২১ নভেম্বর ২০১৮

মাহাথিরকে ধন্যবাদ দিলেন জাকির নায়েক

মাহাথিরকে ধন্যবাদ দিলেন জাকির নায়েক - ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়া থেকে ভারতে ফেরত না পাঠানোয় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে ধন্যবাদ জানালেন প্রখ্যাত ধর্মপ্রচারক জাকির নায়েক। তিনি মালয়েশিয়ার আইন মেনে চলবেন বলেও জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলোর যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন জাকির নায়েক, ‘ইসলামের নামে বা অন্য কোনোভাবে আমি কোনো দিন সন্ত্রাসবাদের প্রচার করিনি। সবসময়ই আমার লক্ষ্য শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে উৎসাহ দেয়া। আমার বিরুদ্ধে ঠিক উল্টো অভিযোগ করা হচ্ছে। আমার নামে যদি এমন কোনো বিবৃতি প্রচার করা হয় যা মানবিকতার বিরোধী, তাহলে সেই বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে।’

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে সহিংসতায় প্ররোচনা দেয়া, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী হামলায় উস্কানি দেয়া এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ও মুম্বই পুলিশ। ১০টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাকির নায়েকের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করেছে।

ভারতে অভিযুক্ত হলেও, মালয়েশিয়ায় বহাল তবিয়তেই আছেন এই প্রখ্যাত ধর্মপ্রচারক। তাকে প্রত্যর্পণ করার জন্য মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, সহজে জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানো হবে না।
উল্লেখ্য, ভারত সরকার এর আগে জাকির নায়েকের পিস টিভি বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া তার ফাউন্ডেশনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন :

মালয়েশিয়ায় স্থায়ী নাগরিকত্ব পেয়েছেন জাকির নায়েক

মালয়েশিযার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ বলেছেন, ‘যতদিন পর্যন্ত জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি না করছেন, ততদিন তাঁকে ভারতে ফেরানোর কথা ভাবছে না মালয়েশিয়া সরকার। কারণ নায়েককে ইতিমধ্যেই স্থায়ী নাগরিকত্ব দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।  জাকির এদেশে আসার পর কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি৷ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার পর তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না৷’

সম্প্রতি ভারতে ফিরছেন ড. জাকির নায়ক- এমন খবর দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় ড. জাকির নায়েক বলেছেন, এই মুহূর্তে আমি ভারতে ফিরছি না। ভারত এখন আমার জন্য নিরাপদ না। যদি কখনো মনে করি ভারত সরকার আমার সাথে সঠিক বিচার করছে তখনই আমি দেশে ফিরব। 

দুই বছর আগে বাংলাদেশে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর ব্যাপক আলোচনায় আসেন এই ধর্মপ্রচারক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তার বক্তব্য শুনে নাকি উৎসাহ পেয়েছে জঙ্গিরা। তবে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশে বন্ধ করে দেওয়া হয় পিস টিভির সম্প্রচার। ভারতেও ব্যাপক সমালোচনায় মুখে তিনি দেশ ছেড়ে আশ্রয় নেন মালেশিয়ায়।

২০১৬ সালে বাংলাদেশের ঢাকার গুলশানে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের কয়েকজন জাকির নায়েকের প্রচারে প্রভাবিত হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠলে তিনি ওই অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘আমি শান্তির দূত, কখনো সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করিনি।’ তিনি সন্ত্রাসবাদকে নিন্দা করেন এবং 'ইসলামে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই' বলে মন্তব্য করেন। এ নিয়ে তিনি 'মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার' হচ্ছেন বলেও জাকির নায়েক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন। জাকির নায়েক সেই থেকেই বিদেশে আছেন এবং বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।

পিস টিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জাকির নায়েক তার বক্তব্য ও মতামত প্রচার করতেন। বিশেষ করে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক তার বক্তব্যগুলো ছিল অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ। তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে সারা বিশ্বের প্রচুর অমুসলিম ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। 

সিঙ্গাপুরের রাজারত্মম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাডিজের বিশ্লেষক রাশাদ আলী বলেছেন, মালয়েশিয়া সরকার জাকির নায়েকের থাকার ব্যবস্থা করেছে, কারণ যৌক্তিকতার সঙ্গেই মালয়দের মধ্যে জনপ্রিয় চরিত্র হয়ে আছেন। এ অবস্থায় সরকার যদি তাকে দেশ থেকে বের করে দেয় তাহলে তা জনগণের দৃষ্টিতে ধর্মীয় বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

পাঁচ বছর আগেই মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে জাকির নায়েককে। এ সময়ের মধ্যে তিনি দেশের আইন বা শৃঙ্খলা ভাঙেননি। এ ছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে তার সম্পর্কে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে মালয়েশিয়াকে কিছু জানানো হয়নি। ফলে তাকে আটক বা গ্রেফতারের কোনো কারণ নেই। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার বিরোধী দল ইসলামিক পার্টিও জাকির নায়েককে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছে এবং কোনো বিদেশী সরকারের হাতে তাকে তুলে না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


আরো সংবাদ