২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

‘মুসলমানদের কাপড় খোলার জন্য এত উদগ্রীব কেন বিজেপি?’

ভারতের কেরালা রাজ্যের বিজেপি সভাপতি নেতা শ্রীধরন পিল্লাই মুসলমানদের চিহ্নিত করতে যে ন্যাক্কারজনক বক্তব্য রেখেছেন তার দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদুদ্দিন ওয়েইসি।

এক টুইটে ওয়েইসি বলেন, মানুষের লাশের ওপর পরীক্ষা চালাতে তারা খুবই অভিজ্ঞ। তাদের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার পূর্ণ হয়েছে ২০০২ সালে গুজরাটে। এছাড়া বিলকিস বানু, এহসান জাফরি, আখলাক, পেহলি খান, জুনায়েদ, শওকত আলীসহ বিজেপি সমালোচক আরো অসংখ্য মানুষের লাশের ওপর দিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়েছে।

তিনি আরো লিখেন, আপনি যদি কোনো মুসলমানের পরিচয় জানতে চান, তাহলে তাদের জিজ্ঞাসা করুন। কাপড় খোলার তো কোনো প্রয়োজন নেই। মুসলমানদের কাপড় খোলার জন্য তারা এত উদগ্রীব কেন?

এর আগে ভারতের কেরালা রাজ্যের বিজেপি সভাপতি পি এস শ্রীধরন পিল্লাই বলেছেন, কাপড় খুলে পরীক্ষা করে কেবল মুসলমান চিহ্নিত করা যেতে পারে। তার এই বিতর্কিত মন্তব্যে সেখানে সমালোচনার ঝড় বইছে।

ভারতের গণমাধ্যম দ্য নিউজ মিনিট-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কেরালার আট্টিনগালে বিজেপির স্থানীয় প্রার্থী শোভা সুরেন্দ্রের নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় শ্রীধরন এ কথা বলেন। সরকার বিরোধীরা বালাকোট হামলায় নিহতদের ব্যাপারে বিজেপির দেয়া তথ্যের যে সমালোচনা করেছে, তার জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বালাকোটে বিমান হামলার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের রাহুল গান্ধি, ইয়েচুরি এবং পিনারাইরা আমাদের সেনাদের অপমান করতে চায়। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ঘায়েল করে তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, যদি এটা ইসলাম হয়, তাহলে তাদের আর কোনো চিহ্ন রয়েছে? যদি তাদের কাপড় খুলে ফেলা হয়, তাহলেই কেবল তাদের চেনা যেতে পারে।

তার এ বক্তব্য ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন বিজেপির এই নেতা। কিন্তু তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এ ধরনের বক্তব্য দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দেন।

তার এ বক্তব্যে সেখানে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এলডিএফ ও কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ পক্ষ থেকে তার এ বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এদিকে সিপিআই নেতা ভি এস সিভাঙ্কুট্টি নির্বাচন কমিশনে এক অভিযোগ দায়ের করে বলেছেন, শ্রীধরন পিল্লাইয়ের এ বক্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে।

 

আরো পড়ুন : বাংলাদেশ দখলের হুমকি বিজেপি নেতার
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ১ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:৫৭

বাংলাদেশে গায়ের জোরে হিন্দুদের ধর্মান্তরিত ও মন্দির দখল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাংসদ সুব্রামাণিয়াম স্বামী। ধর্মান্তরিতকরণ ও মন্দির দখল বন্ধ না হলে সমগ্র বাংলাদেশে দিল্লির শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন ভারতের শাসকদলের এই নেতা। তার কথায়, ‘হিন্দুদের বিরুদ্ধে পাগলামি বন্ধ না হলে বাংলাদেশ দখল করতে হবে। আমি সরকারকে সেই পরামর্শই দেব।’ খবর কলকাতা টোয়েন্টিফোরের

একই সঙ্গে তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে বাংলাদেশের দরিদ্র শ্রেণির মানুষদের উপরে চাপ সৃষ্টি করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। এটাকে তিনি হিন্দুদের উপর সংখ্যাগরিষ্ঠদের পাগলামী বলে উল্লেখ করেন। অবিলম্বে তিনি এই ‘পাগলামী’ বন্ধ করার দাবি জানান।

রোববার সকালে আগরতলায় ত্রিপুরা সরকারের সরকারি অতিথিশালায় সংবাদ সম্মেলনে সুব্রামাণিয়াম এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি শুধু প্রতিবেশি বাংলাদেশ নয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ও একহাত নেন ভারতীয় রাজ্যসভার এই প্রবীণ সদস্য। তিনি পাকিস্তানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ‘চাপরাসি’ বা পিয়ন বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, ‘ইমরান বা অন্য কেউ নামেই প্রধানমন্ত্রী। আসলে সবাই সেনাবাহিনী বা আইএসআইয়ের চাপরাসি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের একটাই সমাধানের পথ খোলা রয়েছে৷ বালোচরা পাকিস্তানের অংশ হতে চায় না৷ সিন্ধরাও চায় না৷ পাখতুনরা পাকিস্তানের অঙ্গ হতে চায় না৷ তাই এদের চার ভাগে ভাগ করে দেওয়া উচিত৷’ এর পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের জাতিসঙ্ঘে পাকিস্তানের বিষয়ে কথা বলে একেবারেই প্রয়োজন নেই, কারণ পাকিস্তান তাতেও আনন্দ পায়৷ তাই পাকিস্তানকে ইগনোর করতে, নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করে, একদিন একে চার ভাগে ভেঙে ফেলতে হবে।


আরো সংবাদ