film izle
esans aroma Umraniye evden eve nakliyat gebze evden eve nakliyat Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছাত্ররাজনীতির অনিশ্চিত গন্তব্য

-

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতালোলুপ ছাত্ররাজনীতির বলি হয়ে অকালে নিভে গেল আরেকটি তাজা প্রাণ। তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ প্রতিপক্ষের কর্মীদের বেপরোয়া ও নৃশংস পিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন। ভিন্নমতের ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে তাকে মেরে ফেলা হলো চূড়ান্ত ফ্যাসিবাদী কায়দায়। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনুষ্যত্ব লোপ পেয়ে আদিম যুগের পাশবিক বর্বরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে র‌্যাগিং ও টর্চার সেল স্থাপন এবং ক্যাম্পাসে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ না থাকা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে গুরুতর প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। বুয়েটের ভিসি, প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটরদের ইচ্ছাকৃত নীরবতা দেশের মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি রুলস ব্যবহার করা হতো, এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। উপাচার্য তারই প্রতিষ্ঠানে বর্বরোচিত পন্থায় নিহত ছাত্রের লাশ দেখতে আসেননি, জানাজায় শরিক হননি; এমনকি আবরারের বাবাকে সান্ত্বনা দিতে তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার গরজটুকুও অনুভব করেননি। হতে পারে দলীয় আনুগত্যের কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। প্রধানমন্ত্রী তার এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘তিনি কেমন ভিসি?’ জিঘাংসার অপরাজনীতি আরো কতজনের প্রাণ কেড়ে নেয় কে জানে? এক বুক আশা নিয়ে মা-বাবা সন্তানদের বুয়েটের মতো মর্যাদাবান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করান। অথচ শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই প্রিয় সন্তানের লাশ কবরস্থ করতে হয়। এই অপার বেদনা প্রকাশের ভাষা নেই; এই দুঃখ রাখার জায়গা নেই।

শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকে দীক্ষা পান না; সেটা পান রাজনৈতিক উৎস থেকে। নির্মমতার সাথে সম্পৃক্ত যেসব বুয়েটশিক্ষার্থী পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন হয়তো তাদের বিচার হবে, হয়তো হবে না; যেমন অতীতে হয়নি। তাই আরো কিছু মেধাবী ছাত্র শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই অকালে ঝরে গেল। ধূলিসাৎ হয়ে গেল তাদের ও তাদের পরিবারের স্বপ্নসাধ। ক্রিমিনাল হিসেবে দুর্বৃত্তদের পরিচিতি ঘটবে। ঘাতক ও নিহত সবাই আমাদের সন্তান। এই অসুস্থ প্রবণতা অবশ্য পরিবর্তন ঘটাতে হবে। দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিপক্ষের হাতে বরাবর প্রাণ হারাচ্ছেন। যেসব দলীয় নেতা শিক্ষার্থীদের সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন, তারা এসব হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারেন না কিছুতেই। হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্য হতে হবে। যাতে হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যবস্থা নেয়া সর্বাধিক জরুরি। এগুলো উপসর্গ মাত্র, রোগের স্থায়ী চিকিৎসা জরুরি। এই রোগ কিন্তু ক্রণিক।

জাতীয় দৈনিক সূত্রে জানা যায়, বুয়েটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে নিয়মিত মারধর করা হয়। ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ নয়। আবরার ফাহাদকেও শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়েছে। বাস্তবে তার পরিবার বর্তমান সরকারসমর্থক। একই চক্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় ছাত্রসংগঠনের তৎপরতা ‘নিষিদ্ধ’ করেছে। ডাকসু এটা করতে পারে না, এটা পুরোপুরিভাবেই তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী রাজনীতির চর্চা চলতে না দেয়া, কেবল দুঃখজনক নয়, লজ্জাকরও বটে। নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাতা নবাব সলিমুল্লাহ প্রদত্ত জমির ওপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড়িয়ে আছে ১৯২১ সাল থেকে। মোট ৬০০ একর জমির মধ্যে নবাব সলিমুল্লাহর জমির পরিমাণ অনেক। তিনি ধর্মপরায়ণ মুসলিম ছিলেন। উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গ হাকিমুল উম্মত আল্লামা আশরাফ আলী থানভী রহ. তার দাওয়াতে একবার উত্তর ভারত থেকে ঢাকা এসে ছিলেন। এই অঞ্চলের অনগ্রসর মুসলমানদের উচ্চতর শিক্ষা দেয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পেছনে তৎকালীন মুসলিম নেতাদের অবদান অনস্বীকার্য। নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, ঢাকা মাদরাসার (বর্তমান কবি নজরুল সরকারি কলেজ) তত্ত্বাবধায়ক শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওয়াহেদ, নওয়াব সিরাজুল ইসলামসহ অনেকের অবদান বিরাট। বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করা অন্যায় ও অন্যায্য পদক্ষেপ। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত কোনো দলবিশেষের সমর্থিত কোনো ছাত্রসংগঠন কাজ করতে পারবে না- এমন সিদ্ধান্ত প্রচলিত আইন ও নির্বাচন কমিশনের বিধির সাথে সাংঘর্ষিক। দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির বৃত্ত ভাঙতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয় আর জ্ঞানগবেষণার কেন্দ্র থাকবে না।

ছাত্ররাজনীতি আমাদের জন্য আদৌ প্রয়োজনীয় কী না, এটা বিতর্কসাপেক্ষ। কেউ কেউ মনে করেন, জাতীয় নেতা তৈরির জন্য ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। উন্নত দেশগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে ওই চিন্তার অসারতা উপলব্ধি করা সম্ভব। পৃথিবীর বহু প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ ছাত্রজীবনে রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না। আমাদের দেশের বহু রাজনীতিবিদের ছাত্ররাজনীতির ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা কর্মসূচি, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এ দেশের ছাত্রসমাজের উজ্জ্বল অবদান রয়েছে। তবে সে আদর্শবাদী ছাত্ররাজনীতির আদর্শবোধ ও ঐতিহ্য অবশিষ্ট নেই। ছাত্রদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা অবশ্যই থাকবে; কিন্তু ছাত্ররাজনীতির কলুষতাময় আবর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ছাত্ররাজনীতি একসময় ছিল শ্রদ্ধা ও সম্মানের বিষয়, এখন তা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও তদবির বাণিজ্যের নিরাপদ আশ্রয়। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে এটা এখন অপ্রয়োজনীয়, নিন্দনীয় ও গর্হিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভির মতো মেধাবী ছাত্রদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে ক্রিমিনাল বানিয়েছেন দেশের রাজনীতিকরা। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষে মারা গেছেন ২৯ জন। আর এ সময়ে তাদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্য সংগঠনের ১৫ জন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামো নির্মাণের বাজেট থেকে ছাত্রনেতারা যে বিপুল চাঁদা নিয়েছেন তা টক অব দ্যা কান্ট্রি। কমবেশি সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একই নোংরা চিত্র।

সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ২০০৮ সালের ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে যে কথা বলেছিলেন তা যদি গভীর বিবেচনায় নিয়ে এ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা যেতো, তা হলে হয়তো ক্যাম্পাসে আর রক্ত ঝরত না। তিনি বলেন, ‘লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন আছে কি না তা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে অছাত্ররাই ছাত্ররাজনীতির নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। দেশের এই দুর্গতির জন্য লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি অনেকটা দায়ী। একজন ছাত্র যখন প্রতিমন্ত্রী হয়ে যায় তখন বুঝতে হবে, দেশের কোথাও না কোথাও বিপর্যয় হয়েছে। স্বাধীনতার আগে মেধাবীরা ছাত্ররাজনীতি করেছে। তাদের আন্দোলনের ফসল আমাদের স্বাধীনতা। কিন্তু বর্তমানে ছাত্ররাজনীতির সে ঐতিহ্য নেই।’

বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় স্বার্থে ও ক্ষমতার মোহে ছাত্রদের রাজনীতিতে ব্যবহার করে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। ফলে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ‘মিনি ক্যান্টনমেন্টে’ পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত; সেশনজট লেগেই আছে; যেকোনো মুহূর্তে আপন সন্তান লাশ হয়ে ঘরে ফেরার অজানা আশঙ্কায় অভিভাবকরা প্রহর গোনেন। কত মেধাবী ছাত্র অকালে ঝরে পড়েছে, তার হিসাব নেই। ছাত্ররাজনীতি আমাদের যা দিয়েছে, কেড়ে নিয়েছে তার শতগুণ। অভ্যন্তরীণ বিবাদের শিকার মেধাবী ছাত্র আবু বকরের লাশ পড়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০১০ সালে। মৃত্যুর পর তার পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে দেখা যায়, তিনি প্রথমশ্রেণী লাভ করেছেন। বেঁচে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অথবা সরকারি উচ্চপদস্থ অফিসার হতে পারতেন। অথচ এই মামলার ১০ আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছে। যদি খুনিদের সাজা হতো তাহলে হয়তো বুয়েটের আবরারের মৃত্যু হতো না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত ১০ বছরে আটজন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চারজন খুন হয়েছেন। আজ পর্যন্ত কোনো ঘটনার বিচার হয়নি এবং খুনির হয়নি সাজা। কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই ছাত্র রাজনীতির কারণে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৬৪ জন ছাত্র। ক্যাম্পাসে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য এখন পর্যন্ত কেউ শাস্তি পায়নি। ১৯৭৪ সালে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর সাত খুনের পর একটি মাত্র মামলার বিচার এবং রায় পাওয়া গেছে। কিন্তু পরে খুনিদের সেই শাস্তিও বাতিল হয়ে গেছে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। আইন অনুযায়ী মামলা এবং কিছু অভিযুক্তকে আটকও করা হয়। তবে মামলাগুলো বিচারের মুখ দেখে না।

কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কোনো না কোনো ছাত্র সংগঠনের দখলে। ভর্তিবাণিজ্য, সিট দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এখন লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতির বৈশিষ্ট্য। ছাত্রনেতারা একাডেমিক স্বার্থের পরিবর্তে জাতীয় রাজনৈতিক দলের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে অধিক মনোযোগী। ক্যাম্পাসে অস্ত্র হাতে ‘যুদ্ধ করার’ ছবি দেশ-বিদেশের মিডিয়ায় প্রকাশ পাচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একদলের সাথে আরেক দলের অথবা একই দলের দুই গ্রুপের মধ্যে যেভাবে সশস্ত্র সংঘর্ষ হয় এবং যেভাবে প্রকাশ্যে হকিস্টিক, দা, চাইনিজ কুড়াল, কাটা রাইফেল, চাপাতি নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলে পড়ে, সে দৃশ্য বাংলাদেশের ইমেজকে কালিমালিপ্ত করে। চিহ্নিত ক্রিমিনালদের লালন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ মনে করা হয়, প্রতিপক্ষের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অধিক সংখ্যায় ক্রিমিনালদের দলে রাখতেই হবে। নিরীহ ছাত্রদের ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত কোনো উন্নত দেশে নেই।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বহু দেশে সেশনজট নেই এবং নির্দিষ্ট সময়ে সেমিস্টার শেষ করা বাধ্যতামূলক। আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতারা তাদের ছেলেমেয়েদের বিদেশে পড়ান, যাতে ওরা নিরাপদে থাকতে পারে। হতদরিদ্র, প্রান্তিক কৃষক ও মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানরা দলীয় রাজনীতির বলি। কারণ তাদের পক্ষে বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা করা সম্ভব হয় না। একসময় বিশ্ববিদ্যালয় ছিল জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার নিরবচ্ছিন্ন কেন্দ্র। মেধাবীরা শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতেন এবং এই সুযোগ পেতেন। সে ঐতিহ্য এখন আর নেই। এখন সব ধরনের নিয়োগ হচ্ছে দলীয় বিবেচনায়। ডিন, ভিসি, প্রোভিসি, প্রভোস্ট নিয়োগে শিক্ষকদের ভোটের প্রভাব আছে। তাই শিক্ষক নিয়োগের চেয়ে ভোটার নিয়োগের প্রয়াস পায় প্রাধান্য। নিরপেক্ষ অথবা প্রতিপক্ষের সাথে সম্পৃক্ত ছাত্রছাত্রীকে ফার্স্টক্লাস না দিয়ে নিজের দলের শিক্ষার্থীকে ফার্স্টক্লাস দেয়ার নজির বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূরি ভূরি। এরাই দলীয় ছত্রছায়ায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। আর এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। সরকার বা বিরোধীদল ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করার উদ্যোগ নেবে কি না, সন্দেহ আছে। কারণ তাদের দলীয় স্বার্থে ছাত্র-শিক্ষকদের ব্যবহার করতে হবে। তাদের কাছে ক্ষমতায় আরোহণের সিঁড়ি হচ্ছে ছাত্ররাজনীতি।

সবার মনে রাখা দরকার, দেশের ছাত্র-জনগোষ্ঠী আমাদের সন্তান, ভাই ও আপনজন। তাদের জীবন নিয়ে আমরা ছিনিমিনি খেলতে পারি না। মানবজীবনের সর্বোৎকৃষ্ট সময় ছাত্রজীবন। জ্ঞানার্জনের নিরবচ্ছিন্ন সাধনা ছাড়া তা অর্থহীন। অর্জিত জ্ঞানের আলো নিয়েই তাকে সুখী-সমৃদ্ধ সমাজ নির্মাণে ভূমিকা রাখতে হবে। একজন ছাত্র ভবিষ্যৎ জীবনে কী ধরনের ব্যক্তিরূপে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে তার প্রস্তুতির ওপর। আদর্শ মানুষরূপে গড়ে ওঠার সাধনা চলে ছাত্রজীবনে। অধ্যয়ন ও নিয়মানুবর্তিতা ছাত্রজীবনের দু’টি প্রধান কর্তব্য। অধ্যয়ন, সৎ গুণাবলি ও কর্তব্যনিষ্ঠা ছাড়া মনুষ্যত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে না। তাই আমাদের উচিত ছাত্রদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে নেয়া এবং অধ্যয়নে মনোযোগী করা। ছাত্ররাজনীতির নামে ঔদ্ধত্য, দুর্বৃত্তপনা ও খুনাখুনি বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ওমর গণি এমইএস ডিগ্রি কলেজ, চট্টগ্রাম।


আরো সংবাদ

ধেয়ে আসছে লাখে লাখে পঙ্গপাল, ভয়াবহ আক্রমণের ঝুঁকিতে ভারত (১২২৯৮)এরদোগানের যে বক্তব্যে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল ভারত (১০৮১০)বিয়ে হল ৬ ভাই-বোনের, বাসর সাজালো নাতি-নাতনিরা (৮২৩০)জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের নির্মম অত্যাচারের ভিডিও ফাঁস(ভিডিও) (৭২০১)কেউ ঝুঁকি নেবে কেউ ঘুমাবে তা হয় না : ইশরাক (৬৩৩৩)আ জ ম নাছির বাদ চট্টগ্রামে নৌকা পেলেন রেজাউল করিম (৫২৮৮)মাওলানা আবদুস সুবহানের জানাজায় লাখো মানুষের ঢল (৫১১৩)‘ইরানি হামলায় মার্কিন ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ নিজেরাই প্রকাশ করুন’ (৪৮০২)জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, বাদ মাহমুদউল্লাহ (৪৫৩০)মাঝরাতে ধর্ষণচেষ্টায় ৭০ বছরের বৃদ্ধের পুরুষাঙ্গ কাটল গৃহবধূ (৪৪৩৯)