২৩ মার্চ ২০১৯

নওয়াজ শরিফের রাজনীতির কি ইতি ঘটছে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ - ছবি : ইন্টারনেট

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ১০ বছর ও তার মেয়ে মরিয়মকে সাত বছর কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির দুর্নীতি-বিরোধী আদালত।

লন্ডনে চারটি বিলাসবহুল বাড়ি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে শুক্রবার নওয়াজকে এ সাজা দেন আদালত।

কারাদণ্ডর পাশাপাশি নওয়াজকে আট মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৯০ কোটি টাকা) ও মেয়ে মরিয়মকে দুই মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২৩ কোটি টাকা) জরিমানা করা হয়েছে। নওয়াজের মেয়ের সঙ্গে জামাতাকেও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আদালত এমন এক সময় এ রায় ঘোষণা করলেন যখন দেশটিতে চলছে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি। এদিকে, অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন নওয়াজ। আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নওয়াজ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন। গত বছর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণার পর পদত্যাগ করেন নওয়াজ।

প্রশ্ন হচ্ছে, নওয়াজ শরীফ ও মরিয়ম নওয়াজ কি যথাক্রমে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে পাকিস্তানে ফিরবেন। আর তাদের দেশে ফিরে আসাটা কি এ মাসের ২৫ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাড়াতে পারবে। বিশ্লেষক ও রাজনীতিকরা এ দুই প্রশ্নের জবাব জানতে নাটকীয় অ্যাভেনফিল্ড মামলার সমাপ্তিটা দেখার অপেক্ষা করছেন।

জনতার ভীড় কি নওয়াজকে বিমানবন্দরে রিসিভ করবে

বিশ্লেষক মাজহার আব্বাস বলেন, যদিও নির্বাচনে অযোগ্য হওয়ার বিষয়টি নওয়াজ শরীফ কিছুটা কাটিয়ে উঠেছেন, কিন্তু ৬ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত সময়টি তার জন্য আরো অনেক বেশি কঠিন।
যদি নওয়াজ শরীফ ফেরেন তাহলে তার দল পিএমএল-এন কর্মীরা কি তাকে বরণ করে আনতে যাবে বিমানবন্দরে? দলটি কি এ ব্যাপারে কোনো আন্দোলনের ডাক দেবে? এখন সবার দৃষ্টি শাহবাজের ওপর। তার আওয়াজ কি নরম হয়ে যাবে? তিনি কি আত্মসমর্পণ করবেন? নওয়াজের ফিরে আসাতেই বোঝা যাবে ভবিষ্যত

জিও টিভির সাংবাদিক তালাত হোসাইন বলেন, রায়টি ধারণামতই হয়েছে। আগেই জানা ছিল নওয়াজ ও মরিয়মের কারাদণ্ড হবে। তিনি বলেন, রায় কী হবে এ নিয়ে হয়তো মানুষের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে, কিন্তু কিছু ভোটার এমন আছে যে, তারা এখনো নওয়াজকেই ভোট দেবেন। তবে দ্বিধা রয়েছে অনিশ্চিত ভোটারদের ব্যাপারে। আগামী মঙ্গলবার বা বুধবার নওয়াজ শরীফ ফিরতে পারেন। তখনই বোঝা যাবে, ভোটারদের গতি-প্রকৃতি কোন দিকে যাচ্ছে।

সুবিধা পাবেন ইমরান খান

সাংবাদিক সোহেল ওয়ারিস বলেন, নওয়াজ ও মরিয়মের এই মামলায় রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবেন ইমরান খান। কারণ অনিশ্চিত ভোটারদের ২০ শতাংশ এই রায়ের পর তাদের মনস্থির করে ফেলেছে। নওয়াজ যদি এই মামলা মোকাবেলা করতে ফিরে আসেন তাহলে অবশ্য তার দলের ভোট বাড়তে পারে। কিন্তু এই রায় একটি বিষয় নিশ্চিত করেছে, নওয়াজের সরকার এখন প্রশ্নাতীত বিষয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া

নওয়াজ শরীফকে কারাদণ্ড দেয়ার ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আওয়ামি মুসলিম লীগের প্রধান শেখ রশিদ বলেছেন, পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী পরিবারকে সাজা দেয়া হলো। রশিদ দাবি করেন, মরিয়ম নওয়াজ পানামা পেপারস মামলায় স্বাক্ষর জাল করেছিলেন। এই মামলায় কাগজপত্র জাল করা হয়েছিল। তেহরিকে ইনসাফ পার্টির এক সদস্য জাহাঙ্গির তারিন বলেছেন, নওয়াজ শরীফকে সাজা দেয়া হয়েছে মানি লন্ডারিংয়ের জন্য। কিন্তু তিনি দাবি করছেন, তাকে সাজা দেয়া হয়েছে সৌদি আরবের ইকামা অর্থাৎ সেখানে অবস্থানের অনুমতিপত্র থাকার কারণে।

কিন্তু দেশটির জাতীয় পরিষদে সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা খুরশিদ শাহ বলেছেন, এই রায় সঠিক সময়ে দেয়া হয়নি। দেশ যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এই রায়ের ভিন্ন তাৎপর্য আছে। এই রায় দেয়া উচত ছিল তিন মাস আগে। তিনি বলেন, এই রায়ের ফলে নওয়াজের জনসমর্থন বাড়বে। এতে নওয়াজ লাভবান হবেন। তবে তেহরিকে ইনসাফ পার্টির এক নেতা ড. আরিফ আলভি বলেছেন, এই রায় রাজনীতিকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

 


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al