২২ নভেম্বর ২০১৮

আজান শুনে কোরআন নেয়নি চোর

হায়দরাবাদ রাজ্যের শাসক নিজামের সোনার টিফিন বাক্স - ছবি : সংগ্রহ

ব্রিটিশ ভারতের করদ রাজ্য হায়দরাবাদের নিজামের যাদুঘর থেকে চুরি যাওয়া মূল্যবান সামগ্রীগুলো উদ্ধার করা হয়েছে মুম্বাইয়ের এক বিলাসবহুল হোটেল থেকে। গ্রেফতার করা হয়েছে দুজন লোককে।

চুরি যাওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল করদ রাজ্যের শাসক নিজামের সোনার টিফিন বাক্স। চার কেজি সোনা দিয়ে তৈরি তিন-স্তরের টিফিন বাক্সটিতে হীরা এবং চুনি ও পান্নার মতো মূল্যবান পাথর বসানো - যার মূল্য কয়েক কোটি রুপি । এ ছাড়াও ছিল চুনি-পান্না বসানো একটি সোনার কাপ, বাটি, ট্রে ও চামচ।

এসব সামগ্রীর সবগুলোই পাওয়া গেছে ধরা পড়া লোকদুটির কাছে। ফলে হলিউড-স্টাইলের এই চুরি রহস্যের সমাধান হবার পর এখন পুলিশের মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে মজার মজার সব তথ্য। যেমন, পুলিশ বলছে হায়দরাবাদের নিজাম নাকি কখনোই সোনার টিফিন বাক্সটি ব্যবহার করেন নি। কিন্তু চোরদের একজন গত কয়েকদিনে খাওয়া-দাওয়ার জন্য প্রতিবারই এই বাক্সটি ব্যবহার করেছে।

গত ২রা সেপ্টেম্বর রাতে ওই দু'জন হায়দরাবাদের পুরানি হাভেলির একটি ঘুলঘুলির লোহার গরাদ কেটে ওই জাদুঘরে প্রবেশ করে বলে জানিয়েছেন হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার আনজানি কুমার। তিনি বলেন, ‘তারা ঠিক যখন সোনার প্রচ্ছদবিশিষ্ট একটি মূল্যবান কোরান শরিফ নিয়ে যাবার জন্য হাত বাড়ায় - ঠিক তখনি কোন একটি মসজিদ থেকে ফজরের আজান শুরু হয়। এতে তারা ভয় পেয়ে যায় এবং কোরান শরিফটি চুরি করা থেকে বিরত হয়’।

চুরি যাওয়া জিনিসগুলোতে যে পরিমাণ সোনা আছে তার দামই এক কোটি ভারতীয় রুপির সমান, বলছে পুলিশ। আর দুর্লভ পুরোনো সামগ্রী বা 'এ্যান্টিক' হিসেবে এগুলোর মূল্য তারও অনেকগুণ বেশি । ওই পুলিশ কর্মকর্তার ভাষায়, ‘তাই ধরুন দুবাইয়ের বাজারে এগুলোর দাম ৩০-৪০ কোটি রুপিও হতে পারে’।

এই চোরেরা এতই বুদ্ধিমান ছিল যে জাদুঘরে ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো থাকলেও তাতে তাদের প্রায় কোন ছবিই ধরা পড়েনি। কারণ, তারা মাফলার দিয়ে মুখ ঢেকে এসেছিল এবং ক্যামেরাগুলোর মুখ উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। একটি ক্যামেরায় তাদের বাইকে চেপে চলে যেতে দেখা যায়। কিন্তু এতে তাদের চেনার মতো স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। অনেক চেষ্টা করেও পুলিশ তাদের হদিস পায় নি।

লোক দুটি এর পর মুম্বাইয়ে পালিয়ে যায় এবং একটি পাঁচতারা হোটেলে ওঠে। সেখানে কয়েকদিন তারা বিলাসবহুল জীবন যাপন করে। কিন্তু মূল্যবান জিনিসগুলোর কোন ক্রেতা না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত ফিরে আসে। হায়দরাবাদে ফিরেআসার পরই তারা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।

অভিযুক্ত দু জনের একজনের নাম গাউস, তার বয়েস ২৫ এবং সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি সহ ২৬টি মামলার হুলিয়া রয়েছে। তার সঙ্গীর বয়েস অপেক্ষাকৃত কম, কিন্তু ওই ঘটনার সে-ই মূল পরিকল্পনাকারী। জানা গেছে, চুরির আগে তারা ৫-৬ মাস ধরে পরিকল্পনা এবং রেকি বা পর্যবেক্ষণ চালিয়েছে।

আরো পড়ুন: ভারতে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৪০
এনডিটিভি
ভারতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় শিশুসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের আগে তেলেঙ্গানা রাজ্যের জাগতিয়াল জেলার একটি সড়ক থেকে ছিটকে উপত্যকায় পড়ে যায় রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার যাত্রীবাহী বাসটি। এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যটির কর্মকর্তারা।

বাসটিতে মোট ৭০ জন আরোহী ছিল। বাসটি কোন্ডাগাত্তু থেকে জাগতিয়ালে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিভারাপেত গ্রামের কাছে ঘাট রোড থেকে ছিটকে বাসটি পাশের উপত্যকায় পড়ে যায়। ব্রেক ফেলের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


একটি মন্দির দর্শনের পর তীর্থযাত্রীরা বাসটিতে করে নিজেদের এলাকায় ফিরছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ তদারক করা জাগিতালের জেলা কালেক্টর এ শরৎ ফোনে পিটিআইকে বলেছেন, ‘সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুরের মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’

ভারতের সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বলেছে, দুর্ঘটনা এড়াতে ঘাট রোডে চলাচলের বিষয়ে স্থায়ী নির্দেশাবলী ও বিধিনিষেধ দেওয়া আছে।


আরো সংবাদ