২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইমরানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত থেকে থাকছেন যারা

ইমরানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত থেকে থাকছেন যারা - সংগৃহীত

খেলাধুলার মূল শিক্ষা যে ভ্রাতৃত্ব, তা হয়তো আবারও প্রমাণ করতে চাইবেন পাকিস্তানের হবু প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) বুধবার প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ পাঠানোর অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছে। শুধু তাই নয়, এরই মধ্যে কয়েকজন ভারতীয় ক্রিকেটার এবং বলিউড সুপারস্টারের কাছে ইমরান খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। এবার পিটিআইর নেতৃত্বে কোয়ালিশন সরকার গঠন করছে।

আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ইমরান খানের সমসাময়িক কিংবদন্তি ভারতীয় ক্রিকেটার কপিল দেব ও সুনীল গাভাস্কার রয়েছেন। এ ছাড়া নভজোৎ সিং সিধু এবং ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘লগন’-এর নায়ক আমির খানও আছেন এ তালিকায়।

গত ২৫ জুলাই পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআইর জয়লাভের পর ইমরান খান তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার এবং ভারত সফরকালীন মিডিয়ায় তাঁর সমালোচনার কথা উল্লেখ করেন।

এরই মধ্যে অনেক অতিথিকে আমন্ত্রণ পাঠিয়ে দেওয়া হলেও দেশটির স্বাধীনতা দিবসের তিন দিন আগে আগামী ১১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না, তা পররাষ্ট্র দপ্তরকে নিশ্চিত করতে বলেছে পিটিআই।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র দপ্তরের সাথে এক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদিসহ অন্যান্য সার্কভুক্ত দেশের সরকারপ্রধানদের আনার অনুমতি চেয়েছে পিটিআইর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।   

আরো পড়ুন :  যুক্তরাষ্ট্রকে ধমক ইরানের

বাসস
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ মঙ্গলবার রাতে এক টুইটার বার্তায় ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে বলেছেন, ‘এক্ষেত্রে হুমকি, অবরোধ ও লোক দেখানো চমক কোন কাজে আসবে না’।

কোন পূর্বশর্ত ছাড়াই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক আলোচনার প্রস্তাবের জবাবে জারিফ লিখেছেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই বছর আলোচনা করেছে।’
‘ইইউ/ই৩+রাশিয়া+চীনের সাথে আমরা একটি অনন্য বহুপাক্ষিক চুক্তি জেসিপিওএ (পারমাণবিক চুক্তি) স্বাক্ষর করেছি এবং এটি কার্যকর রয়েছে। কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে এবং আলোচনা থেকে দূরে রয়েছে।’

ট্রাম্প সোমবার বলেন, তিনি যেকোন সময় ইরানের নেতার সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছেন এবং একই দিন তিনি একথা পুনর্ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে ইরান খুব শিগগিরই আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে।’
কিন্তু গত মে মাসে ২০১৫ সালে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে গিয়ে ৬ আগস্ট থেকে ইরানের বিরুদ্ধে আবারো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় তেহরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রস্তাবে খুশি হতে পারেনি।

এ ব্যাপারে টুইটার বার্তায় জারিফ লিখেছেন, ‘হুমকি, অবরোধ ও লোক দেখানো চমক কোন কাজে লাগবে না।’
তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ইরানী জনগণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর চেষ্টা করুন।’

আরো পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের ‘খুব শিগগিরই’ বৈঠক হতে পারে : ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু ইরানের সাথে ওয়াশিংটনের বৈঠক আসন্ন।
বৈঠকের ব্যাপারে তার এমন প্রস্তাবের বিষয়ে তেহরানের নেতাদের নীরবতা সত্ত্বেও তিনি এমন কথা বললেন। খবর এএফপি’র।
ফ্লোরিডার টাম্পাতে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার ধারণা ইরান খুব শিগগিরই আমাদের সাথে আলোচনায় বসবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আবার এটা নাও হতে পারে।’
তবে তিনি বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর সাথে ইরানের পরমাণু চুক্তিকে ‘ভয়ঙ্কর এক পাক্ষিক’ হিসেবে উল্লেখ করে আবারো এ চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেন। আর এমন অজুহাত তুলে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রেসিডেন্ট চুক্তিটি থেকে বেরিয়ে যায়।

আরো পড়ুন : ইরানকে ঠেকাতে ‘আরব ন্যাটো’ গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র
আলজাজিরা ও রয়টার্স

উপসাগরীয় ছয় দেশ এবং মিসর ও জর্দানকে নিয়ে নতুন একটি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক জোট গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশগুলোর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, সামরিক প্রশিক্ষণ, সন্ত্রাসবিরোধিতাসহ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে গভীর সহযোগিতা বাড়াতে চাচ্ছে হোয়াইট হাউজ। চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও মার্কিন কর্মকর্তারা সুন্নি মুসলমানদের দেশগুলোর এই পরিকল্পনাকে আপাতত আরব ন্যাটো নামে ডাকছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর দুই দেশের মধ্য উত্তেজনা বেড়েই চলছে। পরীক্ষামূলক এর নাম দেয়া হয়েছে মিডলইস্ট স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স (এমইএসএ)। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা, আরব ন্যাটো নিয়ে আলোচনা করতে আগামী ১২ ও ১৩ অক্টোবর ওয়াশিংটনে একটি সম্মেলনেরও আয়োজন হতে পারে। জোটের এ ধারণাটি কাজ করছে উল্লেখ করে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এর জন্য মাত্র কয়েকটি মাস বাকি আছে।

গত বছরে সৌদি আরবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরকে সামনে রেখে দেশটির কর্মকর্তারা একটি নিরাপত্তা চুক্তির কথা বলেছিল। সেখানে ট্রাম্প একটি বড় ধরনের অস্ত্র চুক্তির কথা বলেছিলেন। তবে সেখানে এ ধারণার যাত্রা হয়নি বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা। হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র বলেন, ইরানি আগ্রাসন, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে এমইএসএ ইস্পাত কঠিন দেয়াল হিসেবে কাজ করবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতাও নিয়ে আসবে। তিনি বলেন, মধ্য অক্টোবর নাগাদ বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে। 

আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা
এর আগের মার্কিন প্রশাসনগুলোও এ ধরনের জোট গঠন করতে চেয়েছিল। তবে নানা কারণে তা ব্যর্থ হয়ে যায়। 
ওয়াশিংটন, রিয়াদ ও আবু ধাবি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার জন্য সব সময়ই ইরানকে দায়ী করে থাকে। তাদের অভিযোগ নিজেদের সৈন্য পাঠানো অথবা কখনো সমর্থন দান বা প্রক্সি গ্রুপের মাধ্যমে এবং ইসরাইলকে অবিরাম হুমকি দেয়ার মাধ্যমে তারা আরবে অস্থিতিশীলতা জিইয়ে রেখেছে। 

মূলত এ জোট গড়ে উঠবে উপসাগরীয় দেশ সৌদি আরবের জোরপ্রচেষ্টার ভিত্তিতেই। আর সে ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের মোকাবেলায় ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। ইরানের মোকাবেলায় এ জোট কিভাবে কাজ করবে তা এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে সুন্নি মুসলিমদের এ মিত্রদের সাথে একই সাথে কাজ করেছে ইয়েমেন ও সিরিয়ায়। এমনিভাবে উপসাগরীয় বাণিজ্য রুটেও তারা একসাথে কাজ করেছে। 
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বাড়ানোর এ প্রকল্পের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা এ অঞ্চলে আরো উত্তেজনাই বৃদ্ধি করবে। তিনি বলেন, নতুন এ প্রচেষ্টা কোনো সফলতাই বয়ে নিয়ে আনবে না। কেননা, ইরান ও তার মিত্রদের মধ্যকার সম্পর্কে যে গভীরতা, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আর রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের মতো নয়। 

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার আশঙ্কা 
এ দিকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলে আশঙ্কা করছে মার্কিন ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ অস্ট্রেলিয়া। এমনকি এই হামলা আগামী মাসেও হতে পারে বলে অস্ট্রেলিয়া সরকার ধারণা করছে। দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের বরাতে এ খবর দিয়েছে এবিসি নিউজ। খবরে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়া সরকার ইরানে হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করার কাজে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ভূমিকা থাকতে পারে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও।

তবে অস্ট্রেলিয়ার একজন সিনিয়র নিরাপত্তা সূত্র বলেছেন, এর মানে এই নয় যে সংক্ষিপ্ত এই মিশনে অস্ট্রেলিয়ার সক্রিয় সম্পৃক্ততা থাকবে। সঠিক গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্লেষণ সরবরাহ করা আর মিশনে অংশ নেয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তবে এবিসি নিউজের এ খবর অস্বীকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টার্নবুল ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস। এবিসি নিউজরে খবর সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে টার্নবুল বলেন, এ ধরনের হামলা হবে বলে বিশ্বাস করার কোনো যুক্তি নেই। তেমনি এ সম্পর্কে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ম্যাটিস শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে, এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে আমাদের হাতে নেই। এবং সত্যি কথা বলতে এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও কল্পকাহিনী।’


আরো সংবাদ