২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খানসামা আবদুল কাদের ও ইতিহাসের কাশ্মির

একটি জাতির ইতিহাসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তারিখ থাকে। কাশ্মিরের ইতিহাসে ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই তেমনি একটি দিন। মাত্র তিন দিন আগে চলে গেল দিনটির ৮৮তম বর্ষপূর্তি। এটি কাশ্মিরের একটি ‘শহীদ দিবস’। ওই ঐতিহাসিক দিনে কাশ্মিরের ২২ জন শহীদ পাল্টে দিয়েছিলেন দেশটির ইতিহাস। ওইদিন তারা রক্ত দিয়ে লিখেছিলেন কাশ্মিরের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের লড়াইয়ে এটাই ছিল না কাশ্মিরিদের প্রথম রক্তদানের ইতিহাস।

কাশ্মিরের ইতিহাসে ১৮১৯ সালের পর আরো অনেক রক্ত ঝরানোর ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ভিনদেশী শাসকেরা। ১৮৬৫ সাল হচ্ছে কাশ্মিরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ওই বছরে শাল বয়নকারীরা অন্যায় করারোপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে যোগ দিলে তাদের ওপর গুলি চালিয়ে বহু লোককে হত্যা করা হয়। তা ছাড়া, কাশ্মিরি জনগণের প্রতিদিনের আত্মাহুতিও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এত অত্যাচার ও নিপীড়ন, হত্যা, গুম- তবু শাসকগোষ্ঠী আজো থামাতে পারছে না কাশ্মিরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও স্বাধীনতার সুদীর্ঘ লড়াই। তবে ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাইয়ে কাশ্মিরিদের আত্মদান আর সব দিনের চেয়ে বেশি মাত্রায় ইতিহাসের গতি পাল্টে দেয়। নতুন মাত্রা দিয়েছিল এই আন্দোলনের।

এই দিনে ডোগরা শাসকের সৈন্যরা অ্যাসল্ট রাইফেলের ম্যাগজিনের পর ম্যাগজিন খালি করেছে নিরস্ত্র কাশ্মিরিদের ওপর নির্র্বিচারে গুলি চালিয়ে। তারা জড়ো হয়েছিল শ্রীনগর জেলখানার সামনে, আটক আবদুল কাদেরের বিচারের মামলার বিবরণী শুনতে। সে দিন গুলি করে মারা হয়েছে ২৮ জন কাশ্মিরিকে (কোনো কোনো মতে ২২ জনকে)। আরো বহু লোক গুলিতে আহত হয়েছিলেন, যখন তারা শ্রীনগরের কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে জোহরের নামাজ আদায়ের জন্য জড়ো হয়। তখন এই কারাগারে চলছিল তাদের বীরপুরুষ, বন্দী আবদুল কাদেরের ক্যামেরা ট্রায়াল।

তিনি কোনো রাজনৈতিক বন্দী ছিলেন না। ছিলেন না কোনো নেতাও। আর কোনো রাজনৈতিক নেতার বিচার বন্ধ করা কিংবা মুক্তির জন্যও সে দিন কাশ্মিরিরা সেখানে জড়ো হয়নি। তা ছাড়া, কাদের ধর্মীয় নেতাও ছিলেন না। একজন অজানা-অচেনা এক সাধারণ কাশ্মিরি। তিনি ছিলেন জনৈক ইংরেজ ‘সাহেবের বাটলা’র বা খানসামা।

ঘটনার তিন সপ্তাহ আগে আবদুল কাদের হয়ে ওঠেন বিখ্যাত একজন। প্রথমবারের মতো সম্ভবত দেশটিতে, খানকা মৌলায় অনুষ্ঠিত বড় ধরনের রাজনৈতিক জনসভার মাধ্যমে না জানা-অচেনা এ মানুষটির বিখ্যাত হয়ে ওঠা। রাজনৈতিক সমাবেশে তার হঠাৎ আবির্ভাব সমসাময়িক কাশ্মিরের ইতিহাসকে নতুন আকার দেয়। এতে প্রথম উঠে আসে কাশ্মির প্রসঙ্গে কাশ্মিরের গোঁড়া হিন্দু রাজার ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলো, যেগুলো পরবর্তী সময়ে ধ্বংসাত্মক বলে প্রমাণিত হয়েছে জম্মু ও কাশ্মিরের মুসলিমদের রাজনৈতিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে। ১৯৩১ সালে ভারত, চীন, আফগানিস্তান, ভারত ও চীন পরিবেষ্টিত জম্মু ও কাশ্মিরের জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশই ছিল মুসলিম।

মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের একটি গোষ্ঠী এই ঘটনার কয়েক দিন আগে ২১ জুন প্রথমবারের মতো আয়োজন করেন একটি রাজনৈতিক সভা। এর উদ্দেশ্য একটি প্রতিনিধি কমিটি নির্বাচন করা। এই কমিটি এ রাজ্যের মুসলিমদের পক্ষ থেকে একটি দাবিনামা বা চার্টার অব ডিমান্ড পেশ করার কথা হিন্দু রাজার কাছে। দাবিনামায় থাকবে ডোগরা রাজার পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নীতির অবসানের কথা। এই হিন্দু শাসকের সৈন্যরা প্রধান প্রধান মসজিদ দখল করে এগুলোকে রূপান্তর করেছিল ব্যারাক ও শস্যগুদামে। এগুলোর মধ্যে ছিল কিছু ঐতিহাসিক মসজিদও, যেগুলো নির্মাণ করেছিলেন মোগল ও অন্য শাসকেরা।

ওই সভায় কিছু প্রতিনিধি নির্বাচন করা হলো, যারা মহারাজা হরি সিংয়ের সাথে দেখা করে মুসলিমদের দাবিনামা পেশ করবেন। সভা শেষ করে সভায় আগত লোকজন এদিক-সেদিক ছড়িয়ে পড়ে। নেতারা চলে যান পাশের একটি বাড়িতে। সেখানে সামান্য খাওয়া-দাওয়া শেষে ভবিষ্যৎ কৌশল রচনা করার কথা। কিছু লোক তখনো পান্থনিবাস শাহ হামদানের চত্বরে ঘোরাফেরা করছে। তখন আবদুল কাদের নামের একজন তরুণ শূন্য মঞ্চে এসে উঠে আবেগপ্রবণ বক্তব্য রাখেন। তিনি সবাইকে হিন্দু শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আহ্বান জানান, যে শাসকের সৈন্যরা ইসলামের অমর্যাদা এবং পবিত্র কুরআনের পাতা ছিন্নভিন্ন করে অধর্মাচরণ বা ভ্রষ্টাচার করেছে।

তিনি জনগণের প্রতি মহারাজার প্রাসাদের প্রতিটি ইট একটি একটি করে খুলে ফেলার আহ্বানও জানান। তার বক্তব্য জনগণের হৃদয় স্পর্শ করে এবং স্বৈরাচারী রাজার বিরুদ্ধে তাদেরকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। এভাবেই তখন এই অচেনা-অজানা ব্যক্তি হয়ে ওঠেন জম্মু ও কাশ্মিরের মুসলিমদের কাছে এক ‘অনন্য বীর’। তার বক্তব্য জনগণকে উৎসাহিত করে বিদ্রোহী হয়ে উঠতে। এ দিনটি এবং এই ব্রিটিশ খানসামা সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের উত্তরই আজ পর্র্যন্ত মেলেনি। এসব প্রশ্নের মধ্যে কাছে, তার শূন্য মঞ্চে ওঠা এবং এই বক্তৃতা করা স্বপ্রণোদিত ছিল কি না, না এর পেছনে নেতাদের ‘গোপন প্ররোচনা’ ছিল? অন্তত এতে শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর কোনো হাত ছিল কি? আবদুল্লাহ তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, এই জনসভার আগে বেশ কয়েকবার তার সাথে হজরতবাল মসজিদ প্রাঙ্গণে আবদুল কাদের দেখা করেছেন।

যার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভের শুরু হয়েছিল এবং কাশ্মিরের ইতিহাস নতুন রূপ পেয়েছিল, তিনি চোস্ত উর্দুভাষী সুডৌল তরুণ আবদুল কাদের। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কায়েমি স্বার্থই আবদুল কাদেরকে এই জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখতে উৎসাহিত করেছে। তার বক্তব্য নিয়ে কিছু গুজব চার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব গুজব সৃষ্টিকারীদের একজন ছিলেন প্রেমনাথ বাজাজ। তিনি ভারতের কংগ্রেস নেতাদের সতর্ক করে দেন কাশ্মিরে মুসলিম জাতীয়তাবাদের পুনর্জাগরণ সম্পর্কে। সেই সাথে সতর্ক করে দিলেন হিন্দুদের ব্যাপারে ও বিশেষ করে কাশ্মিরি পণ্ডিতদের ক্ষেত্রে এর পরিণতি সম্পর্কে।

কাশ্মিরি পণ্ডিত ও অন্যান্য হিন্দু কারো কারো হিন্দুবিদ্ধেষী বক্তব্যে প্রভাবিত হয়ে ভাবতে শুরু করেন, মুসলিম প্রধান এই রাজ্য থেকে তারা উচ্ছেদ হতে পারেন। এ ধরনের গুজবে অনেক হিন্দু কিছুটা আশঙ্কিত হয়ে পড়ে। আরো গুজব ছড়ানো হয়, ডোগরা রাজা গরু জবাই অনুমোদন দিতে যাচ্ছেন। এসব গুজব দ্রুত দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো সতর্ক করে তোলে কংগ্রেস নেতাদেরও। শুধু তাই নয়, কংগ্রেস নেতারা ভূমিকা পালন করেন এই রাজ্যে মুসলিম রাজনৈতিক নেতৃত্বের গতিপ্রকৃতি পাল্টে দিতে।

এ দিকে আবদুল কাদের তার জ্বালাময়ী বক্তব্যের পর গ্রেফতার এবং বিচারের মুখোমুখি হন। একটি মাত্র বক্তৃতা তাকে এ রাজ্যের মুসলিম জনগণের কাছে অতি প্রিয়জনে পরিণত করে। এর পর এই রাজ্যে কিছু ভ্রষ্টাচারের ঘটনা ঘটেছিল। তখন জম্মু ও শ্রীনগর ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে শাসকদের মনোভাব সম্পর্কে। শ্রীনগরের সেশন কোর্টে কাদেরের বিচার শুরু হয় ১৯৩১ সালের ৬ জুলাই। শুনানির সময় বিপুলসংখ্যক লোক আদালতের সামনে জড়ো হলো। লোকজনের এই ব্যাপক উপস্থিতি কর্তৃপক্ষকে আতঙ্কিত করে তোলে। মামলা স্থানান্তর করা হয় শ্রীনগর কারাগারে। সেখানে ক্যামেরা ট্রায়াল শুরু হয় ১৩ জুলাই। বিচারের দিনে জনগণ শ্রীনগর কারাগারের বাইরে জড়ো হয়। এই নিরস্ত্র নিরপরাধ জনতার ওপর ডোগরা সৈন্যরা নির্বিচারে গুলি চালায়।

মিরদু রাই যথার্থ লিখেছেন- ‘এই ঘটনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে দিকটি উঠে আসে তা হচ্ছে, এই প্রথমবারের মতো কাশ্মিরি মুসলমানেরা মহারাজা হরিসিং ও তার সরকারের কর্তৃত্ব খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ করে বসে।’ সে দিন বিক্ষুব্ধ জনতার দেয়া স্লোগানে শাসককে এ কথা জানিয়ে দেয়া যথেষ্ট ছিল যে, এটি ছিল এমন আন্দোলনের ঢেউ, যা শাসকদের শক্তিশালী ভিতকে পর্যন্ত ভাসিয়ে নিতে পারে। এটিকে ইতিহাসের ‘একটি দুর্ঘটনা’ বলার অর্থ এই নয় যে, যদি আবদুল কাদের এই দৃশ্যপটে এসে আবির্ভূত না হতেন, তবে কোনো স্বাধীনতা আন্দোলনই হতো না।

এটি বলা ঠিক হবে না যে, অত্যাচারী ও স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রামের শুরু হয়েছিল ১৯৩১ সালে; বরং ঐতিহাসিক বাস্তবতা হচ্ছে, এই সংগ্রামের জন্ম হয়েছিল সেই দিনটিতে যেদিন ব্রিটিশরা ৭৫ লাখ রুপির বিনিময়ে কাশ্মিরকে বিক্রি করে দেয় ডোগরা রাজাদের কাছে। কাশ্মিরের জনগণ এটি ‘ফেইট অ্যাকমপ্লি’ হিসেবে মেনে নেয়নি। অর্থাৎ তারা ধরে নেয়নি, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে, তা আর ফেরানো যাবে না।’ বরং কাশ্মিরিরা এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে জানিয়ে দিয়েছে, তা হতে পারে না। ডোগরা সেনাবাহিনী পরাজিত হয়েছিল। ওরা ব্রিটিশ আর্মির সহায়তায় কাশ্মিরে ঢুকেছিল। এর পর সেখানে নানা বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এসব আন্দোলন ডোগরা রাজারা দমন করেছে সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতন-নিপীড়নের মাধ্যমে।

কাশ্মিরে সর্বপ্রথম বড় ধরনের প্রতিরোধ আন্দোলনটি সংঘটিত হয় ১৮৬৫ সালে। এটি ছিল শাল বয়নকারীদের ওপর অযৌক্তিক করারোপের বিরুদ্ধে। সংগঠিত আকারে আন্দোলন দেখা যায় অবিভক্ত পাঞ্জাবের প্রাণকেন্দ্র, লাহোরে ‘আঞ্জুমান কাশ্মির’ গঠনের মধ্য দিয়ে। কাশ্মিরি মুসলমানেরা যে ভূমিকাটি পালন করেছিল, তা শেষ পর্যন্ত স্থিত হয় পাঞ্জাবে। মোহাম্মদ দীন ফারুক এবং শেখ মোহাম্মদ ইকবাল ও পরবর্তী সময়ের আল্লামা ইকবাল ছিলেন হিন্দু শাসকদের বিরুদ্ধে কাশ্মিরিদের লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসের সোনালি পৃষ্ঠা। কাশ্মিরের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস লেখকদের মধ্যে খুব কমই পাওয়া যাবে, যিনি এ রাজ্যের মুসলমানদের জাগিয়ে তোলার ব্যাপারে লাহোরের সংবাদপত্রের অবদানের কথা উল্লেখ করেননি। কাশ্মিরিরা যেসব সংবাদপত্র লাহোর থেকে প্রকাশ করেছিল, সেগুলোর অবদানও ছিল অপরিসীম।

এটি বলা ভুল হবে না, আল্লামা মোহাম্মদ ইকবাল দার্শনিক হিসেবে আবির্ভূত হয়ে শুধু এই আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেননি, বরং তিনি দূত হিসেবে তা প্রচার করেছেন বিশ্ব পরিমণ্ডলেও। তিনি সফলতার সাথে কাশ্মিরের মুসলমানদের ন্যায়ের সংগ্রামকে তুলে ধরেছিলেন ব্রিটিশ ভারতে ‘মুসলমানদের ন্যায়ের সংগ্রাম’ হিসেবে। তিনি মুসলমান বুদ্ধিজীবীদের উৎসাহিত করেছিলেন কাশ্মির কমিটিতে যোগ দেয়ার জন্য।

যারা ইকবালের সাথে যোগ দিয়েছিলেন এবং তার সাথে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম কাশ্মিরি কনফারেন্স, লাহোর’ প্লাটফর্ম থেকে রাতদিন কাজ করেছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন- অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট খান বাহাদুর হাজী রহিম বক্স মিয়া নিজাম উদ্দিন, হাজী মির শামসুদ্দিন মৌলানা, সম্পাদক সৈয়দ হাবিব, লাহোরের লর্ড মেয়র মিয়া আমিরউদ্দিন, কাশ্মিরি ইতিহাসবিদ মুনশি মোহাম্মদ দীন ফারুক, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রফিক আহমদ, অ্যাডভোকেট খাজা গোলাম মোস্তাফা, অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট মিয়া হিশাম উদ্দিন, নওয়াব হাবিবুল্লাহ, শেখ সাদিক হাসান, শেখ মোহাম্মদ সাদিক, খাজা মোহাম্মদ ইউসুফ, খান বাহাদুর শেখ দীন মোহাম্মদ (পরবর্তীকালের প্রধান বিচারপতি ও বাউন্ডারি কমিশনের সদস্য), মালিক আবদুর রফি, ব্যারিস্টার মালিক আবদুল কাইউম, কর্নেল মির্জা কুতুব উদ্দিন। সৈয়দ মোহসিন শাহ এই কমিটির সচিব নিয়োজিত হয়েছিলেন।

‘হিস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব কাশ্মিরি মুসলিমস’ প্রকৃতপক্ষে জম্মুতে মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের একটি সংগঠনের সাথে সমান্তরালভাবে কাজ করে যাচ্ছিল। ১৯২২ সালে চৌধুরী গোলাম আব্বাস পুনর্গঠন করেন জম্মুর ‘ইয়ং ম্যানস মুসলিমস অ্যাসোসিয়েশন’। ১৯০৯ সালে এটি গঠিত হওয়ার পর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ১৯২৪ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত আব্বাস ছিলেন এই সংগঠনের প্রধান। এ সময়ে তিনি কাশ্মির রাজ্যে মুসলিমদের ওপর বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা পালন করেন। ১৯৩১ সালে খানকার সভায় প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যের বাইরে আসলে এটি আয়োজিত হয়েছিল ইয়ং ম্যানস মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের চারজন সদস্যকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য। এরা হচ্ছেন- মিস্ত্রি মোহাম্মদ ইয়াকুব, সরদার গওহর রেহমান, শেখ আবদুল হামিদ ও চৌধুরী গোলাম আব্বাস। একাধিক বিবেচনায় জম্মুর মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনকে দেখা যাবে প্রথমবারের জম্মু ও কাশ্মিরের রাজ্যব্যাপী মুসলিম কনফারেন্সের অগ্রদূত সংগঠন হিসেবে। এটি ছিল ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই সূচিত আন্দোলনের সাহসী প্রতিষ্ঠাতা।

১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিশ্বকে এ কথা জানাতে যে, স্বৈরাচারী শাসকেরা জম্মু ও কাশ্মিরের মুসলমানদের ওপর নির্মম নির্যাতন ও বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। এ ঘটনার পাঁচ দিন পর লাহোরের সংবাদপত্র এর সংবাদ প্রকাশ করে। এই ঘটনা শুধু পাঞ্জাবে বসবাসরত কাশ্মিরিদেরকেই ব্যথিত করেনি, বরং তা ব্যথিত করেছিল সেখানকার সমগ্র মুসলিম জনগোষ্ঠীকে। ‘কাশ্মির কমিটি’ এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেয় সমগ্র ভারতজুড়ে। এমন রেকর্ড পাওয়া যায়, গোটা ভারতের মুসলিমরা ডোগরা রাজার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে। এর ফলে ব্রিটিশরা কাশ্মিরের বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও একটি কমিশন গঠন করতে বাধ্য হয়। জম্মু ও কাশ্মিরে মুসলিমদের ক্ষোভের বিষয়গুলো দেখার জন্য এই কমিশন গঠন করা হয়। আর এই ঘটনা কাশ্মিরের স্বাধীনতা আন্দোলন আরো জোরদার করে তোলে। ফলে এই রাজ্যে মুসলিমবিরোধী সামন্ত শাসনের অবসান ঘটে।


আরো সংবাদ

জি কে শামীমের সাথে দু’টি ছবি নিয়ে না’গঞ্জে তোলপাড় কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে : ড. আব্দুর রাজ্জাক এরশাদের স্মরণসভায় জি এম কাদের জাতি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেখতে চায় সমুদ্র নিরাপত্তা ও ব্লু-ইকোনমি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে যোগ দিতে টেলিলিংক গ্রুপ চেয়ারম্যানের ঢাকা ত্যাগ শিশুদের যৌন হয়রানি রোধে ডুফার কর্মশালা আশুলিয়ায় গার্মেন্টে চাকরি নিতে এসে তরুণী ধর্ষিত হাতিরঝিল লেক থেকে লাশ উদ্ধার ভিক্টর ক্লাসিক বাসের চালক-সহকারী গ্রেফতার বাংলাদেশের শুভ সূচনা শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে

সকল