১৮ নভেম্বর ২০১৮

পরকীয়া নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট

ভারত
প্রতীকি ছবি - ছবি: সংগৃহীত

পরকীয়া প্রেম কি আদৌ অপরাধ, নাকি একটি সামাজিক সমস্যা?- এ প্রশ্ন তুলেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী একটি অপরাধ এবং যে পুরুষ এ ধরণের সম্পর্কে যুক্ত থাকবেন বলে আদালতে প্রমাণিত হবে, তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের ব্যবস্থা রয়েছে দণ্ডবিধিতে।

কিন্তু প্রায় দেড় শ’ বছর আগে দণ্ডবিধিতে যুক্ত হওয়া ওই ধারার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে সর্বোচ্চ আদালত।

‘দেড়শ বছর আগে যেভাবে নারী-পুরুষের সম্পর্ককে দেখা হতো, সেটা তো এখন হয় না। নারী-পুরুষ উভয়েই এক সঙ্গে কাজ করেন, হয়তো অফিসের প্রয়োজনে বাইরেও যান একসাথে। তাই মেলামেশার ধরণ যেমন পাল্টেছে, তেমনই বদল এসেছে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও। পরকীয়া শব্দটাকে আগে যেভাবে দেখা হতো, এখন আমরা নিশ্চয়ই সেভাবে দেখি না। অন্যদিকে পরিবার, সমাজ - এগুলোকেও রক্ষা করার প্রয়োজন। তাই দেড়শ বছরের পুরনো আইনের এই ধারাটার বদল ঘটানো প্রয়োজন - সব দিকে সামঞ্জস্য রেখে’, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চ্যাটার্জী।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের এক বেঞ্চ বুধবার পরকীয়া প্রেম নিয়ে কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ না দিলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

কেরালার এক বাসিন্দা কোর্টের কাছে আবেদন করেছিলেন যে, ৪৯৭ নম্বর ধারাটি দণ্ডবিধি থেকে বাতিল করা হোক।

সেই মামলার শুনানিতেই আদালত প্রশ্ন তোলে যে একটি সম্পর্কে দুজন জড়িত হলেও তাদের মধ্যে পুরুষ মানুষটির সাজা হবে, আর নারীর সাজা হবে না, এটা অনুচিত।

কলকাতা হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মী ভারতী মুৎসুদ্দি বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘প্রশ্নটা অনেকদিন থেকেই উঠেছে যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত পুরুষটির সাজা হবে অথচ নারীটির কোনো সাজা হবে না কেন? যে নারী তার স্বেচ্ছাচারের ফলে অন্য এক নারীর সংসার ভাঙ্গছেন, সেটা তো অমার্জনীয় অপরাধ। পুরুষটির যেমন সাজা দেয়ার বিধান রয়েছে, এরকম সম্পর্কে জড়িত নারীটিরও শাস্তি হওয়া উচিত বলেই আমি মনে করি।’

নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মী, অধ্যাপক শাশ্বতী ঘোষ-এর মতে, ‘এটা ঠিকই, যদি কোনও বিবাহিতা নারী নতুন করে কোনও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তার দায়-দায়িত্ব পুরুষ মানুষটির যেমন, তেমনই ওই নারীরও। সেই দায়িত্ব তো নারীটিকে নিতেই হবে। সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লাম, তার ফল ভোগ করলাম, কিন্তু দোষী হল শুধু পুরুষটি, সেটা তো ঠিক নয়।’

যদি সে নারীর স্বামীর সম্মতি থাকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কটিতে, তাহলে কি তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না? প্রশ্ন বিচারপতিদের।

তারা এটাও মন্তব্য করেছেন, এই ধারাটিতে শুধু বিবাহিত নারীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গ থাকবে কেন? কোনো পুরুষ তো অবিবাহিত নারী বা বিধবা নারীর সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন, সে ক্ষেত্রে আইনে কেন কিছু বলা থাকবে না?

এই প্রসঙ্গে মিজ মুৎসুদ্দির কথায়, ‘যদি কোনও নারী ব্যভিচারে লিপ্ত হন, সে স্বামীর অনুমতি নিয়েই হোক বা বিনা অনুমতিতে, সাজা তাঁরও হওয়া দরকার। আইনটা থাকাই উচিত, না হলে পারিবারিক-সামাজিক যে মূল্যবোধগুলো রয়েছে, সেগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে এটাও ঠিক যে আইন করলেই যে সবসময়ে তা কার্যকর হয় তা না, কিন্তু আইনের বিধান থাকলে মানুষ অন্তত ভয় পাবে যে এধরণের সম্পর্কের ফলে তাঁদের জেল হতে পারে।’

এই মামলাটির শুনানি চলাকালীন ভারত সরকার জানিয়েছিল, ৪৯৭ ধারাটি তুলে দেয়া হলে বিবাহ এবং পরিবার নামের যে ব্যবস্থা সমাজকে ধরে রেখেছে, তা ধ্বংস হয়ে যাবে।

শাশ্বতী ঘোষের মন্তব্য, ‘নৈতিকতা থাকা দরকার। কিন্তু সবসময়ে কি তাকে আইন দিয়ে বেঁধে রাখা যায়? পরকীয়া প্রেম কি আদৌ অপরাধ হতে পারে? আমার তো মনে হয় না। মন দেয়া নেয়া যে কোনো নারী-পুরুষের মধ্যেই হতে পারে - তিনি বিবাহিত অথবা অবিবাহিত যাই হোন না কেন। সেটাকে ক্রিমিনালাইজ করা কখনই উচিত নয়।’

তবে আইনজীবী মি. চ্যাটার্জী মনে করেন, এই বিধানটি একেবারে তুলে দিলে তা ব্যভিচারের আগলটা খুলে দেবে গোটা সমাজে। সেটাও অনুচিত হবে।

তাই তিনি মনে করেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরকীয়া বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে নতুন আইনি দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত।

সূত্র : বিবিসি

আরো পড়ুন :
পরকীয়া সারাতে হাসপাতাল! উপচে পড়া ভিড়
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০৩ জানুয়ারি ২০১৮
সঙ্গী পরকীয়ায় জড়িত খবর পেলে স্বামী হোক বা স্ত্রী প্রথমেই বিবাহ বিচ্ছেদের কথা চিন্তা করেন। সারা বিশ্বে এই চল থাকলেও চীনে ঠিক এর উল্টো চল শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, চীনে কেউ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

পরকীয়া সারাতে বিশেষ হাসপাতাল গড়ে উঠেছে চীনে। সেই হাসপাতালের লক্ষ্য রোগীর মন থেকে অবাঞ্ছিত তৃতীয় ব্যক্তির ভূত তাড়ানো। নতুন এই হাসপাতালের নাম ‘ওয়েইং লাভ হাসপাতাল’। সেখানে গিয়ে হাজার হাজার ডলার খরচ করে পরকীয়ায় আক্রান্তরা রোগ সারাচ্ছেন।

১৭ বছর আগে ‘লাভ হাসপাতাল’ গড়ে তুলেছিলেন শু শিন ও মিং লি। এ পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি গ্রাহককে সেবা দিয়েছেন তারা।

শু শিন জানান, ‘মিসট্রেস’ তাড়াতে ৩৩টি কৌশল অবলম্বন করেন তারা। বদলি করে অন্য শহরে পাঠানো, পরিবার ও বন্ধুদের দিয়ে হস্তপে করানো কিংবা প্রেমিকের বদনাম ও বংশগতভাবে পাওয়া জটিল কোনো অসুখের কথা বলে তার প্রতি মন বিষিয়ে তোলাসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন তারা।

লাভ হাসপাতালের দাবি, গত ১৭ বছর ধরে এই কাজ করে চলেছে তারা। শুধু রোগ সারানো নয়, তৃতীয় ব্যক্তিকে বুঝিয়ে সরিয়ে আনা, স্বামীর ট্রান্সফার রুখে সংসার ভাঙা বাঁচানো, স্বামী হোক অথবা স্ত্রীর মানসিকতা ও পারিবারিক ইতিহাস গবেষণা করে সারার উপায় বাতলানো। এসবই করে চলেছে হাসপাতালটি। বহু মানুষ হাসপাতালে আসেন যারা বুঝতে পারেন না সঙ্গীকে কীভাবে খুশি করতে হবে। সেটা জানতেই অনেকে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেন। স্ত্রী বা স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ককে ঠিক করতে কী করা প্রয়োজন তা অনেকে ঠাহর করতে পারেন না। অনেকে ভুল করে সম্পর্কে জড়িয়ে অনুতপ্ত হয়ে মানসিকভাবে সুস্থ হতে এই হাসপাতালে আসছেন। আর সবাইকে পরিষেবা দিয়ে চলেছে লাভ হাসপাতাল।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা এক নারী বিবিসিকে জানান, পরকীয়ায় আসক্ত স্বামীকে ফেরাতে তিনি এখান থেকে সেবা নিচ্ছেন। তাকে শেখানো হয়েছে কীভাবে আরো ইতিবাচক, আরো দায়িত্বশীল ও ভালো স্ত্রী হয়ে ওঠা যায়।

ওই নারী বলেন, ‘আমি যখন (স্বামীর পরকীয়া) সম্পর্কের বিষয়টি ধরতে পারলাম, তখন বিবাদে জড়িয়ে পড়লাম। ঝগড়াঝাটির পর সে আমার সাথে আর কথা বলতে চাইত না। তখন আমি সহায়তার জন্য এখানে আসি।’

এরপর স্বামীর জীবন থেকে ওই নারীকে তাড়াতে ওয়েইকিংকে টাকা দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে লোক লাগিয়ে তার স্বামীর প্রেমিকা ২৪ বছর বয়সী তরুণীকে বোঝানো হয়, দ্বিগুণ বয়সের ওই ব্যক্তির চেয়ে আরো ভালো কাউকে তিনি পেয়ে যাবেন। এ জন্য কয়েক হাজার ডলার খরচ হলেও স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের চেয়ে এটাই ভালো হয়েছে বলে মনে করেন সেবাগ্রহীতা ওই নারী।

তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে একসাথে। আমি এসব কিছুকে হারাতে চাই না। আমি কখনো বিচ্ছেদের কথা ভাবিনি।’

ফরিদপুরে জোড়া খুনের নেপথ্যে পরকীয়া
ফরিদপুর সংবাদদাতা, ০৯ মে ২০১৮
ফরিদপুরের দক্ষিণ ঝিলটুলীতে কলেজ শিক্ষিকা সাজিয়া বেগম (৩৬) ও সোনালী ব্যাংকের হেড অফিসের লিগ্যাল ম্যাটার ডিভিশনের কর্মকর্তা ফারুক হাসান (৩৮) হত্যার নেপথ্যে রয়েছে নিহত দুইজনের পরকীয়া। প্রাথমিক তদন্তে এখন পর্যন্ত এমনই তথ্য পেয়েছে পুলিশ। যদিও পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কিছু এখনো বলেনি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুইজনের মধ্যে দীর্ঘ দিনের পরকীয়াই এর নেপথ্য কারণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই নিহত দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিহত সাজিয়ার স্বামী শহিদুলও স্বীকার করেছেন দুইজনার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা। প্রেমিকা সাজিয়ার সাথে সম্পর্কের জেরেই ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক ফরিদপুরের দক্ষিণ ঝিলটুলীতে সাজিয়ার পাশের ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। এ সূত্রতা সামনে রেখেই পুলিশ তদন্তে এগোচ্ছে। তবে এ ঘটনায় দুইজনেই হত্যার শিকার হয়েছেন নাকি একজনকে হত্যার পর আরেকজন আত্মহত্যা করেছেন বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। আজকালের মধ্যে নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারবে বলে জানিয়েছে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র। এরপরই হত্যা রহস্যও উন্মোচিত হবে।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সাজিয়া ও ফারুকের মধ্যে আন্তরিকতা গড়ে উঠে। এটি একপর্যায়ে প্রেমে পরিণত হয়। সাজিয়া ছিলেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী। ২০১১ সালে তিনি মাস্টার্স শেষ করে। তার এক বছরের জুনিয়র ফারুক ছিলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র। তবে পড়াশোনা শেষ করার অনেক আগেই সাজিয়ার বিয়ে হয় ঢাকার সূত্রাপুরের বানিয়ানগর এলাকার মোটরপার্টস ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের সাথে। তাদের ১২ বছর ও ৫ বছরের দু’টি সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পরেও ফারুকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকায় স্বামী শহিদুলের সাথে মাঝে মধ্যেই ঝগড়া হতো। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ লেগে ছিল।

নিহত ফারুকের বড় ভাই সোহরাব হোসেন জানান, গত শবে বরাতের ছুটিতে তার ভাই ফারুক গ্রামের বাড়িতে যান। ছুটি শেষ না হতেই তিনি ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে গ্রামের বাড়ি থেকে রওনা হন। তবে সে ঢাকায় না গিয়ে ফরিদপুরে চলে আসেন। এর একদিন পর বৃহস্পতিবার সাজিয়ার স্বামীও ফরিদপুরে চলে আসেন। ফারুকের ফরিদপুরে আসার বিষয়টি জানতে পেরেই শহিদুল ফরিদপুরে এসেছিলেন কি না তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, যেহেতু পরকীয়ার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে; তাই তাদের কাছে হত্যা রহস্যও অনেক পরিষ্কার হয়ে আসছে। দু-এক দিনের মধ্যেই আসল রহস্য জানা যাবে। ওই সূত্র জানায়, উদ্ধারের সময় ফারুকের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায়; আর সাজিয়ার লাশ মেঝেতে পড়ে ছিল। সাজিয়ার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ফারুককেও হত্যা করা হয়েছে কিনা কিংবা তিনি আত্মহত্যা করেন; তার ওপর নির্ভর করছে বাকিটুকু। তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, স্ত্রীর পরকীয়া সহ্য করতে না পেরে ভাড়াটিয়া খুনিদের দিয়ে স্বামী শহিদুলও এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে এখনো সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই শহিদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

সাজিয়ার স্বামী শহিদুল ইসলামকে গতকাল সাত দিনের রিমান্ড আবেদন চেয়ে জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত কলেজ শিক্ষিকা সাজিয়া বেগমের ফুফু আফসারী হোসেন এর আগে বাদি হয়ে গত সোমবার রাত ৯টায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) বিপুল কুমার দে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অবশ্য নিহত ব্যাংকার ফারুক হাসানের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

গত রোববার রাতে দক্ষিণ ঝিলটুলীর জামালের দোকানের মোড়ের কাছ সৌদি প্রবাসী নুরুল ইসলামের ফ্ল্যাটবাড়ির নিচতলা থেকে উদ্ধার করা হয় এ দুইজনের লাশ। তাদের একজন সাজিয়া বেগম (৩৬)। তিনি সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। রাজধানীর সূত্রাপুরের বানিয়ানগর এলাকার শাহজাহান শেখের মেয়ে এবং ওই এলাকার মোটরপার্টস ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন তিনি। চাকরির সুবাদে শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলীর প্রবাসী নুরুল ইসলামের বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে ছোট ছেলে রিশাদকে (৫) নিয়ে ভাড়া থাকতেন তিনি। বড় ছেলে তাসিম (১১) ঢাকায় তার বাবার কাছে থাকে। নিহত ফারুক হাসান (৩৮) সোনালী ব্যাংকের হেড অফিসের লিগ্যাল ম্যাটার ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি যশোরের শর্শায় বলে জানা গেছে। রাজধানীর আগারগাঁও এলাকার একটি বাসায় থাকতেন তিনি। এক মাস আগে তিনি ফরিদপুরের এই বাসা ভাড়া নিলেও মাত্র দুই দিন আগে বাসায় এসে উঠেছিলেন।


আরো সংবাদ