২০ আগস্ট ২০১৯

রুশ এস-৪০০ : ভারতকে ফের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

রুশ এস-৪০০ : ভারতকে ফের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের - ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিরোধিতা আমেরিকা আগেও করেছে, এখনো করছে — বুধবার পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানানো হয়েছে। আমেরিকার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অত্যাধুনিক এফ-৩৫ এর মোকাবিলার জন্যই রাশিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রে মাধ্যমে মাত্র ৯ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ৬০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করা সম্ভব। ভারতও এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে।

রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচটি দূরপাল্লার এস-৪০০ ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পেলে ভারতের সামরিক বাহিনীর চেহারাই বদলে যাবে বলে মনে করছে ভারত। বুধবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক লোকসভায় জানান যে ২০২৩ সালের এপ্রিলের মধ্যেই ভারত রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র পেয়ে যাবে। রাশিয়ার সামরিক রপ্তানির উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া জারি রাখার বিষয়টি যে আমেরিকা ভালো চোখে দেখছে না, পেন্টাগনের এদিনের হুঁশিয়ারি থেকে এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন। তাতে বলা রয়েছে যে, কোনো দেশ রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাণিজ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করলে তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। তবুও রাশিয়ায় তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্ক গত সপ্তাহে হাতে পেয়েছে।
আমেরিকা বলেছে, তুরস্ক একই সঙ্গে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আমেরিকার অত্যাধুনিক ফাইটার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করতে পারবে না। এদিন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি (নীতি নির্ধারণ) ডেভিড জে ট্র্যাক্টেনবার্গ বুধবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক খুবই ভালো। সেই সম্পর্ককে আমরা আরো মজবুত করতে চাই।’

রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রসঙ্গে ট্র্যাক্টেনবার্গ বলেছেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা চাই আমেরিকার পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ এর মোকাবিলার জন্য রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র কোনো দেশ যেন না কেনে।’
তুরস্ক এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনায় তাদের আর এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। ভারত যদিও এই চাপের কাছে মাথা নোয়াতে নারাজ।
ট্র্যাক্টেনবার্গ বলেছেন, ‘তুরস্কের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক!’ তার আশা, আর কোনো দেশ নিশ্চয়ই এই ভুল করবে না। এই ইঙ্গিত এবং হুঁশিয়ারি যে ভারতের দিকেই, তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।


আরো সংবাদ




bedava internet