২১ আগস্ট ২০১৯

এবার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে এ আর রহমানের আরেক মেয়ে

এ আর রহমানের সাথে মেয়ে রেহানা - ছবি : সংগৃহীত

২০১৯ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন ভারতের অস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক এআর রহমান। এ সময় তার সাথে ছিলেন তার আরেক মেয়ে রেহানা।


এ আর রহমান তার ইনস্টাগ্রামে তাদের ছবি পোস্ট করেন। স্লামডগ মিলিওনিয়ার ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনার জন্য ২০০৯ সালে তিনি দুটি গ্র্যামি পুরস্কার লাভ করেছিলেন।


এর আগে ভারতের এই স্লামডগ মিলিওনিয়ার ছবির দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানেও যোগ দিয়েছিলেন এ আর রহমান। সেখানে তার সাক্ষাতকার নেয়ার জন্য তার মেয়ে খাদিজাকে মঞ্চে ডেকে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু নেকাব পরে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে বেশ হেনস্তার শিকার হতে হয়।


অবশ্য এ আর রহমান এর জবাব দিতে গিয়ে বলেন, যে কারো যে কোনো পোশাক বাছাইয়ের স্বাধীনতা রয়েছে, এটিকে আমি সম্মান করি। আর আমার ভক্তরা যেহেতু আমাকে তাদের একান্তই নিজের বলে ভাবেন, তাই হয়তো তারা আমার ব্যাপারে এত চিন্তা করেন।


অন্যদিকে খাদিজাও তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। তিনি লিখেন, সম্প্রতি আমার বাবার সাথে মঞ্চে ওঠার বিষয়ে আমার পোশাক নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। যদিও আমি এ ধরনের প্রতিক্রিয়া আশা করিনি। যাইহোক, কিছু মানুষ মন্তব্য করেছেন, আমার পিতার আমার ওপর জোর করে এ পোশাক চাপিয়ে দিয়েছেন এবং এটি তার জন্য একটি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। আমি তাদেরকে বলতে চাই, এই পোশাক একান্তই আমার নিজের পছন্দের। আমি আমার জীবনের জন্য এটি পছন্দ করে নিয়েছি। এক্ষেত্রে আমার পিতামাতার কোনো চাপ নেই। এই নিকাব আমার নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ এবং এটিকে আমি সম্মানের বিষয় বলে মনে করি। আমি আমার নিজের পোশাক বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিণত হয়েছিল। প্রত্যেক মানুষেরই সে কী পরিধান করবে তা বেছে নেয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। আর আমি সেটাই করেছি। সুতরাং দয়া করে আপনার নিজস্ব বিচার-বিবেচনা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেবেন না।


আরো পড়ুন : মেয়ে নিকাব পরায় সমালোচনার মুখে এ আর রহমান
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯


আলোচিত ছবি স্লামডগ মিলিয়নিয়ারের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল এক অনুষ্ঠানের। সেই অনুষ্ঠানের মঞ্চে নেকাব পরে হাজির হয়েছিলেন ওই ছবির অস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক এআর রহমানের মেয়ে খাদিজা। আর এতেই শুরু হয়েছে সমালোচনা।

অনেক সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহারকারী এতে ক্ষিপ্ত হয়েছে এ আর রহমানের ওপর। অনেকেই বাজে মন্তব্য করেছেন তার এবং তার পরিবার সম্পর্কে। কিন্তু এসবকে পাত্তা দিতে নারাজ এ আর রহমানের পরিবার। তিনি মেয়ের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, ইচ্ছেমতো পোশাক পরিধান করার স্বাধীনতা রয়েছে আমার পরিবারের সবার। আমরা এতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

এরপর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তিনি টুইটারে আরো একটি ছবি শেয়ার করেছেন তার পরিবারের সদস্যদের। যেখানে দেখা গেছে নীতা আম্বানির সাথে তার মেয়ের নিকাব পরা ছবি। সেই ছবির সাথে ক্যাপশনে এই সঙ্গীত লিজেন্ড লিখেছেন, ‘আমার পরিবারের প্রিয় নারী সদস্য খাদিজা, রহিমা ও সাইরা-নীতা আম্বানির সাথে।’

স্লামডগ মিলিয়নিয়ারের অস্কার বিজয়ের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল মুম্বাইয়ে। অনুষ্ঠানের একেবারে শেষ দিকে মঞ্চে আসেন এ আর রহমানের কন্যা খাদিজা। এ আর রহমানই তাকে আমন্ত্রণ জানান সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য। লাল পাড়ের কালো শাড়ি আর মুখ ঢাকা নেকাব পড়ে মঞ্চে হাজির হন খাদিজা। এরপর কিছু মজার প্রশ্ন করে বাবার সাক্ষাৎকার নেয় খাদিজা।

আর এতেই ক্ষিপ্ত হয় অনেকে। খাদিজার পোশাককে রক্ষণশীল আখ্যা দিয়ে নানা বাজে মন্তব্য চলতে থাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেউ বলেন এটি এ আর রহমান পরিবারের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।

তবে এতে দমে যায়নি রহমান পরিবার। তারা নিজেদের রুচি ও পছন্দকে শ্রদ্ধা করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান এবং নিজেদের অবস্থানের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেয়। পরদিন পাল্টা হিসেবে রিলায়েন্স গ্রুপের মালিক মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানির সাথে মেয়ের নিকাব পরা ছবিটি শেয়ার করেন টুইটারে। সেই পোস্টেও আক্রমণের শিকার হয়েছেন এ আর রহমান। অনেকেই তার উদ্দেশ্যে বাজে মন্তব্য করেছেন এ পোস্টে এসে।

এ আর রহমানের মেয়ে খাদিজাও ফেসবুকে দেয়া বড় এক পোস্টে নিজের পোশাকের পক্ষে জোরালে অবস্থান তুলে ধরেছেন। খাদিজা লিখেছেন, পোশাকের কারণে অনেক প্রতিক্রিয়া দেখছি। অনেকেই বলেছেন, এটি আমাকে আমার বাবা-মা জোর করে পরিয়েছেন এবং এটি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। এর কোনোটিই সত্যি নয়। আমি নিজের পছন্দ মতো পোশাক অবশ্যই পরতে পারি। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক হিসেবে নিজের জন্য কিছু পছন্দ করার অধিকার আমার রয়েছে। এবং প্রত্যেক মানুষেরই তা থাকা উচিত। তাই না বুঝে বিচার করবেন না দয়া করে।

প্রসঙ্গত ২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্রিটিশ চলচ্চিত্র স্লামডগ মিলিয়নির দিয়ে আলোচনায় আসেন সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান। ছবিটি ব্যাপক ব্যবসাসফল হয়। ছবিটিতে সঙ্গীত পরিচালনার জন্য তিনি অস্কার পুরস্কার লাভ করেন। মুম্বাইয়ে বস্তির এক কিশোরের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছিল ছবিটি।

 

সূত্র: জি নিউজ ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন


আরো সংবাদ




bedava internet