২৫ আগস্ট ২০১৯

ভারতে মুসলিম বন্দির গায়ে গরম লোহা দিয়ে লেখা হলো হিন্দুদের ‘ওঁ’

তিহারের জেল কর্তৃপক্ষের মুসলিম বন্দির পিঠে আঁকা ‘ওঁ’ - ছবি : সংগৃহীত

ভারতের তিহার জেল সুপারের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগ করেছেন এক মুসলমান বন্দি। মারাত্মক নিপীড়ন, খাবার না দেয়ার পাশাপাশি তার শরীরের লিখে দেয়া হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় চিহ্ন ‘ওঁ’। ভারতের আজকাল পত্রিকায় আজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দিল্লির এক আদালতে হাজির করা হলে নাবির নামের ওই মুসলমান বন্দি এ অভিযোগ করেন। বিচারকের সামনে তিনি জামা খুলে দেখান, প্রায় ছয় ইঞ্চি জায়গা জুড়ে এঁকে দেয়া হয়েছে ‘ওঁ’।

জানা গেছে, শুক্রবার অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের মামলায় জেল হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধি করার জন্য তাকে পেশ করা হয়েছিল দিল্লির কড়কড়ডুমা আদালতে৷ সেখানেই এ অভিযোগ করেন নাবির। সকলের সামনেই এরপর নিজের জামা খুলে বিচারপতিকে দেখায় তার পিঠের চিহ্নটি। দেখা যায় ওই বন্দির বাঁ-কাঁধের একটু নিচে প্রায় ছ’ইঞ্চি বড় ওই ‘ওঁ’ চিহ্নটি খোদাই করা হয়েছে।

জেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের ব্যাখ্যা, যদি জোর করে ওই চিহ্নটি খোদাই করা হত, তাহলে এত নিখুঁতভাবে সেটি আঁকা যেত না।

দিল্লির ওই আদালতের বিচারপতি অবশ্য জেল কর্তৃপক্ষের এ বক্তব্যকে বিশ্বাস না করে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কারা বিভাগের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব প্রিজনের ওপর এর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বিচারপতি বলেন, ঘটনার প্রয়োজনীয় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া, অন্যান্য বন্দিদের জবানবন্দিও নেয়া হবে। জেলের বন্দিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়টি যাতে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়, সেই ব্যাপারেও নির্দেশ দেয়া হল কারা কর্তৃপক্ষকে’। আদালত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে তিহার জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। এরপরও রায় দেয়া হবে।

তবে যতদিন না তদন্তের রিপোর্ট আসছে, ততদিন ওই বন্দিকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দিল আদালত। এতদিন অবৈধ অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে দোষী নাবিরকে রাখা হয়েছে তিহারের জেলের চার নম্বর সেলে।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পরে মুখে তালা দিয়েছেন তিহার জেল কর্তৃপক্ষ। কী ভাবে একজন বন্দির গায়ে এই ধরনের চিহ্ন আঁকা হল, তা নিয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না তিহার প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কোনো কর্মকর্তাই। এক জনের কথায়, ‘আদালতের নির্দেশ মতো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে৷ এ বিষয়ে যা বলার তা আদালতকেই লিখিতভাবে জানানো হবে।

 

আরো পড়ুন : ভারতকে আবারো শান্তির বার্তা দিল পাকিস্তান : ১০০ ভারতীয় জেলেকে মুক্তি
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ১২ এপ্রিল ২০১৯, ১২:২০

দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে অনেকবারই যুদ্ধের মুখোমুখি অবস্থায় চলে গেছে। সর্বশেষ এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফের গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলা হওয়ার পর। এনিয়ে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটে। তবে পাকিস্তান সে সময় আটক এক ভারতীয় পাইলটকে কোনো শর্তারোপ ছাড়াই মুক্তি দিলে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে আসে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তখন বিষয়টিকে ‘শান্তির বার্তা’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

সে ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর আবারো শান্তির বার্তা দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের নৌসীমার মধ্যে আটক করা ১০০ ভারতীয় জেলেকে মুক্তি দিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল বৃহস্পতিবার তারা ভারতে পৌঁছান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতীয় জেলেদের মুক্তি দিয়ে পাকিস্তান নয়াদিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্কের ইঙ্গিত দিতে চেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ মাসের পাঁচ তারিখে ইসলামাবাদ এক ঘোষণায় জানায়, সে দেশের কারাগারে ভারতীয় জেলেদের পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেবে পাকিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম দফায় ১০০ জেলেকে মুক্তি দেয় ইসলামাবাদ। তারপর আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ভারতে আসেন ওই জেলেরা৷ পরে অমৃতসর থেকে তারা ট্রেনে ভদোদরা পৌঁছান।

সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে করাচি কারাগারে বন্দি ছিলেন এ জেলেরা। দেশে ফিরতে পেরে তারা সবাই খুব আনন্দ প্রকাশ করেন। সবার চোখই আনন্দাশ্রুতে ভরে যায়।

প্রথম দফায় মুক্তি পাওয়া জেলেদের সবাই নরেন্দ্র মোদির গুজরাটেরই বাসিন্দা। তাদের একজন জানান, অনেকে না বুঝে আন্তর্জাতিক নৌসীমানা পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে পড়ে। আবার কেউ কেউ মাছ ধরার জন্য জেনেশুনে পাকিস্তানের নৌসীমানায় ঢুকে যায়। এদের মধ্য থেকেই সাড়ে তিন শতাধিক জেলে পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। ১৭ মাস সেদেশের কারাগারে বন্দি জীবন কাটাতে হয়েছে।

পুলওয়ামা হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতীয় বন্দিদের ওপরও কড়াকড়ি বাড়ে। সেই সময় তাদের বলা হয়েছিল, ‘নিরাপদে থাকতে হলে নিজ নিজ কুঠুরি থেকে যেন বের না হই’৷

গত ৫ এপ্রিল পাকিস্তান ঘোষণা করে তাদের কারাগারে বন্দি ৩৬০ জন ভারতীয় জেলেকে তারা মুক্তি দেবে। চির প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও প্রতিবেশী দেশের প্রতি সৌজন্যতা দেখাতেই তারা এ সিদ্ধান্ত নেয়। চার দফায় জেলেদের মুক্তি দেয়া হবে৷ প্রথম দফায় ১০০ জনকে ছাড়া হয়।

পুলওয়ামায় ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের গাড়িবহর এক আত্মঘাতী বোমা হামলার শিকার হয়। এতে ওই বাহিনীর ৪৪ জন সদস্য নিহত হয়। এরপর ভারত এরজন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানায়।

কিন্তু ভারতের এ আহ্বানে বিশ্ব ভ্রুক্ষেপ না করলে ভারত নিজেই পাকিস্তানে হামলা চালাতে শুরু করে। পাকিস্তানও পাল্টা হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ভারত আবারো পাকিস্তানের সীমানায় প্রবেশ করলে পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর হামলায় ভারতীয় একটি মিগ-২১ বাইসন বিমান ভূপাতিত হয়। তার পাইলট অভিনন্দন বর্তমান পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো শর্ত ছাড়াই পাকিস্তান ওই পাইলটকে মুক্তি দিলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অনেকখানিই হ্রাস পায়।


আরো সংবাদ

ভারতের হামলার মুখে কতটুকু প্রস্তুত পাকিস্তান? (২৭৭২২)জামালপুরের ডিসির নারী কেলেঙ্কারির ভিডিও ভাইরাল, ডিসির অস্বীকার (২৭৪২৮)কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন নোবেল (১৯৩২৬)‘কাশ্মিরি গাজা’য় নজিরবিহীন প্রতিরোধ (১৯০১৯)ভারত কেন আগে পরমাণু হামলা চালাতে চায়? (১৮৭০০)সেনাবাহিনীর গাড়িতে গুলি, পাল্টা গুলিতে সন্ত্রাসী নিহত (১৮৩৫৪)কাশ্মির সীমান্তে পাক বাহিনীর গুলিতে ভারতীয় সেনা নিহত (১৩৭৫২)দাম্পত্য জীবনে কোনো কলহ না হওয়ায় স্বামীকে তালাক দিতে চান স্ত্রী (১২৫৫৯)প্রিয়াঙ্কাকে সরাতে পাকিস্তানের চিঠির জবাব দিয়েছে জাতিসংঘ (৮৩৮৪)রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে যে বার্তা দিল চীন (৭৭২৬)



mp3 indir bedava internet