১৪ নভেম্বর ২০১৮

বাজপেয়িকে নিয়ে এমন ভুল করলো সিনহুয়া!

ভারত
অটলবিহারী বাজপেয়ি - ছবি: সংগৃহীত

ভারতের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ির মৃত্যুর খবরে ভুল ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে সমালোচনার মুখে পড়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্যুইটারে শেয়ার করা খবরে সংবাদ সংস্থাটি বাজপেয়ির পরিবর্তে ব্যবহার করেছে জর্জ ফার্নান্ডেজের ছবি, যিনি বাজপেয়ির মন্ত্রিসভার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। এমনকি তিনি এখনো জীবিত আছেন।

এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে নিজেদের ভুল বুঝে তড়িঘড়ি ট্যুইটটি মুছে ফেলা হয়।

সমালোচনাকারীদের কেউ লেখেন, ‘সস্তার সাংবাদিকতা’, কারো পরামর্শ, ‘অন্তত ছবিটা তো ঠিক দিন’।

পরে অবশ্য ভুল শুধরে নতুন ছবি দিয়ে খবরটি পুনরায় ট্যুইটারে শেয়ার করেছে সিনহুয়া বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ডিএনএ ইন্ডিয়া।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি গতকাল দিল্লির এক হাসপাতালে পরলোক গমন করেছেন। বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে মৃত্যু হয় ৯৩ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর।

কিডনি ইনফেকশনসহ একাধিক সংক্রমণের কারণে গত ১১ জুন দিল্লির অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল সার্ভিসেস (এআইএমএস) হাসপাতালে ভর্তি হন বাজপেয়ি। গত মঙ্গলবার থেকে তার শারীরিক পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়। ফুসফুস ও অন্ত্রে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বাজপেয়রি একটি কিডনি দীর্ঘ দিন ধরেই বিকল ছিল। শুধু একটি কিডনি কাজ করছিল। এই পরিস্থিতিতে তার চিকিৎসা আরো জটিল হয়ে ওঠে। খবর বিবিসি/এনডিটিভি/টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে তাকে দেখতে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহসহ অনেকে। এ বর্ষীয়ান নেতা গত কয়েক বছর ধরে বাসভবনেই ছিলেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিশিষ্টজনরা।

১৯২৪ সালে জন্ম নেয়া বাজপেয়ি ছিলেন দেশের দশম প্রধানমন্ত্রী। তিনি তিন দফায় ভারতের বিজেপি সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। প্রথম দফায় ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৩ দিনের জন্য, এরপর ১৯৯৮ সালে ১৩ মাস এবং সর্বশেষ ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত টানা প্রায় ছয় বছর তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ বিজেপি নেতাই এ পর্যন্ত ভারতের জাতীয় কংগ্রেস দলের বাইরে একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যিনি প্রধানমন্ত্রিত্বের পুরো মেয়াদ শেষ করতে পেরেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পে অবস্থান নিয়েছিলেন এই ভারতীয় রাজনীতিবিদ। এর স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’য় ভূষিত করেছে।

আরো পড়ুন :

ভারতের ভোটার তালিকায় নাম নেই বাজপেয়ির
টাইমস অব ইন্ডিয়া, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭
ভারতের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির নাম। ভারতের লখনৌ শহরের বাবু বেনারসি দাস ওয়ার্ডের একটি বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন বাজপেয়ি। কিন্তু লখনৌ পৌরসভা থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত ভোটার তালিকায় নাম নেই তার।

লখনৌ পৌরসভার বাসিন্দা হিসেবে বাজপেয়ি শেষবার ভোট দিয়েছিলেন ২০০৪ সালে। এর পর প্রায় এক দশক তিনি ওই বাড়িতে ছিলেন না। সে কারণেই তাকে ভোটাধিকার হারাতে হয়েছে বলে জানিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

লখনৌ পৌরসভার ১ নম্বর জোনের কর্মকর্তা অশোক কুমার সিং জানান, বাজপেয়ি লখনৌর ওই বাড়িতে না থাকার জন্য ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ গেছে। বর্তমানে বাড়িটি কিষান সংঘের অফিস। বাজপেয়ি ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত পার্লামেন্টে লখনৌ আসনের আইনপ্রণেতা ছিলেন। এমনকি ২০০৬ সালেও তিনি বিজেপি প্রার্থী দীনেশ শর্মার হয়ে ওই কেন্দ্রে প্রচারণায় অংশ নেন। বর্তমানে অসুস্থ বাজপেয়ি দিল্লির লুটিয়েনসের ৬ নম্বর বাড়িতে থাকেন। তিনিই নব্বইয়ের দশকে ভারতে প্রথম স্লোগান তুলেছিলেন- ‘আগে ভোটদান, পরে জলপান’।

বাজপেয়ি পরিবারকে বাংলাদেশের সম্মাননা পৌঁছে দিলেন মোদি
এনডিটিভি, ১২ জুন ২০১৫
বাংলাদেশের দেয়া ‘মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ অটল বিহারি বাজপেয়ির পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটের বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়, বৃহস্পতিবার ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির পরিবারের সদস্য রঞ্জন ভট্টাচার্য, নমিতা ভট্টাচার্য ও নীহারিকা ভট্টাচার্যের হাতে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ তুলে দেন নরেন্দ্র মোদি। সম্মাননাপত্র ও স্মারক তুলে দেয়ার অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ উপস্থিত ছিলেন।

৭ জুন বাংলাদেশ সফরের সময় একাত্তরে স্বাধীনতার সংগ্রামের পে বিশ্বের সমর্থন আদায়ে ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বিজেপি নেতা অটল বিহারি বাজপেয়িকে এই সম্মাননা দেয় বাংলাদেশ।

এর আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার মতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশী বন্ধুদের সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা সম্মাননা দেয়া হয় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে। ২০১২ সালের ২৫ জুলাই ইন্দিরার পুত্রবধূ সোনিয়া গান্ধীর হাতে সেই সম্মাননাপত্র তুলে দেয়া হয়।


আরো সংবাদ