২৪ এপ্রিল ২০১৯

‘বুড়ো’ হচ্ছে ভারত!

ভারত
ভারতে দ্রুত হারে বেড়ে চলেছে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা। - ছবি: সংগৃহীত

ভারতে উত্তরোত্তর বাড়ছে প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা। এতটাই যে, দেশের জনসংখ্যা-বৃদ্ধির হার তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না! সামনের ৩২ বছরে দেশে প্রবীণ নাগরিকদের অনুপাত-বৃদ্ধির হারের কাছে আরও বেশি করে পিছু হঠতে হবে জনসংখ্যা-বৃদ্ধির হারকে। ২০৫০ সালে বিধবা ও অন্যের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণ মহিলাদের সংখ্যাও ভারতে বাড়বে উদ্বেগজনকভাবে।

লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে শুক্রবার এ কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া পটেল। জানিয়েছেন, ভারতে ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকের সংখ্যা ২০৫০ সালে গিয়ে পৌঁছবে অন্তত ৩৪ কোটিতে। শুধু তাই নয়, ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের সংখ্যা এ দেশে কমছে। আর বেড়ে চলেছে ৬০ বছর পেরোনো প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা। দ্রুত হারে।

প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা তুলনায় বেশি বাড়বে দেশের কোন কোন রাজ্যে?
পটেল এও বলেছেন, সামনের ৩২ বছরে এ দেশে প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা বেশি বাড়বে তামিলনাড়ু, কেরল, কর্নাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের মতো দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে। একই অবস্থা হবে হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র ও ওড়িষ্যার। তবে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা সেই হারে বাড়বে না।

মোটামুটি একই রকমের তথ্য, পরিসংখ্যান দিয়েছে জাতিসঙ্ঘও। জাতিসঙ্ঘের পপুলেশন ফান্ড (ইউএনএফপিএ)-এর রিপোর্ট (‘ইন্ডিয়া এজিং রিপোর্ট, ২০১৭’) জানাচ্ছে, আজ থেকে ৩২ বছর পর, ভারতে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ৩১ কোটি ৬৮ লক্ষে। আর ‘হেল্পএজ-ইন্ডিয়া’র সমীক্ষাভিত্তিক পূর্বাভাস, ২০৫০ সালে এ দেশে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা হবে ৩২ কোটি ৪০ লাখ।

যার মানে, জাতিসঙ্ঘ ও ‘হেল্পএজ-ইন্ডিয়া’ আজ থেকে ৩২ বছর পর ভারতে প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা যতটা বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, লোকসভায় দেওয়া তথ্যের নিরিখে সেই সংখ্যা আরো দেড় থেকে আড়াই কোটি বাড়বে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

জনসংখ্যা-বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হারে বাড়ছে প্রবীণদের অনুপাত
ভারতে জনসংখ্যা-বৃদ্ধির হার যে প্রবীণ নাগরিকদের অনুপাত-বৃদ্ধির হারের সঙ্গে লড়াইয়ে উত্তরোত্তর পিছু হঠছে, তার ছবি ফুটে উঠেছে ইউএনএফপিএ-র ‘ইন্ডিয়া এজিং রিপোর্ট, ২০১৭’-এ।

ওই রিপোর্ট বলছে, ‘২০১৫ সালে অনুপাতের নিরিখে দেশের মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ ছিলেন প্রবীণ ভারতীয় নাগরিকরা। ২০৫০ সালে জনসংখ্যার নিরিখে প্রবীণ নাগরিকদের সেই অনুপাত হবে ১৯ শতাংশ। আর ২০৯৯ সালে গিয়ে সেই অনুপাতটা হবে তখনকার জনসংখ্যার ৩৪ শতাংশ।’

জাতিসঙ্ঘের রিপোর্ট এও জানাচ্ছে, ২০০০ থেকে ২০৫০ সালে ভারতে জনসংখ্যা বাড়বে ৫৬ শতাংশ। আর এ দেশে প্রবীণ নাগরিকদের (৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ) সংখ্যা বাড়বে ৩২৬ শতাংশ। জনসংখ্যার নিরিখে ওই সময়ের মধ্যে ৮০ বছর বয়সী মানুষের অনুপাত বাড়বে ৭০০ শতাংশ।

রয়েছে ভারতের পক্ষে কিছু সুখবরও
তবে ভারতের পক্ষে রয়েছে কিছু সুখবরও। সংসদে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে দেয়া বিবৃতি ও জাতিসঙ্ঘের রিপোর্ট বলছে, ৩২ বছর পর প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যার নিরিখে চীন বা সার্ক জোটের দেশগুলোর চেয়ে কিন্তু এগিয়ে থাকবে ভারত।

‘একটি শিশু’ নীতির জন্য শিশুর সংখ্যা কমছে চীনে। তাই ২০৫০ সালে চীনের জনসংখ্যার ৩৪ শতাংশই বুড়িয়ে যাবেন। প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা দ্রুত হারে বাড়বে সার্ক জোটের অন্য দেশগুলোতেও।

তার মানে, কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যার নিরিখে চীন বা সার্ক জোটের দেশগুলো থেকে এগিয়ে থাকবে ভারত।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

আরো পড়ুন :
৫ বছরে জাপানের জনসংখ্যা কমেছে ১০ লাখ
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
গত পাঁচ বছরে জাপানের জনসংখ্যা কমে গেছে দশ লাখ। ১৯২০ সালের পর এই প্রথম জাপানের জনসংখ্যা কমলো।

গত অক্টোবরের সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী জাপানের জনসংখ্যা এখন ১২ কোটি ৭০ লাখ। এর আগের জনশুমারির তুলনায় এটি দশমিক সাত শতাংশ কম।

জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই আশংকা প্রকাশ করছিলেন যে জাপানের জনসংখ্যা কমবে। এর কারণ জাপানের খুবই নিম্ন জন্মহার। এছাড়া জাপানে অভিবাসনের হারও খুবই কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনের বছরগুলোতে জাপানে জনসংখ্যা আরও কমবে। সেই সঙ্গে বাড়বে প্রবীন মানুষের সংখ্যা।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০৬০ সাল নাগাদ জাপানের মোট জনসংখ্যার চল্লিশ শতাংশই হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী।

জনসংখ্যা বাড়াতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনযো আবে নানা রকম কর্মসূচি নিয়েছেন। জাপানে মহিলা পিছু জন্মহার এক দশমিক চার থেকে এক দশমিক আটে উন্নীত করতে চায় সরকার।

উন্নত দেশগুলোতে জনসংখ্যা যদি স্থিতিশীল রাখতে হলে অন্তত দুই দশমিক এক জন্মহার প্রয়োজন হয়। জাপানের বর্তমান জন্মহার তার অনেক নিচে। সূত্র : বিবিসি

বিশ্বের জনসংখ্যা ৭৪৪ কোটি হবে আগামী মাসে
এএফপি, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭
মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর হিসাব অনুয়ায়ী ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারিতে বিশ্বের জনসংখ্যা ৭ কোটি ৮৫ লাখ ২১ হাজার ২৮৩ জন বেড়ে ৭৪৪ কোটি ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার ৮৮১ জনে দাঁড়াবে। ২০১৭ সালের প্রথম দিন থেকে এ বৃদ্ধির হার ১.০৭ শতাংশ। বার্তা সংস্থা তাস এ খবর জানায়।

হিসাব অনুযায়ী ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে বিশ্বব্যাপী প্রতি সেকেন্ডে ৪.৩ জন শিশু জন্ম নেবে এবং ১.৮ জনের মৃত্যু হবে। এর আগে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর এক হিসাবে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা বেড়ে ৯০০ কোটিতে পৌঁছবে বলে আভাস দেয়া হয়।


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat