২০ জুন ২০১৯

উৎসবের আড়ালে বিষাদ

ঈদের পরে নয়া দিগন্তের শেষের পাতায় একটি খবর ও একটি ছবি একসাথে উপরে ও নিচে ছাপা হয়েছে। ছবি ও খবর দুটো বিপরীতমুখী অর্থ বহন করে। ‘দিনভর স্বজনের অপেক্ষা শেষে কান্নাতেই সান্ত্বনা’ শীর্ষক খবরটি বৃদ্ধাশ্রমের। তার ঠিক ওপরে তিন কলামে ঢাকা ফেরা মানুষের একটি ছবি। ঈদের আনন্দ উৎসব শেষে সুখী মুডে তারা রাজধানীতে ফিরছেন। নিচের খবরে প্রতিবেদক বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেয়া বয়সের ভারে ন্যুব্জ মানুষের অপেক্ষার করুণ অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন। বৃদ্ধদের এই করুণ কান্নাও ঈদকে ঘিরে।

মানুষ চায় আনন্দ উৎসব। সুযোগ পেলে একটু বিনোদন সে চায়। তবে এর মাত্রা ও পরিধির মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। কেউ মঙ্গলে যেতে চায়, কেউ একটু আয়েশ করে সেমাই খেতে চায়। অনেক ক্ষেত্রে বিনোদন মজা ও উৎসবনির্ভর করে সাধ ও সাধ্যের ওপর। অন্যান্য অরো অনেক বিষয়ের ওপরও এটি নির্ভর করে, তবে বৃদ্ধাশ্রমের অধিবাসীদের জন্য ব্যাপারটা একটু অন্যরকম। বৃদ্ধদের খুব আগ্রহ, যদি সন্তানেরা তার খোঁজখবর নিতে আসে ঈদের আগে। প্রায় সবাই একই ধরনের আগ্রহ নিয়ে বৃদ্ধাশ্রমের ফটকের দিকে তাকিয়ে থাকেন। অনেকে অপলক তাকিয়ে আছেন, যদি সন্তান এসে পড়ে। আশ্রমের বাসিন্দাদের সাথে নয়া দিগন্তের প্রতিবেদকের আলাপচারিতায় অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশার এক করুণ চিত্র উঠে এসেছে।

অনেকে দুঃখ-কষ্টে প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে চাইলেন না। কারো কারো মুখে কথা হারিয়ে গেছে। কারো কারো দৃষ্টি শূন্য। প্রতিবেদকের কাছে একজন দুঃখ করে বললেন, আমরা এখন বাতিলের খাতায়। সন্তানেরা ব্যস্ত, আমাদের নিয়ে ভাবার সময় নেই তাদের। চোখের পানি মুছে তিনি বললেন, ছেলে ও ছেলের বউ বড় চাকরি করে। মেয়েরও একই অবস্থা, তারা দু’জনে চাকরি করে। ঢাকা শহরে তারা থাকে। পাঁচ বছর আগে একবার দেখা হয়েছে। এরপর থেকে আমি প্রতিদিন অপেক্ষা করি। সকাল থেকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাস্তার দিকে চেয়ে থাকি। এই বুঝি ছেলেমেয়ে আসবে, কিন্তু আসে না। আমার বুকটা খুব হাহাকার করে। দিন শেষে যখন কেউ আসে না, তখন রাতে রুমে গিয়ে কান্না করতে গিয়ে একটা সময় ঘুমিয়ে পড়ি।

মানব বংশধারা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, সেখানে শিশু-বৃদ্ধ উভয়ে পরিবারে অপরিহার্য ও কাক্সিক্ষত সদস্য। পুরনোরা তাদের শিক্ষা-অভিজ্ঞতা নতুনদের মধ্যে সঞ্চার করবে। মায়া-মমতা, আদর-ভালোবাসায় পূর্ণ হবে প্রতিটি ঘর। মধ্যবয়সীরা দায়িত্ব নেবে সবার। বৃদ্ধাশ্রম নামের অবসর যাপনের আলাদা কোনো আলয় থাকার কথা নয়। একান্ত যাদের কোনো স্বজন নেই তাদের জন্য এমন আশ্রম হয়তো দরকার হতে পারে।

বর্তমান সমাজব্যবস্থা বৃদ্ধদের অপাঙ্ক্তেয় করেছে। পরিবারগুলো এমনভাবে গড়ে উঠছে, সেখানে তাদের কোনো প্রয়োজন থাকছে না। শহরে এমন পরিবার ব্যবস্থার প্রাধান্য এখন। এর ফল কিন্তু ভালো হচ্ছে না। নিজেদের শিশুসন্তানের বাড়তি সুযোগ দিতে গিয়ে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাচ্ছেন তারা। যেই সন্তানের সুবিধার জন্য এমনটা করলেন, সে সন্তানেরাও একইভাবে বড় হয়ে এই পিতা-মাতার কোনো প্রয়োজন অনুভব করেন না। ফলে পরবর্তীকালে তাদেরও আশ্রয় হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। এতে করে মানব বংশধারায় একটা প্রজন্মের বিচ্ছেদ ঘটছে। যার নানা রকম নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সমাজকে ক্রমেই গ্রাস করছে। নতুন আসা শিশুদের মধ্যে মায়া-মমতার চর্চা নেই।

বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে নয়া দিগন্তের সিরিজ প্রতিবেদনের পরের সংখ্যার শিরোনাম হলো, ‘বাবা-মায়ের সাথে যা করেছি তার বদলা পাচ্ছি এখন।’ ৭০ বছরের এক প্রবীণের কাছে প্রতিবেদক যখন জানতে চাইলেন, তিনি বলতে শুরু করলেন অতীতের কথা। কৃষক পরিবারের হওয়ায় অর্থকষ্ট লেগে থাকত সংসারে। লেখাপড়ার প্রতি ঝোঁক থাকায় স্থানীয় পাঠশালায় ভর্তি করে দেন পিতা। পড়াশোনায় ভালো ছিলেন, পরীক্ষায় ফলাফলও ভালো করেন। সরকারি উচ্চপদে যোগ দিয়ে বিয়ে করেন। এরপর কারণে-অকারণে বাবা-মায়ের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন। অর্থকড়ি পর্যাপ্ত থাকার পরও বাবা-মা থেকেছেন কষ্টে। নিজের কাছে ঢাকায় থাকেননি তারা। চলে যান গ্রামে নিজের বাড়িতে। এরপর অভিমানে বাবা-মা মারা যাওয়া পর্যন্ত আর যোগাযোগ করেননি।

তিনি বলেন, ‘আজ আমি তাদের জায়গায়। এ বয়সে তাদের চেয়েও করুণ অবস্থায় রয়েছি। আমার তিন সন্তানের সবাই ভালো চাকরি করছে। রাজধানীতে বাড়ির মালিক আমি। অথচ আমার টাকায় করা বাড়ি থেকে আজ আমি বিতাড়িত। সন্তানদের কেউই আমার খোঁজ নেয় না। যেদিন বের করে দেয়, সেদিন অনেক কেঁদেছি। তাদের বললাম, আমি না হয় বারান্দায় থাকব তবুও আমাকে বের করে দিও না। কিন্তু তারা শুনল না। আমার কারণে নাকি তাদের সমস্যা হয়। ঘর নোংরা হয়।’ এ কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এরপর চোখ মুছতে মুছতে বললেন, ‘এখন বুঝি এসবই আমার বাবা-মায়ের অভিশাপ। আমি যদি আমার বাবা-মায়ের প্রতি অবিচার না করতাম তাহলে আমার সন্তানেরা আমার সাথে এমন করত না। আমি সব সময় দোয়া করি, আমার সন্তানেরা যেন কখনোই বৃদ্ধ না হয়, তাহলে তারা এ কষ্ট সহ্য করতে পারবে না।’

একই সমাজে দুই ধরনের চিত্র। এক শ্রেণী তাদের আনন্দ আয়োজন যতটা সম্ভব বাড়িয়ে নিচ্ছে। এর জন্য যা যা করণীয় সব করছে। ভালো খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হচ্ছে। অত্যন্ত আগ্রহের সাথে এসবের আনজাম দেয়া হচ্ছে। কাক্সিক্ষত স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ, নিজেদের মধ্যে গল্প-আড্ডা, আনন্দ মাতামাতি হচ্ছে। আকর্ষণীয় পর্যটক স্পটে ঘুরতে যাচ্ছে। বাড়তি হিসেবে অনেকের জন্য এবার বিশ্বকাপও যুক্ত হয়েছে। এ উৎসবে তাদের আনন্দের মাত্রা এতে করে আরো বেড়ে গেছে। আয়েশ করে খেলা দেখা হচ্ছে। এসব আয়োজনকে আরো আকর্ষণীয় করার জন্য মিডিয়াও যুক্ত হচ্ছে। রান্নাঘরের রেসিপি থেকে পর্যটন স্পট ও খেলা দেখার ধরন শিখিয়ে দিচ্ছে মিডিয়া। সংবাদমাধ্যমে বিপুল আয়োজন ক্রিকেট নিয়ে। প্রতিটি মিডিয়া এ উপলক্ষে প্রতিদিন বিশেষ আয়োজন বের করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এ আনন্দ আয়োজনে বাড়তি যোজনা তৈরি করছে।

ঈদ আয়োজন, বিশ্বকাপ খেলা, বিনোদনের অনুষ্ঠান এখন জীবনের প্রধান উপজীব্য। আলোচনার একমাত্র উপকরণ হয়ে উঠছে জীবনের ক্ষণিক আনন্দ উপাদান। প্রায় সবার দৃষ্টি একটা দিকে নিবদ্ধ, কত বেশি বিনোদন ভোগ করে নেয়া যায়। টিভি ও সাইবার দুনিয়ার কাণ্ডারিরা এই চাহিদাকে পুঁজি করে তাদের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

এর বিপরীতে নিরানন্দ দুঃখ-কষ্ট, যা রয়ে যাচ্ছে আড়ালে। সবাই ব্যস্ত যৌবনের সুখ বিনোদন নিয়ে। বিষয় হতে পারছেন না যৌবন পেরিয়ে যাওয়া প্রৌঢ়রা। তবে জতির সবাই সমান নয়। এমন অনেক পরিবার ও সমাজ রয়েছে, যাদের কাছে প্রৌঢ় ও বৃদ্ধরা অন্য সদস্যদের মতো গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবে সব মানুষের একই যাত্রাপথ। সবাই সেই দিকে চলছে। সামান্য সুখ অনুভব করার জন্য অস্বীকার করা হচ্ছে অনিবার্যভাবে সামনে আসা কষ্টকর দিনগুলোকে। বার্ধক্য এমন এক বাস্তবতা, বেঁচে থাকলে প্রত্যেক মানুষকে তার মুখোমুখি হতে হবে।

সাধরণত একজন মানুষ ষাট বা পঁয়ষট্টি পেরোলে বার্ধক্য ধরা হয়। ২০১৫ সালের জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি। এর মধ্যে ৬ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। অর্থাৎ প্রায় এক কোটি মানুষ প্রবীণ। আর ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ১৫ থেকে ৬৪ বছর। প্রবীণের সংখ্যা এখন আরো অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশে প্রবীণের সংখ্যা এক কোটির বেশি হবে।

সমাজে নিষ্ঠুরতা ও নানা ধরনের অনাচার দ্রুত বাড়ছে। আমরা দেখেছি নিজের সন্তান পিতা-মাতাকে নিষ্ঠুর কায়দায় হত্যা করছে। সন্তানকে চাওয়া মাত্র প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ না করায় এমনটি করেছে। ঠুনকো বিনোদন ও বৈষয়িক উন্নয়ন শহুরে মানুষের জীবনে প্রধান হয়ে গেছে। দামি ফ্ল্যাট, উন্নত আসবাব মানুষের জীবনের প্রধান লক্ষ্য এখন। ফলে বৃদ্ধ মা-বাবাকে ঘরের মধ্যে অপ্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে।

ঢাকায় ১৭ বছরের কন্যা ঐশী তার পিতা-মাতাকে হত্যা করেছিল। তার পিতা ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা ছিলেন। স্কুলপড়–য়া মেয়েটি ছিল মাদকাসক্ত। তার মাসিক খরচ ছিল এক লাখ টাকা। খণ্ডিত পরিবারগুলোতে জন্ম নিচ্ছে নারকীয় নিষ্ঠুর চরিত্র। মেয়েটি যদি পরিবারের দাদা-দাদীর সান্নিধ্য পেত তাহলে তাকে বিনোদনের জন্য বাজে সঙ্গ খুঁজতে হতো না। ঐশীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিলে সে পিতা-মাতাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। একটি একান্নবর্তী পরিবারে থেকে কেউ এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। পিতা-মাতার সাথে দূরত্ব তৈরি হলে দাদা-দাদীর কাছে নাতি-নাতনীরা তাদের মনের কথা খুলে বলে। আবার তাদের মনে কোনো ঝড়ঝাপ্টা তৈরি হলে তার আভাসও দাদা-দাদী বুঝে নিতে পারে। পরিবারে তাদের শারীরিক উপস্থিতি পরিস্থিতিকে অনেক সহজ করে। অন্তত ওইসব পরিবারে বাবা-মা হত্যার মতো নারকীয় কাণ্ড হতে পারে না।

ঈদ উৎসবের মধ্যে বিষাদের খবরও বিরাট। তবে এ খবর যাতে জীবিতদের আনন্দে কোনো বিঘœ না ঘটায়, সে জন্য মিডিয়া তা রেখেঢেকে প্রচার করছে। ঈদের ছুটির চার দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৬৬ জনের। অনেকে বলছেন, এবার দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ছিল সবচেয়ে নির্ঝঞ্ঝাট। তাহলে প্রশ্ন- এত মানুষ কিভাবে রাস্তায় বেঘোরে জীবন দিলো।

নিষ্ঠুর হত্যা-ধর্ষণসহ অন্য যতসব অপকর্ম ছিল, সেগুলো ঈদের উৎসবের এ মওসুমে বিরতি নেয়নি। ঈদের আগে যৌতুকের জন্য স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন গৃহবধূর গায়ে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। শিরিন আক্তার নামের ওই গৃহবধূর শরীরের ১৩ শতাংশ গভীরভাবে পুড়ে গেছে। ঘটনার ছয় দিন পর বাবা গিয়ে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করান। এই সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা তিনি শ্বশুরবাড়িতে পাননি।

ঈদের দুই দিন আগে পাবনায় অন্য আরেকটি ঘটনায় আগুনে পুড়ে আরেক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। কোনো ধরনের ময়নাতদন্ত বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে স্বামী তাকে দাফন করতে চেয়েছিল। ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ ওই নারীর লাশ স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। অভিযোগ তার স্বামীর বিরুদ্ধে। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এটি ছিল তার তৃতীয় স্ত্রী। খুশির এ মওসুমে আরো অনেক নিষ্ঠুরতার ঘটনা ঘটছে। এগুলো আমাদের পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের বাস্তবতা। যে বিষয়টি অবাস্তব, সেটি হচ্ছে এগুলোকে আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা করা।

আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা চলছে একচোখা নীতিতে। সব কিছু তারা দেখে চোখের দৃষ্টিতে। যা দেখা যায় না তা নিয়ে তাদের কোনো চিন্তাভাবনাও নেই। বাস্তবে মানুষের নিয়তির কিছুই দিব্য চোখে দেখা যায় না। দেশের মিডিয়াও রয়েছে একই সমান্তরালে। অনেক ক্ষেত্রে মিডিয়া আরো বেশি অন্ধ। তারা এমন পথ দেখায়, যে পথ তারা নিজেরাও দেখে না। মানুষের এমন কল্পনার চোখ তারা তৈরি করতে চায়, যার সব বস্তুগত ও বৈষয়িক। সব জায়গায় সামান্য যৌবনের জয়গান। ক্ষণিকের শারীরিক শক্তির উদ্দামতা। ফলে মানবতা থেকে যাচ্ছে অন্ধকারে। ভোগের যে ‘উৎকৃষ্ট’ চিত্র দেখানো হচ্ছে, এর পাশাপাশি মানুষের পরিণতিও দেখানো উচিত। তাহলে সারা জাতি যখন ঈদ উৎসবে মাতবে তখন বৃদ্ধাশ্রমে পড়বে না কান্নার রোল।

[email protected]


আরো সংবাদ