২৪ মে ২০১৯

ভারতের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ : মামলা খারিজ যে যুক্তিতে

ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ - সংগৃহীত

ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর বিরুদ্ধে এক মহিলাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তা কার্যত নাকচ করে করে দিলো সুপ্রিম কোর্টেরই এক ডিভিশন বেঞ্চ। শনিবার সকালে ডিভিশন বেঞ্চ শুনানির সময় জানিয়ে দেয়, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে তা অবান্তর ও ভিত্তিহীন। বিচারক অরুণ মিশ্র এবং বিচারক সন্দীপ খান্নাকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, দেশের মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানই স্বশাসিত। একটা হচ্ছে পিএমও এবং অন্যটি হলো সুপ্রিমকোর্ট। কিছু স্বার্থান্বেষী চক্র এই সুপ্রিমকোর্টকে কালিমালিপ্ত করতে এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে।

সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত এক মহিলা রঞ্জন গগৈর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের যে অভিযোগ তুলেছেন তা একাংশ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট মনে করে, দেশের উচ্চতম ন্যায়ালয়কে কলঙ্কিত করতেই এ ধরনের উদ্ভট অভিযোগ তোলা হয়েছে। হলফনামায় মহিলাটি দাবি করেছেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন কর্মী ছিলেন। এই সুযোগ নিয়েই দেশের মুখ্য বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের ২২ জন বিচারপতি তাঁকে যৌন নির্যাতন চালান। হলফনামায় মহিলাটি আরো অভিযোগ করেন, তিনি যাতে কোনোভাবেই এ সমস্ত গোপনীয় খবর ফাঁস না করেন তার জন্য তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতিও প্রদর্শন করা হয়। এই অভিযোগটি চারটি ওয়েবসাইটে পরিবেশন করা হয়।

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ জানিয়েছেন, কোনো সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন কর্মী এ ধরনের অভিযোগ জানাতেই পারেন না। আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে শুনানি হবে। ঠিক তার প্রাক্কালেই মহিলার এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কেউ এই বিষয়টি উত্থাপন করে আসলে প্রধান বিচারপতির কার্যালয়কে কালিমালিপ্ত ও অস্থিতিশীল করতে চাইছে। তিনি আরো বলেন, দেশের মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানই হচ্ছে স্বাধীন। তারমধ্যে একটা হলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং অন্যটি হলো প্রধান বিচারপতির কার্যালয়।

তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে রঞ্জন গগৈ বলেন, এত বছর চাকরির পর আমার ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে মাত্র ৬ লক্ষ রুপি এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড হিসেবে অবসরের পর আমি ৪০ লক্ষ রুপি পাব। সুপ্রিম কোর্টের পিওন হিসেবে যে চাকরি করছে তারও সঞ্চয়ের পরিমাণ আমার চেয়ে বেশি। আসলে সুপ্রিম কোর্ট একটি মর্যাদার বিষয়। এত বছর স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং বিভাগের মর্যাদা অটুট রাখার লক্ষে যে লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতে হয়েছে তার পরও যদি এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ ওঠে তা হলে ভবিষ্যতে কোনো ভালো মানুষ এই বিভাগের বিচারপতি হতে উত্সাহিত হবেন না। এত নীচ মনোবৃত্তি নিয়ে যারা এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলতে পারে তাদের জবাব দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না, জানান রঞ্জন গগৈ।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিত্তিহীন অভিযোগের পর একটাই বিষয় স্পষ্ট হয় যে এটা বিচার বিভাগের প্রতি এক ধরনের হুমকি। স্বাধীন বিচার বিভাগের মর‌্যাদা খাটো করতেই যারা এ ধরনের অভিযোগ তুলেছেন তারা মোটেও ভালো কাজ করছেন না। তিনি আরো বলেন, বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে আমাকে কঠিন এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। কারণ স্বাধীন বিচার ব্যবস্থাকে এভাবে কালিমালিপ্ত করা যায় না। বিচারক অরুণ মিশ্র গগৈর সমর্থনে এগিয়ে এসে জানান, সাধারণ মানুষের আস্থা রয়েছে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার প্রতি। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কেউ যদি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থাকে খাটো করার চক্রান্ত করেন তা হলে বিচার ব্যবস্থা কী করে কাজ করবে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে মহিলা মুখ্য বিচারপতির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন তারও তীব্র সমালোচনা করেন বিচারপতি অরুণ মিশ্র।


আরো সংবাদ




Instagram Web Viewer
agario agario - agario