১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

যুবকের আত্মহত্যা সরাসরি দেখলো ২৭৫০ মানুষ

চাকরি
মুন্না কুমার - ছবি : টাইমস অব ইন্ডিয়া

সেনাবাহিনীতে চাকরির খুব ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু পাঁচ বারের চেষ্টাতেও ঢুকতে পারেননি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে। সেই দুঃখে আত্মঘাতী হলেন আগরার ২৪ বছর বয়সের এক যুবক। তার আত্মহত্যা আবার ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচারও করলেন। তার চেয়েও যেটা দুঃখজনক তা হল, সেই লাইভ দেখল ২,৭৫০ মানুষ। তবে একজনও পুলিশকে খবর দেয়ার বা যুবকটিকে আত্মহত্যায় বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেন না। সবাই তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করলেন আত্মহত্যা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে প্রকাশ, নিউ আগ্রার শান্তিনগরের বাসিন্দা মুন্না কুমার বিএসসি গ্র্যাজুয়েট। লাইভে আত্মহত্যা করার আগে বুধবার সকালে তিনি প্রথমে ফেসবুকে একটি ১.০৯ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে ছিল তার যাবতীয় স্বীকারোক্তি। এর পর ফেসবুক লাইভ করে আত্মহত্যা করেন তিনি। সেই লাইভ দেখেছেন ২,৭৫০ জন। তবে কেউ তাকে আটকানোর কোনো চেষ্টা করেননি।

ছয় পাতার একটি সুইসাইড নোটও রেখে গেছেন মুন্না। পাঁচবার সেনাবাহিনীর প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এবং বাবা-মায়ের আশা পূরণ করতে পারেননি বলে নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করে নোটটি লিখেছেন তিনি।

মুন্নার ছোট ভাই বিকাশ জানিয়েছেন, ‘দাদা ভগত্‍‌ সিংয়ের (ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী) দ্বারা দারুণ অনুপ্রাণিত ছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। আত্মহত্যার কয়েক ঘণ্টা আগেও ও একেবারে স্বাভাবিক ছিল। আমরা একসঙ্গে রাতের খাবারও খেলাম। ও যে আত্মহত্যা করবে, তা পরিবারের কেউই বুঝতে পারেননি।’

মুন্নার বাবা পেশায় গাড়িচালক। ছেলের হতাশা কাটাতে দিনকয়েক আগেই তাকে একটি মুদি দোকান খুলে দিয়েছিলেন তার বাবা।

আরো পড়ুন :
ফেসবুক লাইভে তরুণীর আত্মহত্যা
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ১১ জুন ২০১৮
ফেসবুক লাইভে কথা বলতে বলতেই আত্মহত্যা করেছে এক তরুণী। লাইভ চলাকালেই সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়ে সে। ভারতের ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বৈদ্যপাড়া এলাকার বাড়ি মৌসুমির। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার সকালে মৌসুমী মিস্ত্রির লাশ যখন উদ্ধার করা হয়, তখনও তার মোবাইল ফোনে ফেসবুক লাইভ চলছিলো। মৌসুমী সোনারপুরের কামরাবাদ হাই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। সামনের বছরই তার উচ্চ মাধ্যমিকে পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। তার বয়স ১৭ বছর।

ঘটনার সময় ফেসবুক লাইভে বন্ধুর কথা বলছিল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীটি। আর কথা বলতে বলতেই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় সে। মৌসুমীকে তার ঘরের সিলিং ফ্যানে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলতে প্রথম দেখে তার ভাই। সে তার বাবাকে গিয়ে বিষয়টা জানায়। তার পরই খবর দেওয়া হয় পুলিশে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রণয়ঘটিত কারণেই এই আত্মহত্যা। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় ঘাসিয়াড়ার বাসিন্দা এক তরুণের সাথে সম্পর্ক ছিল মৌসুমীর। তার সাথে শনিবার একটি অনুষ্ঠানেও গিয়েছিল সে। সন্ধে সাড়ে ছ’টা নাগাদ বাড়ি ফিরে আসে। তার পর সেদিন রাতে ওই তরুণের সাথেই ফেসবুক লাইভে কথা বলতে বলেই আত্মহত্যা করে বলেই অভিযোগ উঠছে।

তরুণীর মা শম্পা মিস্ত্রি নার্সের চাকুরি করেন। তিনি জানাচ্ছেন, শনিবার নাইট ডিউটি ছিল। ফলে সে দিন সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। তবে, তার আগে মেয়েকে দেখে কিছু একটা সন্দেহ হয়েছিল তাঁর। শম্পা দেবীর কথায়, ‘চোখ-মুখ দেখে মনে হয়েছিল মেয়েটা কোনও একটা সমস্যায় আছে। নাইট ডিউটি থাকায় তাড়াতাড়ি চলে যাই। ভেবেছিলাম পরের দিন সকালে বাড়ি ফিরে সব জিজ্ঞাসা করব।’

শম্পা দেবী আরও বলেন, ‘রোববার সকালে মৌসুমীর বাবা ফোন করে সব জানায়। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসতে বলে। বাড়ি ফিরে সব দেখতে পাই।’ ওই তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma