২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ওয়াসার ‘শরবত’ কতভাগ সুপেয়?

ওয়াসার ‘শরবত’ কতভাগ সুপেয়? - ছবি : সংগ্রহ

ওয়াসার বহুলালোচিত এমডি তাকসিম এ খান ওয়াসার পানি ‘শতভাগ সুপেয়’ বলে সম্প্রতি যে বিতর্ক উসকে দিয়েছিলেন, তা আরো চড়া হলো রাজধানীর ৫৯টি এলাকাতে তাদের সরবরাহ করা পানি ময়লা- এটা স্বীকার করে নেয়ায়। তার আগের উক্তিকে ব্যঙ্গ করে এর আগে কেউ কেউ বলেছেন, আসলে খান সাহেব ওয়াসার মিনারেল ওয়াটার ‘শান্তি’ সুধা পান করেন। এজন্য শতভাগ সুপেয় বলতে এই ‘শান্তি’ বারিকে বুঝিয়েছেন। তবে খোদ এমডি যখন নগরীর প্রায় পাঁচ ডজন জায়গায় ওয়াসার পানি নোংরা থাকার লিখিত স্বীকৃতি দিলেন আদালতকে, তখন ‘শান্তি’ও আগামী দিনে নগরবাসীর অশান্তির একটা হেতু হয়ে উঠতে পারে কিনা, সে সন্দেহ চাঙ্গা হচ্ছে। ওয়াসার চরম দুর্নীতি ও অনিয়ম শুধু এই গরমের দিনে নয়। তবে এবার গরম আর রোজা মিলে জনদুর্ভোগ তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে ‘নতুন করে পুরান ঘটনা’র খবর চাউর হচ্ছে। বিগত মাত্র তিনটি মাসেই ওয়াসা ১৬১৬২টি ফোনকল পেয়েছে তাদের সরবরাহ করা পানি সম্পর্কে অভিযোগের। তা থেকে স্পষ্ট, ওয়াসার পানি মান ও পরিমাণ- কোনো দিক দিয়েই সন্তোষজনক নয়। দায়িত্ব পালন না করে, দায় এড়িয়ে কেবল কাদা ছোড়াছুড়ি কোনো সুফল দিতে পারে না।

ঢাকা ওয়াসার পানি শতভাগ বিশুদ্ধ এবং এর প্রত্যেক ফোঁটাই সুপেয়- সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ২০ এপ্রিল কথাটা বলেছিলেন। তখন বিক্ষুব্ধ জনতাকে এড়িয়ে যেতে পারলেও মন্ত্রণালয় আর আদালতকে এড়িয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই তিনি স্বীকার করে নিলেন, ‘রাজধানীতে অন্তত ৫৯ এলাকার পানি অধিক দূষিত।’ এতে জনমনে এ বিশ্বাস আরো জোরালো হচ্ছে যে, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার পানিও কিছু না কিছু দূষিত। সচেতন নাগরিকমাত্রই অনুভব করেন, একটি দূষিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওয়াসার সেবার মান এর চেয়ে ভালো হতে পারে না। তাই জরুরি ভিত্তিতে দুর্নীতি, অনিয়ম, আত্মসাৎ, দায়িত্বে অবহেলা আর ক্ষমতার অসদ্ব্যবহারের মতো ব্যাধিগুলো থেকে মুক্ত করার জন্য ওয়াসাকে এমনভাবে ওয়াশ করা দরকার, যেভাবে কোনো কোনো রোগীকে বাঁচাতে তার পেট পরিষ্কার করতে হয়।

রাজধানীতে ঢাকা ওয়াসার ১০টি জোনের ৫৯টি এলাকার পানি ‘সর্বাধিক দূষিত’ বলে একটি তালিকা সংশ্লিষ্ট বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ওয়াসা জমা দিয়েছে। এতে খোদ এমডি তাকসিম এ খান স্বাক্ষর করেছেন। গত বৃহস্পতিবার সেটা আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত এ জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন ইতোপূর্বে। কোনো কোনো পত্রিকা শুক্রবার তাদের প্রধান হেডিং করেছে, ‘তাকসিমের বোধোদয়।’ আমাদের কথা হলো, তার বোধোদয় সত্যিই হয়েছে কিনা তা কাজে প্রমাণিত হবে। আর শুধু ব্যক্তি বিশেষের উপলব্ধি কিছুতেই যথেষ্ট হতে পারে না। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বার্থসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার আমূল সংস্কার ছাড়া শুধু ব্যক্তির অদলবদল কিংবা সাময়িক কিছু পদক্ষেপ স্থায়ী সুফল দেবে না। ওয়াসার মতো যেসব প্রতিষ্ঠান ক্রনিক ডিজিজে ভুগছে- তাদের ঠিক করার জন্য প্রয়োজনে সার্জারির সাহায্য নিতে হবে। যেখানে ভেতরের অপারেশন দরকার, সেখানে বাইরে মলম লাগিয়ে কী লাভ?

আদালতে পেশ করা প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যাত্রাবাড়ী থেকে উত্তরা, লালবাগ থেকে পল্লবী পর্যন্ত বিশাল ঢাকা নগরীর বহু এলাকাতেই এখন ওয়াসার পানি ‘অপেয়’, অর্থাৎ ব্যাপকভাবে দূষিত। পত্রিকার খবর- এসব এলাকার পানি এখনো পরীক্ষা করা হয়নি। এ জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পৌনে এক কোটি টাকা চেয়েছে। ঢাকা ভার্সিটির একজন রসায়নবিজ্ঞানী শিক্ষক জানিয়েছেন, ‘পানি কেবল একবার পরীক্ষা করলেই হয় না। এটা করতে হয় নিয়মিত। আর শুধু ৫৯ এলাকা নয়, সব এলাকার পানিতেই সমস্যা। এ অবস্থায় ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থান থেকে ওয়াসার পানির নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা দরকার। দেখতে হবে- পানিতে জীবাণু আছে কিনা এবং ক্লোরিন, আয়রন, আর্সেনিক, সিসা বা অন্যান্য ধাতু কী পরিমাণ আছে। এসবের ভিত্তিতে যদি দেখা যায়, পানির মান ভালো, তা হলেই বলা যাবে- ‘ওয়াসার পানি সুপেয়।’

রাজধানী ঢাকার কমবেশি প্রায় সব এলাকার পানিই দূষণের শিকার হয়ে থাকে। এ জন্য জনগণ দোষ দেয় ওয়াসাকে। আর ওয়াসা দোষী বানায় অন্য কোনো ‘কারণ’কে। সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে উপায় না পেয়ে শেষমেশ নসিবকে দায়ী করে সান্ত্বনা পেতে চায়। কারণ, যত অসুবিধা হোক, জীবিকার তাগিদে এই শহরেই তাদের থাকতে হয়। এখানে যদি ‘জীবন’-এর নামে ‘মরণ’ নিশ্চিত করা হয়, কীইবা আর করা যাবে? এই সমস্যার প্রতিকার করা যাদের কর্তব্য, সেই কর্তাদের হুঁশ ফেরাবে কে?

ওয়াসার পক্ষে হয়তো শতভাগ ঢাকাবাসীকে পর্যাপ্ত পানি বিশেষত শুকনা মওসুমে আর গরমের দিনে সরবরাহ করা সম্ভব নয়। কিন্তু তাদের অনিয়ম-অসততা বন্ধ হলে এবং সবার দায়িত্ববোধ, তথা দেশপ্রেম থাকলে মানুষের দুর্ভোগ অনেক কমে যেত। ঢাকার পানি সঙ্কটের মতো ওয়াসার দুর্নীতিও পুরনো। সব আমলেই প্রায় এক অবস্থা। ঢাকার আয়তন বাড়ে; মানুষ বাড়ে। কিন্তু বিশুদ্ধ পানিসহ নাগরিক সুবিধা বাড়ে না। তা বলে উন্নতির কান ফাটা ঢ্যাঁড়া পেটানো আর মহাউন্নয়নের জোয়ারে সবাইকে ডুবানো বন্ধ হয়নি।

একটি জাতীয় সংবাদপত্র লিখেছে, “নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঢাকা ওয়াসা যে পানি সরবরাহ করে থাকে, এটাকে মোটেও ‘সুপেয়’ বলা যায় না। এমনকি, ওয়াসা যে গভীর নলকূপের পানি সরবরাহ করে, সে পানিও সব ক্ষেত্রে শোধন করা হয় না। অর্থাৎ, গভীর নলকূপ দিয়েও জীবাণুযুক্ত পানি উত্তোলন করা হতে পারে। এ পানি ক্লোরিন মিশিয়ে শোধন করে সরবরাহ লাইনে দেয়ার কথা। অথচ, ওয়াসার অনেক পাম্পেই ক্লোরিনের ব্যবস্থা নেই। আর তা থাকলেও ঠিকমতো ক্লোরিন সরবরাহ না করে সে অর্থ আত্মসাৎ করেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা। তদুপরি, যে লাইন দিয়ে পানি গ্রাহকের ট্যাপে পৌঁছে, এতে রয়েছে বহু ছিদ্র। এসব ছিদ্র দিয়ে ময়লা আবর্জনা পাইপে ঢুকে পড়ে। এ ছাড়া, সায়েদাবাদ ও চাঁদনিঘাট শোধনাগারে যথাক্রমে শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গার পানি শোধন করে পাইপলাইনে দেয়া হয়। শুষ্ক মওসুমে নদী দু’টির পানির মান খুব নিচু এবং এ পানি বিষাক্ত হয়ে যায়। এর পাশাপাশি, চ্যানেল দিয়ে মলমূত্রসহ নানা আবর্জনামিশ্রিত পানি শোধনাগারে অনুপ্রবেশ করে থাকে। মারাত্মক জীবাণু, ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উৎস এই মলমূত্র। সে পানি শোধনকালে অতিরিক্ত ক্লোরিন, চুন ও ফিটকিরি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে শোধন করা সত্ত্বেও অনেক সময় পানি জীবাণুমুক্ত হয় না। মাত্রাতিরিক্ত কেমিক্যালের ব্যবহারে পানিতে বিশেষ ধরনের গন্ধও পাওয়া যায়, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি, বহু ক্ষেত্রে সুয়ারেজ লাইনের সাথে ওয়াসার পাইপলাইনের সংযোগ হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।”

এতসব সমস্যার বাইরে আরো নানান অসুবিধার কথা জানা যায়। যেমন- ওয়াসার সরবরাহ করা পানি সাধারণত সবাই ফুটিয়ে পান করে থাকেন। কিন্তু এ পানি চুলায় সেদ্ধ করার সময় ধাতু নির্মিত পাত্র থেকে অনেক সময় অজৈব দূষণ ঘটে থাকে। আর পানির যে পাইপ ব্যবহার করা হয়, তা থেকেও দূষণের আশঙ্কা থাকে। এ অবস্থায় একটি নামকরা কোম্পানি ‘দূষণমুক্ত পানির পাইপ’ বাজারে এনেছে বলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। ওয়াসার দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, নিজ নিজ বাড়ি বা ভবনের পানির রিজার্ভ ট্যাংকের ব্যাপারে অনেক গ্রাহক ঠিকভাবে খেয়াল করেন না। ভূগর্ভস্থ ট্যাংক তো বটেই, ছাদের উপরে অবস্থিত রিজার্ভারও যথারীতি পরিষ্কার করা না হলে এতে শ্যাওলা পড়াসহ ময়লা আবর্জনা, এমনকি মৃত প্রাণী পর্যন্ত পড়ে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভবনের মালিকের সচেতনতার বিকল্প নেই।

রাজধানীর চাহিদা পূরণের জন্য একাধিক নদী থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানি আনতে হচ্ছে। আগামী দিনে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা ছাড়িয়ে মেঘনা নদীর পানি আনতে হবে ঢাকাবাসীর প্রয়োজনে। এই মহানগরের পাশের ও কাছের নদ-নদী একে একে ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়েছে। এর প্রধান কারণ অবাধে শিল্পবর্জ্য নদীর পানিতে মিশে যাওয়া। এরপরই দায়ী করতে হয় মলমূত্রসহ গার্হস্থ্য আবর্জনাকে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী, নড়াই, দেবধোলাই প্রভৃতি সব নদীই এখন মানুষের অজ্ঞতা ও অপরিণামদর্শিতার পরিণামে দখলের সাথে দূষণেরও মারাত্মক শিকার। যেসব নদীর পানি ঢাকাবাসীকে সরবরাহ করা হচ্ছে কিংবা হবে, আগে সেগুলোর দূষণের সব উৎস বন্ধ করা জরুরি।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি) হাসপাতাল বিভাগের প্রধান বলেছেন, দূষিত পানির দরুন হতে পারে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়, কিডনির রোগ, আলসার, হেপাটাইটিস, ব্লাডপ্রেশার, হাঁপানি, জন্ডিস প্রভৃতি রোগ। বিশুদ্ধ পানি ছাড়া হুমকি থেকে স্বাস্থ্য মুক্ত হবে না। এর আগে বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, ‘পাইপলাইনে আবাসিক গ্রাহকদের যে পানি দেয়া হয়, তার শতকরা ৮২ ভাগেই ই-কোলাই জীবাণু পাওয়া গেছে। গভীর নলকূপের ৩৮ শতাংশ পানিতেও রয়েছে এ জীবাণু এবং আর্সেনিক।’ লিভার এবং আন্ত্রিক প্রদাহের জন্য ই-কোলাইকে দায়ী করা হয়েছে। এদিকে, টিআইবি উল্লেখ করেছে, ‘ঢাকার পানি দূষিত বলে ৯৩ শতাংশ মানুষ তা ফুটিয়ে পান করেন। এ জন্য বছরে গ্যাসের পেছনে ৩৩৪ কোটি টাকা খরচ করতে হয়।’ এ তথ্য প্রকাশ করার পর ওয়াসার এমডি তাকসিম খান দস্তুরমতো সাংবাদিকদের ডেকে বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। এমডি তখন জোরগলায় দাবি করেছিলেন, ওয়াসার পানি শতভাগ বিশুদ্ধ! এর পরিপ্রেক্ষিতে জুরাইনের আলোচিত বাসিন্দা মিজানুর রহমান এমডিকে শরবত খাওয়াতে যান ওয়াসার সদর দফতরে। তবে এমডি তা পান না করে, রনে ভঙ্গ দিয়ে ‘বীরত্বের সাথে’ সরে গিয়েছিলেন। মিজান বলেছেন, ঢাকায় প্রায় সব এলাকার পানির মান খারাপ। ওয়াসার এমডি এতদিন যা বলেছেন, এ জন্য তাকে প্রকাশ্যে মাফ চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে।’ জনমনে জিজ্ঞাসা, ঢাকা নগরীর এমন কোনো এলাকা আছে কি যেখানে পানি শতভাগ দূষণমুক্ত?

পাদটীকা : ক) পত্রিকার কার্টুন : কয়েকজনে মিলে এক ‘ভদ্রলোক’কে এক জগ শরবত খাওয়াতে তার পিছু পিছু দৌড়াচ্ছেন। তাদের কারো হাতে ময়লা ‘শরবতে’র ভাণ্ড; কারো হাতে স্যালাইনের স্ট্যান্ড ও লম্বা নল। গায়ে ‘ওয়াসা’ লেখা কর্তাব্যক্তি প্রাণপণে পালাতে পালাতে বলছেন, ‘আমি শরবত খামু না।’ আর পেছনে ধাওয়া করতে করতে ‘শরবত’-এর জগওয়ালা বলছেন, ‘শরবত খায় না স্যার; পান করে। নেন, ওয়াসার পানির বিশুদ্ধ শরবত। এক গ্লাস পান করুন।’

খ) পত্রিকার চুটকি : স্বামী বকেছেন স্ত্রীকে। মহিলা রাগে ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে বললেন, ‘আইজকা তোমার একদিন কি আমার একদিন। ফাইনাল কতা কইয়া দিলাম; আর এই জানডা রাখুম না। ওয়াসার ‘শরবত’ খাইয়া সুইসাইড কইরা ফালামু।’
গ) রম্য পত্রিকার সাক্ষাৎকার : সাংবাদিক- মানুষ বসকে আর তেল দেবে না। ওয়াসার পানির জিজ্ঞাসা : তা হলে কী দেবে? সাংবাদিক : ওয়াসার বিশুদ্ধ পানি। তখন বিজ্ঞাপন বের হবে; ‘সুপেয় শরবত চান,/ ওয়াসার পানি খান; ওয়াসার পানি;/ মালের মতোন টানি, বিশুদ্ধ তার উপহার,/ ওয়াসার, ওয়াসার।’


আরো সংবাদ