২৬ জুন ২০১৯

গরুর গোশত রাখার অভিযোগে মুসলিমদের বেধড়ক মার

গরুর গোশত রাখার অভিযোগে মুসলিমদের বেধড়ক মার - ছবি : সংগ্রহ

দ্বিতীয়বারের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে এখনো শপথ নেননি নরেন্দ্র মোদি৷ গঠিত হয়নি নয়া মন্ত্রিসভা৷ কিন্তু তার আগেই ভাবী সরকারের চিন্তা বাড়তে শুরু করেছে গোরক্ষকরা৷ ২০১৪ সালের পর গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছিল, এবারে সেই একই অভিযোগ মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে৷ সম্প্রতি একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে৷ যেখানে দেখা যাচ্ছে গরুর গোশত রাখার অভিযোগে তিনজন মুসলিম যুবককে বেধড়ক মারধর করছে একদল গোরক্ষক৷ প্রহৃতদের মধ্যে রয়েছেন একজন মহিলাও৷ অভিযুক্তরা বারবার ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তুলছেন৷ এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠিপেটা করছে তিন মুসলিম যুবককে৷

জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে এই ভয়ংকর ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের সেওনি এলাকার একটি গ্রামে৷ অভিযোগ, ভিডিওয় দৃশ্যমান দুই মুসলিম যুবক এবং ওই মহিলার কাছে গরুর গোশত রয়েছে, তা কোনোভাবে জানতে পারেন গোরক্ষকরা৷ সংখ্যালঘু তিন ব্যক্তির উপর চড়াও হয় ওই গোরক্ষকরা৷ গাছের সঙ্গে বেঁধে মোটা লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় তাদের৷ কেবল পেটানোই নয়, মুসলিম তিন ব্যক্তিকে প্রাণনাশের হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়৷ ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে মারতে মারতে বারবার ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিচ্ছে অভিযুক্ত গোরক্ষকরা৷ ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া ছড়িয়ে পড়তে আতঙ্কে নড়চড়ে বসেছেন নেটিজেনরা৷

ঘটনার নিন্দা করেছেন এআইএমআইএম নেতা তথা হায়দরাবাদের এমপি আসাদউদ্দিন ওয়েইসি৷ এই বিষয়ে সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি৷ ঘটনার নিন্দা শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও৷ ২০১৪-তে বিজেপি সরকার দিল্লির মসনদে বসার পর বারবার এই ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে৷ বিশেষ করে গোবলয়ে সংখ্যালঘুদের উপর গোরক্ষকদের তাণ্ডব মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে গেরুয়া শিবিরের৷ সামনে এসেছে দাদরির মতো ঘটনা৷ একটা সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই বিষয়ে মুখ খোলেন৷ এবারও সেই একই ছবি দেখা যাচ্ছে৷ প্রশ্ন উঠছে, এবার কি গোরক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে বিজেপি সরকার?
সূত্র : সংবাদপ্রতিদিন


আরো সংবাদ