২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পাকিস্তানের অগ্রিম সতর্কবার্তার পরও কাশ্মিরে হামলায় ২ ভারতীয় সেনা নিহত

পাকিস্তানের অগ্রিম সতর্কবার্তার পরও কাশ্মিরে হামলায় ২ ভারতীয় সেনা নিহত - সংগৃহীত

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরে ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই বেসামরিক ব্যক্তি। সোমবার সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ দক্ষিণ কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলার আরিহাল গ্রামে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ি লক্ষ্য করে স্বাধীনতাকামীরা বিস্ফোরণ ঘটালে ছয় সেনা সদস্য আহত হন।

আহতদের মধ্যে দুই সেনা সদস্য মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শ্রীনগর সামরিক হাসপাতালে মারা গেছেন। ভারতের প্রতিরক্ষা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাজেশ কালিয়া ওই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অবশ্য স্বাধীনতাকামীদের হামলায় দুই সেনা সদস্য নিহত হওয়ার পরও ভারতীয় সেনাবাহিনী সোমবার দাবি করে যে, সেনাবাহিনীর সতর্কতার জন্যই স্বাধীনতাকামীরা ‘বড় ক্ষতি’ করতে পারেনি। স্বাধীনতাকামীদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে, পুলিশের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, বিস্ফোরণের ফলে পুলওয়ামার আরিহাল এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি ভ্রাম্যমান টহলযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ এ ব্যাপারে একটি মামলা রুজু করে ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, ওই ঘটনার একদিন আগে থেকেই জম্মু-কাশ্মিরে আইইডি বিস্ফোরণের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এরআগে পাকিস্তান জম্মু-কাশ্মিরে আইইডি হামলা হতে পারে বলে ভারত ও আমেরিকাকে জানিয়েছিল। এরপরেই জম্মু-কাশ্মিরে সমস্ত নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক হয়ে যায়। দক্ষিণ কাশ্মিরে হামলা হতে পারে ভারতকে জানায় পাকিস্তান।

গণমাধ্যমকে এক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসলামাবাদে ভারতের হাইকমিশনকে হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। আমেরিকাকেও বিষয়টি জানায় পাকিস্তান। মার্কিন গোয়েন্দারাও তারপর আমাদের সতর্ক করে দেন।’ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে স্বাধীনতাকামী জাকির মুসার মৃত্যুর বদলা নিতেই স্বাধীনতাকামীরা নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে, এমন তথ্য হাতে এসেছে বলেও ওই কর্মকর্তা বলেন।

এদিকে, পাকিস্তানের সতর্কবার্তার পরেই ওই ঘটনায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। আগামী ৩০ জুন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জম্মু-কাশ্মির সফরে যাবেন। তার আগে গোটা রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ফের খতিয়ে দেখতে চাচ্ছেন নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মিরের পুলওয়ামাতে আইইডি ভর্তি গাড়িবোমা বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে বড়সড় আত্মঘাতী হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সে সময় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টিসহ দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়। সূত্র : পার্সটুডে।


আরো সংবাদ