২২ জুন ২০১৮

ফেসবুক লাইভে তরুণীর আত্মহত্যা

মৌসুমী মিস্ত্রি -

ফেসবুক লাইভে কথা বলতে বলতেই আত্মহত্যা করেছে এক তরুণী। লাইভ চলাকালেই সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়ে সে। ভারতের ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বৈদ্যপাড়া এলাকার বাড়ি মৌসুমির। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার সকালে মৌসুমী মিস্ত্রির লাশ যখন উদ্ধার করা হয়, তখনও তার মোবাইল ফোনে ফেসবুক লাইভ চলছিলো। মৌসুমী সোনারপুরের কামরাবাদ হাই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। সামনের বছরই তার উচ্চ মাধ্যমিকে পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। তার বয়স ১৭ বছর।

ঘটনার সময় ফেসবুক লাইভে বন্ধুর কথা বলছিল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীটি। আর কথা বলতে বলতেই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় সে। মৌসুমীকে তার ঘরের সিলিং ফ্যানে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলতে প্রথম দেখে তার ভাই। সে তার বাবাকে গিয়ে বিষয়টা জানায়। তার পরই খবর দেওয়া হয় পুলিশে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রণয়ঘটিত কারণেই এই আত্মহত্যা। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় ঘাসিয়াড়ার বাসিন্দা এক তরুণের সাথে সম্পর্ক ছিল মৌসুমীর। তার সাথে শনিবার একটি অনুষ্ঠানেও গিয়েছিল সে। সন্ধে সাড়ে ছ’টা নাগাদ বাড়ি ফিরে আসে। তার পর সেদিন রাতে ওই তরুণের সাথেই ফেসবুক লাইভে কথা বলতে বলেই আত্মহত্যা করে বলেই অভিযোগ উঠছে।

তরুণীর মা শম্পা মিস্ত্রি নার্সের চাকুরি করেন। তিনি জানাচ্ছেন, শনিবার নাইট ডিউটি ছিল। ফলে সে দিন সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। তবে, তার আগে মেয়েকে দেখে কিছু একটা সন্দেহ হয়েছিল তাঁর। শম্পা দেবীর কথায়, ‘চোখ-মুখ দেখে মনে হয়েছিল মেয়েটা কোনও একটা সমস্যায় আছে। নাইট ডিউটি থাকায় তাড়াতাড়ি চলে যাই। ভেবেছিলাম পরের দিন সকালে বাড়ি ফিরে সব জিজ্ঞাসা করব।’

শম্পা দেবী আরও বলেন, ‘রোববার সকালে মৌসুমীর বাবা ফোন করে সব জানায়। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসতে বলে। বাড়ি ফিরে সব দেখতে পাই।’ ওই তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

আরো পড়ুন : কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাদের গুলিতে ৬ জন নিহত
ভারতের কেরান সেক্টর দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় সেদেশের সেনাবাহিনীর গুলিতে ৬ জন নিহত হয়েছে। রোববার জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার কেরান সেক্টরে এই ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি  সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ছিল বলে কর্মকর্তারা জানান। খবর এনডিটিভির

দুই দিন আগে শ্রীনগর থেকে ৯৪ কিলোমিটার দূরে কেরান এলাকায় একজন সৈন্য নিহত এবং অন্যজন আহত হন। 

পবিত্র রমজান মাসে কাশ্মিরে সেনা অভিযান স্থগিত ও পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েও গুলি চালানো অব্যাহত রেখেছে ভারত। রোববার ৬ জনকে হত্যার পর দেশটির সেনাবাহিনীর তরফ থেকে বলা হয়েছে পাকিস্তান থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় তাদের গুলি করা হয়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় টহল অব্যাহত রেখেছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী।

গত কয়েক মাস মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মিরে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে বেশ কয়েকজন নিহতের পর রমজান মাস জুড়ে সেখানে সব ধরণের সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অপর এক ঘোষণায় ২০০৩ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধিবিরতি সমঝোতা মেনে চলার কথা ঘোষণা করা হয়। এসব ঘোষণার পরেও গত ২৬ মে ভারতীয় সেনাদের গুলিতে ৫ জন নিহত হয়। ১ জুন কাশ্মিরের বিক্ষোভে সামরিক যানের ধাক্কায় এক তরুণ নিহত হলে নতুন করে বিক্ষোভ দানা বাঁধে। এর মধ্যেই দুইদিন আগে কাশ্মির সফর করে আসেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং।

এনডিটিভি জানিয়েছে মাত্র দুইদিন আগে শ্রীনগর থেকে ৯৪ কিলোমিটার দূরে কুপওয়ারা জেলা সফর করে এসেছেন রাজনাথ। এরপর সেখানকার কেরান সেক্টরের সীমান্ত এলাকায় ৬ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটলো। রাজনাথের সফরের সময় তার সঙ্গে কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মেহবুবা ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরের রাজ্য বিষয়ক মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ছিলেন। গত দুই সপ্তাহে সেখানে কমপক্ষে ২১ জন মারা যায়।

প্রসঙ্গত, কাশ্মিরে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর কেউ কেউ সরাসরি স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত। কেউ কেউ আবার কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে। ইতিহাস পরিক্রমায় ক্রমেই সেখানকার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইসলামিকরণ হয়েছে। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মিরের জাতিমুক্তি আন্দোলনকে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী তৎপরতার থেকে আলাদা করে শনাক্ত করে না। সন্দেহভাজন জঙ্গি নাম দিয়ে বহু বিদ্রোহীর পাশাপাশি বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে।

 

 

 


আরো সংবাদ