২৩ অক্টোবর ২০১৮

'পাকিস্তানের সুরক্ষায় পাশে থাকবে চীন'

'পাকিস্তানের সুরক্ষায় পাশে থাকবে চীন' - ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের জাতীয় স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা সুরক্ষায় সবসময় পাশে থাকার এবং সম্ভব সব রকম সহায়তা অব্যাহত রাখার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে চীন। গত শনিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ঘোষণা দেন। তা ছাড়া পাকিস্তান নিজেই তার উন্নয়ন পরিকল্পনা বেছে নিতে পারে এবং সেই অনুযায়ী চীনের সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি পাকিস্তানের সাথে উচ্চপর্যায়ের সম্পর্ক ও কৌশলগত যোগাযোগ চীন আরো বাড়াতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসাইনের সাথে বৈঠকের সময় শি জিনপিং বলেন, ‘চীন-পাকিস্তানের সামগ্রিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক সম্পর্ক শুধু উভয় দেশের জন্য যৌথ সম্পদ হিসেবেই নয় বরং তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

১৮তম সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসাইন এখন চীনের উপকূলবর্তী কিংদাও শহরে অবস্থান করছেন। পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে এই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করায় পাকিস্তানকে অভিনন্দন জানান শি জিনপিং। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) কাজ ধীরস্থিরভাবে এগিয়ে নেবে চীন পাশাপাশি বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রকল্পের অধীনে জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে কাজ করতে ইসলামাবাদের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করবে বেইজিং। সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে পাকিস্তানের প্রতি সহযোগিতা আরো বাড়ানোর আশা করেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

প্রেসিডেন্ট শি আরো বলেন, ‘নিজেদের সাথে জড়িত মূল ইস্যুগুলোর ব্যাপারে চীন এবং পাকিস্তান সব সময়ই একে অপরকে সমর্থন করবে এবং অভিন্ন যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়কে রক্ষায় দুই দেশ একসাথে কাজ করবে।’
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কথার জবাবে মামনুন হুসাইন বলেন, ‘চীন পাকিস্তানের বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু এবং উভয় দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। পাকিস্তান এক চীন নীতিতে বিশ্বাস করে এবং চীনের মূল স্বার্থগুলোকে সমর্থন করে।’

মামনুন হুসাইন আরো বলেন, ‘বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়, অর্থনীতি, বাণিজ্য, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে পাকিস্তান আগ্রহী। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে চীনের বড় ভূমিকা পালন করাকে পাকিস্তান সমর্থন করে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিশ্চিতভাবেই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’


আরো পড়ুন :
নির্বাচনে অংশ নিতে পারভেজ মোশাররফকে আদালতের অনুমতিতে নওয়াজের ক্ষোভ
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ডন ও জিও নিউজ

শর্তসাপেক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট সাবেক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফকে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।

গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সাকিব নিসার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ পারভেজ মোশাররফের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে তাদের সিদ্ধান্ত জানান। তবে আদালত শর্ত দেন, ৭৪ বছর বয়সী মোশাররফকে ২৫ জুলাইয়ের নির্বাচনে অংশ নিতে হলে ১৩ জুনের মধ্যে কোর্টে হাজিরা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোর্ট এ নিশ্চয়তা দেন যে, হাজিরা দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা হবে না।

তবে কোর্ট অনুমতি দিলেও পারভেজ মোশারফের পাসপোর্ট ও আইডি কার্ড এখনো ব্লক রয়েছে। তাই রায়ের পর তিনি কিভাবে নিজ দেশে ফিরবেন কিংবা আদৌ ফিরবেন কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়। এদিকে সুপ্রিম কোর্টর রুল জারি করে নির্বাচনে আজীবন অযোগ্য ঘোষিত দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, একজন সাবেক স্বৈরশাসক নির্বাচনের অংশ নেয়ার জন্য ক্ষমা পেয়ে যায় অথচ আমার স্ত্রীকে দেখার জন্য আমাকে লন্ডন যাওয়ার ওপরও তারা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। জবাবদিহিতা আদালতে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় নওয়াজ এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিচারকদের গৃহবন্দী এবং সংবিধান ভঙ্গ করার পরও এখন তার ব্যাপারে নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে, অন্যদিকে স্ত্রীকে দেখার জন্য মাত্র পাঁচ দিনের অনুমতিও তারা আমাকে দিচ্ছে না। পারভেজ মোশাররফ রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত। অথচ তাকে শর্তসাপেক্ষে নির্বাচনে লড়াইয়ের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।

সাংবাদিকদের নওয়াজ শরিফ বলেন, কোন আইনের অধীনে তাকে এ সুযোগ দেয়া হচ্ছে, আমি সে আইনটি দেখতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের মাথায় আসছে না কিভাবে তিনি নির্বাচনের অনুমতি পেতে পারেন। এটা অবৈধ। এখন কোথায় গেছে আর্টিকেল ৬? কিভাবে একজন মানুষ আইন ও সংবিধানের চেয়েও উপরে উঠে যেতে পারে? উল্লেখ্য ২০১৬ সাল থেকে অল মুসলিম লিগ প্রধান জেনারেল মোশাররফ দুবাইয়ে বসবাস করছেন। এর আগে ২০১৩ সালে পেশোয়ার হাইকোর্ট মোশাররফকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আজীবন নিষেধাজ্ঞার রিভিউ পিটিশন স্থগিত করেন। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট মোশাররফকে আজীবন অযোগ্য ঘোষণার বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানিতে তাকে ১৩ জুন আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।


আরো সংবাদ