২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চোরের ওপর বাটপাড়

ডিআইজি মিজানুর রহমান ও খন্দকার এনামুল বাছির -

ছাগলনাইয়া-ফেনী সড়কে রাতে টহলের সময় কুড়িয়ে পাওয়া টাকার বান্ডিল ফেরত দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ সদস্য আশিকুর রহমান। টাকা মালিকের কাছে ফেরত দেয়ার ঘটনায় অনেকে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহের এক রাতে পাঠাননগরের কসাই ব্রিজ এলাকায় টহলের সময় ৬৩ হাজার ৮৫৫ টাকার একটি বান্ডিল কুড়িয়ে পান আশিক। মহসিন কায়সার নামে এক ব্যবসায়ী রাতে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় টাকার বান্ডিলটি হারিয়েছিলেন। তিনি বান্ডিলটি হারিয়েছেন বলে লোকজনকে জানান। ব্যাপারটি পুলিশ সদস্য আশিক জানতে পারেন। পরে কায়সারকে থানায় ডেকে নিয়ে টাকার বান্ডিলের বিস্তারিত তথ্য জেনে নেন। থানার সেকেন্ড অফিসার মনিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে ওই ব্যবসায়ীর হাতে টাকাগুলো তুলে দেয়া হয়।

খবরটি নয়া দিগন্তে গুরুত্বের সাথে ছাপা হয়েছে। পুলিশ সদস্যের এই ‘বিরল’ দৃষ্টান্তের ঘটনা জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে বেশ আলোচিত হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবা উদ্দিন আহম্মেদ এ ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন, ‘আশিকের মতো সৎ পুলিশ সদস্যদের জন্য গোটা পুলিশ বাহিনী গর্বিত।’

এটা স্বাভাবিক একটা ব্যাপার, হারিয়ে যাওয়া টাকা এর মালিকের কাছে ফেরত দেয়া হবে। একজন সাধারণ নাগরিক টাকাটা পেলে তা-ই করা উচিত। পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তিনি এমন আচরণ শিখেছেন। রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া টাকা আলগোছে নিজের পকেটস্থ করে ফেলা চুরির মতো অবাঞ্ছিত ঘটনা। এটা একটা অপরাধ নিঃসন্দেহে। একজন পুলিশ সদস্য দেশের সাধারণ নাগরিক নন। আইন-বিচার-অপরাধ এসব ব্যাপারে তিনি আরো বেশি সচেতন। রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেয়া তার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের সেবার শপথ নিয়ে চাকরিতে বহাল হন। চুরি-ডাকাতি প্রতিহত করে জনগণের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এই বাহিনীর কাজ।

এ খবরটিতে আসলে জনমনে পুলিশের ব্যাপারে মানুষের মনোভাবের প্রতিফলন ফুটে উঠেছে। প্রায় সবার মনে পুলিশের ব্যাপারে ধারণা হচ্ছে, তারা নিপীড়ক বাহিনী এবং সুযোগ পেলেই সাধারণ নাগরিকদের তারা হয়রানি ও নির্যাতন করে থাকে। বাস্তবেও বাংলাদেশের পুলিশের বহু কর্মকাণ্ড জনমানুষের স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক। মানুষেরা বন্ধু হিসেবে পুলিশের আচরণ বেশি প্রত্যক্ষ করেন না। তারা প্রায় প্রতিনিয়ত দেখে থাকেন তারা নাগরিকদের মারধর করছেন। নির্দয়ভাবে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। থানায় আটকে রেখে নারকীয় কায়দায় নির্যাতন চালাচ্ছেন। তাদের অত্যাচারে অনেকে প্রাণও হারাচ্ছেন। আক্রমণাত্মক এসব আচরণ দেখে পুলিশের ব্যাপারে মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা গেড়ে বসেছে। এ অবস্থায় পুলিশের সাধারণ নৈতিক দায়িত্ব পালনকে মানুষ বদান্যতা ও পরহিতৈষী কাজ হিসেবে উচ্চ প্রশংসা করছে। মূলত আশিক যদি টাকাটা আত্মসাৎ করে ফেলতেন, আর সেটি যদি ফাঁস হয়ে যেত, সেটাই খবর হওয়ার বিষয় ছিল।

একই জেলার সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে পরোয়ানা জারির পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পুরো পুুলিশ বাহিনী মিলেও তাকে খুঁজে বের করতে পারেনি। পুলিশ সদস্যদের এমন ‘গায়েব’ হয়ে যাওয়ার ঘটনা আরো অনেক দেখা গেছে। চাপের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঘোষণা করেছেন, ‘তাকে ধরার চেষ্টা চলছে’। শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ সদস্য আশিক যখন একটি নৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন, তখন সোনাগাজী থানার প্রধান কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম স¤পূর্ণ বিপরীত কর্মকাণ্ড করছেন।

শিক্ষকের কাছে শ্লীলতাহানির শিকার হয়ে নুসরাত এই পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে গেলেন। আর তিনি নিরীহ মেয়েটির ওপর মানসিক নির্যাতন চালালেন। তাকে এমন সব প্রশ্ন করলেন, যাতে করে নুসরাতের ওপর আবারো নিপীড়ন নেমে এলো। ওই সব আজে-বাজে প্রশ্ন করার দৃশ্যটি আবার তিনি মোবাইলে ধারণ করলেন। পরে সেটি তিনি ফেসবুকে ছেড়ে দিলেন। নুসরাতকে হত্যার ঘটনাটিও তিনি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করেছেন। শুধু সোনাগাজী থানার ওসি নন, বিভিন্ন মামলায় পুলিশের বিরুদ্ধে একই ধরনের বহু অভিযোগ পাওয়া যায়।

সম্প্রতি পুলিশের এক কর্মকর্তা ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক হয়েছেন। জানা গেল, আরো এক কর্মকর্তার সহযোগে তিনি এই মাদক ব্যবসায় করে থাকেন। তাদের একজন রেলওয়ে পুলিশে চাকরি করেন, অন্যজন ট্রাফিক পুলিশে রয়েছেন। পুলিশই এখন এ দু’জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় মামলা করেছে। পুলিশের শুধু নিচের স্তরের একাধিক কর্মকর্তা নিছক বিচ্ছিন্নভাবে মাদকের ব্যবসায় করছেন, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। মাদকবিরোধী অভিযানের সময়ও পুলিশের অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযানে মাদকের সাথে সম্পৃক্ত অনেকে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হন। তবে পুলিশের কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। পুলিশের কেউ নেহায়েত যদি ফেঁসে যান, সে ব্যাপারে জনমনে ধারণা রয়েছে যে, অভ্যন্তর থেকে তাকে আর শেল্টার দেয়া হচ্ছে না। পুলিশের মধ্যে অনেকে রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে শত অভিযোগ থাকার পরও তাদের কিছুই হয়নি; বরং কালিমালিপ্ত ওই সব পুলিশ আরো পদোন্নতি পেয়েছেন।

২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিন বছরব্যাপী কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশের পুলিশ সদর দফতর। এর মধ্যে প্রায় দেড় বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। পুলিশের ওয়েবসাইটে ৫২ পাতার পরিকল্পনাটি পাওয়া গেল। ওই পরিকল্পনায় ভিশনে তারা উল্লেখ করেছেন : কোড অব অনার সমুন্নত করতে পুলিশ সঙ্কল্পবদ্ধ। আইন প্রয়োগে তারা হবে অত্যন্ত পেশাদার। এ কাজে তারা সবার প্রতি সম-আচরণ প্রদর্শন করবে এবং সৌজন্য অবলম্বন করবে। তবে সমসাময়িক যেসব ঘটনা ঘটছে তার সাথে পুলিশের এই ভিশনের কোনো মিল নেই।

নিচে আর কয়েক দফায় পুলিশের কর্মপদ্ধতি কী হবে সেটা লেখা হয়েছে। অপরাধ শনাক্ত করে তা দমনে এবং জনজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবে পুলিশ। জনমানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় সব সময় সজাগ থাকবে তারা। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, অপরাধ বিচার ব্যবস্থায় সাহায্য করে অবদান রাখবে পুলিশ। সমাজের সাথে সম্পৃক্ত থেকে প্রো-অ্যাকটিভ পুলিশিং করে সামাজিক সমস্যা সমাধানে বহুমুখী চেষ্টা নেবে তারা। জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে চমৎকার পেশাদারিত্ব অর্জন করবে। তাদের স্লোগান হবে- ‘রক্ষার জন্য প্রস্তুত, সেবার জন্য গৌরব।’ কথাগুলো চমৎকার! পুলিশের কর্মপদ্ধতি যদি এমনই হয়, বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে সোনার দেশে পরিণত হবে।

দেশে একা পুলিশই শুধু অন্যায় করছে না, সরকার পরিচালনাকারী অন্য অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর একই অবস্থা। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি অনেক ক্ষেত্রে পুলিশকেও ছাড়িয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন আগেই তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জন তাদের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করলেও দুদক বদলায়নি। রাষ্ট্রীয় শুদ্ধাচারের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানটি গায়ে যেন গণ্ডারের চামড়া লাগিয়ে বসে আছে। তারা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকেরা কখন স্কুল ফাঁকি দিয়েছেন, সেই চিত্র উদঘাটন করে জাতির সামনে বীরত্বের হাসি হাসতে চান। কিন্তু ব্যাংক-বীমাসহ সরকারি বড় বড় প্রকল্পে যেসব মহাসাগর চুরির ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর ব্যাপারে একেবারেই চোখ বন্ধ করে আছেন তারা।

এই সময় দুদককে অনেকটা যেন উন্মোচিত করে দেয়া হলো। পুলিশের উপমহাপরিদর্শক বা ডিআইজি মিজানুর রহমান নারী নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশ থেকে প্রত্যাহৃত হয়ে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত হয়েছেন। এদিকে, দুদক তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের তদন্ত করছিল। মিজান জানাচ্ছেন, তার কাছ থেকে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। কথা ছিল, তাকে দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি, দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। টাকা নিয়েও চাহিদামতো অব্যাহতি না পাওয়ায় মিজান ক্ষিপ্ত হয়ে সব ফাঁস করে দেন গণমাধ্যমে। অবৈধ কর্মকাণ্ডের এমন দুঃসাহসিক স্বীকারোক্তি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি অন্যায় কাজ করে সেটা প্রকাশ করতে কোনো ধরনের লজ্জা-শরম কিংবা আইন-আদালতের কোনো ভয় বিন্দুমাত্রও তার মধ্যে ছায়া ফেলেনি। এতে করে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি গুরুতর অবজ্ঞা প্রকাশ পায় কি না সংশ্লিষ্টরা নিশ্চয়ই ভেবে দেখবেন।

পুলিশের কৃত অপরাধ যত গুরুতর হোক, তাদের শাস্তি সব সময় দেখা যায় লঘু। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো শাস্তি তাদের পেতে হয় না। অন্য দিকে, অনেকে বিনা অপরাধে শাস্তির শিকার হয়ে যাচ্ছেন। একজন অপরাধ করছেন, শাস্তি পাচ্ছেন তার বদলে আরেকজন। এমন অদ্ভুত অন্যায় কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে বারবারই দেখা যাচ্ছে। আইন নিজস্ব গতিতে চলার কোনো সুযোগ এ দেশে পাচ্ছে না। একটি দেশে আইনের এমন বৈষম্যমূলক প্রয়োগ কি রাষ্ট্রব্যবস্থার ভঙ্গুরতার প্রমাণ বহন করে না?

ডিআইজি মিজান দুদকের কর্মকর্তা খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে এনেছেন ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ। তিনি কিভাবে ওই টাকা তাকে দিয়েছেন, তার বিস্তারিত বিবরণও মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন। কিভাবে বাছির টাকার ‘চাহিদা’ পেশ করেছিলেন, তাও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বর্ণনা করেছেন মিজান। যোগাযোগ করতে অসুবিধা, তাই মোবাইল কিনে দিয়েছেন। জানানো হয়েছে, বাছিরের সন্তানদের গাড়ি নেই, সেজন্য বড় অঙ্কের টাকা প্রয়োজন। কৌতূহলের ব্যাপার হচ্ছে, দুদক বাছিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও তথ্য পাচারে’র। এ জন্য তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের কোনো অভিযোগ এখনো আনা হয়নি।

মূল ব্যাপারটা কী, সেটা বোঝা মুশকিল। পুলিশ কি অঙ্গুলি নির্দেশ করে বুঝিয়ে দিতে চাইছে, মহাচোরেরা কোথায় লুকিয়ে আছে। তাদেরই মধ্যে থাকা এক অভিযুক্ত, মোটা দাগের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাকে দিয়ে যেন প্রমাণ করে ছেড়ে দিলো- খোদ দুদকের অনেকে নিজে কতটা দুর্নীতিবাজ। দেশের দুর্নীতি বন্ধ করা দূরে থাক, তারাও হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির এক একজন ‘বাজিকর’। তারাও ভাগ বসাচ্ছেন সবার মতো। এতে কী প্রমাণ হচ্ছে, চোরের ওপর রয়েছে বাটপাড়। সবার একটাই ধারণা, পুলিশ সবচেয়ে বড় ঘুষখোর এবং তাদের চেয়ে বেশি ঘুষ খাওয়ার সুযোগ আর কারো নেই। পুলিশের কাছ থেকে কেউ ঘুষ নিতে পারে, এমনটি সম্ভবত দেশের মানুষ খুব কমই ভাবে।

বর্তমান শাসনব্যবস্থায় একজন সাধারণ নাগরিক সব সময় রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের ভয়ে থাকে। কোন সময় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কে এসে তাকে হেনস্তা করে, এই ভয় তাদের। মানুষ ঘুষ ও চাঁদা দিতে দিতে অসহায়। এর ওপর রয়েছে গুম-খুন হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক। প্রত্যাহার হওয়া পুলিশের উপমহাপরিদর্শক যেসব অপরাধ করেছেন, সেটা প্রকাশ্য। নির্যাতিত নারী তার করুণ অবস্থার বিবরণ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে সামান্য অব্যাহতি প্রদানের। এটা যে আসলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, সেটা মিজানের হ্যাপি মুড দেখলেই বোঝা যায়। একইভাবে দুদকের প্রথম সারির কর্মকর্তা বাছির আগেও দুর্নীতি করেছেন। সময়মতো তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হলে দ্বিতীয়বার এমন বড় অপরাধে যুক্ত হতে তিনি সাহস করতেন না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুদক তাহলে দুর্নীতির মূলোৎপাটনের দায়িত্ব পালন না করে নিজেরাই এই কালো বিড়ালকে পুষছে? সবার মনে এই প্রশ্ন। তাহলে তাদের দ্বারা কিভাবে দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে?

সামান্য কারণে মানুষ গ্রেফতার হয়ে যায়। অপর দিকে, প্রকাশ্যে একাধিক অপরাধ করার পরও পুলিশ সদস্য মিজান স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। সেজন্য আদালত প্রশ্ন তুলেছেন, পুলিশের ডিআইজি মিজান কি দুদকের চেয়ে বেশি শক্তিশালী?

[email protected]


আরো সংবাদ