১৪ নভেম্বর ২০১৯

মিসরীয়দের সামনে দুর্যোগের ঘনঘটা?

-

জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল সিসির শাসনকে অনেক মিসরীয় নব্য ফেরাউনের সময় হিসেবে দেখছেন। তার দুঃশাসন মিসরীয়দের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে বছর পাঁচেকের বেশি সময় ধরে। কথা বলার স্বাধীনতা সিসির সেনা অভ্যুত্থান-উত্তর শাসন শুরুর পর থেকে বিদায় নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে অর্থনৈতিক সঙ্কট ও দুরবস্থাও বেশ ক’বছর ধরেই চলছে। অব্যাহতভাবে বাড়ছে মিসরের বৈদেশিক দায়-দেনা। মিসরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, গত মার্চ শেষের বৈদেশিক দেনা ১০৬.২ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে জুনের শেষের দিকে ১০৮.৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ দেনা এক বছরে বেড়েছে ১৬ বিলিয়ন ডলার।

সিসির অধীনে মিসর এখন হয়ে পড়েছে বিদেশী বিনিয়োগের জন্য এক ব্ল্যাকহোল। এই ব্ল্যাকহোলে আর অর্থ ঢালতে রাজি হতে চাইছে না সৌদি আরব ও আমিরাত। ফলে সিসি তার প্রধান সমর্থক সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের পৃষ্ঠপোষকতা থেকে অনেকখানি বেরিয়ে এসেছেন। মিসর উপসাগরীয় দেশ থেকে আর নিখরচায় তেল না পেয়ে ইরাকের শরণাপন্ন হচ্ছে। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কায়রো সফরের সময় সিসি মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করেন তার সামনে।

অভ্যন্তরীণভাবে, মিসরীয়রা মনে করে প্রতিটি মাস পার হওয়ার সাথে সাথে আরো দরিদ্র হয়ে পড়ছে তারা। মোহাম্মদ আলীর মতো ব্যক্তি দেশব্যাপী রাস্তায় গণবিক্ষোভের ডাক দিয়ে হুইসেল ব্লোয়ার বা সতর্ক ধ্বনি বাদকের কাজটিই করেছেন। এরপর দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ শুরু হয় আর সেখান থেকে শত শত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আটকাদেশ দেয়া হয়। এতে বোঝা যায়, সিসি কতটা দুর্বল হয়ে পড়ছেন। তবে, মিসরের পানি সরবরাহের যে সমস্যা সিসি ঢেকে রেখেছেন, তার তুলনায় এসব সমস্যা খুবই সামান্য। নীল নদের পানিপ্রবাহ মিসরের জন্য সত্যিই একটি অস্তিত্বের সঙ্কট ডেকে আনতে পারে।

নীলের উৎপত্তির দেশ ইথিওপিয়া গ্র্যান্ড রেনেসাঁ ড্যাম নামের এক মহাবাঁধ নির্মাণ করেছে। এই বাঁধ শিগগিরই চালু করার কথা বলা হয়েছে। হোয়াইট নীল নদী এবং ব্লু নীল নদীর মিলিত প্রবাহে নীল নদের সৃষ্টি হয়েছে। হোয়াইট নীল নদীটি ট্যাঙ্গানাইকা হ্রদের নিকটবর্তী বুরুণ্ডির পার্বত্য মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে কিছু দূর উত্তরে গিয়ে ভিক্টোরিয়া হ্রদে পড়েছে এবং পরে ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে নির্গত হয়ে নদীটি অ্যালবার্ট হ্রদের মধ্য দিয়ে খার্তুম শহরের দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এই গতিপথে বাঁ দিক থেকে বার-এল-গজল এবং ডান দিক থেকে সোবাট নামে দু’টি উপনদী হোয়াইট নীলের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ব্লু নীল নদীটি ইথিওপিয়ার টানা হ্রদ থেকে উৎপন্ন হয়ে খার্তুম শহরের কাছে হোয়াইট নীলের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এরপর এই দুই মিলিত নদী নীল নদ নামে উত্তর দিকে বহু দূর প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়েছে।

নীল নদের পানি ব্যবহারে কে প্রাধান্য পাবে তা নিয়ে মিসর ও সুদানের মাঝে ১৯৫৯ সালে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে নির্ধারণ করা হয় বার্ষিক ৮৪ বিলিয়ন ঘন মিটার পানির মধ্যে মিসর পাবে ৫৫.৫ বিলিয়ন ঘন মিটার পানি এবং বাকি ১৫.৫ বিলিয়ন ঘন মিটার পানি পাবে সুদান। ১৯৫৯ সালের চুক্তিটিতে ইথিওপিয়াসহ নদীর তীরবর্তী অন্য দেশগুলোর জন্য পানির বাটোয়ারা কেমন হবে তার কোনো উল্লেখ না থাকায় এ নিয়ে টানাপড়েন চলে আসছে কয়েক দশক ধরে।

নীল অববাহিকার দেশগুলো সমঝোতায় আসতে না পারায় বিশেষভাবে মিসর ও ইথিওপিয়ার মাঝে দ্বন্দ্ব-বিবাদ বেড়েই চলছে। এর মধ্যেই ‘গ্র্যান্ড রেনেসাঁ’ বাঁধের নির্মাণ শেষ হয়ে এসেছে। ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে নির্মীয়মাণ, ৫৫৮ ফুট উঁচু এই বাঁধটির নির্মাণ খরচ ৪৭০ কোটি ডলার। ইথিওপিয়ায়, সুদান সীমান্তঘেঁষা এই বাঁধ এলাকায় আশপাশের অসংখ্য গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। নদীর বুকে বেশ কয়েক স্তরে কংক্রিটও গাঁথা হয়ে গেছে। ফলে বদলে গেছে ওই অংশে নদীর গতিপথ।

ইথিওপিয়া প্রাথমিকভাবে দাবি করছে তারা এই বাঁধ নির্মাণ করছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য। উৎপাদিত বিদ্যুৎ আশপাশের দেশগুলোতে রফতানি করা হবে। এ জন্য তিন বছর সময় ধরে ২৫ শতাংশ হারে পানি প্রত্যাহার করতে হবে নীল নদ থেকে। এরপর পানির প্রবাহ আবার স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ইথিওপিয়ার খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী প্রধানমন্ত্রী আবে আহমেদ। সম্প্রতি শান্তির জন্য এ ভদ্রলোককে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। অথচ এর অব্যবহিত পরই রাজনৈতিক দাঙ্গায় দেশটিতে পৌনে ১০০ লোক নিহত হয়েছে।

এক সময়ের বাম পটভূমির এই রাজনীতিবিদের বাবা ছিলেন মুসলিম। কিন্তু মায়ের খ্রিষ্টধর্ম নিয়েই বেড়ে উঠেছেন আবে। এই পটভূমিই যে শুধু তাকে নোবেল পেতে সহায়তা করেছে তা মনে হয় না। সম্ভবত আবে আহমেদকে দিয়ে অনেক কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির নিয়ন্ত্রকদের। আর এর মূল কেন্দ্রেই রয়েছে গ্র্যান্ড রেনেসাঁ বাঁধ। এই বাঁধে মূল অর্থায়ন করেছে ইসরাইল। ইসরাইল যে শুধু অর্থনৈতিক লাভের জন্য এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে এমনটি নয়। নীল নদের পানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইসরাইল এই অববাহিকার দেশগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। বিশেষত নীলের ওপর নির্ভরশীল মিসর ও সুদানের পরিস্থিতিকে।

আদি ফেরাউনের আমল থেকেই মিসরীয় সভ্যতা মূলত গড়ে ওঠে নীল নদের পানিকে কেন্দ্র করে। মিসরের ৮০ শতাংশ কৃষি এই নীল নদের পানির ওপর নির্ভর। নদটির ২৫ শতাংশ প্রবাহ কমে যাওয়ার অর্থ হলো ভূমধ্যসাগরের লবণাক্ততা নীলের পানিকে গ্রাস করবে। এতে প্রচুর ক্ষতি হবে কৃষির। এ কারণে মেগা বাঁধ নির্মাণের ইথিওপীয় প্রকল্পটি ২০১২ সালে মোহাম্মদ মুরসির সরকার প্রত্যাখ্যান করেছিল। সিসি ক্ষমতায় আসার পর ইথিওপিয়া এবং সুদানের সাথে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করার পরে এই বাঁধ প্রকল্পটি ত্বরান্বিত হয়। এর অন্তরালে ইসরাইলেরই নেপথ্য ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়।

নীল নদ নিয়ে মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে আলোচনার বিষয়ে অবহিত মিসরীয় পানি বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘ইথিওপীয়রা যেমন চায় সেভাবে বাঁধটি যদি তিন বছরের মধ্যে পূরণ করা হয়, তবে মিসরে নীল নদের পানির স্তর এতটাই হ্রাস পাবে যে, অনেক পাম্প আর কাজ করবে না। মিসরের সবচেয়ে উর্বর অঞ্চল ডেল্টায় যখন পানির স্তরটি নিচে নেমে আসবে, তখন নীল নদে সমুদ্রের লোনা পানি প্রবেশ করবে, যার অর্থ ডেল্টার মাটি লোনা হবে এবং তা কৃষি কাজের আর উপযুক্ত থাকবে না।’

বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করে বলেন, মিসর সব বছরে প্রচুর বৃষ্টির পানি পায় না, তাই নীল নদ থেকেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পূরণ হয়। নীল নদের স্তর যদি নিচে নেমে যায় তবে ভূগর্ভস্থ পানির শূন্যতা আর পূরণ হবে না। শুরু হবে পানি নিয়ে হাহাকার। এর বাইরে বাঁধের পানি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হবে, নাকি সেচেও কাজে লাগানো হবে তা নিয়েও মিসরীয়দের উদ্বেগ রয়েছে। এই উদ্বেগের কারণ হলো ইথিওপীয়রা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জমি দিচ্ছে। এতে এ ধারণা করা স্বাভাবিক যে, তারা স্থায়ীভাবে মিসরে প্রবাহিত পানির ২০-৩০ শতাংশ ব্যবহার করবে। মিসরের জন্য পানির কোনো বিকল্প উৎস না থাকায় এর বিশাল প্রভাব পড়বে মিসরের জনজীবনে।

মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একমাত্র প্রেসিডেন্ট মুরসির বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর পর এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নেমে আসে। সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানানো হাজার হাজার মিসরীয় রাবা স্কোয়ারে সিসি বাহিনীর হাতে গুলিতে প্রাণ হারায়। এরপর ব্রাদারহুড দমনের নামে হাজার হাজার স্কুল কলেজ হাসপাতাল সরকারের দখলে নেয়া হয়। কার্যত স্বাভাবিক রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দেশটিতে ভেঙে পড়ে। অর্থনৈতিকভাবে আঞ্চলিক শক্তিধর দেশ সৌদি আরব এবং ইসরাইলের ছায়া আরব দেশ হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনামূল্যে দেয়া জ্বালানি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে জেনারেল সিসির শাসনকে টিকিয়ে রাখা হয়। বিনিময়ে সিসি সৌদি আরবকে দু’টি দ্বীপ উপহার দেয়। মিসরের অনেক অবকাঠামো সম্পদের মালিকানা চলে যায় আরব আমিরাতের হাতে।

নিজেদের নিরাপত্তা সঙ্কটে একের পর এক আমেরিকান সেনাঘাঁটি প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং ইয়েমেনের যুদ্ধ খরচ চালিয়ে যেতে সৌদি আরব আর আগের মতো জ্বালানি সাহায্য দিতে পারছে না মিসরকে। এতে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় চরম সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। সিসি তার একনায়কতান্ত্রিক শাসন চালাতে গিয়ে সেনাবাহিনী অথবা রাজনৈতিক অঙ্গন কোথাও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার মতো ব্যক্তি বহাল তবিয়তে রাখেনি।

রাজনৈতিক অর্থনৈতিক এমনকি সামাজিক ক্ষেত্রেও এ ধরনের এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় নতুন করে প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে এবারের প্রতিবাদ উত্থিত হয় ক্ষমতার সামরিক বলয় থেকেই। সেনাবাহিনীর এক সময়ের প্রভাবশালী ঠিকাদার ও সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে নায়ক হয়ে ওঠা মোহাম্মদ আলী ব্যাপক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে সিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দেন। এই বিক্ষোভ প্রতিবাদ আকারে বেশি বড় না হলেও বিক্ষিপ্তভাবে সারা দেশে তা অব্যাহত রয়েছে। এর পেছনে সাবেক সেনাপ্রধান সামি আনানের সমর্থন রয়েছে বলে মনে করা হয়।

নীল নদের পানি প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির নতুন করে অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ধূর্ত সিসি সৌদি আরবের কাছ থেকে আরো অর্থ পাওয়ার জন্য ইরানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন শুরু করেছেন। এর আগে সিরিয়ায় বাশার আল আসাদকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন রসায়ন শুরু করেন তিনি। সিসির কৌশল হলো ইরানের ভয় দেখিয়ে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সাহায্য নিশ্চিত করা। আর ইসরাইলের স্বার্থ ও নির্দেশনা পালন করে ক্ষমতা ঠিক রাখা। এ ক্ষেত্রে ইসলামিস্ট দমন হলো তার প্রধান হাতিয়ার। এই হাতিয়ার প্রয়োগ করার জন্য সিসি জনমতকে খুব একটা তোয়াক্কা করেননি। কিন্তু এখন তার জন্য নতুন সমস্যা হলো নীল নদের পানি প্রত্যাহার হলে দুর্ভিক্ষাবস্থা সৃষ্টির আশঙ্কা।

মিসরের জনসংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ছুঁয়েছে। তা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। আগামী ৫০ বছরে দেশটিতে মানুষের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই জনসংখ্যার প্রায় পুরোটাই নীল নদের অববাহিকায় বসবাস করে। নদীকেন্দ্রিক জীবন তাদের। এ অবস্থায় যদি নদের পানির প্রবাহ কমে যায়, তা বড় সংখ্যক মানুষের উদ্বেগের কারণ হবে। এ কারণে মিসর নীল নদের ওপর অতবড় বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতা করেছিল। তবে তা শুনতে রাজি নয় ইথিওপিয়া। ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্নকারী এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প একাধিক দেশে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবে বলে দাবি তাদের। সেখান থেকে পরিবর্তন আসবে অর্থনীতিতেও। কিন্তু এই প্রশ্নে এখনো সমঝোতায় আসতে পারেনি ইথিওপিয়া ও মিসর।

উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া তথ্য থেকে জানা গিয়েছিল, এই বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতা করতে যুদ্ধ ঘোষণার কথাও ভেবেছিল মিসর। এমনকি বিমান হামলায় বাঁধটি ধ্বংস করা নিয়েও আলোচনা হয়। কিন্তু পরে, অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা ভেবে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। সিসি এর মধ্যে সেনা অভিযানের হুমকি দিয়ে ইথিওপিয়াকে পানি প্রত্যাহার থেকে নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করেছে। ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবে আহমেদ পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, তার দেশের সব মানুষ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।

ইথিওপিয়ায় খ্রিষ্টানের চেয়ে মুসলিম সংখ্যা বেশি হলেও রাজনৈতিকভাবে তারা সংগঠিত নয়। এ ছাড়া আবে আহমেদ যে ইসরাইল ও মার্কিন বলয়ের সমর্থন পাচ্ছেন সেটি নোবেল প্রাপ্তি আর সুদানে বিক্ষোভকারীদের সাথে সেনা নেতৃত্বের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় স্পষ্ট হয়। নিজ ইমেজ বাড়ানোর জন্য তিনি প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সাথে সমস্যাও অনেকখানি মিটিয়ে ফেলেছেন।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, সিসি ক্ষমতায় টিকে থাকার গ্যারান্টি মনে করেন যে ইসরাইলের সমর্থনকে, সেই দেশটিই হলো ইথিওপিয়ার রেনেসাঁ ড্যামের প্রধান অর্থায়নকারী। সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের মানচিত্র বড় করার পরিকল্পনার সাথে থাকতে পারে রেনেসাঁ ড্যাম নির্মাণের যুগসূত্র। ফলে সিসি চাইলে বাঁধ নিয়ে বড় কিছু করতে পারবেন বলে মনে হয় না। বিষয়টি সিসির ক্ষমতার মৃত্যুঘণ্টাও বাজিয়ে দিতে পারে। ইসরাইলও তার দায় টেনে না নিয়ে একপর্যায়ে নিজ স্বার্থে নতুন পাত্রে ভর করতে পারে। মিসরের অনেকের সামনে এখন নীলের পানি শুকিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বাইবেল ও হাদিসের ভবিষ্যদ্বাণীতে বর্ণিত চিত্র সামনে রয়েছে। সেই দুঃস্বপ্নকর অবস্থা সিসির শাসনকালেই শুরু হচ্ছে কি না সেই আশঙ্কা অনেকের।

[email protected]


আরো সংবাদ