১৯ নভেম্বর ২০১৮

‘চুলকানি চোর’!

ভারত
এই নয়া চোরের দলের চুরির কায়দা খুবই সহজ। - ছবি : ওয়ান ইন্ডিয়া

ভারতের প্রযুক্তিনগরী বেঙ্গালুরুতে ক্রমেই বেড়ে চলেছে অপরাধের নানান ঘটনা। এর মধ্যে রাস্তায় চলাচল করা মানুষের ব্যাগ ছিনতাই বা মোবাইল-টাকা-পয়সা লুঠ যেমন রয়েছে, তেমনই উপদ্রব বেড়েছে ‘চুলকানি চোর’-দের। নাম শুনলে আবাক লাগলেও, এদের হাতসাফাইয়ের ধরণ জানলে চমকাতে হয়।

এই নয়া চোরের দলের চুরির কায়দা খুবই সহজ। রাস্তায় মানুষ চলতে দেখলেই তাদের গায়ে আঁঠালো কোনো জিনিস এরা ছুঁড়ে দেয়। সেই জিনিস গায়ে লাগতেই প্রবল চুলকানি শুরু হয়ে যায় নিশানায় থাকা ব্যক্তিটির। তখনই চোরের দলের লোকজন এসে তাকে চুলকানির জায়গায় পানি দেয়ার পরামর্শ দেয়। আর ব্যক্তিটি যখন চুলকানি যন্ত্রণা আর পানি নিয়ে ব্যস্ত তখনই চোরের দল ফাঁকেতালে লুঠে নেয় টাকা-পয়সা।

এ ধরণের চোরেদের নিশানায় থাকছেন তারাই, যাদের ব্যাঙ্কে যাতায়াত বেশি থাকে। এই চোরারে ব্যাঙ্কে যাওয়া গ্রাহকদের সম্পর্কে গোপনে তথ্য নিয়ে নেয়। বিশেষ করে যাদের গোল্প লোন থাকে, চোরদের নিশানায় তারাই প্রধান লক্ষ্য হয়ে যান।

এই ঘরানার সাম্প্রতিক ঘটনাটি হয়েছে বেঙ্গালুরুর ইলেকট্রনিক সিটিতে। সেখানে একজনের কাছ থেকে লুঠ হয়েছে দেড় লাখ টাকা। কেঙ্গারিতে লুঠ হয়েছে সোনার গয়না। ঘটনার অভিযোগ পেয়ে ময়দানে নেমেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।

পুলিশ বলছে, এই একই ধরণের ঘটনা হায়দরাবাদ, ভদ্রাবতী, কোলার, চিত্রদূর্গ, তামিলনাড়ুর বিভিন্ন অংশে ঘটে চলেছে। এর নেপথ্যে কোনো বড় গ্যাং কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সবক’টি জায়গাতেই অপরাধীদের হাতসাফাইয়ের ধরন এক। আর এই হাতসাফাইয়ের ধরন দেখেই গ্যাংয়ের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া

আরো পড়ুন : 

রক্ত পরীক্ষায় চোর শনাক্ত!
নয়া দিগন্ত ডেস্ক, ২২ জুলাই ২০১৮
বিলাসবহুল গাড়ি কেনা কিংবা দেশ-বিদেশের দামি হোটেলে আরামে- আয়েশে দিন কাটানো- কোনোটিই বাদ ছিল না তাদের। তারা চোর। আরো নির্দিষ্ট করে বললে ‘জুয়েল থিফ’।

কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। অবশেষে ধরাই পড়ে গেল সার্বিয়ার ‘বান্টি বাবলি’ খ্যাত জিকা-বোকা জুটি। ১৫ বছর পর রহস্যের কিনারা করল ইন্টারপোল। দুই ফোঁটা রক্তের সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক দুই জুয়েলারি মাফিয়াকে জালে ধরেছে তারা।

ইন্টারপোল জানিয়েছে, ২০০৩ সালে ফ্রান্সের একটি গয়না ও মূল্যবান সামগ্রীর দোকানে চুরির সময় দোকানে দুই ফোঁটা রক্ত পড়েছিল। সেই রক্তের নমুনা পরীক্ষার পরই চিহ্নিত হয় চোর। তার পরই ওই চুরির কিনারা করতে ‘পিঙ্ক প্যান্থার’ নামে একটি অপারেশন শুরু করে ইন্টারপোল। সারা বিশ্বের দাগি চোরদের রক্তের নমুনার সাথে মেলানো শুরু হয় ওই রক্ত। তাতেই জিকা-বোকা চিহ্নিত হয়।

ধরাও পড়ে নাটকীয়ভাবে। ওই দোকানের চুরি যাওয়া একটি দামি ঘড়ি জিকা-বোকার এক সাগরেদের হাতে ছিল। তাকে জেরা করেই সন্ধান মেলে সার্বিয়ান দুই চোরের। দু’জনকে গ্রেফতারের পরই কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে পড়ে সাপ।

জানা যায়, ১৯৯৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত অন্তত ৩৮০টি চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে এই জুটি। এতে তারা আয় করেছিল তিন লাখ ৮০ হাজার ইউরো, বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। ইন্টারপোল জানিয়েছে, বিপুল এ টাকার বশির ভাগই বিলাস-ব্যসনে ব্যয় করত জিকা-বোকা। একই সাথে উঠতি দুষ্কৃতিদের চুরি-ছিনতাইয়ের প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজেও বিনিয়োগ করত এই দু’জন। সম্প্রতি মাদক কারবারিও শুরু করেছিল বলে জানা গেছে। তবে একটা ব্যাপারে দু’জনেরই নীতি ছিল স্পষ্ট। এখনো পর্যন্ত নিজের দেশ সার্বিয়ায় একটিও দুষ্কর্ম করেনি এ জুটি। এ ক্ষেত্রে অন্তত জিকা-বোকা ‘দেশপ্রেমের ধর্ম’ পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। ইন্টারনেট।

চোর পেটানো বৈধ
ডেইলি মেইল, ১৭ জানুয়ারি ২০১৬
ব্রিটিশ হাইকোর্ট চোর পিটুনি আইনের বৈধতা দিয়েছে। ফলে অনাহূত কেউ যদি অনিষ্ট সাধনের উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করে তবে বাড়ির মালিকেরা তাকে উত্তম-মধ্যম দিতে পারবেন।

একটি ঐতিহাসিক রায়ে হাইকোর্ট জানিয়েছে, নিজেদের জানমাল রক্ষার্থে যদি সিঁধেল চোর বা অনাহূত কোনো আক্রমণকারীকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ প্রহার করা হয় তবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে না।

২০১৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি ক্রিস গ্রেলিং আত্মরক্ষা আইন কঠিন করেন এবং চোরকে আঘাত করা যাবে কি না তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত রুল জারি করেন।

তবে এবারের রায়ে হাইকোর্ট নিশ্চিত করেছে, ব্রিটেনের কোনো বাড়িতে চুরি করতে কোনো সিঁধেল চোর প্রবেশ করলে বাড়ির মালিকেরা তাকে প্রতিহত করার জন্য মারধরসহ জখম করার অধিকার পেলেন এবং এতে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হতে হবে না।


আরো সংবাদ