২৩ মার্চ ২০১৯

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক অবনতিতে দায়ী কে?

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক অবনতিতে দায়ী কে? - সংগৃহীত

পাকিস্তানের তেহরিক-ইনসাফ দলের প্রধান ইমরান খান বলেছেন,‘ নওয়াজ শরিফ যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন৷ এমনকী ব্যক্তিগত পর্যায়েও সমস্যা মেটানোর জন্য উদ্যোগ নিতে কসুর করেননি৷ কিন্তু মোদি সরকারের পাকিস্তান বিরোধী নীতি এবং ঔদ্ধত্যের কারণেই দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে না।’

সামনেই পাকিস্তানের নির্বাচন৷ তার আগে ভারত বিরোধী অবস্থানকে জোরদার করতেই ময়দানে নেমেছেন ইমরান৷ সেখানে মোদি বিরোধিতাকেই তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি৷ নিজের দেশের সরকার ও প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘নওয়াজ শরিফের সরকার দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতিতে কসুর কিছু করেনি৷ এমনকী মোদিকে বাড়িতে আমন্ত্রণ করে ব্যক্তিগত পর্যায়েও চেষ্টা করেছেন নওয়াজ৷ সম্প্রীতির পথ খুলে দিতে একাধিক পদক্ষেপ করেছেন৷’

কিন্তু দুই দেশের সম্পর্ক যে তা সত্ত্বেও ভালো হয়নি, তার প্রধান কারণ মোদি সরকারের কঠোর পাকিস্তান বিরোধী নীতি৷ কোনোভাবেই এই প্রেক্ষিতে নমনীয় হননি মোদি, চড়া সুরে পাকিস্তানের সমালোচনা করে চলেছেন৷ একের পর এক নীতি গ্রহণ করছে ভারত সরকার যাতে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা করা যায়, তার সর্বোত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ এই যখন পরিস্থিত তখন কোনোভাবেই দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হতে পারে না৷ এর জন্য মোদির আগ্রাসন ও ঔদ্ধত্যও দায়ী৷

ইমরানের দাবি, কেউ নির্বাচনে লড়ে জেতার জন্য৷ ভালো ছেলে হওয়ার জন্য পাকিস্তানের রাজনীতির ধরণ যেরকম তিনি সেরকম পথেই এগোচ্ছেন৷

উত্তপ্ত ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত
দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া ও এবিসি নিউজ, ১৪ জুন ২০১৮

অস্ত্রবিরতি চুক্তি উপেক্ষা করে ভারত-পাকিস্তানের সীমান্তে আবারো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের সামবা জেলায় পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে ৪ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছে।

এ ঘটনায় আরো তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী। কর্তৃপক্ষ জানায়, পাকিস্তানি সেনা ভারতের সীমান্তবর্তী রামগড় এলাকায় ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক কমান্ডার চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

২০০৩ সালের অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্তে এ ঘটনা ঘটলো।

 

ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ : পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নতুন ভাবনা
আলজাজিরা

পূর্বাঞ্চলের প্রতিবেশী ভারতের সাথে ‘যুদ্ধের স্থান নেই’ বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। একই সাথে কাশ্মিরের বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি প্রতিশ্রুতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশটিকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশ এ দুই দেশের সব সঙ্কট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘কূটনীতির ব্যর্থতা হচ্ছে যুদ্ধ। আমরা পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুটি দেশ, এখানে যুদ্ধের কোনো স্থান নেই। সুতরাং সংলাপ অব্যাহত আছে। তবে ভারত সবসময় সংলাপ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে, পাকিস্তান নয়।’

ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ মুক্ত হওয়ার ১৯৪৭ সালে বিভক্ত হয় পাকিস্তান-ভারত। কাশ্মির নিয়ে এ দুই দেশ তিনবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। উভয় দেশই কাশ্মিরকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করলেও খণ্ডিত অংশের নিয়ন্ত্রণ করছে।

লাইন অব কন্ট্রোল দ্বারা বিভক্ত ভারত অধিকৃত ও আজাদ কাশ্মির। এই লাইন অব কন্ট্রোলের উভয় পাশে ভারত ও পাকিস্তানের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ২০০৩ সালে পাক-ভারত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হলেও সম্প্রতি তা পরস্পরের বিরুদ্ধে বারবার লঙ্ঘনের অভিযাগ করছে তারা।

চলতি বছর সীমান্তের পাকিস্তান অংশের টার্গেটে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কমপক্ষে ১ হাজার ৫৭৭ বার গুলি নিক্ষেপ করছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আসিফ গফুর বলেছেন, গুলিতে কমপক্ষে ৪৮ জন নিহত ও আরো ২৬৫ জন আহত হয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ‘২০১৮ সালে পাকিস্তান কমপক্ষে এক হাজার ৮৮ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এতে ৩৬ জন নিহত ও আরো ১২৭ জন আহত হয়েছেন। গত ২৯ মে দুই দেশের সেনাবাহিনী ২০০৩ সালে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আবারো অঙ্গীকার করে। উভয় দেশের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে পাকিস্তান, চীন থেকে কিনছেই যুদ্ধজাহাজ
আনাদুলো এজেন্সি

পাকিস্তান চীন থেকে দুটি যুদ্ধ জাহাজ ক্রয় করতে যাচ্ছে। শুক্রবার পাকিস্তানের নৌবাহিনীর বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।  

বাহিনীটি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই যুদ্ধ জাহাজ ক্রয় করার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা বন্ধন জোড়ালো হবে।

চায়না শিপিং ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এবং রাওয়ালপিন্ডির গ্যারিসন শহরের প্রতিরক্ষা প্রোডাকশন মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

তবে এ চুক্তি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।     

সূত্রের বরাতে বলা হয়, এ যুদ্ধজাহাজ ক্রয় করার মাধ্যমে পাকিস্তানের নৌবাহিনী আরোও শক্তিশালী হবে এবং তাদের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পাবে।    

পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতকে চাপে রাখতেই অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ কিনছে পাকিস্তান। এর মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা ফের বৃদ্ধি পেতে পারে মন্তব্য করেছেন তারা। তবে এই যুদ্ধজাহাজ পাকিস্তান নৌবাহিনীর আলাদা শক্তি যোগান দেবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

উপগ্রহ তৈরি করবে পাকিস্তান, ব্যয় হবে ৪৭০ মিলিয়ন ডলার

সামরিক ও বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা কাটাতে উপগ্রহ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের নিজস্ব মহাকাশ সংস্থা স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফেয়ার রিসার্চ কমিশন বা সুপারকো ২০১৮-১৯ সময়কালে ৪০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বাজেট পাচ্ছে।

এই পরিকল্পনায় ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরে পাকিস্তান মাল্টি-মিশন স্যাটেলাইট-সংক্রান্ত মহাকাশ কেন্দ্র এবং করাচিতে একটি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রায় ২২ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এই তিন প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় হবে ৪৭০ মিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে পাকিস্তানের যোগাযোগ উপগ্রহ পাকস্যাট-১আর পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে উৎক্ষেপণ করেছে চায়না গ্রেটওয়াল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন, ২০১১ সালে। চীনের বেইদো উপগ্রহ ব্যবস্থায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে।

লেখক, বিশ্লেষক ও ইসলামাবাদে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ব্রায়ান ক্লুগলে বলেন, মার্কিননির্ভর উপগ্রহ কর্মসূচি থেকে বের হয়ে আসা প্রতিটি দেশের জন্যই অপরিহার্য। অবশ্য এটি করার জন্য অনেক সময় চীনারা সহায়তা করে থাকেন।

তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি উপগ্রহ উন্নয়ন চুক্তি রয়েছে। তুরস্ক সম্প্রতি নিজস্ব পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ কর্মসূচি চালু করেছে। ব্রায়ান ক্লুগলে বলেন, পাকিস্তান উদ্যোগ গ্রহণ করলেও এর ফল পেতে তাদের বেশ অপেক্ষা করতে হবে। এ কারণে চীনের ওপর পাকিস্তানের নির্ভরতা বাড়বে।


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al