২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

তুরস্ক-ইরান-সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কে নতুন মাত্রা

তুরস্ক-ইরান-সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কে নতুন মাত্রা - সংগৃহীত

তুরস্ক-ইরান-সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা দিচ্ছেন ইমরান খান। ইসলামপন্থীদের সহানুভুতি আর সেনাবাহিনীকে পুঁজি করে ক্ষমতায় আসা ইমরানের নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে সৌদি আরব ও ইরান। পরষ্পরের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত মুসলিম দেশ দুইটির মধ্যে কাকে বেছে নেবেন তিনি?

সৌদি আরবের সংবাদ মাধ্যম আল আরাবিয়া নিউজে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নিবন্ধ বলা হয়, বর্তমান সময়ে বিশ্বরাজনীতিতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। ইন্দোনেশিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ এটি। দেশটির হাতে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র। সামরিক সক্ষমতায় পাকিস্তান রয়েছে বিশ্বের সেরা শক্তিধর দেশের তালিকায়। এদিকে পাকিস্তানের সাথে তেহরানের সম্পর্ক বেশ পুরনো। আবার রিয়াদের সাথেও দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক ঊষ্ণই রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সৌদি আরব ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। ইমরান খান ইতিমধ্যেই ইরানের সাথে কয়েক দফা কথা বলেছেন। দেশটির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ঘোষণা দিয়েছেন।  ইমরান খান ইরান ছাড়াও সম্প্রতি তুরস্কের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ঘোষণা দিয়েছেন। তুর্কিদের তিনি ভাই হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমনকি তুরস্কের মুদ্রা লিরার সঙ্কট মোকাবেলায় তার দেশের অনেকেই লিরাও কিনেছেন।

সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক বরাবরই অত্যন্ত গভীর ও দৃঢ়। বিশেষ করে সৌদি আরবে পাকিস্তানের সবচেয়ে বেশি প্রবাসী রয়েছে। দেশটির সাথে পাকিস্তানের বাণিজ্য যোগাযোগও অনেক বড়। পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার বেশির ভাগ আসে সৌদি আরব থেকে।

কিন্তু সৌদি আরব ও ইরানের সংঘাতের কারণে পাকিস্তান উভয় সঙ্কটে রয়েছে। ইরানের সাথে তিনি সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটালে সৌদি আরব তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। সেক্ষেত্রে দেশটির বিশাল সংখ্যক প্রবাসীদের নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

নিবন্ধে আরো বলা হয়, বর্তমান সময়ে তেহরান তার পররাষ্ট্র নীতিসহ নানা ইস্যুতে ব্যাপক বদল এনেছে, যা সন্ত্রাসের সহায়ক। এমন অবস্থায় তেহরানের উপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগে ইসলামাবাদকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। আর এর মাধ্যমে দেশটি সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায়ও নামতে পারবে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে সৌদির পররাষ্ট্র নীতির পক্ষ নিলে ইসলামাবাদের অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলেও উল্লেখ করা হয়। পাকিস্তান যদি তেহরানের উপর চাপ প্রয়োগে ভূমিকা রাখে সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অর্থনীতি আরো চাঙ্গা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির লোকবলের কদর আরও বাড়বে।

কিন্তু চীনমুখী পররাষ্ট্রনীতির কারণে আবার ইমরান খান দোটানায় পড়ে যেতে পারেন। কেননা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আবার যুক্তরাষ্ট্রর বিরুদ্ধে জোট বেধেছে ইরান-তুরস্ক-রাশিয়া চীন। যার ফলে এক জটিল সমীকরন তৈরি হয়েছে।

ক্ষমতায় এসেই সরকারের মন্ত্রী ও আমলাদের ব্যয় সংকোচের জন্য প্রথম শ্রেণির বিমানে উড়ান নিষিদ্ধ করেন পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিন্তু কয়দিন কাটতে না কাটতেই ব্যয় বাড়ানোর বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি নিজেই। ফলত তাকে নিয়ে হাঁসি-ঠাট্টা করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ইসলামাবাদের বানিগালায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে নিজের পুরানো বাড়িতে প্রায়ই যাতায়াত করেন ইমরান খান। আর এই কাজে ব্যবহার করেন সরকারি হেলিকপ্টার। মন্ত্রী আমলাদের খরচ কমানোর কথা বলে কেন ইমরান নিজে বারবার হেলিকপ্টারে যাতায়াত করে ব্যয় বাড়াচ্ছেন, সেই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সোমবার ১৬ হাজার টুইটে ইমরানের এই উড়ান নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। কেউ কেউ অটো রিক্সার সঙ্গে হেলিকপ্টারের লেজ জুড়ে দিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।

তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী এবং পিটিআই নেতা আলি মুহাম্মদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে সচিবালয়ে ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হেলিকপ্টার যাত্রায় খরচ অনেক কম হচ্ছে! সড়কপথে প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে অন্ত পাঁচ থেকে সাতটা বিলাসবহুল ও বুলেটপ্রুফ গাড়ির প্রয়োজন হয়। আকাশপথে সেই ঝামেলা থাকছে না। সময়ও বেঁচে যাচ্ছে। মাত্র ৩ মিনিটে সচিবালয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে যাচ্ছেন না বলে রাস্তায় অন্য গাড়িকেও দাঁড়াতে হচ্ছে না। এতে সব দিক থেকেই সাশ্রয় হচ্ছে।

ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কিছু ছবি তুলেছেন। আর সেই ফটোশুটের ব্যয় নাকি ৩৫ লাখ রুপি হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে ফটোগ্রাফার ইরফান আহসান জানান, ওই ফটোশুটটি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জন্য একটি উপহার ছাড়া কিছু নয়।

 

 

দেখুন:

আরো সংবাদ