১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

পারভেজ মোশাররফের পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট বাতিল

পারভেজ মোশাররফের পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট বাতিল - ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট তথা শাসক পারভেজ মোশাররফের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট বাতিল করেছে পাকিস্তান সরকার। গালফ নিউজসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে প্রকাশিত খবরে এমনটাই জানা গেছে। ২০০৭ সালে মোশাররফের শাসনকালে জরুরি অবস্থা জারি করার জেরে শীর্ষ আদালতের ১০০ জনেরও বেশি বিচারপতি পদচ্যুত হয়েছিলেন। তার জেরেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে ২০১৪ সালে মোশারফকে পদচ্যুত করা হয়েছিল।

চলতি বছরের মার্চেই আদালতের তরফে পাক সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়, মোশারফের কম্পিউটারাইজড জাতীয় পরিচয়পত্র (সিএনআইসি) বাতিল করা হোক। জানা গেছে, ন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ডাটাবেস অথরিটি (নাদরা) মোশারফের সিএনআইসি বাতিল করে দিয়েছে। এবং পরিচয়পত্র বাতিল হওয়ায় তার পাসপোর্টও বাতিল হয়ে গেছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, যেহেতু মোশারফের পাসপোর্ট বাতিল হয়েছে, সে কারণে তিনি আর অন্য কোনো দেশে সফর করতে পারবেন না। বর্তমানে দুবাইয়ে রয়েছেন মোশাররফ। পাসপোর্ট বাতিল হওয়ায় স্বভাবতই তার দুবাইয়ে থাকা অবৈধ হয়ে গেল।

বিশেষ সূত্রে খবর, এখন তাকে হয় রাজনৈতিক রক্ষাকবচের আবেদন করতে হবে, আর নয়তো পাকিস্তানে ফেরার জন্য বিশেষ নথিপত্রের আয়োজন করতে হবে। গত মার্চে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য বিভাগগুলোকেও বিশেষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল মোশাররফকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হোক। ওই নির্দেশকে সামনে রেখেই মোশাররফের পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট বাতিল করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মে মাসের শেষে নাদরাকে নির্দেশ দেয়। এ ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য নাদরার তরফে কারো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, মোশাররফের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে, তার ফলে তার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।

নির্বাচনে অংশ নিতে পারভেজ মোশাররফকে আদালতের অনুমতিতে নওয়াজের ক্ষোভ

এর আগের খবরে বলা হয়, শর্তসাপেক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট সাবেক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফকে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।

গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সাকিব নিসার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ পারভেজ মোশাররফের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে তাদের সিদ্ধান্ত জানান। তবে আদালত শর্ত দেন, ৭৪ বছর বয়সী মোশাররফকে ২৫ জুলাইয়ের নির্বাচনে অংশ নিতে হলে ১৩ জুনের মধ্যে কোর্টে হাজিরা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোর্ট এ নিশ্চয়তা দেন যে, হাজিরা দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা হবে না।

তবে কোর্ট অনুমতি দিলেও পারভেজ মোশারফের পাসপোর্ট ও আইডি কার্ড এখনো ব্লক রয়েছে। তাই রায়ের পর তিনি কিভাবে নিজ দেশে ফিরবেন কিংবা আদৌ ফিরবেন কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়। এদিকে সুপ্রিম কোর্টর রুল জারি করে নির্বাচনে আজীবন অযোগ্য ঘোষিত দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, একজন সাবেক স্বৈরশাসক নির্বাচনের অংশ নেয়ার জন্য ক্ষমা পেয়ে যায় অথচ আমার স্ত্রীকে দেখার জন্য আমাকে লন্ডন যাওয়ার ওপরও তারা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। জবাবদিহিতা আদালতে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় নওয়াজ এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিচারকদের গৃহবন্দী এবং সংবিধান ভঙ্গ করার পরও এখন তার ব্যাপারে নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে, অন্যদিকে স্ত্রীকে দেখার জন্য মাত্র পাঁচ দিনের অনুমতিও তারা আমাকে দিচ্ছে না। পারভেজ মোশাররফ রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত। অথচ তাকে শর্তসাপেক্ষে নির্বাচনে লড়াইয়ের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের নওয়াজ শরিফ বলেন, কোন আইনের অধীনে তাকে এ সুযোগ দেয়া হচ্ছে, আমি সে আইনটি দেখতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের মাথায় আসছে না কিভাবে তিনি নির্বাচনের অনুমতি পেতে পারেন। এটা অবৈধ। এখন কোথায় গেছে আর্টিকেল ৬? কিভাবে একজন মানুষ আইন ও সংবিধানের চেয়েও উপরে উঠে যেতে পারে? উল্লেখ্য ২০১৬ সাল থেকে অল মুসলিম লিগ প্রধান জেনারেল মোশাররফ দুবাইয়ে বসবাস করছেন। এর আগে ২০১৩ সালে পেশোয়ার হাইকোর্ট মোশাররফকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আজীবন নিষেধাজ্ঞার রিভিউ পিটিশন স্থগিত করেন। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট মোশাররফকে আজীবন অযোগ্য ঘোষণার বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানিতে তাকে ১৩ জুন আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।

আরো পড়ুন :

অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেলেন সাংবাদিক

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কট্টর সমালোচক দেশটির এক নারী সাংবাদিককে অপহরণ করে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে লাহোরের ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা সাংবাদিক গুল বুখারির গাড়ি থামিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে তার পরিবার জানিয়েছে। 
রাতে নিজের বাসা থেকে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন গুল। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় কয়েকটি পিকআপ গুলের গাড়ির সামনে এসে সেটিকে থামায় বলে জানান তার গাড়িচালক। গুলের এক সহকর্মী বলেন, অপহরণের সময় সাদা পোশাকের লোক ছাড়াও সেখানে ‘সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ব্যক্তিও ছিল’। গুল পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক। তার সহকর্মী মুহাম্মদ গুলশের জানান, ‘তারা গুলের মুখমণ্ডল কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে তাকে নিয়ে যায়’।

অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর গুলের স্বামী জানান তিনি নিরাপদ আছেন বলে। যদিও এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে টুইটারে এক বিবৃতিতে গুলের এক স্বজন বলেন, তিনি ভালো আছেন এবং সবাইকে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে অনুরোধ করেন। গুলের অপহরণের পর বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এর পেছনে ‘সেনাবাহিনীর হাত আছে বলে’ অভিযোগ করছে। তাদের দাবি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে এভাবে অপহরণ করে ভয় দেখানো হচ্ছে। যদিও সেনাবাহিনী থেকে ওই অভিযোগ উড়িয়ে দেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ