২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পাকিস্তানে ভোট গণনায় কেন দেরি হচ্ছে?

পাকিস্তান
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরছেন নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ শরিফ - ছবি : এএফপি

পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচনে বুধবার ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। এরইমধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ফলাফল আসতে শুরু করেছে।

প্রাথমিকভাবে পাওয়া বেসরকারি ফলাফলে এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ- পিটিআই।

তবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা বড় ধরণের ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।

তবে ইমরান খানের দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে তাকে জোট গঠনের পথে হাঁটতে হবে।

ভোটের ফলাফল খুব ধীরে ধীরে প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কর্মকর্তারা ভোট কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে, প্রযুক্তিগত সমস্যা; সেইসাথে এতো ভোট হাতে গণনার কারণে কারণে তাদের দেরি হচ্ছে।

পাকিস্তানের এই নির্বাচনকে ঘিরে অনেক রক্তপাত দেখতে হয়েছে দেশটির সাধারণ মানুষকে। এমনকি ভোটের দিনও একটি ভোটকেন্দ্রে বিস্ফোরণে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।

এ পর্যন্ত ৪২ শতাংশ কেন্দ্র থেকে ফল প্রকাশ হয়েছে। দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মোট ২৭২টি আসনের মধ্যে ১৩৩টি আসনের আংশিক ফলাফলে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ইমরানের পিটিআই। দলটি এগিয়ে ছিল ৮৪ আসনে। পিএমএল-এন এগিয়ে আছে ৫৮ আসনে।

পাকিস্তানের এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো বেসামরিক দলের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর হতে যাচ্ছে।

তবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল- পিএমএলএন সেইসঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ছোট দলগুলো ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যানের দিকে ঝুঁকছে।

দলীয় নেতা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ভাই শাহবাজ শরীফ তার টুইট বার্তায় অভিযোগ করেন, ‘যেভাবে জনগণের সিদ্ধান্তকে অসম্মানিত করা হয়েছে, তা মেনে নেয়া যায় না।’

ভোট গণনায় মতো যদি সরকার গঠনের ক্ষেত্রেও দেরী হয় তাহলে সেটি দেশটির জনগণের বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কেননা পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস সেইসঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে তারা আগে থেকেই উদ্বিগ্ন। সূত্র: বিবিসি। 

আরো পড়ুন :
প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ইমরান, ‘নজিরবিহীন কারচুপির’ অভিযোগ
বিপুলভাবে জয়ী হয়ে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খান। তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এককভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বাকি সব ‘নজিরবিহীন কারচুপির’ কথা জানিয়ে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এখন পর্যন্ত ৪৭ ভাগ আসনের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে ইমরান খানের পিটিআই পেয়েছে ১১৩টি, মুসলিম লিগ (এন) ৬৪টি, পিপিটি ৪৩টি, এমকিউএম ৫টি, এমএমএ ৯টি।

পাকিস্তান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ৩৪২ আসনের মধ্যে সরাসরি ভোট হয় ২৭২টি আসনে। ৭০টি আসন সংরক্ষিত থাকে নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য। এগুলোতে ভোটে জেতা আসনের আনুপাতিক হারে বণ্টিত হয় দলগুলোর মধ্যে। মোট আসনের নিরিখে সরকার গড়তে ১৭২টি আসন দরকার। যার অর্থ, ভোট-হওয়া ২৭২টি আসনের মধ্যে ১৩৭টি জিতলেই সরকার গড়া যাবে।

ইমরান খান তা পেয়ে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার দল ইতোমধ্যেই জয়ের উল্লাস শুরু করে দিয়েছে।

পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের মধ্যে পাঞ্জাবে নওয়াজ শরিফের মুসলিম লিগ, সিন্ধুতে পিপিপি, খাইবার পাকতুন খাওয়ায় পিটিআই ও বেলুচিস্তানে বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি জয়ী হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মুসলিম লিগ (এন), বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি), মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম-পি), মুত্তাহিদা মজলিস-ই--আমিল (এমএমএ) বুধবার রাতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করে।

রাতে সংবাদ সম্মেলনে পিএমএল-এনের সভাপতি শাহবাজ শরিফ নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনে 'ব্যাপক অনিয়মের' অভিযোগ আনেন।

তিনি বলেন, আমি সারা পাকিস্তান থেকে অভিযোগ পেয়েছি। আজ যা ঘটেছে, তা পাকিস্তানকে ৩০ বছর পেছনে নিয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র মুশাহিদ হোসাইন সাইয়েদ বলেন, তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি ছিল সিলেকশন, এটি কোনাভাবেই ইলেকশন ছিল না।

পিএমএল-এনের অপর মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব অভিযোগ করেন, যেসব আসনে তাদের প্রার্থী জয়ের পথে ছিল, সেখানে ফলাফল ঘোষণা বন্ধ করে দিয়ে রুদ্ধদ্বার কক্ষে কাজ সম্পন্ন করা হয়।

পিপিটি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, আমার প্রার্থীরা অভিযোগ করেছে, তাদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ