১৫ নভেম্বর ২০১৮

কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি সেই ভারতীয় মেজর

মেজর গগোই ও তার ব্যবহৃত ‘মানব ঢাল’ - ফাইল ছবি

কাশ্মিরে মুসলিম যুবককে ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করা সেই সেনা কর্মকর্তা এবার কোর্ট মার্শারের মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে এবার তিনি ‘ধরা খেয়েছেন’ অন্য অভিযোগে।

সে সময় ‘মানব ঢালে’র সেই ঘটনায় কোন শাস্তি তো দূরের কথা, উল্টো মেজর লিতুল গগোইকে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী তুমুল সমালোচিত কাশ্মিরের বাদগাম জেলার সেই ঘটনার জন্য দায়ী অফিসারকে দেশটির সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে ‍প্রশংসা জানিয়ে পদক দেয়া হয়েছিল।

তবে গত মে মাসে তাকে আটক করে কাশ্মিরের পুলিশ। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এক তরুণীর সাথে তাকে হোটেল থেকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ। গগোই কাশ্মিরের বাদগাম এলাকায় কর্মরত ছিলেন। কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরের এক হোটেল থেকে স্থানীয় এক তরুণীসহ আটক করে পুলিশ। কোন কোন খবরে সেই তরুণী অপ্রাপ্তবয়স্ক বলেও বলা হয়েছিলো সে সময়। তাদের হোটেল কক্ষে ঝগড়ার করার ঘটনা ঘটেছিলো বলে জানা গেছে। ওই অভিযোগেই এবার কোর্ট মার্শাল বা সামরিক আদালতে বিচারের মুখোমুখী হতে হচ্ছে মেজর গগোইকে।

এক ব্রিগেডিয়ারের নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কোর্ট অব ইনকোয়ারি মেজর গগোইকে বিদ্যমান আদেশের বিরুদ্ধে গিয়ে এক নারী সোর্সের সাথে মেলামেশা ও অভিযান চলাকালীন অনুমতি ছাড়া ঘাঁটি ত্যাগ করার দায়ে তাকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করেছে।

সোমবার ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মেজর গগোইর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তথ্য প্রমাণের ওপর নির্ভর করবে তার কী শাস্তি হতে পারে সেটি। ‘তিরস্কার’ থেকে শুরু করে চাকুরি থেকে বরখাস্ত- যে কোন শাস্তি হতে পারে ওই মেজরের।

গত বছরের ৯ এপ্রিল কাশ্মিরি বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথর থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় ফারুক আহমেদ দার নামের এক যুবককে নিজের জীপের বনেটে বেঁধে রাখেন মেজর গগোই। ওই ঘটনার পর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে, যদিও সেই অভিযোগ থেকে মুক্তি ও সেই সাথে পুরস্কার পান তিনি।

সেই ঘটনার এক বছর পর এ বছরের ২৩ মে তাকে এক তরুণী সহ হোটেল থেকে গ্রেফতার করে কাশ্মিরি পুলিশ। এবার বাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য বিচারের মুখোমুখি তিনি।


আরো সংবাদ