১৭ নভেম্বর ২০১৯

নোবেল শান্তি পুরস্কার

আবি আহমেদ
আবি আহমেদ - ছবি : সংগ্রহ

পরিবেশ আন্দোলনের বালিকা গ্রেটা থুনবার্গ নোবেল শান্তি পুরস্কার পাননি। কারণ, নরওয়ের অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সশস্ত্র সঙ্ঘাতের যোগসূত্র এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি। ইনস্টিটিউটের প্রধান, অন্তত এ জন্য গ্রেটা শান্তি পুরস্কার না পেয়ে থাকতে পারেন বলে সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন। অনেকে মনে করছেন ট্রাম্পকে চোখ রাঙানোর কারণে নোবেলপ্রাপ্তি ঘটেনি থুনবার্গের। নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এ পুরস্কারপ্রাপ্তির সাথে আমেরিকার প্রভাবের একটি সম্পর্ক রয়েছে। যদিও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্তির দাবি করে চলেছেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে এখনো এজন্য বাছাই তালিকায় নেয়নি। তিনি একজন ব্যক্তি যিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে পারেন, এমনটা এখনো কেউ ভাবছেন বলে মনে হয় না।

এই বছর যিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন তিনি এর মধ্যে শান্তির জন্য দারুণ কিছু নজির স্থাপন করেছেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তার শান্তি প্রচেষ্টাকে নমুনা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কিংবা তৃতীয় ও দরিদ্র বিশ্বের হানাহানিমূলক গণতন্ত্র চর্চাকারীরা তাকে রোলমডেল হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার গরিব দেশ ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দেড় বছরের মাথায় তিনি বহুল কাক্সিক্ষত পুরস্কারটি পান। ঠিক যখন দেশে দেশে দক্ষিণপন্থী কট্টর নেতাদের উত্থান ঘটছে, তখন এ ধরনের ব্যক্তির নোবেল পাওয়া আশাপ্রদ ঘটনা। মানবতা মনুষত্ব জাতপাত বর্ণবাদের কাছে এখন মার খাচ্ছে পৃথিবীর সাধারণ মানুষ। ঠিক তখন আবি আহমেদ বিপরীত দিকে ছুটছেন।

আবি আহমেদের কিছু উদার সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক বিশ্বের দৃষ্টি কেড়েছে। আফ্রিকার মিশ্রিত বর্ণের আবি আহমেদবিরোধী শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মুক্তি দিয়ে তাদের নির্বিগ্নে বাসাবাড়িতে থাকতে দিয়েছেন। দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিরোধীদের এভাবে শান্তিতে বসবাস করতে দেয়ার রেকর্ড নেই। এমনকি দারিদ্র্যপীড়িত আশপাশের দেশগুলোতেও বহুদিন এমন নজির নেই। আবি আহমেদ রাজনৈতিক বিরোধীদের দেশে ফিরতে দিয়েছেন। জরুরি অবস্থা তুলে দিয়েছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের ওপর আরোপিত নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বন্ধ থাকা টেলিভিশন ও ওয়েবসাইট খুলে দিয়েছেন। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী কারার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে বৈধতা দিয়েছেন। প্রতিবেশীদের সাথে দারুণ উদার সম্পর্কের সূচনা করেছেন। নিজ দেশের মানুষের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের জন্যও উদারতা প্রদর্শন করেছেন। ছেড়ে দিয়েছেন নিজ দেশের ভূমি প্রতিবেশী দেশের জন্য। সম্পর্ক যদি বন্ধুত্বপূর্ণ করা যায় সেই আশায়। তাহলে অনেক সমস্যাই সমাধান করে ফেলা যায়। প্রতিবেশী দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও তিনি ভূমিকা রাখছেন। এর ফলে নিজ দেশে দুঃসময় কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি এক উদার সহনশীল পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটতে যাচ্ছে অত্র অঞ্চলে।

নোবেল কমিটি বলেছে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জনে, বিশেষ করে ইরিত্রিয়ার সাথে সীমান্ত সঙ্ঘাত নিরসনে নিষ্পত্তিমূলক উদ্যোগের জন্য তাকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ৪২ বছর বয়সে আবি আহমেদ দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি দেশটির সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হন। সাইবার নিরাপত্তার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন দেশটির ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক ও সিকিউরিটি এজেন্সি। শান্তি নিয়ে এর আগেও তিনি কাজ করেছেন। কাজ করেছেন রুয়ান্ডার জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা মিশনে। ইথিওপিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে ডক্টরেট নিয়েছেন। লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনিচ থেকেও তার উচ্চতর ডিগ্রি রয়েছে। দরিদ্র আফ্রিকায় এমন তরুণ উদ্যমী সদাচারি প্রেসিডেন্ট বহুল প্রতীক্ষিত। তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্তটি নোবেল কমিটি বিজ্ঞতার সাথে নিতে পেরেছে।

আলফ্রেড বারনার্ড নোবেল বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন মানুষ। তিনি একাধারে ব্যবসায়ী রসায়নবিদ, প্রকৌশলী, আবিষ্কারক এবং দানবীর। ডিনামাইট আবিষ্কার তার নামযশের পাশাপাশি তাকে প্রভূত অর্থবিত্তের মালিক বানিয়ে দেয়। মানব ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান যারা রাখবেন তাদের জন্য পুরস্কারের উইল করে যান তিনি। প্রথমে পাঁচটি বিষয়ে নোবেল পুরস্কার দেয়া হতো। পরে অর্থনীতিতেও নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। সুইডেন ও নরওয়ে মিলে পুরস্কার আয়োজন করে। নোবেলের উইল অনুযায়ী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রার্থী বাছাই করেন নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। নরওয়ের পার্লামেন্ট এ জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়।

নোবেল পুরস্কার নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে বলে বিতর্ক রয়েছে। একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাস ঘাঁটলে এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। এ ব্যাপারটি এ জন্য আলোচনার বিষয়বস্তু যে, নোবেন পুরস্কারপ্রাপ্তি একজন মানুষকে জনসমাজে অনেক উচ্চতায় উঠিয়ে দেয়। অনেক সময় এই অতিরিক্ত উচ্চতা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার হয়। বিশেষ করে নোবেল শান্তি পুরস্কার এমন উদ্দেশ্যে বেশি ব্যবহার হওয়ার নজির দেখা যাচ্ছে। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এবং আমেরিকার সাথে এর সম্পর্ক পাওয়া যায়। বিশেষত আমেরিকার শত্রুদের ঘায়েল করতে এ পুরস্কারটি ব্যবহার হচ্ছে কি না, সেই সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

২০১০ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয় লিউ জিয়াবোকে। তিনি এমন একজন চীনা নাগরিক যিনি চীনা শাসনব্যবস্থার কট্টর সমালোচক এবং আমেরিকার ঘনিষ্ঠ। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির বক্তব্য হচ্ছে, মৌলিক মানবাধিকার অর্জনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংগ্রাম চালানোর জন্য তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়। পুরস্কার দেয়ার সময় তিনি চীনের কারাগারে বন্দী ছিলেন। এ পুরস্কার গ্রহণের জন্য চীন তার পরিবারের কাউকে নরওয়ে যেতে অনুমতি দেয়নি। এ ব্যাপারে চীনের পক্ষ থেকে যেসব প্রশ্ন তোলা হয় সেগুলো খণ্ডন করার কোনো যুক্তি নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির কাছে ছিল না। বৈশ্বিক ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি, নিরস্ত্রীকরণ এবং শান্তি সম্মেলনের মতো কোনো কাজে জিয়াবোর কোনো ভূমিকা নেই। তারা আরো অভিযোগ করে জিয়াবোও ‘ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্র্যাসি’ থেকে অর্থসহায়তা পেয়ে থাকেন। এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক আদর্শ বিকাশে কার্যক্রম পরিচালিত করে থাকে। শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

জিয়াবো নিজে অখ্যাত একজন ব্যক্তি। শান্তির মহান উদ্দেশ্যে আলফ্রেড নোবেল যে পুরস্কার দিতে চেয়েছেন তার সাথে জিয়াবোর কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। চীনা সংবাদমাধ্যম এর বিপক্ষে জোরালো সমলোচনা করে। এ সমালোচনায় যোগ দেন বৈশ্বিক পর্যায়ের বুদ্ধিজীবীরাও। আরো বিস্তারিত জানা যায় জিয়াবো ভিয়েতনাম, কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকে আমেরিকার যুদ্ধের পক্ষে সমর্থন করে আসছিলেন। অন্য দিকে জিয়াবোকে দেয়া পুরস্কারের প্রতিক্রিয়ায় চীন নিজেরা একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারের সূচনা করে। কনফুসিয়াস পিস প্রাইজ নামে এর প্রচলন করা হয়। শেষ পর্যন্ত নরওয়ে সরকারের পরিবর্তন হলে চীনের সাথে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। কারণ, নবগঠিত সরকার জিয়াবোকে দেয়া নোবেল পুরস্কারের সমালোচনা করে তাদের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন করে।
নোবেল শান্তি পুরস্কারকে চীনা শাসকদের বিরুদ্ধে আরো আগেই ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালে তিয়ানমেন স্কয়ারে নৃশংস হত্যা চালানোর বিপরীতে নোবেল শান্তি কমিটি এই পুরস্কার দিয়ে বসে দালাইলামাকে। চীনারা তিব্বতের এই ধর্মীয় আধ্যাত্মিক নেতাকে নিজেদের জন্য হুমকি বলে মনে করে।

নরওয়ের নোবেল বাছাই কমিটি পুরস্কারটিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির রূপায়ণে ব্যবহার করে কি না এ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ২০০৯ সালে শান্তি পুরস্কার দেয়া হয় সবেমাত্র দায়িত্ব নেয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে। তিনি নিজেও এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়ে বিস্মিত হন। নিজেকে এ জন্য সে সময় তিনি যোগ্য মনে করেননি। মাত্র ১২ দিন অফিস করার পর ওবামা এ পুরস্কারের জন্য বাছাই তালিকায় মনোনীত হন। তাকে পুরস্কার দেয়া হয় বৈশ্বিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারকরণে অসাধারণ প্রচেষ্টা ও মানুষের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার জন্য।

ওবামার প্রচেষ্টা সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। কর্মপ্রচেষ্টা নেয়ার আগেই তিনি যেজন্য পুরস্কৃত হলেন সেটা তিনি পরে করে দেখিয়েছেন। প্রথমেই তিনি রাশিয়ান ফেডারেশনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির প্রচেষ্টা নেন। প্রথমে সামরিক বাহিনীর আকার কমানোর উৎসাহ জাগাতে চেষ্টা নেন তিনি। পরে সে প্রচেষ্টা নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির দিকে মোড় নেয়। রাশিয়া আমেরিকার মধ্যে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা হ্রাস করার ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ব শান্তিপ্রক্রিয়া এক নতুন যুগের সূচনা হয়। তবে ওবামার অনুসৃত নীতি এখন পরিত্যক্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন নতুন অস্ত্র তৈরির অগ্রিম ঘোষণা দিয়েছেন।

রাশিয়া নিজেও নতুন নতুন অস্ত্র বানানোর কথা ভাবছে। নিরস্ত্রীকরণ এখন বিপরীত মোড় নিয়ে পুরো বিশ্ব আবার নতুন করে সামরিকায়িত হচ্ছে। অনেক দেশের নতুন সামরিক অভিলাষ প্রকাশিত হচ্ছে। পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতাও আবার বেগবান হয়েছে। শাসনের শুরুতে শান্তি পুরস্কার পেয়ে ওবামা নিজেই প্রণোদিত হতে পারেন। আগ্রহী হয়ে বিশ্বশান্তির জন্য তিনি কাজ করে থাকতে পারেন। তবে নোবেল কমিটির আমেরিকা প্রীতি অনেকবারই দেখা গেছে।

ট্রাম্প নতুন এক রেকর্ড তৈরি করেছেন। আমেরিকান প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সম্ভবত তিনিই প্রথম যিনি সরাসরি নোবেল শান্তি পুরস্কার দাবি করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি যেসব কাজ করে ফেলেছেন সে জন্য তাকে নোবেল দেয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। বেশ কয়েকবার তিনি এ দাবি উত্থাপন করেছেন। জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে উদ্ধৃতি করে তিনি জানিয়েছেন, জাপানি প্রধানমন্ত্রী মনে করেন ট্রাম্পের নোবেল পাওয়া উচিত। সে জন্য আবে ৫ পাতার একটি সাফাই লিখেছেন ট্রাম্পের পক্ষে। ট্রাম্পের প্রচার করা এসব বক্তব্যের পক্ষে আবের আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

দাবিদার হওয়ার আগেই পুরস্কার পেয়েছিলেন ওবামা। এ নিয়ে সমালোচনা হলেও সেটা প্রশমিত হয়ে যায় ওবামার বিস্তৃত মানবতাবাদী কর্মকাণ্ডের ফলে। অন্য দিকে, নোবেল পুরস্কার পেয়ে অনেকে নিজের পুরস্কারের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। নোবেল কমিটি বৈশ্বিক শান্তির সহায়ক সঠিক মানুষটিকে বাচাই করতে পারছেন না। কারণ এদের অনেকে বরং শান্তির বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। এ ধরনের একটি চরিত্র মিয়ানমারের নেত্রী অং সাং সু কি। তিনি শান্তি পুরস্কার পান ১৯৯১ সালে। নোবেল কমিটির বিচারে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের জন্য দীর্ঘ নিরস্ত্র সংগ্রাম চালিয়েছেন সু কি। কয়েক দশক ধরে বার্মার সামরিকজান্তার নির্দেশে তিনি গৃহবন্দী ছিলেন।

সু কির গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের তাৎপর্য পরে ঠিক থাকেনি। তার অবস্থান প্রমাণ করেছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার শুধু সু কির নিজস্ব জাতিগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় বলে তিনি মনে করেন। যেন সেটা অন্যদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সু কি কয়েক দশক আপসহীন থেকেছেন বলে প্রচার চালানো হয়। এ ব্যাপারে তার মূল্যবোধ যদি অপরিবর্তিত থাকে তাহলে কিভাবে সেখানে তার চোখের সামনে তার নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে গণহত্যা চালিয়ে উৎখাত করে দিয়েছে? রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলা সেনাবাহিনীর পৈশাচিক অভিযান তার ক্ষমতার পুরো মেয়াদে চলছে। একবারের জন্য এতে তিনি বাধা দেননি। বরং তিনি এ অভিযানের পক্ষে নিয়মিত সাফাই গেয়ে চলছেন। নোবেল কমিটি কাদের নির্বাচিত করছে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যারা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা দূরের কথা নিজেদের ঘরের সদস্যদের ওপর বর্বরতা চাপিয়ে দিচ্ছে, তাদের কিভাবে নোবেল কমিটি শান্তির রোলমডেল হিসেবে বাছাই করতে পারে?

[email protected]


আরো সংবাদ