১৮ আগস্ট ২০১৯

শ্রীলঙ্কায় সহিংসতার নেপথ্যে

গত ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার গির্জা ও হোটেলসহ কয়েকটি স্থানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় এ পর্যন্ত ৩৫৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত পাঁচ শতাধিক। তামিল টাইগারদের সাথে দীর্ঘ দিন গৃহযুদ্ধের পর এই দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা। গত এক দশকে এবারের ঘটনায় বিদেশী নাগরিক নিহত হয়েছে ৪০ জন, আহত ৩০ জন।

বিশেষ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ করে যে দানবীয় ঘটনা ঘটেছে এটা নজিরবিহীন নারকীয়তা। এটি বহুজাতিক সমাজব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত নিঃসন্দেহে। শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে মুসলিম-খ্রিষ্টান দাঙ্গার কোনো উল্লেখযোগ্য নজির নেই। কিন্তু গরিষ্ঠ বৌদ্ধরা বারবার খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের ওপর সহিংস আক্রমণ চালিয়েছে। সংসারত্যাগী ভিক্ষুরা জীবনভর বিনাপয়সায় খেয়েদেয়ে সহিংস ঘটনায় মেতে উঠছে এবং রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। তারা দা-ছুরি দিয়ে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের পাইকারিভাবে হত্যা করেছে, গেরুয়া পোশাকের অন্তরালে মাদকের ব্যবসায় করছে, অনেকে অস্ত্র ব্যবসায় পর্যন্ত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারে কিছু বৌদ্ধ ভিক্ষুর রোহিঙ্গাদের এবং শ্রীলঙ্কায় মুসলমানদের ওপর আক্রমণ উল্লেখযোগ্য ঘটনা। অথচ শ্রীলঙ্কার মুসলমানেরা কখনো কোনো সহিংসতার জন্ম দেয়ার উদাহরণ নেই।

বোমা হামলাকারীরা যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, প্রমোদ ভবন, বৌদ্ধমন্দির প্রভৃতি টার্গেট করে আক্রমণ চালাত তাহলে এক ধরনের হিসাব-নিকাশ করা যেত। কেন হামলাকারীরা খ্রিস্টোফোবিয়ায় বা খ্রিষ্টানাতঙ্কে আক্রান্ত হলো? এর কারণ কী? তাদের অস্থিরতার কারণ শ্রীলঙ্কার রাজনীতি না বিশ্বরাজনীতি?

তিন দশক ধরে শ্রীলঙ্কার মুসলমানেরা নৃতাত্ত্বিক সহিংসতার ‘বলি’ হয়েছে। এটাকে ‘শ্রীলঙ্কায় মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা’ বলা যায়। তথাপি তারা লঙ্কার উন্নয়ন ও সামাজিক ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে রেখেছে অগ্রণী ভূমিকা। হাতেগোনা কিছু উগ্রপন্থী রয়েছে যাদের অস্তিত্ব সব সম্প্রদায়েই রয়েছে। ২১ এপ্রিলের ঘটনায় ন্যাশনাল তৌহিদ জামাতের কথা মিডিয়া টেনে এনেছে। কিন্তু যারা এখনো বর্ণবাদী হামলার শিকার, তারা হঠাৎ কেন এই হামলা চালাবে? কোনো কারণ ছাড়াই মুসলমানদের আক্রমণ করা হয়, তাদের দোকান ও ঘরবাড়ি লুট করা হয় এমনকি পবিত্র মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ২০১৮ সালে সেন্ট্রাল হিলের ঘটনা এমনই একটি। মাহিন্দা রাজাপাকশে প্রধানমন্ত্রী পদে সম্প্রতি শপথ নেয়ার পর তিনি এ ঘটনার নেতাদের মুক্তি দিয়েছেন।

মাইথ্রিপালা-রনিল সরকার মুসলমান ইস্যু এড়িয়ে চলেন। বাইরের কোনো শক্তি হঠাৎ রাজনৈতিক মঞ্চে আবির্ভূত হয়ে যেন লঙ্কার রাজনীতিকে পরিচালিত ও কলুষিত করছে। বিভক্তি, ঘৃণা এবং নৃতাত্ত্বিক বন্ধনকে ছিন্নভিন্ন করাই যেন মূল উদ্দেশ্য। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ভারত মহাসাগরকে সামরিকীকরণের মহড়া, আরএসএস এবং বিবিএসের উত্থান। আরএসএস হিন্দুবাদী উগ্র সংগঠন আর অন্যটি বৌদ্ধ উগ্রবাদীদের সংগঠন। বৌদ্ধরা মনে করে, শ্রীলঙ্কা শুধু বৌদ্ধদের দেশ এবং এখানে খ্রিষ্টান ও মুসলমানেরা বহিরাগত। সুতরাং এ দেশে তারা থাকতে পারবে না। আরএসএস বলে থাকে, ভারতে থাকতে হলে হিন্দু হয়েই থাকতে হবে। মুসলমানদের সাগরে নিক্ষেপ করা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

প্রশ্ন আসে, বোমা হামলাকারীরা ২১ এপ্রিল সিনামন গ্রান্ড থেকে কিংসবেরিতে আক্রমণ চালাল। কিন্তু ভারতের মালিকানাধীন তাজ সমুদ্র হোটেলে হামলা হলো না। ভারতীয় মিডিয়া শ্রীলঙ্কার মিডিয়ার চেয়ে চৌকসভাবে কভারেজ দিয়েছে এ ঘটনার। ভারতীয় ‘র’ লঙ্কার কর্তৃপক্ষকে দু’সপ্তাহ আগেই নাকি সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে অবহিত করেছে। হামলাকারীরা প্রসিদ্ধ ক্যাথলিক চার্চ আক্রমণ করেছে কিন্তু সন্ত্রাসীদের টার্গেট থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় হাইকমিশন নিরাপদ ছিল। এ অবস্থায় মনে হয় খুবই বিচক্ষণতার সাথে হিসাব-নিকাশ করে সব আক্রমণ সাজানো হয়েছে। এটা কোনো কাঁচা হাতের কাজ হতে পারে না। মাত্র কুড়ি মিনিটেই অপারেশন শেষ। মনে হয়, আক্রমণকারীরা বেশ প্রশিক্ষিত এবং এদের পেছনে চৌকস মাস্টারমাইন্ড রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অঙ্গুলি তোলা হচ্ছে, অর্থাৎ ন্যাশনাল তৌহিদ জামায়াত, তাদের সাথে অনেক ‘বিদেশীর সংশ্লিষ্টতা’ রয়েছে বলে গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ মনে করছে।

আরো প্রশ্ন হলো, সতর্ক করার পরও কেন সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি? তাহলে কোনো ঘটনা ঘটলেও এত প্রাণহানি হতো না। প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা বিশেষ তদন্ত দল গঠন করছেন। প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বলেছেন, তদন্ত টিম করা হবে, কেন সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও অগ্রাহ্য করা হয়েছে, সেটি বের করার জন্য। কলম্বোর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি শুধু অস্থির নয়, উদ্বেগজনকও বটে। বিভিন্ন শক্তিশালী খেলোয়াড় এখন উত্তপ্ত মঞ্চে অবস্থানরত। এর মধ্যে এ ধরনের রক্তবন্যার ঘটনা শুধু উদ্বেগের নয়, সরকারে ও সেনাবাহিনীতে এর প্রতিক্রিয়া মারাত্মক কোনো মোড় নিতে পারে।

মন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘কোনো কোনো ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তা ঘটনা সম্পর্কে জানতেন। কিন্তু কেন যথাসময়ে অ্যাকশন নেয়া হয়নি।...’ এই বার্তা পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সেই সরকারি সতর্কবার্তা স্বয়ং ডিআইজি এপ্রিলের ১১ তারিখ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অফিসার, নিরাপত্তা ডিভিশনসহ অনেককে দিয়েছিলেন। এর বিষয় ছিল, Information of an alleged plan attack বিদেশী ইন্টেলিজেন্স কর্তৃক এই তথ্য সরবরাহ করা হয় মর্মে পত্রে উল্লেখ রয়েছে। তারা জানায়, লঙ্কার ন্যাশনাল তৌহিদ জামায়াত নেতা মোহাম্মদ জাহরান যেকোনো সময় বিখ্যাত ক্যাথলিক চার্চ ও ভারতীয় হাইকমিশনে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালাবে। সরকারি মুখপাত্র রাজিথা সেনারতেœ বলেছেন, বিদেশী ইন্টেলিজেন্স দফায় দফায় আক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছে।

এত লোকজন মারা যাওয়ার পর ঘটনা তদন্ত করে কী হবে? তথ্য তো হাতেই রয়েছে। এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনেক আগেই আঁচ করা হয়েছিল যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়ে লঙ্কায় নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীরা পরস্পরের মুখোমুখি হয়। গেম প্লেয়াররা কোনো ঘটনা ঘটাতে চাইলে ‘পরস্পরকে হত্যার’ বিষয়টি তুলে আনেন। শ্রীলঙ্কা যখন ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে, তখন ধরে নেয়া হয়েছিল মুসলিমবিরোধী মারাত্মক অন্তর্ঘাতমূলক ঘটনা যেকোনো সময় ঘটতে পারে। মুসলমানদের এমন এক স্থানে দাঁড় করানো যাতে তারা সমাজে দিশাহারা হয়ে যায়। টাকার বিনিময়ে অনেক ‘খেলোয়াড়’ পাওয়া যায় সর্বত্র। এসব সন্ত্রাসীর কোনো দেশ, ধর্ম নেই; কোনো মানবতা বা দেশপ্রেম নেই। তারা অর্থের বিনিময়ে যেকোনো জঘন্য কাজ করতে পারে। হোতারা অনেক দূরে বসে এসব অপারেটরকে দিয়ে ঘটনা ঘটাতে পারে এবং অপর কোনো পক্ষকে দায়ী করতে পারে। ইসরাইল শুরু থেকেই ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সবাই জানেন যে, ইসরাইল ও ভারত মোসাদ এবং আরএসএসের সহায়তায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

রীতা কাটজ- পরিচালক, টেরর মনিটরিং সাইট, যারা চরমপন্থীদের ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করেন- জানান যে, আইএস এই আক্রমণে খুশি হয়েছে। তারা মনে করে, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী আক্রমণের একটি জবাব দেয়া সম্ভব হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো দল বা গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার না করলেও হামলার পরপরই রীতা কাটজ এসব কথা ছড়াচ্ছেন। এমনকি লঙ্কার প্রথম কাতারের কলামিস্ট রতœজীবন হোলে ঘটনাটি আইএস ঘটিয়েছে মর্মে পরদিনই মিডিয়ায় বলেছেন। রয়টারের খবরে প্রকাশ, শিক্ষিত অনেক শ্রীলঙ্কান মুসলমান যুবক সিরিয়ার যুদ্ধে আইএসে যোগদান করেছিল। বলা হচ্ছে, সিরিয়ায় পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে আইএস আবার সংগঠিত হয়ে ‘প্রতিশোধ হামলার’ ঘোষণা দিয়েছে। আইএস সাধারণত কোনো হামলা করলে তা স্বীকার করে ঘোষণা দেয়। এদিকে শ্রীলঙ্কার সিআইডি প্রখ্যাত গায়ক অমল পেরেরাকে এ ঘটনার জন্য গ্রেফতার করেছে।

যারা ওয়াকিবহাল, তারা জানেন, গত তিন দশকে ইউরোপে যেসব হামলা হয়েছে তার পেছনে রয়েছে ইসরাইল। পশ্চিমা মিডিয়া এবং আমেরিকা-ইউরোপ-ইসরাইল ওয়ার মেশিন ওসব আক্রমণের জন্য মুসলমানদের দায়ী করেছে। মুসলমানদের কৃষ্টি ও ধর্মীয় বিধানকে বেআইনি ও অবমাননাকর বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো হিজাব বা বোরকা। অথচ খ্রিষ্টান ও ইহুদি মহিলারা মাথায় হিজাব দেয় ধর্মীয় আইন হিসেবে। তা ছাড়া পার্ক বা রাস্তায় নামাজ পড়া, আজান দেয়া, হালাল খাবার, টুপি-দাড়ি এসব নিয়ে কত মানুষ পশ্চিমে প্রতিদিন হেনস্থা হচ্ছেন, তার ইয়ত্তা নেই। মিডিয়ায় সব দোষ দেয়া হয় মুসলমানদের। বলা হয় ‘সন্ত্রাসী’। কিন্তু কিছু দিন পরে দেখা যায় সবই মিডিয়ার কারসাজি, ইসরাইলের মোসাদ নেপথ্য থেকে এসব কাজ বাস্তবায়ন করছে। একইভাবে আরএসএস মুসলমানদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার ভায়োলেন্সের জনক; তারা মুসলমানদের গ্রাম পুড়িয়েছে, মানুষ পুড়িয়েছে, মুসলমানদের হত্যা করেছে, মুসলিম মহিলাদের ধর্ষণ করেছে।

সম্প্রতি চীনের সাথে শ্রীলঙ্কার বিশেষ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে, ভারত মহাসাগরে চীনের সাবমেরিন ও যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করা নিয়ে আমেরিকা বিরোধে জড়িয়েছে। চীনকে বলছে, সাগরে সামরিকীকরণ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, একটি মুসলিম দেশ এখানে ইন্ধন যোগাচ্ছে আর লঙ্কার মুসলমানেরা চীনা অভিযাত্রাকে স্বাগত জানিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে।’ ঘটনা ঘটার সাথে সাথে মুসলমানদের দোষারোপ করা শুরু হয়ে যায়। আদৌ এ বিষয়ে তারা কিছু জানে কিনা, তা হয়তো সময়ই বলে দেবে।

২১ এপ্রিলের ঘটনার পরপরই ইন্টারপোল তদন্ত কাজে সহায়তার জন্য টিম পাঠিয়েছে। এফবিআই তদন্তে সহায়তার জন্য পরদিনই রওনা দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, এ হত্যা যেন মিলিয়ন মানুষের হত্যাযজ্ঞ। তার এই অনুভূতির জন্য তিনি অবশ্যই ধন্যবাদের পাত্র। তবে আফগানিস্তানে নিরপরাধ ১৫০ জন শিশু হাফেজে কুরআন সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে মার্কিন বোমার আঘাতে নিমেষেই নিহিত হন। তখন কোনো সহানুভূতির বার্তা পাঠানো হয়নি এবং কোনো বিদেশী তদন্তকারী দল তদন্ত করে কাউকে দোষারোপ করেনি। বরং ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার পর থেকে আমরা নেতাদের মুখে ‘হোয়াইট সুপ্রিমেসি’র কথা শুনে আসছি।

শ্রীলঙ্কার মুসলমানেরা এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছেন। মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন। তারা দুঃখ প্রকাশ করে। তারা বলেছেন, নিহতরা বিশেষ করে প্রার্থনারত ছিলেন এবং বিদেশী মেহমানরা যারা হোটেলে ছিলেন বলতে গেলে সবাই নিরপরাধ, তাদের প্রাণ দিতে হলো অকারণে। এদিকে, মুসলমানেরা প্রতিবাদ জানালেও ঘটনার তীর তাদের দিকে নিক্ষিপ্ত এবং তারা সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, কখন না জানি বসতবাড়ি, দোকানঘর ও মসজিদে হামলা হয়। এ বিষয়ে নানা প্রতিবেদন এখন প্রকাশিত হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় সিরিজ বোমা বিস্ফোরণে ব্যাপক প্রাণহানির মধ্যেই মসজিদ ও মুসলিমদের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মুসলিমদের মধ্যে নিদারুণ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রাজধানীর উত্তরাঞ্চলের একটি মসজিদে পেট্রলবোমা নিয়ে দুর্বৃত্তরা হামলা করেছে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের দুটি দোকান আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী কবির হাশিম বলেছেন, একজন আত্মঘাতী বোমাবাজকে কয়েক মাস আগে মাওয়ানিলার একটি ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। তীব্র নিন্দা ও শোক প্রকাশ করেছেন শ্রীলঙ্কার অল সিলোন জামিয়াতুল ওলামা (এসিজেইউ) প্রধান রিজভী মুফতি। ভয়াবহ ওই হামলার পর রোববার তিনি শ্রীলঙ্কার আর্চ বিশপ ম্যালকম কার্ডিনাল রঞ্জিতের সাথে দেখা করে গভীর সমবেদনা জানান।

যে দলকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হচ্ছে, তারা শ্রীলঙ্কার অতি নগণ্য একটি সংগঠন। শ্রীলঙ্কার মুসলমানদের সাথে তাদের সম্পর্ক নেই। না তারা কোনো মুসলিম ইস্যু নিয়ে উদ্যোগী নয়, বরং বলা যেতে পারে এরা পথভ্রষ্ট একটি দল।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ




bedava internet