২৩ নভেম্বর ২০১৯

নাগাল্যান্ডে স্বাধীনতার ডাক

-

হিন্দুরা নাগাদের অপছন্দ করে গরুর গোশত খায় বলে, মুসলমানরা অপছন্দ করে তারা শূকরের গোশত খায় বলে। বিজেপি রাজনীতিকদের আরো রাগ, প্রকৃতি পূজারী পুরো নাগাগোষ্ঠী হিন্দু ধর্মকে গ্রহণ না করে সবাই খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। ভারতীয় রাষ্ট্রে নাগাদের স্বাধিকার ও বিদ্রোহী আন্দোলন সবচেয়ে পুরনো। হিন্দুস্থান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, নাগারা স্বাধীন নাগালিম গড়ার জন্য আবার একত্র হয়েছে। সম্প্রতি কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল হওয়ার পর নাগা নেতারা মনে করছেন, এমন বিধান নাগাদের ওপরও বলবৎ হবে। নাগাল্যান্ড স্টেটের বিরোধী দলের এনপিএফের নেতারাও মনে করছেন পৃথক পতাকা ও সংবিধান নিয়ে নাগাদের এগিয়ে যেতে হবে। এই দাবি নিয়ে রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন নাগারা। মনিপুর, মিজোরাম, আসাম, মিয়ানমারের কিছু এলাকা, অরুনাচল প্রদেশ ও মুখ্যত নাগাল্যান্ড নিয়ে বৃহত্তর ‘নাগালিম’ গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ওই লিপিতে। তাদের এই আন্দোলন অর্ধশত বছরেরও পুরনো। ভারত সরকার দুর্গম নাগা ও মিজোরাম অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বিবিধ কর্মসূচি হাতে নেয়ায় এবং যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করায় নাগাদের আন্দোলনে অনেক ভাটা পড়লেও সাম্প্রতিক কাশ্মির সমস্যার পর তা আবার ফ্রন্ট লাইনে চলে এসেছে। নাগাল্যান্ড ছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতের বাকি রাজ্যগুলো ৩৭১ ধারার ফলে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। নাগা মুখপাত্র আইজ্যাক মুইভা জানান, ‘স্বাধীন নাগালিমের দাবিতে দীর্ঘ কয়েক দশকের আন্দোলন এবং রক্তক্ষয়ের পর সংবিধান ও পতাকার দাবি ছেড়ে দেয়া যায় না। ’

ভারতের স্বাধীনতার পর থেকেই নাগারা স্বায়ত্তশাসন, স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। উত্তরে অরুণাচল প্রদেশ, পশ্চিমে আসাম, দক্ষিণে মনিপুর এবং পূর্বে মিয়ানমার নিয়ে এই ভূখণ্ডের আয়তন ১৬ হাজার ৬০০ কিলোমিটার। লোকসংখ্যা ৩০ লাখ। এই বিশাল ভূখণ্ড উত্তর-পূর্ব ভারতের বিছিন্ন অংশের মতো এবং বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ। নাগাদের উগ্র আন্দোলন এই অঞ্চলের আরো অনেক নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সরকারবিরোধী বিদ্রোহী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করেছে। নাগাদের কারণেই অনেক উপজাতীয়গোষ্ঠী ভারত থেকে পৃথক রাষ্ট্র গঠন এবং মূল স্রোতধারা থেকে বিছিন্ন হয়ে কঠিন জীবনযাপন করার পথ বেছে নিয়েছে। তাই ভারত সরকার নাগাদের ওপর খুব বিরক্ত।

নাগাদের বিচ্ছিন্নতা আন্দোলনবাদী শুরু হয়েছিল ১৯২৯ সালে। ‘নাগা ক্লাব’ তখন সাইমন কমিশনকে ব্রিটিশ প্রশাসন থেকে পৃথক রাখার জন্য স্মরাকলিপি প্রদান করেছিল। নাগারা স্মারকলিপিতে বলেছে, আসামের অধিবাসীদের সাথে তাদের মাঝে মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে; কিন্তু কখনো আসাম ফৌজ জয়লাভ করতে পারেনি। নাগাদের ইতিহাস স্বাধীনতা ও স্বকীয়তার ইতিহাস, তারা কখনো কারো শাসিত ছিল না। মুসলমান বা হিন্দুদের সাথে কোনো সামাজিক মিল নেই তাদের। Politics and Militancy in Nagaland বইতে বিচিত্র সব তথ্য সবিস্তারে বিধৃত হয়েছে। ব্রিটিশরা পুরো নাগা ভূখণ্ড ১৮৭৯ সালে দখল করে নেয়। নাগাদের কোনো আধুনিক চিন্তাধারা ছিল না। ব্রিটিশরা ১৯১৮ সালে নাগা ক্লাব গঠন করে দিয়েছিল। নাগারা নিজেরাই গোত্রভিত্তিক মারামারি করত। এই ক্লাব তাদের সামাজিকভাবে সুসংগঠিত করার চেষ্টা চালায়। খ্রিষ্টান অধ্যুষিত বড়গ্রামগুলোর মোড়লদের সংগঠিত করার সামাজিক দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। এনএনসি বা নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল গোপনভাবে নাগাদের ফেডারেল সরকার গঠন করার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী নাগা হিলসে ঢুকে পড়ে। সেনারা মূল নেতা ডা: ফিজোকে ধরার চেষ্টা করলে ফিজো খ্রিষ্টান মিশনারি মাইকেল স্কটের সহায়তায় তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান হয়ে লন্ডনে পাড়ি জমান। ১৯৯০ সালে ফিজোর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি নাগাদের পরামর্শ দিয়ে গেছেন। ফিজোর দেশান্তরে নাগাদের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। নাগা নেতাদের অনেকেই ভারত সরকারের সাথে আলাপ করে দাবিদাওয়া নিষ্পত্তির পক্ষে মতামত দেন। এর ওপর ভিত্তি করে ১৯৫৭ সালে কোহিমায় নাগা কনভেনশন হয়েছিল। কনভেনশনে ভারতীয় ইউনিয়নের ভেতরে থেকে নাগাদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর পক্ষে মত প্রাধান্য পায়। এটাকে ভারত সরকারের এক বড় ধরনের বিজয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কনভেনশনের পর নাগা হিলসকে বহির্বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে নাগা পিপলস কনভেনশন ১৬ দফা চুক্তি করার ফলে ভারতীয় ইউনিয়নের মধ্যে নাগাল্যান্ড নামে পৃথক স্টেট গঠনের ভিত্তি সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গোত্র থেকে ৪৫ জন সদস্য নিয়ে কমিটি গঠিত হয়েছিল। ওই সময় উগ্রবাদী দু’জন নাগা নেতাকে গুলি করে হত্যা করার ফলে কমিটি বিলুপ্ত করে ১৯৬৩ সালে ১ ডিসেম্বর নাগাল্যান্ডকে ভারতের ১৬তম প্রদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রিজিওনাল কাউন্সিল গঠিত হয় জেলা প্রশাসককে এ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাখার বিধান করা হলো। কোন কোন আইন নাগাল্যান্ডে কার্যকর হবে আর কোনটি হবে না, তার একটি তালিকা তৈরি করা হয়। তবে রিজিওনাল কাউন্সিলের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। ভূমির মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নাগাদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হয়। ভারত সরকার এত ছাড় দেয়ার পরও নাগারা পাওয়ার পলিটিক্সে জড়িয়ে পড়ে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে নেতারা নিজ নিজ স্বার্থে ব্যবহার করতে থাকেন। কেন্দ্র থেকে বিরাট অঙ্কের অনুদান আসার পর নেতারা অর্থলিপ্সু হয়ে পড়েন। অর্থ ও ক্ষমতার লিপ্সায় বিদ্রোহীদের ব্যবহার করায় নাগাদের গাত্রদ্বন্দ্ব ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং অর্থনৈতিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

পৃথক স্টেট মর্যাদা পাওয়ার পরও কাক্সিক্ষত ফল না আসায় ১৯৬৪ সালের এপ্রিলে ভারত সরকার শান্তি মিশন গঠন করে। মিশনে খ্রিষ্টান নেতা মাইকেল স্কট, সর্বোদয় নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণ ও আসামের চিফ মিনিস্টার বিমলা প্রাসাদ চালিহাকে সদস্য রাখা হয়েছিল। ওই বছর ১৫ আগস্ট বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মাইকেল স্কট দুই পক্ষের মধ্যে আপসমূলক কাজ না করে নাগাদের স্বাধীনতার কার্ড ছুড়ে দেন। ভারত সরকার ১৯৬৬ সালে স্কটকে ভারত থেকে বহিষ্কার করে। এরপর শান্তি মিশন নিয়ে কোনো পক্ষ আর কথা বলেনি। বেআইনি কার্যক্রম প্রতিরোধ আইনের আওতায় ভারত সরকার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চরম সামরিকব্যবস্থা গ্রহণ করে। অভিযোগ করা হয়, ওই সময় নাগাদের ওপর নাপাম বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এর ফলে নাগারা আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে। তখন সরকার ও নাগাদের মাঝে ১৯৭৫ সালে শিলং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ফলে অনেক প্রশিক্ষিত নাগা বিদ্রোহী আত্মসমর্পণ করে। ভারত অভিযোগ করেছিল যে, এসব বিছিন্নতাবাদী নাগা চীন থেকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ লাভ করেছে। গোঁড়া বিদ্রোহীরা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন উপদল মিলে ১৯৭০ সালে ন্যাশনাল সোস্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগালিম (এনএসসিএন) নামে রাজনৈতিক দল গঠন করে স্বাধীনতার ডাক দেয়।

ব্রিটিশ শাসনের আগে নাগা হিলস একটি পৃথক জনপথ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। নানা উপজাতি সত্তা, বিভিন্ন ভাষা ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য তাদের বিভক্ত করে রেখেছিল। তাদের মধ্যে একদল মার্কসবাদী স্বাধীন রাষ্ট্র করার দাবিতে অনড় থেকে যান।

ভারতের অন্যান্য উপজাতির মতো নাগারাও পরিবর্তনশীল আধুনিক সমাজের বির্বতন থেকে বিছিন্ন হয়নি। বাইরের পৃথিবীর সংস্পর্শে আসার পর তাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন সূচিত হতে থাকে। পশ্চিমা সমাজের স্টাইল খুব তাড়াতাড়ি নাগা সমাজে ঢুকে পড়ে। নাগাল্যান্ড এখন শিক্ষিতের হার ৯৭.১১ শতাংশ। ইনকাম ইনডেক্স ভারতের গড়ের চেয়ে বেশি। ১৯৪৭ সালে যেখানে মাত্র একটি হাইস্কুল ছিল, বর্তমানে সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, অনেকগুলো কলেজ, শত শত হাইস্কুল, নার্সিং ইনস্টিটিউট ও কয়েক হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু বিদ্রোহীরা এসব উন্নয়নকে ‘রাজনৈতিক ফাঁদ’ হিসেবে মনে করেছে এবং দেশ-বিদেশে ভারত সরকারবিরোধী প্রচার চালাচ্ছে।

২২ বছর ধরে ভারত সরকার ও নাগাদের বড় একটি দল স্বাধীনতার দাবি ছেড়ে শান্তি চুক্তির পথে চলার চেষ্টা করছে। কিন্তু সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল হওয়ায়, বা ভারতীয় ইউনিয়নে থেকে বিশেষ সুবিধা ভোগ করার বিধি তিরোহিত হওয়ায় পুরো বিষয়টিতে নাগাদের সন্দেহ ও অবিশ্বাস দানা বেঁধে উঠেছে। নিজেরা আইন প্রণয়ন করে বিশেষ মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন ভোগ করলেও তা বাদ যাওয়ায় নাগারা শান্তিপ্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক মতলববাজি’ মনে করছেন। এতদিন ধরে ভারত সরকার পুরো উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিদ্রোহীদের একটি শান্তিপ্রক্রিয়ায় নিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছে। নাগাল্যান্ড এমন এক কৌশলগত এলাকা যার সীমান্তে রয়েছে চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ। অনেকে মনে করেন, ভারতবিরোধী চীনারা ভারতকে ‘চেক’ দেয়ার জন্য নাগাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা দিচ্ছে। কাশ্মিরে মাত্র কয়েক শ’ জঙ্গি বিদ্রোহী রয়েছে, সেখানে নাগাল্যান্ডে আছে সাত হাজার নিয়মিত প্রশিক্ষিত যোদ্ধা। ভারত একটি শান্তি চুক্তিতে নাগাদের আনতে না পারলে এসব বিদ্রোহী যেকোনো সময় ফুঁসে উঠে দিল্লির জন্য দুর্যোগের জন্ম দিতে পারে। নাগাদের বিভিন্ন দাবির মধ্যে একটি হলো- যেসব এলাকায় অধিক সংখ্যক নাগা রয়েছে তাদের একটি স্থানে, একটি স্টেটে সমবেত করা। এখন নাগারা আরো চাপ দিচ্ছে, কাশ্মিরিরা যে সুবিধা এতদিন ভোগ করে এসেছে সে ধরনের সুবিধা এবং নিজেদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা যেন নাগাদের দেয়া হয়। নাগারা এই বলে গর্ব বোধ করে যে, ব্রিটিশরা তাদের মস্তক অবনত করাতে সক্ষম হয়নি। তাই নাগারা কারো কাছে অবনত হতে চায় না। নাগারা ভারতের স্বাধীনতার এক দিন আগেই, ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। ‘ভারতের একটি সংবিধান ও একটি পতাকা আছে। এটা ভালো কথা। আমরাও একটি পতাকা চাই, একটি সংবিধান চাই।’ নাগা নেতা মুইভা ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, যত আলোচনা হোক পৃথক স্টেটের দাবি আমরা কখনো ত্যাগ করব না।’ তাই নাগাদের আন্দোলন কখন কোন দিকে মোড় নেয় বলা কঠিন।

সরকার পক্ষের এক ইন্টেলিজেন্স অফিসার আর এন রবি, যিনি দুই দশক ধরে নাগাদের বিষয়ে কাজ করছেন, জানিয়ে দিয়েছেন, এমন দাবি পূরণ করা সম্ভব নয়। অতীতে প্রধানমন্ত্রী জওয়াহেরলাল নেহরুকেও যখন নাগারা এই প্রস্তাব দিয়েছিল তিনিও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। রবি আরো জানান, ভারত সরকারের অভিপ্রায় কেমন তা জানার পরও নাগারা পৃথক পতাকার দাবি তুলছেন যা অযৌক্তিক। ৩১ অক্টোবর ২০১৯ সালের মধ্যে মোদি সরকার নাগাদের সাথে চুক্তি করতে চায়, তবে নাগারা চুক্তির দিকে অগ্রসর হতে চায় না। সরকার নাগাদের অন্যান্য দল-উপদলকে সংগঠিত করে নাগা রাজনৈতিক ফ্রন্ট গড়ার আয়োজন করছে। বিদ্রোহীরা শান্ত না হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু হতে পারে। অবশ্য এসব পদক্ষেপে সাধারণ নাগারা অসন্তুষ্ট, সরকারি উদ্যোগের প্রতি সন্দিহান। এখনো উভয় পক্ষ কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করে গণমাধ্যমে প্রকাশ করেনি, সেটি ৫ আগস্ট ২০১৫ সালের হোক বা ১৭ নভেম্বর ২০১৭ সালের হোক। তাই নাগারা জানে না আসলে ওইসব চুক্তিতে উভয় পক্ষ কী বলেছে বা কী লিখেছে। নেতাদের পেছনে ঘুরে ঘুরে যতটুকু শোনা যায়, তা দিয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে ওঠা সম্ভব নয়। এশিয়া টাইমসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে সাধারণ নাগারা এই অভিমত প্রকাশ করেছেন। রবি মনে করেন, নাগারা আবার জঙ্গলে ফিরে গিয়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানো এত সোজা নয়।

নাগাদের কারণে সরকারি কার্যক্রম ব্যর্থ হলে মোদি সরকার আরো একটি বড় ঝামেলায় পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ১৯৯৮ সালের পর ঝিমিয়ে পড়া সশস্ত্র সঙ্ঘাত আবারো যেকোনো সময় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তেমন হলে ভারতকে একই সাথে কাশ্মির ও ‘নাগালিম’-এর বিদ্রোহ মোকাবেলা করতে হবে। আর এই দুটিতেই চীন প্রত্যক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে বলে মনে করা হয়। ভুটান, সিকিম, কাশ্মির, অরুণাচল প্রদেশে চীন ব্যূহ রচনা করার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। মোদি সরকার চাচ্ছে নাগাল্যান্ড যেন কোনোভাবে আবার ‘ব্যাটেলগ্রাউন্ডে’ পরিণত না হয়।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব, বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ