২২ জুলাই ২০১৮

রাশিয়ার অত্যাধুনিক জঙ্গিবিমান পাওয়া হচ্ছে না ভারতের

রাশিয়ার অত্যাধুনিক জঙ্গিবিমান পাওয়া হচ্ছে না ভারতের - ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার এয়ারক্রাফট (এফজিএফএ) তৈরির চুক্তি নিয়ে ভারত আর অগ্রসর হতে চায় না। মূলত খরচের কারণে নয়া দিল্লি এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বলে ভারতের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিষয়টি রাশিয়াকেও জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে, এখনো ভারত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তার আগে দুই দেশের মধ্যে খরচ ভাগাভাগি করার কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায় কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই মেগা প্রকল্প নিয়ে ২০০৭ সালে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে আন্ত:সরকার চুক্তি হয়। কিন্তু জেটের উন্নয়ন খরচ ভাগাভাগি, এতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং কয়টি এয়ারক্রাফট তৈরি করা হবে তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে গত ১১ বছর ধরে প্রকল্পটি আটকে রয়েছে।

সূত্রের খবর, এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩০ বিলিয়ন ডলার বা ২ লক্ষ কোটি রুপির মতো। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ভারত ফাইটার জেটের প্রাথমিক ডিজাইন তৈরির জন্য ২৯৫ মিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হয়। এরপর চূড়ান্ত ডিজাইন এবং প্রোটটাইপ তৈরির জন্য উভয় পক্ষ ৬ বিলিয়ন ডলার করে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু এ ব্যাপারে তারা চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। জানা গেছে, এয়ারক্রাফটে ব্যবহৃত প্রযুক্তিতে সমান অধিকার চাইছে ভারত। কিন্তু রাশিয়া সব ধরনের ক্রিটিক্যাল টেকনলজি ভারতের হাতে তুলে দিতে রাজি নয়। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে উভয় দেশ এই প্রকল্প নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করে। কিন্তু এই প্রকল্পে যে পরিমাণ ব্যয় জড়িত তা নিয়ে ভারত চিন্তিত। তাই নয়াদিল্লি প্রকল্পটি নিয়ে আর এগতে আগ্রহী নয়। ভারতের বিমানবাহিনীও প্রকল্পটির ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে, ভারতে যৌথভাবে পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। ইকনমিক টাইমস পত্রিকার এক খবরে বলা হয়, ‘একটি সাবমেরিনের ডিজাইন ও প্রোটোটাইপ তৈরির জন্য সব মেধাসম্পদ ভারতে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। যার মানে হল, এই প্রকল্পের আওতায় সাবমেরিন সংখ্যার কোনও নির্ধারিত সীমা থাকবে না।’ যৌথ উন্নয়ন প্রস্তাবে বলা হয়, দুই দেশ ২০০ মিলিয়ন ডলারের কম খরচে একটি প্রটোটাইপের ডিজাইন ও উন্নয়ন করবে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও কারিগরি জ্ঞান ভারতীয় শিপইয়ার্ডে স্থানান্তর করা হবে। সূত্রের খবর, চলতি বছরের অক্টোবরে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের আগে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

ভারত ইতিমধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে দু’টি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন লিজ নিয়েছে। এগুলোর একটি আইএনএস চক্র সার্ভিসে রয়েছে। ২০১৬ সালের আগস্টে রাশিয়ার তৈরি সাবমেরিন আইএনএস অরিহন্ত কমিশন করে ভারত। এই প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় শিপ সাবমার্জিবল ব্যালিস্টিক নিউক্লিয়ার (এসএসবিএন)- আইএনএস অরিধামান এখন সি-ট্রায়ালে রয়েছে। জানা গেছে, ভারতীয় নৌবাহিনী তার কামভ কা-৩১ আর্লি ওয়ার্নিং হেলিকপ্টার দিয়ে নতুন উদ্ভাবিত এয়ারবোর্ন ইলেক্ট্রনিক ওয়্যারফেয়ার (ইডব্লিউ) সিস্টেম পরীক্ষা করবে। এই কর্মসূচির জন্য গত মাসে (জুন) জারি করা এক দরপত্রের ডকুমেন্টে দেখা যায় যে ভারতের ডিফেন্স ইলেক্ট্রনিক্স রিসার্স লেবরেটরি (ডিএলআরএল) এমন কোনো প্রতিষ্ঠান (ভেন্ডর) খুঁজছে যে হেলিকপ্টারকে মডিফাই করে সারাং ইলেক্ট্রনিক সাপোর্ট মেজার্স (ইএসএম) ব্যবস্থা সংযোজন করতে পারবে। কাজ পাওয়ার ১৮ সপ্তাহের মধ্যে ভেন্ডরকে কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। সারাং ইএসএম সিস্টেমে বহুসংখ্যক অ্যান্টেনা টাইপ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাই একিউরেসি বেজলাইন ইনটারফারোমিটার (বিএলআই)’র জন্য ক্যাভিটি-ব্যাকড স্পাইরাল অ্যান্টেনা। এটি চতুমুর্খি কভারেজ পাওয়ার জন্য এয়ারফ্রেমের বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করা হয়। এর সঙ্গে লাইন রিপ্লেসেবল ইউনিট এবং ককপিটের মধ্যে একটি রুগেডাইজড ল্যাপটপ ডিসেপ্লে থাকে।

 


আরো সংবাদ