২৬ জুন ২০১৯

কৃষকের ক্ষোভ ও মন্ত্রীর মশকরা

পাকা ধানক্ষেতে আগুন লাগিয়ে কৃষকের অভিনব প্রতিবাদ - ছবি : নয়া দিগন্ত

ধানের দাম কম। আরো অনেক কৃষিপণ্যের মতো ধানের দামও কোনো কোনো সময় কম হতেই পারে। কিন্তু এই সময়ে ধানের দাম কম হওয়া স্বাভাবিক নয়। বলা যায়, চরম অস্বাভাবিক। কারণ, এবার ধানের বাজার দর নেমে গেছে উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক নিচে। এমনটি কখনোই কাম্য হতে পারে না। তাই সারা দেশের কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভের আগুন। এই সময়ে নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দে-উৎসবে মেতে থাকার কথা প্রতিটি কৃষক পরিবারের, তখন উৎপাদন খরচও উঠছে না দেখে হতভম্ব কৃষকেরা। মনের ক্ষোভে তারা সড়কে ধান রেখে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন, কেউ কেউ নিজের পাকা ধান ক্ষেতেই জ্বালিয়ে দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ক্ষোভের আগুন এখন ধানক্ষেত থেকে সম্প্রসারিত হচ্ছে রাজপথেও। তাদের জোর দাবি : নিশ্চিত করতে হবে ধানের ন্যায্যমূল্য। এই দাবিতে সোচ্চার হয়েছে তাদের সন্তানেরা-

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় তথা সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও। তাদের কথা : ‘আমরা ছাত্র, আমরা কৃষকের সন্তান, কৃষকের উৎপাদন খরচের চেয়ে ধানের দাম কম কেন?’- এ স্লোগান নিয়ে ওরা মাঠে নেমেছে। জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে তাদের প্রতিবাদের স্লোগানও- ‘বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে হাঁটছে’, এই বক্তব্য মিথ্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধানের দাম ১০ টাকা কেজি, অথচ চাল ৬০-৮০ টাকা কেজি। তাদের প্রশ্ন, তাহলে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের লাভ কার পকেটে যাচ্ছে? কারা সেই মধ্যস্বত্বভোগী? তাদের খুঁজে বের করতে হবে সরকারকেই। মুখোমুখি করতে হবে শাস্তির। এ ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটগুলো চিহ্নিত করে ভেঙে দিতে হবে। এটা সরকারেরই দায়িত্ব।

আমরা জাতীয়ভাবে এতটাই বেখেয়াল যে, যখনই কোনো কাজ করি তার ভবিষ্যৎ প্রভাব সম্পর্কে খুব কমই ভাবি। তারই একটি উদাহরণ হচ্ছে, ২০১৭ সালের বন্যায় ফসলহানির পর ৮২ লাখ টন চাল আমদানি। সরকারি হিসাব মতে, সে বছরের বন্যায় প্রায় ১০ লাখ টন চাল উৎপাদন কমে যায়। অথচ, বন্যার পর আমরা আমদানি করেছি ৮২ লাখ টন চাল। এই বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি বিরূপ প্রভাব ফেলেছে আজকের কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার ওপর। তখন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা শুল্ক প্রত্যাহার ও ব্যাংকঋণের সুবিধা নিয়ে ওই চাল আমদানি করেন। এই বিপুল পরিমাণ চাল আমদানির ফলে এখন বিপদে পড়েছেন দেশের কোটি কোটি বোরো চাষি। উপকরণের দাম বেড়ে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। কিন্তু বিশেষ সুবিধা নিয়ে আমদানি করা চালের দখলে এখন বাজার। এর ফলে কৃষকেরা হাটবাজারে তাদের উৎপাদিত চাল বিক্রি করতে পারছেন না।

তখন বন্যার পর চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজার সামলাতে সরকার চাল আমদানি উৎসাহিত করেছে। চাল আমদানির ২৮ শতাংশ শুল্ক পর্যায়ক্রমে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। ব্যাংকে বিনা মার্জিনে এলসি খোলার সুযোগও দেয়া হয়। সরকার বলেছিল, চাল আমদানি হবে ১০ লাখ টনের চেয়েও কম। কিন্তু আমদানি করা হয় ৮২ লাখ টন চাল। এই অতিরিক্ত চাল আমদানি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় সরকার। এই অযৌক্তিক কাজ আজ বিপদ ডেকে এনেছে দেশের ধানচাষিদের। এরপরও গত শুক্রবার একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে জানা গেছে, ‘দেশে ২৫-৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত, এ বছরের বাড়তি ধান উৎপাদন ও আমদানি করা চাল বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে, ফলে ধানের দামও কমছে। দেশে এখন চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি চাল রয়েছে। বোরো ধান কাটা শেষের দিকে। কিন্তু কৃষকদের উৎপাদন খরচের প্রায় অর্ধেক দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে সরকারি-বেসরকারিভাবে গত ১০ মাসে দুই লাখ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। আমদানির অপেক্ষায় রয়েছে আরো তিন লাখ ৮০ হাজার টন। কেন এই চাল আমদানি, এর কী ব্যাখ্যা থাকতে পারে?

এ দিকে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও চালকল সমিতির খবরে প্রকাশ, প্রতি কেজি চালের উৎপাদন খরচ ৩৬ টাকা। এর সরকারি সংগ্রহ মূল্য ৩৬ টাকা। আর পাইকারি দর ২৬ টাকা। অপর দিকে, প্রতি মণ ধানে কৃষকের উৎপাদন খরচ ৯৬০ টাকা। সরকারি সংগ্রহ মূল্য ১০৪০ টাকা। বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৬০০ টাকায়। লোকসান মণপ্রতি মোটামুটি ৪৪০ টাকা। ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশঙ্কায় আর কৃষিশ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় ধান তোলায় আগ্রহ নেই কৃষকের। এ নিয়ে কৃষকের ক্ষোভের অন্ত নেই। সরকার কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনছে না। এর ফলে ক্ষমতাসীন মহলের বিশেষ গোষ্ঠী কৃষকদের সহজ শিকারে পরিণত করতে পারছে। তা ছাড়া, গত দুই বছরে আমদানি করা চালে গোডাউনগুলো ভর্তি। ফলে নতুন করে ধান কিনতে পারছেন না মিল মালিকেরাও। দেশে এখন চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি ধান-চাল রয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম দামে ধান বেচতে হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষকের এই দুর্দিনে সহমর্মী হয়ে উঠছে ছাত্রসমাজও। গত ১৫ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয় কৃষকদের দাবির সমর্থনে এক মানববন্ধন। অর্থাৎ ধানের দরের এই অভাবনীয় দর পতনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের শিক্ষিত সন্তানেরাও নেমে এসেছে রাস্তায়। তারা দাবি তুলেছে, ধানসহ সব কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণ, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ভর্তুকি দেয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে আনার জন্য। মানববন্ধন অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, সরকার কৃষকদের পরিবর্তে বড় বড় চোরকে রক্ষায় ব্যস্ত রয়েছে। যাদের উৎপাদিত পণ্য খেয়ে আমরা বেঁচে আছি, তাদের পণ্যের যথার্থ মূল্য আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না। মন্ত্রীরা বলছেন, ধান বেশি হওয়ায় ধানের দাম কমে যাচ্ছে। অথচ দাম ঠিকই বেশি। কৃষকদের উৎপাদন খরচ না ওঠার কারণ এটি নয়। আসলে সিন্ডিকেটের কারণে ধানের দাম কমে যাচ্ছে। চালকল মালিকেরা পরিকল্পিতভাবে দাম কমিয়ে দিয়েছেন। কৃষকদের দাবি আদায় না হলে ছাত্রসমাজ রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। কৃষক ও ছাত্রসমাজ মাঠে নামলে সরকার ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।’

সংগঠনটির আহ্বায়ক হাসান-আল-মামুন বলেন, ‘কৃষক তাদের রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে ধান উৎপাদন করে, এর লাভ যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। এরা মুনাফালোভী। সরকার এদের স্বার্থ রক্ষা করতেই ব্যস্ত। আমরা কৃষকের সন্তান। কৃষকদের ঠকিয়ে দেশের উন্নতি সম্ভব নয়।’ ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, ‘আমি ছাত্র, কৃষক পরিবারের সন্তান। এক মণ ধানের দাম ৪০০-৫০০ টাকা। এই ধান থেকে চাল হয় এক হাজার ২০০ টাকার। এখান থেকে সিন্ডিকেট খেয়ে ফেলছে ৭০০ টাকা। অথচ বীজ উৎপাদন থেকে শুরু করে ধান উৎপাদন পর্যন্ত একজন কৃষককে কত কষ্ট করতে হয় তা আমরা জানি। ন্যায্য দাম না পাওয়ার জন্য দায় সরকারকেই নিতে হবে।’

একইভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও অনুষ্ঠিত হয়েছে মানববন্ধন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে হাঁটছে- এই বক্তব্য আজ মিথ্যে হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত ধানের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা, অথচ আমরা চাল কিনি ৬০ টাকা কেজি। তাহলে লাভ কার পেটে যাচ্ছে, সরকারকেই তা বের করতে হবে।

ভোলার চরফ্যাসনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্লোগান তোলা হয়েছে : ‘আর করব না ধান চাষ, দেখব তোরা কী খাস? কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, গড়ব সোনার বাংলাদেশ।’ তা ছাড়া ধানসহ সব কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণসহ পাঁচ দফা দাবিতে নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। ক্ষেতমজুর সমিতির ব্যানারে জয়পুরহাট শহরে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অংশগ্রহণকারীরা। তারা সড়কে ধান ছিটিয়ে ও ধানে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ধানে আগুন দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন কৃষকেরা। তাদের কষ্টে সহমর্মী হয়ে সিলেট ও ঝালকাটিতে কৃষকের পাকা ধান কেটে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাত্রী হলের সামনে কৃষক আবদুল মতিনের জমির পাকা ধান কেটে দিয়েছেন। ওইদিন বেলা ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত টিলাঘর এলাকার ধানক্ষেতের ধান কাটেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪-১৫ জন শিক্ষার্থী। অপর দিকে ঝালকাটি উপজেলার মগর ইউনিয়নের ডহরপাড়া গ্রামের কৃষক বাচ্চু হাওলাদারের জমির ধান কেটে দেন বরিশালের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শ্রমিক সঙ্কট হওয়ায় এবং ধানের ন্যায্যমূল্য না থাকায় শিক্ষার্থীরা কৃষকের প্রতি সহমর্মী হয়ে এই উদ্যোগ নেন। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় কৃষক আবদুল মালেকের ক্ষেতের ধান কেটে দিয়েছেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ ও লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজসহ বেশ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা এ কাজে অংশ নেন। কৃষক আবদুল মালেক প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে নিজের ধানক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ঘটনাটি দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা তার জমির ধান কেটে দেয়ার উদ্যোগ নেন।

এ দিকে খাদ্যমন্ত্রীর একটি বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। এমনকি সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ফেসবুকে পোস্টে খাদ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি মন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনি কৃষকের সাথে মশকরা করতে পারেন না।’ পোস্টে তিনি আরো লিখেছেন, ‘ক্ষমতা কি মানুষকে অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দেয়? আমার জানা মতে, সুস্থ চোখে অন্ধ হতে সময় লাগে। কিন্তু মাত্র চার মাসে ধানের ভাণ্ডার নওগাঁর গাঁওগেরাম থেকে উঠে আসা খাদ্যমন্ত্রী গাঁয়ের কৃষকের সাথে তার আত্মিক সম্পর্ক ভুলে গেলেন। অন্ধ হয়ে গেলেন এসির ঠাণ্ডা বাতাসে।’

খাদ্যমন্ত্রী কী এমন বললেন, যার ফলে হুইপকে এতটা কঠোরতার সাথে তার সমালোচনায় নামতে হলো? মন্ত্রী বলেছেন, সরকারকে বিব্রত করার জন্য নাকি কৃষকদের দিয়ে ষড়যন্ত্র করে পাকা ধানে আগুন দেয়ানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘নিজের সন্তান বিকলাঙ্গ হলেও কোনো মা-বাবা কখনো গলা টিপে তাকে হত্যা করবে না। কৃষকেরা ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, এ কথা স্বীকার করেও খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ধানের দাম ২০০০ টাকা মণ হলেও একজন কৃষক ধান পোড়ানোর মতো কাজ করবেন না। এটি ‘একটি মহলের পরিকল্পিত ঘটনা’, যাতে সরকারকে বিপর্যস্ত অবস্থায় ফেলা যায়।

খাদ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে কৃষকদের এই মহাসঙ্কটের সমাধানসূত্র আমরা পাচ্ছি না। বরং হুইপের ভাষায় তিনি কার্যত কৃষকদের সাথে এক ধরনের ‘মশকরা’ই করলেন। এর মাধ্যমে তিনি কার্যত কৃষকের কাটা গায়ে নুনের ছিটাই দিলেন। সরকার ‘উন্নয়ন-উন্নয়ন’ বলে একেবারে আত্মহারা। কিন্তু এ দেশের মূল জনগোষ্ঠী কৃষকসমাজের সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে বরাবর বেখেয়াল। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে যে ভাঙাগড়া চলছে, সে ব্যাপারে নেই সরকারের কোনো দায়িত্ববোধ। ফলে গ্রামের মানুষের অপরিকল্পিত জনসঞ্চালন এখন চরমভাবে শহরমুখী, যা শহরজীবনকে করে তুলছে বসবাসের অতিমাত্রায় অনুপযোগী। নানা লোক দেখানো কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার কৃষকদের অনেকটা ভুলিয়ে রাখতে চায়। তেমনি একটি কর্মসূচি হচ্ছে, কৃষকদের ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলতে দেয়া। মনে হয়েছে, এর মাধ্যমে সরকার বোঝাতে চাচ্ছে, কৃষকেরা এখন আগের চেয়ে সচ্ছল এবং তারা ব্যাংকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা জমাতে সক্ষম। অতএব, তাদের একটি ব্যাংক হিসাব না থাকলে কি চলে? কিন্তু এভাবে চালু করা, ১০ লক্ষাধিক ব্যাংক হিসাব এখন অচলপ্রায়, যা ব্যাংকগুলোর জন্য এক ধরনের বোঝা। অনেক কৃষক তাদের ১০ টাকার ব্যাংক হিসাবে লেনদেন করতে অনাগ্রহী। তারা এ হিসাবের মাধ্যমে শুধু সরকারি ভর্তুকি নিতে আসেন; অন্য কোনো লেনদেন করেন না। ফলে ব্যাংকের প্রায় দুই লাখ হিসাব অচল হয়ে পড়েছে।

আসলে প্রাযুক্তিক, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক পবির্তনের দিকগুলো সমাজে সৃষ্টি করছে নানা ঘাত-প্রতিঘাত। এসব দিক পর্যালোচনা করে আমাদের কৃষকদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন বা নেতিবাচক প্রভাব আসতে পারে, সে ব্যাপারে সামগ্রিক বিচার-বিশ্লেষণের জন্য একটি স্থায়ী কমিটি দরকার। তা ছাড়া, সরকার দলীয় স্বার্থ বড় করে দেখার বদলে কৃষকদের স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগী দমনে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ও কঠোর পদক্ষেপ অতীব জরুরি। সেই সাথে লোক দেখানো উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে সরে এসে, কৃষকের সত্যিকারের উপকার বয়ে আনে, এমন পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। লোক দেখানো উন্নয়ন কোনো দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন হতে পারে না। বাংলাদেশের নানা খাতের চালচিত্র এরই প্রমাণ।

 


আরো সংবাদ