১০ ডিসেম্বর ২০১৮

‘দেশহারা’ সেই হায়দর আলির কণ্ঠে আবারো জাতীয় সঙ্গীত

ভারত
স্কুলের মাঠে পতাকা তোলা হচ্ছে। সহপাঠীদের সাথে দাঁড়িয়ে হায়দর আলি - ছবি : আনন্দবাজার পত্রিকা

গত বছর স্বাধীনতা দিবসে দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে ওঠা ভারতের দক্ষিণ শালমারা নসকরা স্কুলের ছাত্র হায়দর আলি খানের নাম নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত খসড়ায় ওঠেনি। আপাতত তাই অসম তথা ভারতের নাগরিক হিসেবে তার নামটাই নেই। কিন্তু সেই হায়দরের সৌজন্যেই গোটা স্কুলের ছাত্ররা শিক্ষামূলক ভ্রমণে যেতে চলেছে।

হায়দর ও তার বন্ধু জিয়ারুলের গলা পানিতে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকাকে স্যালুট করার ছবি দেশে ভাইরাল হয়েছিল। শিক্ষক মিজানুর রহমানের তোলা সেই ছবির সূত্র ধরেই নসকরা নিম্ন প্রাথমিক স্কুলের নাম ছড়িয়ে পড়ে দেশের সোশ্যাল মিডিয়ায়।

গতকাল স্বাধীনতা দিবসে সকাল থেকে বিভিন্ন উৎসবের মাধ্যমে ওই স্কুলের মাঠে তোলা হয় জাতীয় পতাকা। পতাকা তোলেন স্কুল পরিদর্শক আমির হামজা এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নৃপেন রাভা। চতুর্থ শ্রেণির হায়দর, জিয়ারুলরাও সেখানে হাজির ছিল। হায়দরও সকলের সাথে ভাগ করে খেয়েছে চকলেট, মিষ্টি। গলা মিলিয়েছে জাতীয় সঙ্গীতে।

আনন্দের মধ্যেও নাগরিক পঞ্জিতে নাম না থাকায় হায়দর কিছুটা যেন মনমরা। এনআরসি সেবা কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছিল, তার জন্মের শংসাপত্রে সম্ভবত গোলমাল আছে। গ্রামে বহু ক্ষেত্রেই হাসপাতালে প্রসব হয় না। পরে জন্মের শংসাপত্র সংগ্রহ করেন। তাতেই কোনো সমস্যা হয়ে থাকবে। এ সব জেনে হায়দরকে শিক্ষকেরা ভরসা দিয়েছেন, ২০ আগস্ট থেকে নাম তোলার ফর্ম বিলি হবে। এ বার তাকে ও তার মাকে আবেদনপত্র পূরণ করার কাজে তারাই সাহায্য করবেন।

মিজানুর রহমান জানাচ্ছেন, ঝাড়খণ্ড থেকে বিশ্ববিজয় সিংহ নামে এক ব্যক্তি তার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি নসকরা স্কুলের দেশপ্রেমে মুগ্ধ। তাই স্কুলকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে চান। কিন্তু এই বছরই নিম্ন প্রাথমিক স্কুলটি মিশে যাচ্ছে পাশের মধ্য ইংরেজি স্কুলে। তাই আলাদা করে নসকরা নিম্ন প্রাথমিক স্কুলের অস্তিত্ব থাকছে না। মিজানুর রহমান তাই প্রস্তাব দেন, স্কুল না থাকলেও ছাত্র ও শিক্ষকেরা তো থাকছেনই। ওই টাকায় সকলকে নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণ করা যেতে পারে। এই এলাকার মানুষকে দু’ঘণ্টা নদী পার করে ধুবুরি আসতে হয়। গরিব ছাত্রদের অনেকেই বেড়ানো দূরের কথা, ধুবুরির বাইরে অন্য কোথাও যায়নি। তাই ওই টাকা পেলে সকলকে নিয়ে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া যাবে।

এ প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন বিশ্ববিজয় সিংহও।

আরো পড়ুন :
দেশপ্রেমে মুগ্ধ দেশ, সেই হায়দর এখন নিজেই দেশহীন
১৫ অগস্ট, ২০১৭। দেশ জুড়ে ‘ভাইরাল’ একটি ছবি। আসামে দক্ষিণ শালমারার বানে ডোবা স্কুলে দেশের পতাকা উঠেছে। গলা-পানিতে দাঁড়িয়ে সালাম জানাচ্ছে আদুড় গায়ে দুই খুদে ছাত্র। পাশে প্রধান শিক্ষক।

এ বছর গুয়াহাটির গান্ধী মণ্ডপে যখন ৩০৬ ফুট উচ্চতায় পতাকা উড়িয়ে চমক দেয়া চলছে, বাক্সার গোরেশ্বরে যখন সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ তেরঙা বানিয়ে জাতীয় নজির গড়ার চেষ্টা চলছে, তখনই ৩৬৫ দিন আগে ভারতীয়ত্ব ও দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে ওঠা ওই দুই ছাত্রের একজন, হায়দর আলি খান আপাতত ‘দেশহীন’। সৌজন্যে অসমের নাগরিক পঞ্জি তথা এনআরসির চূড়ান্ত খসড়া। বাবা প্রাণ দিয়েছেন উগ্রবাদী বুলেটে। মা জাইবন খাতুন, ভাই জাইদর আর বোন রিনার নাম আছে নাগরিক পঞ্জিতে। অজ্ঞাত কারণে বাদ পড়েছে হায়দর।

হায়দরের সেরা বন্ধু জিয়ারুল যতটা ছটফটে, হায়দর ততটাই চুপচাপ। কিন্তু সাঁতারে দু’জনই দক্ষ। তাই গত বছর যখন নসকরা নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যায় ডুবে যায় ওই দুই খুদে সাঁতারু পানিতে ঝাঁপ দিয়ে চলে গিয়েছিল স্কুলের সামনে পতাকাস্তম্ভের কাছে। ডুব দিয়ে খুলে ফেলেছিল জাতীয় পতাকার রশি। প্রধান শিক্ষক তাজেম শিকদারও সাঁতরে চলে আসেন। বাকি শিক্ষক ও ছাত্ররা তখন উঁচু রাস্তায় দাঁড়িয়ে। পতাকা উত্তোলন করে স্যালুট জানান তাজেম, হায়দর, জিয়ারুল। এগিয়ে আসেন অন্য শিক্ষকেরাও। ধরেন জাতীয় সঙ্গীত। গলা মেলায় আশপাশে জমে থাকা ভিড়। শিক্ষক মিজানুর রহমান ওই ছবি তুলে পোস্ট করেছিলেন নিজের ফেসবুক পাতায়। বিকেলের মধ্যে তা গোটা দেশে ভাইরাল হয়ে যায়। অভিনন্দনে ভাসেন নসকরা স্কুলের শিক্ষক-ছাত্ররা।

সেই ছবি

 

স্থানীয় সাংসদ বদরুদ্দিন আজমল স্কুলকে এক লাখ টাকা এবং ওই দুই ছাত্র ও চার শিক্ষককে নিজের পক্ষ থেকে আর্থিক উপহার দেন।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকা এতই প্রত্যন্ত যে ধুবুরি যেতেও দুই ঘণ্টা নৌকায় পাড়ি দিতে হয়। রাস্তাঘাট নেই। আমার নিজের বাড়ির একটা অংশ নদীতে তলিয়ে গেছে। নেতারা পাত্তা দেন না। গত বার হইচইয়ের পরে ভেবেছিলাম, এ বার এলাকার উন্নতি হবে। কিন্তু কিছুই হল না।’

এ বছর ৩০ জুলাই এনআরসির চূড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রকাশ হলে দেখা যায়, গ্রামের অনেকের মতো হায়দরের নামও তালিকায় নেই। হায়দরের মা জানান, এনআরসি সেবা কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, হায়দরের জন্মের শংসাপত্রে সম্ভবত গোলমাল আছে। সেবা কেন্দ্র সূত্রে বলা হচ্ছে, গ্রামে মহিলাদের অনেকের প্রসবই হাসপাতালে হয় না। পরে জন্মের শংসাপত্র সংগ্রহ করতে যায় পরিবার। তখনই কোনও গোলমাল হয়ে থাকবে।

২০১২ সালে কোকরাঝাড়ে উগ্রবাদী হানায় মারা যান হায়দরের বাবা রুপনাল খান। তার পর থেকেই চুপচাপ হায়দার। এখন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। ছোট হলেও, নাম বাদ পড়ার গুরুত্ব সে জানে। তাই আরও চুপ হয়ে গেছে। মা মাদরাসায় রান্না করে নামমাত্র টাকা পান। বলেন, ‘সংসারই চালাতে পারি না, ছেলেকে ভারতীয় প্রমাণ করতে মামলা-মোকদ্দমা চালানোর সাধ্য কোথায়! সেবা কেন্দ্র ভরসা দিয়েছে পরের বার ঠিক মতো আবেদনপত্র জমা দিলে নাম উঠবে।’

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

আসামের নাগরিক তালিকা থেকে ৪০ লাখ লোক বাদ
নয়া দিগন্ত ডেস্ক, ৩১ জুলাই ২০১৮
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী ভারতের আসাম রাজ্যের বহুল আলোচিত ‘নাগরিক’ তালিকার চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। ‘জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ’ বা ‘এনআরসি’ নামে এ তালিকার খসড়া থেকে বাদ পড়েছেন ৪০ লাখ বাসিন্দা, যাদের প্রায় সবাই ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু। তালিকা থেকে বাদ পড়ার অর্থ ওই বাসিন্দাদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে ধরা হয়েছে।

সোমবার রাজ্য সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ এই তালিকা প্রকাশ করে। ‘প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসামে ঢোকা অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করতে’ এই তালিকা করা হয়েছে। ১৯৫১ সালের পর প্রথমবারের মতো এই তালিকা করল বিজেপির সরকার। খবর রয়টার্স, আল জাজিরা ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, রাজ্যের মোট তিন কোটি ২৯ লাখ বাসিন্দার মধ্যে এনআরসিতে নাম উঠেছে দুই কোটি ৯০ লাখ মানুষের। বাদ পড়ে গেছেন অন্যরা। এর আগে গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত এনআরসির প্রথম তালিকায় জায়গা হয়েছিল মাত্র এক কোটি ৯০ লাখ বাসিন্দার। বাদ পড়ে কয়েক পুরুষ ধরে আসামে বসবাসকারী বহু বাঙালির নাম। নতুন তালিকায়ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও বাঙালি-অধ্যুষিত এলাকার লোকদের নাম বাদ গেছে বেশি।

ভারতের প্রথম কোনো রাজ্য হিসেবে নাগরিকদের এমন কোনো তালিকা করল আসাম। রাজ্যের কর্মকর্তারা বিশেষ করে কট্টরপন্থীরা মনে করেন, প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে বিপুল বাসিন্দা আসামে ঢুকে ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন এবং রাজ্যের জনতাত্ত্বিক চিত্র বদলে দিচ্ছেন।

এই তালিকায় যাদের জায়গা হয়নি, তারা আসামিজ পরিচিতি পাবেন না। এদেরকে অনেক আগে থেকেই ‘অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ বিবেচনা করে আসছে রাজ্যের কট্টরপন্থী অংশ।

এআরসি সমন্বয়ক সৈলেশ বলেন, যাদের এই তালিকায় জায়গা হয়নি, তারা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবেন। আগের তালিকায় থাকলেও এই তালিকায় বাদ পড়েছেন এমন ব্যক্তিরাও অভিযোগ-আপত্তি উপস্থাপন করতে পারবেন। সেজন্য এনআরসি কমিটি তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করবে। অভিযোগ-আপত্তি গ্রহণ শুরু হবে ৩০ আগস্ট, শেষ হবে ২৮ সেপ্টেম্বর।
আবেদনের প্রক্রিয়া স্পষ্ট না হলেও সৈলেশ বলেন, ভারতের নাগরিকদের এতে ভীত হওয়ার কারণ নেই।

রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়াল এই তালিকা নিয়ে কোনো ‘উসকানিমূলক’ মন্তব্য দেয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তবে তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি রিপুন বোড়া বলেন, ৪০ লাখ লোকের বাদ পড়ে যাওয়াটা একেবারেই বিস্ময়কর। এই তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় অনেক অনিয়ম স্পষ্ট। আমরা এই তালিকার বিষয়ে বিধানসভায় সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলব।

আগামী ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এই বাসিন্দাদের নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দিয়ে তাদের ভোটবঞ্চিত করার পেছনে বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও মনে করেন রিপুন বোড়া।

এই তালিকার সমালোচনা করেছে আঞ্চলিক প্রভাবশালী দল ও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসও। দলটির মুখপাত্র এসএস রায় বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৪০ লাখ ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে এই তালিকা থেকে ছাঁটাই করেছে। এটা আসামসংলগ্ন অন্য রাজ্যগুলোতেও জটিলতা সৃষ্টি করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

তালিকা প্রকাশ ঘিরে গত সপ্তাহজুড়েই আসামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় সোমবার আসাম এবং এর পাশের অঞ্চল মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ ও মণিপুরে আধা-সামরিক বাহিনীর ২৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে জাতীয় নাগরিক তালিকার চূড়ান্ত খসড়া থেকে ৪০ লাখ লোকের নাম বাদ পড়ার পর তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিবিসি।

কেন্দ্রীয় সরকার যদিও মুখে বলছে, এখনই তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তারা আপিল করার যথেষ্ট সুযোগ পাবেন- মমতা ব্যানার্জির মতো আসামের প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মতো অনেকেরই আশঙ্কা যে আসামে অত্যাচারের মুখে পড়ে এই লাখ লাখ মানুষ পালাতে বাধ্য হবেন।

ভারতে পর্যবেক্ষকেরাও মনে করছেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা সম্ভব নয়, আর তাদের কাউকেই বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোও যাবে না। এই পরিস্থিতিতে রাতারাতি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়া মানুষগুলোর জন্য কী পরিণতি অপেক্ষা করছে।

আসলে আসামে নাগরিক তালিকা বা এনআরসির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে চল্লিশ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ল, তারা স্বাধীন ভারতে এখন কিভাবে থাকবেন তার কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।

পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং তাদের শুধু এটুকু আশ্বাস দিয়েছেন, এখনই অত ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘কেউ কেউ অযথা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছেন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই ভয়ের কোনো কারণ নেই!’

‘কেউ যদি ঠিকমতো কাগজপত্র না দিতে পারেন তারা আবার সেই সুযোগ পাবেন, এমন কী চূড়ান্ত তালিকাতে নাম না থাকলেও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে যেতে পারবেন। আর এর মাঝে তাদের ভয়ভীতি দেখানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’

আসাম লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, যার দল গতকাল এই ইস্যুতে পার্লামেন্টও অচল করে দেয়, তিনি কিন্তু আশঙ্কা করছেন, আসাম থেকে এবার এই মানুষগুলোকে বিতাড়নের চেষ্টা হবে।

কলকাতায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘তাদের ওপর যে কী অত্যাচার চলবে, আর কী হবে আমরা জানি না। কিন্তু সেটা ভেবেই আমরা খুব বিচলিত। আসলে দেশে থেকে যারা আজ দেশেই রিফিউজি হয়ে গেল, তারা তো আমাদেরই ভাইবোন, তাই আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।’

‘এটা আসলে বাঙালি খেদাও চলছে। আর শুধু বাংলাভাষীরাই বা কেন, বিহারি খেদাও-ও চলছে। আর এতে সবচেয়ে বিপদে পড়বে বাংলাদেশও। কারণ পুশব্যাক যদি করতে চায় আর বাংলাদেশ তাদের নিতে না চায়, তাহলে এই লোকগুলো যাবে কোথায়?’

মিস ব্যানার্জি তার সঙ্গে আরো যোগ করেছেন, ‘এত বড় একটা জিনিস করার আগে সরকার কি একবারও ভেবেছে এই চল্লিশ লাখ লোক কোথায় যাবে?’

সরকার যে আসলেই খুব একটা কিছু ভাবেনি, মোটামুটি সেই একই ধারণা পোষণ করেন দিল্লির ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালিসিসের ফেলো পুষ্পিতা দাসও।

ড: দাস বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘এখনো অবধি সরকারি নীতি খুবই অস্পষ্ট- আমরা বিশেষ কিছু জানি না, এমন কি সরকার কী করবে নিজেও জানে কি না সন্দেহ! তাদের প্রস্তুতি বলতে এটুকুই যে এই লোকগুলোকে হয়তো ডিটেনশন সেন্টারে আটক করা হবে।’
‘কিন্তু মুশকিল হলো এত লাখ লাভ লোককে সেন্টারে আটক রাখা সম্ভবই নয়। কেন্দ্র যদিও মুখে বলে যাচ্ছে আমরা ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করতে আসামকে টাকা দিয়েছি, রাজ্য সরকার বানাবে ইত্যাদি ইত্যাদি - কিন্তু বাস্তবতা হলো এত বিপুলসংখ্যক লোককে আপনি কিভাবে সেন্টারগুলোতে রাখবেন?’

আসামে যারা এনআরসি তালিকাভুক্ত হতে পারছেন না, তাদের সাধারণভাবে অবৈধ বাংলাদেশী হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও বাংলাদেশে তাদের ফেরত পাঠানোর যে কোনো সম্ভাবনাই নেই, সেটাও স্পষ্ট করে দিচ্ছেন ড: দাস।

‘বাংলাদেশ পরিষ্কার বলে দিয়েছে এরা তাদের লোক নয়, তারা নিতেও পারবেন না। অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে ভারত সরকারও বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছে এনআরসি নিয়ে তারা এমন কিছু করবে না যাতে বাংলাদেশের সমস্যা হয়। ফলে আমরা ডিপোর্ট করতে পারব না- এটাই পরিষ্কার কথা!’ বলেন তিনি।

‘সুতরাং আমার মনে হয় খুব সম্ভবত প্রথমে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তারপর ধীরে ধীরে যেভাবে ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে পরে নাগরিকত্ব দেয়া হয় এদের ক্ষেত্রেও সেটাই হবে। দশ-বারো বছর হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু পরে এরা অ্যামনেস্টি বা সাধারণ ক্ষমা পেয়ে ভারতের নাগরিক হয়ে যাবেন।’

‘আবার এটাও হতে পারে যে তাদের ধীরে ধীরে আসাম থেকে সরিয়ে অন্য সব রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হলো, যাতে এই সমস্যার চাপটা একা আসামকে সামলাতে না হয়,’ বলছিলেন দিল্লির নামী থিঙ্ক ট্যাঙ্কের গবেষক পুষ্পিতা দাস। তবে এগুলো সবই সম্ভাবনা মাত্র, আর তার বাস্তবায়নে অনেক সময়ও লাগবে।

কিন্তু এই মুহূর্তে আসামে যাতে কোনো দাঙ্গা-হাঙ্গামা ছড়িয়ে না পড়ে, রাজ্যসরকারের প্রধান দুশ্চিন্তা সেটাই।

মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল তালিকা প্রকাশের পরপরই জানান, আসাম তার শান্তি ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য এখনো বজায় রাখবে বলেই তিনি আশাবাদী।

‘পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকাই আমরা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলব। তারা যেভাবে যেভাবে বলবে, আমরাও সেই অনুযায়ী চলব,’ বলেছেন তিনি।

আসামে এনআরসি তৈরির উদ্যোগ যে তাদের নয় বরং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই, কেন্দ্রের ও আসামের বিজেপি সরকার সে কথা বারেবারেই বলেছে।

তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষদের নিয়ে কী করা হবে, সে ব্যাপারেও যে তারা এখন শীর্ষ আদালতের কাঁধেই বন্দুক রাখতে চাইছেন সেটা পরিষ্কার।


আরো সংবাদ

যেসব আসনে ‘ধানের শীষের’ প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে (২৮৭৩৪)বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যারা প্রার্থী হলেন (১৩০২৭)মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপির আনিসুল হক বললেন- ব্যক্তি নয় মার্কাই বড় (১১৮১৮)অভিমানে বিএনপি ছাড়লেন মনির খান (১১১৭৬)জোটে ২২ আর উন্মুক্তভাবে ১ আসনে লড়বে জামায়াত (১০৮৭৮)ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ (৯৭০৯)বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেমকে লক্ষ্য করে গুলি! (৯২৭০)এত কিছু করেও মির্জা আব্বাসকে ঠেকাতে পারলেন না মেনন (৯২৪৯)বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন খন্দকার মাহবুব (৮৬১২)বিএনপির আরো চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন যারা (৭৯২০)