১৫ নভেম্বর ২০১৯

কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা ও সমাজের করণীয়

আমাদের দেশে বেশ কিছু কিশোর অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এদের সাধারণ ভাষায় ‘বখাটে’ বলা হয়। এরা অনেক কুকর্ম করে থাকে। এরা নীতিহীন কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির দুর্বৃত্তবাহিনীর সদস্য হিসেবে কাজও করে। এরা বয়স্ক ভদ্র মানুষকে পর্যন্ত হেনস্তা করে। সবচেয়ে বেশি তারা যেটি করে, সেটি হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের নানাভাবে অপদস্থ করে, টিটকারি দেয়, গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করে, কুপ্রস্তাব দেয়। এটি একটি বিরাট সমস্যা। গ্রামাঞ্চলে ছাত্রীদের লেখাপড়া এ কারণে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া, অভিভাবকেরা এসব ফেতনা বা অসুবিধা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এই বখাটেদের উৎপাত। এর ফলে মেয়েরা অনেক ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা নিতে পারছে না। এটি জাতির জন্য একটি বিশাল সমস্যা।

এখন আলোচনা করব এর কারণ কী এবং এ ব্যাপারে সমাজ কী করতে পারে। এ বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমে বলতে হয় পিতা-মাতার দায়িত্বহীনতার কথা। তারা অল্পবয়স্ক থেকে এসব ছেলেকে নৈতিকতা শিক্ষা দেন না। তারা এদের কুরআনে বর্ণিত গল্প শোনান না, রাসূল (সা:)-এর জীবনী শোনান না, মহৎ ব্যক্তিদের জীবনী শোনান না, কুরআন তিলাওয়াত শেখান না, ন্যায়নীতি শিক্ষা দেন না এবং অশ্লীলতার বিরুদ্ধে তাদের মনকে তৈরি করছেন না।

এরপর যে কারণের কথা বলতে হয় সেটি হচ্ছে, স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ইসলাম এবং অন্যান্য ধর্মের শিক্ষা ভালোভাবে না দেয়া। এ বিষয়ে শিক্ষকদের অবহেলাও রয়েছে। আদর্শ শিক্ষক হলে তারা এসব অল্পবয়সী ছেলেকে অনেক আদর করে নৈতিকতা শিক্ষা দিতেন, এমনকি আদর্শ হতে বলতেন; কিন্তু তা না করে তারা বেশির ভাগই এখন ব্যস্ত কোচিং ব্যবসায়। স্কুলে তারা কম সময় দিচ্ছেন। তারা ক্লাসে না থেকে টিচিং রুমে থাকেন বেশি। এর পরের কারণ হিসেবে বলতে হয় সামগ্রিক পরিবেশের কথা। যেমন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনেক ছেলে নানা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেষ্টা করে। আজকালকার স্মার্ট মোবাইল ফোনে এমন কিছু নেই যা নেই। এমন কোনো নগ্নতা নেই, এমন কোনো অশ্লীলতা নেই, যা স্মার্টফোনে পাওয়া যায় না। এর ফলে বখাটেদের যৌন কামনা বৃদ্ধি পায় এবং তাদের যৌনশক্তির অপব্যবহার করার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করে।

কিশোরীরা সাধারণত বখাটে হয় না। কিশোরী বখাটে বলতে গেলে নগণ্য। তবে স্মার্টফোনে তুলে ধরা অশ্লীলতার তারাও দর্শক এবং এ কারণে তাদের নৈতিক শৃঙ্খলা ভেঙে যেতে পারে। ফলে হয়তো কিছু কিশোরী এসব বখাটের কুপ্রস্তাবে সম্মতি দেয়।

এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার উপায় কী? যে কয়েকটি কারণে এ অবস্থা দেখা দিয়েছে, তার আশু ও কার্যকর সমাধান দরকার। অভিভাবকদের দায়িত্বশীল হওয়া দরকার, শিক্ষকদের দায়িত্বশীল হওয়া দরকার, পরিবেশের উন্নয়ন দরকার,স্মার্ট ফোনে যাতে অশ্লীলতা না থাকে তার ব্যবস্থা নিতে হবে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি যেটা দরকার তা হচ্ছে, প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক ওয়ার্ডে, প্রত্যেক ইউনিয়নে, প্রতিটি উপজেলায় এমন কমিটি গঠিত হওয়া, যার দায়িত্ব হবে এসব বখাটের দিকে কড়া নজর রাখা, তাদের সংশোধনের চেষ্টা করা, প্রয়োজনে তাদের শাস্তি দেয়া, প্রয়োজনে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া। এসব কমিটিতে থাকতে পারেন স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার, স্থানীয় মসজিদের ইমাম, নীতিবান স্থানীয় কিছু রাজনীতিবিদ এবং পুলিশের একজন করে প্রতিনিধি। এই কমিটিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং থানা স্বীকৃতি দেবে, যাতে তাদের কাজ আইনগত বৈধতা অর্জন করে।

এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বই সবচেয়ে বেশি; কিন্তু তাদের একা এটা করা সম্ভব হবে না। আমি প্রস্তাব করছি যে, দেশের পুলিশ প্রধান সরকারের সম্মতিক্রমে এসব কমিটি গঠন করার ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করবেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিধিবিধান কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

লেখক : সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার


আরো সংবাদ

আগুন নেভাতে সাহসী ভূমিকা রাখা ১৬ ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দিলো হোটেল কস্তুরি ঘুষ সন্ত্রাস মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বাংলাদেশ-নেপাল যোগাযোগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর পরামর্শ রাষ্ট্রপতির মেহেদির রঙ মুছতে না মুছতেই... সর্বদা আল্লাহর জিকিরে থাকতে হবে : আল্লামা শফী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, তাকে জামিনে মুক্তি দিন রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত ৩০ বছর পর সগিরা হত্যার রহস্য উদঘাটন : চার আসামি গ্রেফতার ট্রেন দুর্ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র থাকলে সরকার খতিয়ে দেখবে : প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীর পরিবারের আয়কর ৭ কোটি ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা না’গঞ্জে আদালত চত্বরে বাদি ও আসামিপক্ষের মারামারি

সকল