১২ নভেম্বর ২০১৯

যে বার্তা দিয়ে গেল

আবরার - ছবি : সংগ্রহ

দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের যে অবস্থা এখন বিরাজ করছে, এটা গভীর উদ্বেগের ও হতাশার ব্যাপার। সাধারণ মানুষ তো বটেই, সেই সাথে ক্ষমতাসীনদের নানা কথায় যারা গভীর আস্থা ও ভরসায় উদ্দীপ্ত ছিল, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তাদেরও ভ্রু কুঞ্চন লক্ষ করা যাচ্ছে। কী হচ্ছে, কী হবে- এই ভাবনায় এই মহলটিও উৎকণ্ঠিত। অর্থাৎ সব মানুষ এখন এক কাতারে শামিল হয়ে নিজের ও দেশের ভবিষ্যতের দিনগুলো নিয়ে চিন্তিত। এমন পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে কোনো প্রশাসনের জন্য সুখ বা স্বস্তির বিষয় হতে পারে না। যে প্রশাসন নির্বিঘ্নে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একটানা দেশ পরিচালনা করে আসছে, আজ তাদের দায়িত্ব পালনের পরিণতি এমনটি হবে তা কেউ আশা করে না। পরিস্থিতি এমন তলানিতে পৌঁছে গেছে যে, তাদের দ্বারা উত্তরণ ঘটানো দুঃসাধ্য ব্যাপার। তারা আবারো কেবল নিজস্ব বলয়ের মানুষকে তাদের প্রতি আস্থাবান করে তুলতে পারেন- এমন সামর্থ্য নিয়েও ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরাও এই মতে অধিকারী। তাদের এমন ধারণা করার কারণ নিছক রাজনৈতিক পছন্দ অপছন্দজনিত নয়। এই নিবন্ধের শুরুতে সাধারণের যে হাহুতাশের কথা বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষকেরা এই সমাজের অগ্রসর মানুষ হিসেবে তাদের বোধ বিবেচনা আরো কিছুটা প্রাগ্রসর ও তীক্ষ্ণ। সে কারণে তাদের অভিমত কিছুটা হলেও বেশি গুরুত্ব পাওয়াই স্বাভাবিক। আমরা সেই বিবেচনায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ক্ষেত্রে তাদের পর্যবেক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার পক্ষপাতী।

বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জনসাধারণের যে বোধ বিবেচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা যে পটভূমিতে সৃষ্ট সে বিষয়ে কথা হতে পারে। দীর্ঘ এক দশক ধরে বর্তমান ক্ষমতাসীনেরা দেশ পরিচালনা করছেন। এই ধারাবাহিকতা একটি প্রশাসনের জন্য প্রত্যাশিত, কাজ করার একটি অপূর্ব সুযোগ। কিন্তু এই ক্ষেত্রে লক্ষ্য হতে হবে রাষ্ট্র তথা জনগণের কল্যাণ। এই লক্ষ্যে অবিচল থাকলে যা হওয়ার কথা, সেটা কিন্তু হয়নি। সময় অতিক্রান্ত হয়েছে বটে কিন্তু দেশের মানুষের মৌলিক কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে এটা বাস্তব যে, এ সময়ে কিছু ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী বিশেষের বিপুল তরক্কি ঘটেছে। তারা ক্ষমতা প্রভাব প্রতিপত্তি ও অর্থবিত্তে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। আর এ তথ্য সবারই জানা যে, দেশের এই সেই ভাগ্যবানেরা সবাই বর্তমান ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ। ক্ষমতার এই বরপুত্রদের সাথে সাধারণের আয়বৈষম্য এখন ভূমি আর পাহাড়ের চূড়ার প্রভেদের মতো। এই চরম অসম অবস্থা সমাজে ব্যাপক হতাশ আর ক্ষোভ সৃষ্টি করে চলেছে। কোনো প্রশাসনের যদি সৎ উদ্দেশ্য থাকে এবং তারা যদি নীতিনিষ্ঠ হন, তবে তাদের কাজে পরিণতি এমন হতে পারে না। তাই বর্তমান প্রশাসনের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হতে হবে।

এত সব দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার পরিবর্তে ক্ষমতাসীনেরা জবরদস্তি এমন সব কাজ কারবার করে চলেছেন যাকে ‘কর্তৃত্ববাদিতা’ই বলতে হবে। এ ছাড়া ভিন্ন কোনো বিশেষণ প্রয়োগ করা যুৎসই হবে না। কর্তৃত্ববাদিতার একটি লক্ষণ হচ্ছে, নিজেদের মত পথের বাইরে কোনো ভিন্ন মতকে সহ্য করতে পারেন না। এই অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে এবার বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকাণ্ড। তার অপরাধ ছিল, সে স্বাধীন মত প্রকাশ করেছিল, যা ক্ষমতাসীনদের নীতি ও কার্যক্রম থেকে ভিন্ন। ফাহাদের প্রতি যে নির্মমতা দেখা দেখানো হয়েছে তাতে জনসাধারণের জন্য একটি বার্তা রয়েছে। আর সে বার্তাটা এত খোলামেলা এবং পরিষ্কার যে, তা উপলব্ধি করতে কোনো বাড়তি বিদ্যাবুদ্ধির প্রয়োজন পড়ে না। সেটা হচ্ছে, ‘নিঃশর্তে আমাদের মত ও পথের অনুসারী হতে হবে, তা না হলে আবরারের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

এমন আচরণকে ফ্যাসিবাদী বলা ছাড়া ভিন্ন আর কিছু বলার উপায় নেই। মত প্রকাশের এমন বাধায় বাংলাদেশের মানুষই কেবল উদ্বিগ্ন নয়, বিশ্বসমাজ স্তম্ভিত। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে, বাংলাদেশে জনস্বার্থে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ধরনের মত প্রকাশের সুযোগ সঙ্কুচিত হওয়ায় উদ্বিগ্ন জাতিসঙ্ঘ। মতপ্রকাশ ও সমাবেশ করার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না করার জন্য আন্তর্জাতিক ফোরাম থেকে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। জনসমক্ষে বা ব্যক্তিগতভাবে কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করা বা দায়িত্ব পালনের জন্য মানবাধিকার কর্মীদের দমনপীড়নের শিকার হওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া জাতিসঙ্ঘ, ব্রিটেন ও জার্মানির ঢাকাস্থ দূতাবাস আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। তারা বুয়েটের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন। দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য যে চরম পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে, তা শুধু সাধারণ আইনের পরিপন্থী নয়, সেটা দেশের সংবিধানে জাতিকে দেয়া অধিকারের বিপরীত।

বাংলাদেশের মানুষের এটা স্মরণ রাখা দরকার যে, এমন নির্মমতা সর্বশেষ হলেও একমাত্র নয়। আবরারের রক্ত ঝরেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠে। সেখানে জ্ঞান, মনুষ্যত্ব ও মমতার চর্চা হওয়ার কথা। এসব উত্তম আদর্শ ছাপিয়ে বর্বরতার যে নির্মম অনুশীলন প্রত্যক্ষ করা গেছে, তা কোন আদর্শের শিক্ষা? এটা কোনো সাধারণ প্রশ্ন নয়। আজ সমাজে যে মূল্যবোধের সঙ্কট, দলীয় চিন্তাবাবনার প্রতি যে অন্ধ আনুগত্য, এটা তারই বহিঅপ্রকাশ। নিশ্চয়ই এসব ঘটনার কিরূপ প্রভাব সমাজে পড়বে বিশেষ করে যদি না এসবের উপযুক্ত প্রতিবিধান ঘটে।

এদিকে, এখন সমাজের মুখ্য আলোচনার বিষয় হচ্ছে শাসক দলের ছাত্র ও যুব অঙ্গ সংগঠনগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি। এই দুই সংগঠনের মাথায় পচন ধরেছে। এসব সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারি ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। তাদের বহু কুর্কীতি জাতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরের শিরোনাম হয়ে প্রতিদিন প্রকাশ পাচ্ছে। এসব খলনায়কের গায়ে এতদিন টোকা দেয়াও সম্ভব ছিল না। এখন কী কারণে ক্ষমতাসীনেরা তা ধর্তব্যে নিয়েছেন, তা বোধগম্য নয়। নিশ্চয়ই এর পেছনে রয়েছে গূঢ় রহস্য। একসময় অবশ্যই তা সংবাদ শিরোনাম হয়ে আসবে। যাই হোক, আমরা সরকারি অঙ্গ সংগঠনের পচনের দুর্গন্ধ পেয়ে চলেছি। কিন্তু কথা হচ্ছে, একটি প্রবাদ আছে ‘বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়’। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বলতে চাই, ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠনের কুকীর্তি মূল সংগঠন থেকে ছাড়িয়ে গেছে- এটা সম্ভব নয়। তাই মনে করা হচ্ছে, যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে তাতে ডালপালা ছাঁটার সাথে সাথে এর মূল কাণ্ডটিও দেখা উচিত- সেখানে ঘুণ পোকার বিস্তার কতটা হয়েছে। কাণ্ডের ঘুণ পোকা অধরা থাকলে তাতে একটু হাওয়া বইলে মূল গাছটাই উৎপাটিত হয়ে পড়বে।

শীর্ষ স্থানীয় দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকা থেকে বাংলাদেশের নামটি যদি খারিজ করার আন্তরিক ইচ্ছা আমাদের প্রশাসনের থাকে, তাহলে শুদ্ধাচারের চলমান আন্দোলন নিয়ে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ নেই। তাছাড়া সত্যিকারভাবেই যদি দুর্নীতির রাশ টানতে হয় তবে ডানে, বাঁয়ে, উপরে, নিচে না তাকিয়ে সোজা চলাই শ্রেয়। দুর্নীতি নামক ব্যাধির নানা উপসর্গ রয়েছে। খোদ ক্ষমতাসীন সংগঠনের এবং এর শাখা প্রশাখায় যে সব উপসর্গ লক্ষ করা যাচ্ছে তাতে অন্যত্র নয়, নিজ উঠানেই অনুসন্ধান চালালে সব সংকটের অবসান হতে পারে।

দুর্নীতি বিস্তারের একটি বড় কারণ হচ্ছে, এই অনিয়ম রোধের জন্য যে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন রয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃতপক্ষে ততটা সক্রিয় নয়। তাদের হাঁকডাক রয়েছে বটে কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে সে সক্ষমতা তারা দেখাতে পারেননি। এ জন্য তাদের একতরফা দোষ দেয়া যায় না বলেও কথা রয়েছে। কারণ এখন যে দুর্নীতি, তা মূলত রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশ্রয়ে ঘটছে। এই দুইয়ের সংযোগ বিছিন্ন করতে না পারলে কোনো সংস্থার পক্ষেই প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে না। তাছাড়া এটা সবার উপলব্ধি করতে হবে যে, আমাদের সমাজে এখন যারা এসব অনিয়মের সাথে জড়িত, তারা ন্যায়নীতির প্রতিপক্ষ একটি শক্তি হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এদের সাথে রয়েছে ক্ষমতা ও অর্থবিত্ত। তাই দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে দ্বন্দ্বে নামতে হলে জনসমর্থন থাকতেই হবে। সেই সাথে, অন্যান্য সামাজিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততাও প্রয়োজন।

এরা আইন কানুনকে তার সরল পথে চলতে দেয় না। কেননা আইন সরল পথে চললে তাদের বুক বিদীর্ণ করবে। দেশে যেহেতু সুশাসন নেই, তাই দুরাচারের বিরুদ্ধে লড়তে হলে একই সাথে, এ দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিকে সোচ্চার করে তুলতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি শর্ত হচ্ছে, রাষ্ট্রাচারে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা। আর এই জবাবদিহিতা যে প্রতিষ্ঠান করবে, সেই আইন সভায় এখন দেশের জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধি নেই। সেই ফোরামের বেশির ভাগ সদস্য ধনিক শ্রেণীর প্রতিনিধি। তাদের মাধ্যমে প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাবে না। তাই আজ সামগ্রিক সংস্কারের কথাই ভাবতে হবে।

বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকারের একটি স্লোগান হচ্ছে, উন্নয়ন এবং উন্নয়ন। যদি এই নীতির ব্যাপারে আন্তরিকতা প্রমাণ করতে হয় তবে এটা উপলব্ধিতে থাকতে হবে- উন্নয়ন আর দুর্নীতি একসাথে চলতে পারে না। উন্নয়নের অর্থ, যে ঝুড়িতে রাখা হবে তার তলদেশ যদি না থাকে, তবে সব কিছু খোয়া যাবে। তাই উন্নয়নের তহবিল বরাদ্দের আগে দেখে নিতে হবে, এর ‘তলদেশ’ ঠিক আছে কিনা। এ কথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, আজকের সরকার বেশ কিছু উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তবে এসব প্রকল্পের এগিয়ে যাওয়ার গতি খুবই শ্লথ। এমন কালক্ষেপণের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। এটাও অর্থলোপাটের একটা কৌশল। শুধু প্রকল্প হাতে নেয়াই নয়, বিভিন্ন পর্যায়ে এর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা এবং এই পর্যবেক্ষণে শুধু অগ্রগতি নয়, সেই সাথে এর কাজে মান ও ব্যয়ের ফাঁকফোকরগুলো যাচাই বাছাই করে তার শুদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সমাজের যে দূষণ তা সবার জন্য সমভাবে দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। এ ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ বিপক্ষ নেই। সমাজ দূষিত হলে যারাই এ সমাজে বসবাস করে, তারা সবাই এর দ্বারা আক্রান্ত হয়। দূষণ কোনো দল মতের বাছবিচার করে না। যারাই এই বায়ু নিঃশ্বাস প্রশ্বাসে গ্রহণ করবেন, তাদের সবার প্রাণ হবে ওষ্ঠাগত। এই দূষণের কারণগুলো সবার কাছেই চিহ্নিত। তবে এর মাত্রা এতটাই মারাত্মক যে, কোনো একক উদ্যোগে সমাধান সম্ভব নয়। সেজন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজন। দূষণমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য এসব দল ন্যূনতম শর্তে ঐক্য গড়া উচিত। শুদ্ধাচারের আন্দোলন এখন তাই বড়ই প্রয়োজন।

কেননা রাজনৈতিক আশ্রয়ে সব ক্ষেত্রেই দুরবস্থা ছড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে দুশ্চিন্তার কারণ দুটি হচ্ছে ক্ষমতা বদলের যে প্রক্রিয়া তথা নির্বাচন সেখানেও গলদ ঢুকে পড়েছে। গত বছর ডিসেম্বরে যে সংসদ নির্বাচন হয়েছে, সেখানে সীমাহীন অনিয়ম হয়েছে। রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সবাই মিলে এই অনিয়ম ঘটিয়েছে। আর তার পরিণামে এখন গোটা দেশের মানুষ ভুগছে। তারা তাদের প্রায় সব রাজনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে বসেছে। অথচ এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশের জনগণ দীর্ঘ সময় আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে বাকস্বাধীনতা। কিন্তু সেটা কতটা রয়েছে তা বুয়েট ছাত্র আবরার তার জীবন দিয়ে জাতিকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে গেছে। এই বিষয়টি এখন সবার চেতনায় আঘাত করুক, তারা জেগে উঠুক এবং তাদের হারাতে বসা সব অর্জন যাতে শেষ হয়ে না যায় তার জন্য শপথ গ্রহণ করুক। মনে রাখতে হবে, আজকে যে দশায় এসে জাতি উপনীত হয়েছে, তাতে বিলম্ব করার কোনো অবকাশ নেই। তা না হলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আজকের প্রজন্মের জবাব দেয়ার কিছু থাকবে না। আমাদের পূর্বসূরিরা যে আমানত আমাদের হাতে সোপর্দ করে গেছেন, সেটা যেন কোনোভাবেই খেয়ানত না হয়, সেই প্রতিশ্রুতিসহ সবাইকে জাগতে হবে।

[email protected]

 


আরো সংবাদ