১৭ নভেম্বর ২০১৮

ইসলাম বিরোধী বলেই ইমামদের এই সিদ্ধান্ত

ইসলাম বিরোধী বলেই ইমামদের এই সিদ্ধান্ত - নয়া দিগন্ত

মহরমের নামে অস্ত্র প্রদর্শন ইসলাম বিরোধী। আর তাই এবার ওই দিনে রাস্তায় অস্ত্র নিয়ে বের না হতেই বলেছেন কলকাতার ইমামরা।

মহরম ইস্যুতে বারবার বিতর্ক তৈরি হয় পশ্চিমবঙ্গে। দুর্গা পূজার বিসর্জনের কাছাকাছি সময় মুসলিমদের এই মহরম পালন ঘিরে বিতর্ক হতে দেখা যায়। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

এবার খোদ ইমামরাই আহ্বান জানালেন, যাতে মুসলিমরা ধারাল অস্ত্র প্রদর্শন না করেন এই ধর্মীয় আচারে। এই ধরনের প্রথার সাথে ইসলামের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেছেন একাধিক ইমাম।

‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শাসক দল তৃণমূলের তরফে ইতিমধ্যেই মুসলিমদের এই রীতি থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুসলিম ক্যালেন্ডারের হিসেবে প্রথম মাসের দশম দিনে পালিত হয় মহরম।

সাধারণত প্রত্যেকবারই এই দিনে লাঠি তলোয়ারের মত অস্ত্র হাতে মিছিল বের করেন মুসলিমদের একাংশ। কারবালায় যুদ্ধে মৃত্যু হয়েছিল হজরত মুহাম্মদ (সঃ) নাতি হুসেনের। ঐতিহাসিক এই ঘটনার সেই বিশেষ দিনে সেই হুসেনের মৃত্যুকে স্মরণ করে, অস্ত্র নিয়ে মহরম পালন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। তা নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক।

তৃণমূল কংগ্রেস এমপি ইদ্রিশ আলি জানিয়েছেন, ‘আমরা বিভিন্ন ইমামদের কাছে গিয়ে আবেদন জানিয়েছি, মহরমে এমন কিছু না করা হয় যাতে অন্যান্য ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করে।’

তিনি আরও বলেন, এই রীতির সাথে ইসলামের কোনও সম্পর্ক নেই।পাশাপাশি, এই ইস্যুকে বিজেপি হাতিয়ার করে বলেও এই রীতি থেকে বিরত থাকার কথা বলেন তিনি। অন্যদিকে, তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি। যে ইস্যু নিয়ে রাজ্যে বারবার, রাজ্যের দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুতেই এবার দিলীপ ঘোষ বললেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আমাদের নৈতিক জয়।’

চলতি মাসেই রয়েছে মহরম। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মুসলিমদের সেই বিশেষ দিন। তার আগে তলোয়ার ব্যবহার না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন একাধিক ইমাম।

কলকাতার নাখোদা মসজিদের ইমাম মওলানা শফিক কাসমি এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘মহরম আমাদের শোকের মাস। মিছিলে কেউ দয়া করে লাঠি বা তলোয়ার ব্যবহার করবেন না। এর সঙ্গে ইসলামের কোনও সম্পর্ক নেই। সাম্প্রদায়িক দলগুলি হাতিয়ার করতে পারে, এমন কোনও কাজ করবেন না।’

আসানসোলের ইমাম মৌলানা ইমদাদুল রশিদি মহরমে অস্ত্র প্রদর্শনকে অ-ইসলামিক বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সংঘর্ষে নিজের ছেলের মৃত্যু হলেও শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন ইমাম রশিদি।

সম্প্রতি, ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাজ্যে মহরম কমিটির সঙ্গে পুজো কমিটিগুলির মধ্যে গোলমাল বাধানোর চক্রান্ত করা হয়েছিল।

গত দু’বছর ধরেই মহাদশমীর পরদিনই পড়ে মহরম৷ তাই এ নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। রাজ্য সরকার মহরমের জন্য দশমীর বিসর্জনে বিধিনিষেধ টেনেছিল। আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল বিতর্ক। কলকাতা হাইকোর্টে খারিজ হয়ে গিয়েছিল রাজ্যের আবেদন৷ আদালতের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল রাজ্যকে।

 


আরো সংবাদ