১৬ অক্টোবর ২০১৯

ভারত অংশ নিলে ওআইসির বৈঠকে যাবে না পাকিস্তান

ভারত অংশ নিলে ওআইসি বৈঠকে যাবে না পাকিস্তান - সংগৃহীত

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসির আসন্ন বৈঠকে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ অংশগ্রহণ করলে তাতে অংশ নেবে না পাকিস্তান। বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ কোরাইশী এই ঘোষণা দেন। আগামী মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জি নিউজের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মাহমুদ কোরাইশী বলেন, ওআইসির আসন্ন বৈঠকে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ যোগ দিলে আমরা তাতে অংশ নেবো না। এ বিষয়ে তুরস্কও পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে।’

তিনি আরো বলেন,‘বুধবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুর সাথে আমার কথা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তুরস্ক দ্ব্যার্থহীনভাবে পাকিস্তানকে সমর্থন করার ঘোষণা দিয়েছে।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- তুরস্ক মনে করে ভারত মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করছে। তাই সুষমা স্বরাজের ওআইসির বৈঠকে অংশগ্রহণের কোনো অধিকার নেই।

এদিকে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসও তাকে ফোন করে বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি পাকিস্তানের শান্তিপূর্ণ অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ কোরাইশী।

তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে সুযোগ নিতে চায় ভারত সরকার। এমন কাজের মাধ্যমে বিরোধীপক্ষ ও সাধারণ জনগণকে তারা (বিজেপি) বোকা বানাচ্ছে। ভারতকে মোকাবেলা করার পূর্ণ শক্তি পাকিস্তানের রয়েছে এবং পাকিস্তানের জনগণও এ ব্যাপারে একমত বলে জানান তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কারণে ওআইসির সম্মেলনে অংশগ্রহণ না করলে ওআইসির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হবে না জানিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওআইসি বা তার সদস্য অন্য দেশগুলোর সাথে আমাদের কোনো মতবিরোধ নেই। আমাদের আপত্তি কেবল সুষমা স্বরাজের অংশগ্রহণের বিষয়ে। যদি তিনি ওআইসির বৈঠকে অংশ নেন, তাহলে আমি ওই বৈঠকে যাবো না।

আরো পড়ুন : আকাশ যুদ্ধ : পাকিস্তান ২, ভারত ০
নয়া দিগন্ত অনলাইন, (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)

পাকিস্তান বিমান বাহিনী বুধবার কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখার অপর পারে, অর্থাৎ ভারত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বোমা বর্ষণ করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর দাবি করেছেন যে তাদের বিমান বাহিনী ভারতীয় দু'টি বিমানকে ভূপাতিত করেছে এবং একজন ভারতীয় পাইলটকে গ্রেফতার করেছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই এবং রয়টার্স জানাচ্ছে, ভারত শাসিত কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় নওশেরা সেক্টরে কয়েকটি পাকিস্তানি যুদ্ধ বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়। মেজর জেনারেল আসিফ গফুর টুইট করে জানিয়েছেন যে সকালে ভারতে বোমাবর্ষণের পরে দুটি ভারতীয় বিমান নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানী আকাশ সীমায় ঢুকে পড়েছিল।

তিনি জানান, দু'টিকেই গুলি করে নামানো হয়েছে - একটি বিমান আজাদ কাশ্মির এলাকায় ভেঙ্গে পড়ে, অন্যটি ভূপাতিত হয়েছে ভারত শাসিত এলাকায়। পাকিস্তানি অঞ্চলে ভেঙ্গে পড়া ভারতীয় বিমানটির পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এবিষয়ে ভারতের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ না করলেও ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, তাদের সব পাইলটেরই হিসাব পাওয়া গেছে।

মনে করা হচ্ছে এর অর্থ, কোনো পাইলটই পাকিস্তানের মাটিতে গ্রেফতার হননি বা কেউ মারা যাননি।

পাকিস্তানে বিবিসির একজন সংবাদদাতা নিশ্চিত করেছেন যে পাকিস্তানের সীমান্তের ভেতরে একটি ভারতীয় ফাইটার বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয় যে পাকিস্তানের আকাশসীমার মধ্য থেকেই আজ লাইন অব কন্ট্রোলের অন্যপাশে আক্রমণ চালিয়েছে পাকিস্তান বিমান বাহিনী।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মুহম্মদ ফয়সাল বলেন, "পাকিস্তানের বিমান বাহিনী নিজেদের সীমানার মধ্যে থেকেই নিয়ন্ত্রণ রেখার অন্যদিকে বোমা ফেলেছে। ভারত যা করেছে, এটা তার জবাব নয়। তাই বেসামরিক এলাকাকে নিশানা করা হয়েছিল, এবং এটাও খেয়াল রাখা হয় যাতে জানমালের ক্ষতি না হয়।"

পাকিস্তানের তরফে এটাও বলা হচ্ছে যে তারা উত্তেজনা বৃদ্ধি চায় না, কিন্তু যদি সে পথেই যেতে তাদের বাধ্য করা হয়, তাহলে যে পাকিস্তানি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত, তা প্রমাণ করতেই দিনের আলোয় এই অপারেশন চালানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স অবশ্য ভারতীয় কর্মকর্তাদের সূত্র উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে যে তিনটি পাকিস্তানি যুদ্ধ বিমান ভারত শাসিত কাশ্মীরের আকাশ সীমায় ঢুকে পড়েছিল।

আর পিটিআই বলছে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের বিমানগুলোকে ধাওয়া করে ।

এদিকে, কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে বিবিসি সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, রাজৌরি আর পুঞ্চ সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখা কাছাকাছি এলাকা থেকে সাধারাণ মানুষরা পালিয়ে যাচ্ছেন। শ্রীনগর, জম্মু, লেহ, চন্ডীগড় - এই চারটি বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সব ধরনের বেসামরিক বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum