১৫ নভেম্বর ২০১৮

চীনের ইন্ধনে যৌথ মহড়ায় যোগ দিলো না নেপাল? ক্ষুব্ধ ভারত

চীনের ইন্ধনে যৌথ মহড়ায় যোগ দিলো না নেপাল? ক্ষুব্ধ ভারত - ছবি : সংগৃহীত

সোমবার পুণেতে শুরু হলো বিমস্টেকভুক্ত দেশগুলির যৌথ সামরিক মহড়া। কিন্তু তাতে যোগ দিল না নেপালের খড়্গপ্রসাদ ওলি সরকার। অনিবার্য কারণ দেখিয়ে আসেননি থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও। এই মহড়ার পরে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতেই এই গোষ্ঠীভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সেনাপ্রধানদের দু’দিনের সম্মেলন হবে। সেখানেও অনুপস্থিত থাকবেন নেপালের সেনাপ্রধান। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোটা বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।। চীনের পরোক্ষ হস্তক্ষেপেই এই ঘটনা ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু সে কথা এখনই প্রকাশ্যে না এনে যতটা সম্ভব সৌজন্য বজায় রেখে কূটনৈতিক চ্যানেলে নেপালের কাছে নিজেদের উষ্মার কথা প্রকাশ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। গত সপ্তাহে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের চেয়ারপার্সন পুষ্পকুমার দহল ওরফে প্রচণ্ড এসেছিলেন নয়াদিল্লিতে। তখনই নেপালের এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসে। তাকেও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ জানিয়েছেন ভারতীয় নেতৃত্ব। রোববার প্রচণ্ড ফিরে দিয়েছেন কাঠমান্ডুতে।

সাম্প্রতিক বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গোপসাগর সং‌লগ্ন দেশগুলোকে নিয়ে নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি অবিভক্ত পরিসর গড়ে তোলার ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সার্ক-এ পাকিস্তান থাকার কারণে যে বিষয়গুলো নিয়ে উদ্যোগী হওয়া সম্ভব হয় না সেগুলোকেই বিমস্টেকের মঞ্চে জোর দিতে চাইছে সাউথ ব্লক। কিন্তু বিমস্টেকের অন্যতম সদস্য নেপালের এমন পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত ছিল না নয়াদিল্লি। এই নেপালই দু’বছর আগে ভারতের ডাকে সাড়া দিয়ে উরি হামলার প্রতিবাদে ইসলামাবাদের সার্ক সম্মেলন বয়কট করেছিল।

নেপালের রাজনৈতিক সূত্রের মতে, শেষ মুহূর্তে ওলির নিষেধাজ্ঞায় বাতিল হয়ে গেছে সে দেশের সেনাপ্রতিনিধিদের পুণে সফর। কূটনীতিকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওলি সরকার বার্তা দিতে চাইছে যে ভারতের উপর সামরিক এবং বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমিয়ে আনা হবে। ২০১৬ সালে চীন সফরে গিয়ে ওলি চীনা বন্দরগুলির সঙ্গে তার দেশের সংযোগের জন্য একটি প্রোটোকল সই করানোর জন্য প্রয়াস শুরু করেছিলেন। সম্প্রতি সেই প্রোটোকলটির কথাও ঘোষণা করেছে নেপাল। ভারতকে প্রত্যাখ্যান করা এবং চীনকে আরো কাছে টানা—একইসঙ্গে এই দু’টি সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি নিছকই কাককালীয় নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন :

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ভারতজুড়ে বন্ধ পালিত
এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ও রুপির দর পতনের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ভারতজুড়ে বন্ধ পালন করেছে দেশটির অন্তত ২১টি বিরোধী দল। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর এ বন্ধ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পালিত হয়েছে।
সোমবার সকালে কংগ্রেস সভাপাতি রাহুল গান্ধি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেন। দিল্লির ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (এএপি) বন্ধে যোগ না দিলেও প্রতিবাদ মিছিলে তাদের এক নেতাকে পাঠিয়েছিল। 
শারদ পাওয়ার, এম কে স্ট্যালিনের মতো ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিরোধীদলীয় নেতারা ও বাম দলগুলোর নেতারা বন্ধের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস বন্ধে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

কেরালা, কর্নাটক ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোতে বন্ধের কড়া প্রভাব পড়ে। নিজ দলের ডাকা প্রতিবাদটিতে যোগ দিতে দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধির মেমোরিয়ালে উপস্থিত হন রাহুল গান্ধি। কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবরে তীর্থযাত্রা থেকে ফিরে আসার পর এখানে প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে এলেন তিনি। কংগ্রেসের মিত্র কর্নাটক রাজ্যের ক্ষমতাসীন জনতা দল সেকুলার বন্ধে সমর্থন জানিয়েছে। বেঙ্গালুরুর স্কুল ও কলেজগুলো বন্ধ আছে। উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পাটনায়েক বন্ধের প্রতি সমর্থন দিতে রাজি না হলেও তার রাজ্যের স্কুলগুলো বন্ধ ছিল। কংগ্রেস জানিয়েছিল, কোনো ধরনের সহিংস প্রতিবাদে সমর্থন না দিতে তাদের কর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দিল্লি কংগ্রেসের নেতা অজয় মাকেন বলেন, ‘আমরা মহাত্মা গান্ধির দল। কোনো সহিংসতার সঙ্গে আমাদের জড়ানো উচিত না’।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস জানায়, যেসব বিষয়ের প্রতিবাদে বন্ধ ডাকা হয়েছে সেসব ইস্যুতে তাদেরও সমর্থন আছে, কিন্তু দলীয় প্রধান ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতার নীতি অনুযায়ী রাজ্যে কোনো ধরনের ধর্মঘট পালনের বিরুদ্ধে তারা। তামিলনাড়–তে ডিএমকে দলীয় নেতা এম কে স্ট্যালিন বলেছেন, ডলারের বিপরীতে রুপির দরপতন বা জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না।


আরো সংবাদ