২০ মে ২০১৯

পাকিস্তান সীমান্তে আরো ১০০ কোম্পানি সৈন্য মোতায়েন ভারতের

পাকিস্তান সীমান্তে আরো ১০০ কোম্পানি সৈন্য মোতায়েন ভারতের - ছবি : সংগৃহীত

ভারত-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মির রাজ্য এখনো শান্ত হয়নি। আত্মঘাতী হামলায় পুলাওয়ামায় অন্তত ৪০ ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হওয়ার পর এখনো অস্থির রয়েছে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকাটি। পাকিস্তান ও ভারত উভয় পক্ষই হুমকি পাল্টা হুমকির মুখে ভারত নতুন করে শক্তি বৃদ্ধি করেছে। উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মিরে আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক সৈন্য মোতায়েন রেখেছে ভারত।

ভারত সরকার তড়িঘড়ি আরো অতিরিক্ত ১০০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী নিয়োগ করেছে ওই রাজ্যে। শুক্রবার রাতে বড় ধরনের সহিংসতা ঘটে। এর পর গ্রেফতার করা হয় স্বাধীনতাকামী নেতা ইয়াসিন মালিককে। জরুরি ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যা পরই রাজধানী থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি নোটিশ জারি করে শ্রীনগরে সেনা পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

ঘটনাচক্রে শ্রীনগরকে কেন্দ্র করেই আপাতত জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ তাদের আগামী কয়েক দিনের গেমপ্ল্যান তৈরি করে রেখেছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় ৪০ জনের বেশি সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুর পর থেকেই উপত্যকায় সেনা মোতায়েন ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হচ্ছে।

পুলওয়ামায় ভয়াবহ হামলার পর থেকেই জম্মু ও কাশ্মীরের পরিবেশ থমথমে। উত্তেজনা বেড়েই চলেছে ক্রমাগত।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টে আর্টিকল ৩৫-এ নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা আগামী সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি। তার আগেই গ্রেফতার করা হলো ইয়াসিন মালিককে। ১৯৫৪ সালে ভারতীয় সংবিধানের আওতায় আসা এই আর্টিকলে জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দাদের বিশেষ অধিকার ও সুবিধাকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার থেকে ইয়াসিন মালিক, সৈয়দ আলি শাহ গিলানি, সাবির শাহ এবং সালিম গিলানির মতো স্বাধীনতাকামী নেতাদের যে নিরাপত্তা দেয়া হতো, তা পুলওয়ামা হামলার পর তুলে নেয়া হয়।

কাশ্মিরিদের ওপর হামলা বন্ধ করতে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
এনডিটিভি 

পুলওয়ামা হামলার জেরে ভারতে কাশ্মিরিদের ওপর হামলা ও জনরোষ ঠেকানোর ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় সরকারসহ ১০ রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতশাসিত কাশ্মিরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় ৪৪ ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর পর থেকেই ভারতের বিভিন্ন স্থানে কোথাও হামলা, কোথাও হেনস্তা, আবার কোথাও বয়কটের শিকার হচ্ছেন কাশ্মিরিরা।

কয়েকটি ঘটনায় হেনস্তা এবং মারধরের শিকার হয়েছে কাশ্মিরি ছাত্র এবং ব্যবসায়ীরা। হামলার শিকার হওয়া কিংবা হয়রানি হওয়ার ভয়ে বহু কাশ্মিরি ছাত্র, বণিক, ব্যবসায়ী ভারতের বিভিন্ন শহর ছেড়ে কাশ্মিরে চলেও গেছে। এ ভীতিকর পরিস্থিতিই এখন নিয়ন্ত্রণে এনে কাশ্মিরিদের সুরক্ষার নির্দেশ দিলেন আদালত।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ যে দশটি রাজ্যকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছেÑ জম্মু ও কাশ্মির, উত্তরাখন্দ, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মেঘালয়, ছত্তীসগঢ়, পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব এবং মহারাষ্ট্র।
তারিক আদিব নামের এক আইনজীবী কাশ্মিরিদের সুরক্ষা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। এ আবেদনের শুনানি শেষেই আদালত ওই নির্দেশ দিয়েপ্রণ। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ এ মামলার শুনানি করেছে। সেখানে কাশ্মিরিদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য কিছু নোডাল অফিসারকে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।


প্রয়োজন পড়লেই কাশ্মিরিরা যাতে তাদের সাথে যোগাযোগ করে নিরাপত্তা চাইতে পারেন সেজন্য ওই কর্মকর্তাদের নাম ও ফোন নম্বরও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া কাশ্মিরি ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো হামলার খবর পেলেই মুখ্যসচিব, ডিজিপি এবং দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও আদালত জানিয়ে দিয়েছেন।


আরো সংবাদ