাত একটি মসজিদ। সরু পথ ধরে প্রত্যেক রাতে এখানকার বাসিন্দারা গ্রামে মিছিল করেন। তাদের হাতে থাকে টর্চ লাইট। টর্চের আলোতে প্রাচীরে লেখা গ্রাফিতি ‘কাশ্মিরের স্বাধীনতা’, ‘ভারত যা, ফিরে যা’ ভেসে ওঠে। সৌরার আশপাশে মহাসড়কে পুলিশের কোনো ধরনের উপস্থিতি টের পেলে স্থানীয়রা গ্রামে টহলরত তরুণদের কাছে খবর পৌঁছে দেন।
সৌরায় পুলিশ ড্রোন এবং হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। এই গ্রামের ভেতরে প্রায় তিনবার ড্রোন ও হেলিকপ্টার প্রবেশের চেষ্টা করলেও সৌরার তরুণরা পাথর নিক্ষেপ করে সেগুলো ফেরত যেতে বাধ্য করেছে। অনেক তরুণের কাছে কুঠার এবং হারপুন রয়েছে।
পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে মরিচের গুঁড়া ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এর ঝাঁঝ থেকে বাঁচতে তরুণরা লবণযুক্ত পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলেন। পুলিশের ছোড়া পেলেট গানের আঘাত থেকে বাঁচতে তারা হেলমেট, চশমা পরেন। তবে এই এলাকা থেকে বাইরে বের হওয়ায় সেখানকার তিন তরুণ গ্রেফতার হয়েছেন। কাশ্মিরে এখন পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

নাহিদা নামের এক তরুণী বলেন, ‘তারা আমাদের স্থিতিস্থাপকতার পরীক্ষা নিচ্ছে এবং নিশ্চিতভাবেই তারা এতে ব্যর্থ হবে। শেষে আমরা তাদের পরাজিত করব। এমনকি এই পরিস্থিতি যদি বছরের পর বছর ধরেও চলতে থাকে, আমরা ছাড় দেবো না।’
সৌরার এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলছে যে, অচলাবস্থা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অনেকাংশেই শান্ত রয়েছে কাশ্মির।

ঐতিহাসিক ভুলের সংশোধনের শুরু
সৌরার বাসিন্দা রফিক মনসুর শাহ বলেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে আব্দুল্লাহর সিদ্ধান্তে অনেকেই আশাহত।’ তিনি বলেন, আব্দুল্লাহর পরিবারের ক্ষমতার লোভের কারণে... আমরা ভারতের দাসে পরিণত হয়েছি। আমরা ঐতিহাসিক এই ভুল সংশোধনের চেষ্টা করছি। আমরা পুরো কাশ্মিরকে অনুপ্রাণিত এবং নেতৃত্ব দেয়ার চেষ্টা করছি। সূত্র : এএফপি।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat Paykasa buy Instagram likes Paykwik Hesaplı Krediler Hızlı Krediler paykwik bozdurma tubidy