১৬ জুলাই ২০১৯

সম্পদ বণ্টনে ভারসাম্যহীনতা ও কিছু লোকের হাতে সম্পদ

-

বর্তমানে বিশ্বের মোট সম্পদের শতকরা ৭০ শতাংশ রয়েছে মাত্র ২০০ ব্যক্তির মালিকানায়। অনেকের মতে, ৯০ শতাংশ সম্পদের মালিকানাই এই ২০০ ব্যক্তির পরিবারের কাছে চলে গেছে।

সম্পদের অসম বণ্টন সারা বিশ্বেই একটি বড় সমস্যা এবং অসমভাবে বণ্টিত এই সম্পদের কেন্দ্রীভূতকরণ ব্যাপকহারে বৈষম্য ও দারিদ্র্যের কারণ। এরই ফলে এসব ধনাঢ্য পরিবার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতাসীনদের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে। এ কারণে ওই ধনী লোকেরা রাষ্ট্রের ওপর অবৈধ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে- যা চোখে দেখা যায় না।

সম্পদের এই কেন্দ্রীভূতকরণের জন্য দায়ী মূলত সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় অর্থ অর্থের জন্ম দেয়। ধনী ব্যক্তিরা ব্যাংকে অর্থ জমা রাখে এবং বছর শেষে বিপুল পরিমাণে সুদ পায়। যদি কেউ ব্যাংকে এক শত বিলিয়ন ডলার জমা রাখে, তাহলে তা পরের বছরই সুদসহ ১১০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়াবে। সুদবিহীন বিনিয়োগ বা লেনদেনে কিন্তু এটা হতে পারে না। কারণ ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে কয়েক বছর লেগে যাবে। অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠা করতে হবে, অনেক ব্যবসা শুরু করতে হবে। তারপর সে বিনিয়োগের ফলে লাভও হতে পারে লোকসানও হতে পারে। তাই বিনিয়োগ ব্যবস্থায় একাদিক্রমে লাভ হওয়া সম্ভব নয়, যেটা সুদের ক্ষেত্রে সম্ভব। এ ছাড়াও এর কারণ হতে পারে ব্যাপকভাবে সংঘটিত বিভিন্ন রকমের দুর্নীতি এবং ট্যাক্স ফাঁকি। নানা কায়দা-কৌশল ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার জন্য অবলম্বন এবং রাজনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করা হয়।

তাহলে এর সমাধান কী? পুঁজিবাদ এই সমস্যার কোনো সমাধান দিতে পারে না। এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে নিম্নরূপ :
১. অধিকহারের মুনাফা আদায় বন্ধ করা এবং সবার প্রতি সুবিচারের স্বার্থে যুক্তিসঙ্গতভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ। ২. সুদ ব্যবস্থা বন্ধ করা এবং বিনিয়োগ ও লেনদেন ব্যবস্থার মাধ্যমে এর প্রতিস্থাপন। ৩. রাষ্ট্র নিজে গরিব বা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগণের দেখভাল করবে- এরূপ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। ৪. অতিরিক্ত ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা। কারণ সেগুলো উপার্জিত হয়েছে কর ফাঁকি, দুর্নীতি, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, অধিক মুনাফা আদায় ও সুদের মাধ্যমে। বাজেয়াপ্তকৃত এই সম্পদ দারিদ্র্য দূরীকরণ, বেকারভাতা প্রদান ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হবে।

এ প্রসঙ্গে ইসলামের নীতির কথা উল্লেখ করা দরকার। কুরআনে সূরা হাশরে (সূরা নং ৫৯, আয়াত নং-৭) উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহ জনপদবাসীদের থেকে তাঁর রাসূলকে যা কিছু দিয়েছেন, তা আল্লাহর, তাঁর রাসূলের আত্মীয়দের, এতিমদের, মিসকিনদের এবং পথিকদের, যাতে করে তোমাদের মধ্যে যারা বিত্তশালী কেবল তাদের মধ্যেই অর্থ-সম্পদ আবর্তিত না হয়। রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।

সম্পদ যেন ধনীদের মধ্যেই কেবল আবর্তিত না হয়, সে জন্যই সুদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে (ইসলামের পরিভাষায় হিসবা বা সুপারভিশন বলা হয়); অতি মুনাফা ও মজুদদারী নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ জন্যই জাকাতের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে।

মূল কথা হচ্ছে- কিছু লোকের কাছে সম্পদের জমা হয়ে যাওয়া কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর প্রতিকার প্রয়োজন আমাদের বাংলাদেশেও।হ

লেখক : সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার


আরো সংবাদ

বেসরকারি টিটিসি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি কলেজ শিক্ষার্থীদের শতাধিক মোবাইল জব্দ : পরে আগুন ধর্ষণসহ নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির কমিটি রাজধানীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নারীসহ দু’জন নিহত রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত আজমত আলীকে মুক্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত আজমত আলীকে মুক্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত আজমত আলীকে মুক্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের কাল এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ এরশাদের মৃত্যুতে ড. ইউনূসের শোক ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না : রাষ্ট্রপতি ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের হজ প্রতিনিধিদল সৌদি আরব যাচ্ছেন

সকল




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi