২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ভারতের রাফায়েল জটিলতায় লাভ পাকিস্তান আর চীনের!

ভারতের রাফায়েল জটিলতায় লাভ পাকিস্তান আর চীনের! - ছবি : সংগৃহীত

রাফায়েল বিমান নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক কালি খরচ হয়েছে। তবে বিষয়টি বোঝার জন্য কয়েক বছর পেছনে ফিরে যেতে হবে।

বেঙ্গালরের ইয়েলেহাঙ্কায় ২০১৩ সালের দ্বিবার্ষিক বিমান প্রদর্শনীর সময় প্রধান বিষয় ছিল ভারতীয় বিমান বাহিনীকে ড্যাসাল্ট অ্যাভিয়েশন্সের ১২৬টি রাফায়েল জঙ্গি বিমান সরবরাহ করা।

এর কয়েক সপ্তাহ আগে খবর প্রচারিত হয় যে ফরাসি কোম্পানিটি ভারতে ১০৮টি রাফায়েল বিমান তৈরিতে সহায়তা করার জন্য রিলায়েন্সের সাথে একটি চুক্তি করতে আগ্রহী। মনে হচ্ছিল, ড্যাসাল্ট ও রিলায়েন্স এ উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যেই অংশীদারিত্ব চুক্তিতে সই করে ফেলেছে।

বেসরকারি খেলোয়াড়

সংবাদ সম্মেলনে ওই সময়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি সুস্পষ্টভাবে জানান, তিনি চুক্তিতে বেসরকারি কোনো খেলোয়াড়ের কথা শুনতে চান না।

পর্যবেক্ষকদের মনে হলো, অ্যান্টনি এখনো সোভিয়েত যুগে বাস করছেন, যেখানে প্রতিরক্ষা শিল্প অবশ্যই রাষ্ট্রীয় মালিকানায় হতে হবে।

যদি বোয়িং, ড্যাসাল্ট, স্যাফরান, লকহিড-মার্টিন বা রাফায়েল তাদের নিজ নিজ দেশের সেবা করতে চায়, তবে টাটা বা রিলায়েন্স কেন ভারতের হয়ে কাজ করতে পারবে না?

দুটি বিষয়ের প্রতি নজর রাখা দরকার।

প্রথমত, রিলায়েন্স ও ড্যাসাল্টের মধ্যকার সম্পৃক্ততা মোদির মঞ্চে আসার আগে (অবশ্য ওই সময় সহযোগিতা ছিল আজকের অনিল আম্বানির সাথে নয়, মুকেশ আম্বানির সাথে) এবং দ্বিতীয়ত, কেন রিলায়েন্সকে পছন্দ করেছিল ড্যাসাল্ট?

সহজ কারণ হলো ভারতে জঙ্গি বিমান তৈরির জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি শক্তিশালী ভারতীয় শিল্প গ্রুপের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকারের ‘সমাজবাদী’ নীতির কারণে কোনো ভারতীয় গ্রুপের ওই অভিজ্ঞতা ছিল না।

আজ পরিস্থিতি ভিন্ন।

নতুন চুক্তিতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের কোনো বিষয় নেই। পুরো চুক্তির ৫০ ভাগ ফের ভারতে বিনিয়োগ করতে হবে। ফলে ড্যাসাল্টের জন্য একটি ভারতীয় অংশীদার প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।

মোদি যখন ২০১৫ সালে ৩৬টি বিমান কেনার উদ্যোগ নেন, তখন ড্যাসাল্ট ও এইচএএলের মধ্যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। মোদি এর নিরসন করেন। তবে কিভাবে তা হলো, তা এখনো গোপন রয়ে গেছে। ফলে ভারতীয় বিমান বাহিনী স্বস্তি পায়।

মারাত্মক প্রশ্ন

কংগ্রেস প্রতিদিন ‘চোর’ ‘চোর’ ধ্বনি তুলছে। কিন্তু তারা পরিস্থতি বুঝতে পারেনি এবং কোনো প্রমাণও নেই তাদের হাতে। এতে একটি বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে : সর্বোচ্চ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কি টুইটারের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আলোচনা করা যায়?

সাধারণভাবে দুর্নীতি থাকলে তা সিএজির মাধ্যমে তদন্তের সুযোগ দেয়া হয়।

কিন্তু যেহেতু নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে, তাই ‘জাতীয় স্বার্থ’ তুলে রাখা হচ্ছে। রাজনীতিবিদেরা কখনো সত্যনিষ্ঠতা চান না, তারা চান দ্রুত রাজনৈতিক ফায়দা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান বিতক্য হয়তো ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা ক্রয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এপ্রিলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১১৪টি নতুন জেট কেনার জন্য আরএফআই ইস্যু করেছিল। এর আওতায় ১৮টি বিমান তৈরি অবস্থায় (রাফায়েলের মতো) এবং বাকিগুলো ভারতে যৌথ উদ্যোগে তৈরির কথা ছিল। কিন্তু এখন রাফায়েল নিয়ে গোলমাল সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিটি প্রতিরক্ষা ক্রয় নিয়েই প্রশ্ন উঠবে বলে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতের স্বার্থ

নতুন পরিস্থিতির ফলে

মোদির জন্য পরিস্থিতি আরো অবনতি ঘটিয়ে সাবেক ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া হলাদঁ দাবি করেছেন, বিদেশী অংশীদার হিসেবে অনিল আম্বানির কোম্পানিকে গ্রহণ করা ছাড়া তাদের আর কিছুই করার ছিল না। তিনি পরে অবশ্য এই মন্তব্য পরোক্ষভাবে অস্বীকার করেছেন। কিন্তু ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। আর ভারত ও ফরাসি সরকার এবং ড্যাসাল্ট- সবাই হলাদেঁর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। ফরাসি মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, হলাদেঁর গার্লফ্রেন্ডের আম্বানিদের কাছ থেকে তহবিল প্রাপ্তির সাথে এই ঘটনা যোগসূত্র রয়েছে। তবে ফ্রান্সে কেউ হলাদঁকে গুরুত্ব দেয় না। এমনকি প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ও তাকে বিশ্বাসযোগ্য বিবেচনা করা হতো না।

তবে এই ঘটনায় ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং ভারতীয় বিমানবাহিনী সমস্যায় পড়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে সমস্যা হলো এই যে অনেক রাজনীতিবিদ সম্ভবত ভারতের স্বার্থ সম্পর্কে তেমন যত্নশীল নন। আর কে আজ হাসছে? চীন ও পাকিস্তান।


আরো সংবাদ




Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme