১৫ নভেম্বর ২০১৯

তিউনিসিয়ার নির্বাচন ও আননাহদার কৌশল

-

তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো ১৫ সেপ্টেম্বরে। ২০১১ সালে আরব বসন্তের পর এবার দেশটির দ্বিতীয় অবাধ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অন্যতম প্রার্থী ইউসুফ শাহেদের পরাজয় উল্লেখযোগ্য। অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির ফলে ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তায় মারাত্মক ধস নেমে ছিল। ২৩ অক্টোবরের আগে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হওয়ার কথা। পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছে ৬ অক্টোবর।

আরব বসন্তের পর তিউনিসিয়া এ অঞ্চলের একমাত্র দেশ যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরকার গঠন করতে পেরেছে, কোনো ‘মৌলবাদী উত্থান’ও হয়নি এবং দেশের মানুষের বিরুদ্ধে বা বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধও করতে হয়নি। তিউনিসিয়ার আরো অনেক বিশেষত্ব রয়েছে, যেমন সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে এবং কোনোভাবেই রাজনীতির সাথে জড়িত হয়নি। ট্রেড ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীনতা ভোগ করছে। অতীতের দীর্ঘকালীন কঠোর শাসক হাবিব বারগুইবা শক্তভাবে সিভিল গভর্মেন্টের ভিত গড়েছিলেন। জেনারেল জয়নাল আবেদিন বেন আলি সেনাবাহিনীর ইন্টেলিজেন্স বস বারগুইবাকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন। তবে বেন আলির স্বজনপ্রীতি, সম্পদ আত্মসাৎ ছাড়াও রাজনৈতিক দলের শক্তি খর্ব করে ছিলেন। শেষাবধি ২০১০ ও ২০১১ সালে জনরোষ জনপথ কাঁপিয়ে তোলে, তরুণ হকার বুআজিজির আত্মত্যাগের ফলে আরব বসন্তের সূত্রপাত। সেনাবাহিনী জনরোষ দমনের জন্য শক্তিপ্রয়োগে অসম্মতি জানালে স্বৈরশাসক বেন আলি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।
এবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে মহিলাসহ ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। কিছু সমস্যা থাকলেও তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্রের ও বহুদলীয় রাজনীতির উজ্জ্বল সূর্যালোক এখন বিম্বিত হচ্ছে। নির্বাচনে কারচুপির ব্যাপারে কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি।

জনগণ নির্বাচনে যে বিষয়গুলোকে প্রধান ইস্যু হিসেবে দেখেছে সেগুলো হলো : ১. অর্থনৈতিক দুরবস্থা: বেকারত্ব দূর করা। তিউনিসিয়ায় এখন ১৫ শতাংশ বেকার। বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা ছাত্রদের এক-তৃতীয়াংশের কোনো চাকরির সংস্থান নেই। ২. নিরাপত্তা: নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত। নির্বাচনের আগে কয়েকটি বোমাহামলা হয়েছে। আইএস ও আলকায়দা আরো হামলার ঘোষণা দিয়েছে। ৩. সরকারি নিষ্ক্রিয়তা : উন্নয়নের সূচক সামান্য বাড়লেও সরকার জনগণের জন্য তেমন কিছু করেনি।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন কায়েস সাঈদ যিনি আইনবিশেষজ্ঞ। তিনি সাবেক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠনকৃত সম্পদ ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। অপরজন হলেন সেকুলার নাবিল কারোই; তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং নেসমা টিভি চ্যানেলের মালিক। তার বিরুদ্ধে টাকা পাচারের অভিযোগ আছে। আননাহদা দলটি বলেছে, চূড়ান্ত ভোটপর্বে তারা প্রফেসর কায়েস সাঈদকে সমর্থন দেবেন। জনগণ যাকে পছন্দ করেছে তারাও তাকে সমর্থন দেবেন।

তিউনিসিয়ায় নির্বাচনকে স্বচ্ছ রাখার জন্য কিছু ব্যতিক্রমী নিয়ম চালু করা হয়েছে। যেমন নির্বাচনের আগে কোনো মতামত প্রকাশ করা যাবে না। কোনো ধরনের বেসরকারি জরিপ পরিচালনা করে প্রকাশ করা যাবে না; বিশেষ করে প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত। এমনকি প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতার বিষয়টি নির্বাচনের পাঁচ সপ্তাহের বেশি আগে প্রকাশ করতে পারবে না। কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর জন্য ভোটের আগে তিন সপ্তাহের কিছু কম সময় দেয়া হয়। এই কঠিন নিয়মনীতির মাঝে তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলো। তবে শক্তিশালী দল, আননাহদা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সুবিধা করতে পারেনি।

এই ৭৬ বছর বয়সী রাশিদ ঘানুশি দল পরিচালনা করেছেন। ইসলামী ভাবমূর্তির পরিবর্তে আননাহদার সদস্যরা এখন ‘মুসলিম ডেমোক্র্যাট’ হিসেবে পরিচিত হচ্ছেন। দলটি মডারেট ইসলামী দলে পরিণত হয়েছে। ২০১৬ সালে আননাহদা ধর্ম প্রচার পরিত্যাগ করে রাজনীতিকে গুরুত্ব দেয়া শুরু করে। ফলে পার্টির মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। দলটি বড় ধরনের বিরোধিতা বা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, বিশেষ করে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনে ইসলামের ভূমিকাকে নিষ্ক্রিয়করণ নিয়ে।

আদর্শবাদী চিন্তাধারার পুনঃপর্যালোচনা এবং ধর্মকে না জড়িয়ে দলের কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে দলে বিভেদ সৃষ্টি হয়। আননাহদা নেতৃত্ব চেয়েছে দলকে পুরোপুরি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে সাজাতে। ২০১৬ সাল থেকে দলে এই রকমের বড় একটি পরিবর্তন অনেককে ভাবিয়ে তোলে। ২০১১ সালের নির্বাচনে ভালো ফলাফলের কারণ দলের চিন্তাশীল ব্যক্তিরা বিশ্লেষণ করে কারণ খোঁজার চেষ্টা করছেন। তিউনিসিয়ার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য যে বিষয়গুলো জরুরি, সেগুলোর ওপর কাজ করতে এবং তাবলিগি কাজ স্থগিত রাখতে অনেক সিনিয়র সদস্য পরামর্শ দিয়েছেন। তারা চেয়েছেন আননাহদা যেন সকল গণমানুষের দল হিসেবে আস্তে আস্তে পরিচিত হয়।

বলা হচ্ছে, আননাহদা আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের উপকরণগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দুর্নীতি দমনের উপায়-উপকরণগুলো সঠিক সময়ে জনমানুষের দরজায় কড়া নাড়াতে পারেনি। ২০১৮ সালে যদিও আননাহদা প্রতিনিধি ও সদস্যদের আরো সক্রিয়করার জন্য চেষ্টা করেছে তাতে বয়োবৃদ্ধ ও নবাগত কেরিয়ারিস্টদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। আননাহদাকে সামনের দিকে চালানোর যোগ্য নেতৃত্বের অভাব হয়েছে কি না, তা এই মুহূর্তে বিশ্লেষণ করা কঠিন; তবে এবার নতুন সদস্য ও ভোটারদের দলে টানার বড় সুযোগ কিছু ভুলের জন্য হাতছাড়া হয়েছে।

‘রাজনীতিতে পরিপক্বতা অর্জন ও বিশেষজ্ঞ হওয়া জরুরি’ মর্মে ২০১৬ সালে দলের দশম সাধারণ কংগ্রেস অনুমোদন দিয়েছে। রাশিদ ঘানুশি এ দলের প্রেসিডেন্ট ও দীর্ঘ দিন ধরে নেতা, যিনি দীর্ঘ দিন আন্ডারগ্রাউন্ডে কাজ করে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন; তিনি বলেন যে, এটা এমন নয় পলিটিক্যাল ইসলাম দিয়ে মুসলিম ডেমোক্র্যাসিতে প্রবিষ্ট হবে বরং দলকে পরিপুর্ণভাবে গণতান্ত্রিক করা ও দেশে গণতন্ত্র আনাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য।

তিনি জোরালোভাবে বলেন, আমরা নতুন এক আননাহদা চাই, ধর্মকে টানাটানি না করে আমাদের রাজনৈতিক আন্দোলনকে নতুন রূপ দিতে চাই। বিপ্লবের আগে আমরা মসজিদে মসজিদে, ট্রেড ইউনিয়নে, সাহায্য সংস্থার কার্যালয়ে লুকিয়ে থাকতাম; কেননা সত্যিকারের রাজনৈতিক কার্যক্রম তখন ছিল নিষিদ্ধ। এখন আমরাও একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছি।

তাকাসসুস বা বিশেষজ্ঞতা হলো, রাজনীতিকে দাওয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে পৃথক করা। নির্বাচনকে উদ্দেশ্য করে কর্মপন্থা গ্রহণ এবং ঐতিহাসিকভাবে যে মিশন নিয়ে আন নাহদা’র যাত্রা শুরু, তা বন্ধ রাখা। মূলত ইসলামী ব্রাদারহুড আননাহদার এই আন্দোলন শুরু করেছিল, উদ্দেশ্য ছিল, দাওয়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজকে ইসলামীকরণ করা। আননাহদার জন্ম ইসলামী শিকড় থেকে; অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তারা এখন কনজারভেটিভ-রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রকাশ লাভ করেছেন। অনেক সেকুলার দলের সাথে রাজনৈতিক কৌশলগত দরকষাকষি ও সমঝোতায় নতুনভাবে আবির্ভূত হতে পারছে। অনেকে মনে করছেন, রাজনীতিতে এই বিশেষজ্ঞতা অর্জনের প্রচেষ্টা রাজনীতি ও ধর্মের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে ফেলেছে। নেতারা মনে করেন তিউনিসিয়ার জটিল অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিবেশ দলকে এই পথে নিয়ে গেছে। বেশির ভাগ প্রতিনিধি কংগ্রেসে এই সিদ্ধান্ত দিলেও বিষয়টি বড় এক সমস্যা। তবে পুরোপুরি পৃথকীকরণ এখনো দেখা যাচ্ছে না বা শেষ হয়নি।

প্রেসিডেন্ট হাবিব বারগুইবা এবং জয়নাল আবেদিন বেন আলির কর্তৃত্ববাদী একনায়ক শাসনের সময় দশকের পর দশক নেতারা আন্ডারগ্রাউন্ডে কাজ করার পর ২০১১ সাল আননাহদা বৈধতা পায় এবং অবৈধ শক্তি থেকে আইনসিদ্ধ দলে পরিণত হয়। তিউনিসিয়া ১৯৫৬ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ছিল এবং হাবিব বারগুইবা দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট হলে তিনি আধুনিকায়নের প্রচেষ্টা চালান। এর আওতায় ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দেয়া হয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে টেনে নিচে নামিয়ে আনা হয়। এই কাজে প্রেসিডেন্ট মসজিদের ফান্ড, আয়ের উৎস, কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র, হেফজখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং- সব বাজেয়াপ্ত করেন। রাজধানীর সবচেয়ে বড় ও পুরাতন মসজিদ, আল জায়তুনার ধর্মীয় শিক্ষার পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন এনে পশ্চিমা ও ফরাসি সংস্কৃতি অনুপ্রবিষ্ট করানো হয়। একের বেশি বিবাহ নিষিদ্ধ করা হলো। ১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্টের ডিক্রির মাধ্যমে ‘মহিলাদের অধিকার’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। মহিলাদের অবাধ স্বাধীনতার ফলে ইসলামী ড্রেসকোড ভেঙে যায় এবং বেশির ভাগ তরুণী হাঁটুর ওপর মিনি স্কার্ট ও হাফ প্যান্ট পরিধান করে চলাফেরা শুরু করে। হিজাবি মহিলারা যেন রাতারাতি মিলিয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বার প্রতিষ্ঠা করে এবং হোটেল ও বার ফ্রান্সের পানীয়ে ছেয়ে যায়।

আল জামা আল ইসলামিয়া সংগঠন ইসলামী পরিচিতি ও ধর্মীয় কাজের ধারা ১৯৬০ সালে তিউনিসিয়ার আবারো তুলে ধরার চেষ্টা করে। তাবলিগ জামাতও পরিশ্রম করেছে। সমাজের পুরনো ধাঁচের চিন্তাধারা এবং বারগুইবার অতি আধুনিকীকরণকে বর্জন করে। সেক্যুলার সমাজ সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের পথচলা অব্যাহত থাকে।

এদিকে তিউনিসিয়ার পৌর নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিল আননাহদা পার্টি। তারা ২৭.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। দ্বিতীয় স্থানে নিদ্দা তিউনিস পার্টি, পেয়েছে ২২.৫ শতাংশ ভোট। গণতন্ত্রের যাত্রাপথে স্থানীয় এই নির্বাচন একটি মাইলফলক। স্থানীয় নির্বাচনে সুবিধা করা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আননাহদা বিজয়ী হতে পারেনি। রাজনীতিবিদরা এর কারণ খুঁজছেন। অনেকে মনে করেন।

১. গোপন শাখার তৎপরতা : তবে আননাহদার নেতা আলি লারায়েদ বামপন্থী দলগুলোর অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, তাদের দলের কোনো গোপন শাখা নেই। তিনি বলেন, আননাহদার বদনাম এবং একে বিতর্কিত করতেই বামপন্থী দলগুলো ও পপুলার ফ্রন্ট এমন ঘৃণ্য অভিযোগ করেছে। সম্প্রতি পপুলার ফ্রন্ট এক অভিযোগে বলেছে, আননাহদা একটি গোপন সংগঠন তৈরি করছে, যারা দেশে খুনখারাবি করছে।

২. পপুলার ফ্রন্টের বিদ্বেষ: আসলে পপুলার ফ্রন্ট বিগত নির্বাচনে নিজেদের ব্যর্থতা এবং তিউনিসিয়ার জনগণের জন্য কিছু করার ব্যাপারে তাদের অদক্ষতা ঢাকতে শহীদদের রক্তকে ব্যবহার করতে চাচ্ছে।

৩. বিচার বিভাগের সাথে আঁতাত: বিচার বিভাগকে আননাহদা নিয়ন্ত্রণ করছে- পপুলার ফ্রন্টের এমন অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, তিউনিসিয়ার বিচার বিভাগ পুরোপুরি স্বাধীন; মামলার ফলাফলে এটি প্রমাণিত। এ সময় ১৪ জানুয়ারির বিপ্লবের আগে রাজনৈতিকভাবে পুলিশের সাথে কাজ করা পপুলার ফ্রন্টের বেশ কয়েকজন নেতার নাম প্রকাশ করে বলা হয়েছে, তারা রাজনৈতিকভাবে আননাহদাকে মোকাবেলা করতে অক্ষম।

৪. শিক্ষা কার্যক্রম ও সেকুলারিজম: পশ্চিমা কারিকুলাম এবং মহিলাদের অধিকারের বিষয় বিদ্যালয়ের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করালে আননাহদা কোনো সহায়তা করবে নাÑ এমন একটি ভাব সমাজে রয়ে গেছে। বেশির ভাগ মানুষ সেকুলার ধরনের হওয়ায় তারা আননাহদাকে সমর্থন দিতে চায় না।
৫. ড্রেস কোড: মহিলাদের ড্রেস কোড প্রসঙ্গে আননাহদা অনড়। মহিলারা হিজাব ব্যবহার না করে রাস্তাঘাটে বের হবে- আননাহদা এটি অনুমোদন করবে না। তিউনিসিয়ার আধুনিক মহিলারা স্কার্ট, এমনকি হাঁটুর ওপর মিনি স্কার্ট পরিধান করতে অভ্যস্ত। তারা মনে করে আননাহদা ক্ষমতায় গেলে তাদের এ ধরনের আচরণ শৃঙ্খলিত হয়ে পড়বে এবং ব্যক্তি স্বাধীনতায় আঘাত আসবে। তাই আননাহদাকে এড়িয়ে চলার জন্য সকল সেকুলারপন্থী একজোট।

অবশ্য, সম্প্রতি সমাপ্ত তিউনিসিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে আননাহদা পার্টি শীর্ষে অবস্থান করছে। আননাহদা পেয়েছে ১৭.৫ শতাংশ ভোট ও ৫২ আসন এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মিডিয়া মুঘল নাবিল কারোইয়ের দল কলব তিউনিস পেয়েছে ১৫.৬ শতাংশ ভোট ও ৩৮ আসন।

আননাহদা এবার প্রথম হলেও ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের চাইতে ১৭টি আসন কম পেয়ে ২১৭ আসনের মধ্যে ৫২ আসন পেয়েছে। ২০১১ থেকে বিভিন্ন কোয়ালিশন সরকারে আননাহদা ছিল এবং সংসদে ইসলাম বিরোধী উত্তরাধিকারী আইন যেমন নারী পুরুষে সম্পদের সমান ভাগবাটোয়ারার মতো বিল পাস হয়েছে।
আননাহদাকে বেকার সমস্যার মতো জটিল বিষয়ের সমাধানমূলক কাজ করতে হবে। এখন বেকারত্ব ১৫ শতাংশ। সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে দুই মাস পর আবার নির্বাচন হবে আবার।

গত ৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করে। আননাহদা বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। তাই আগের মতো কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে হবে।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ