২২ আগস্ট ২০১৯

কারাগারগুলো কবে হবে সংশোধনাগার?

কারাগারগুলো কবে হবে সংশোধনাগার? - ছবি : সংগৃহীত

কল্পনা করুন। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আপনি এমন একটি স্থানে বসবাস করছেন; যে স্থানটিকে আপনি নিজের বলে দাবি করতে পারছেন না। আপনি কখন কার সাথে থাকবেন, সে ব্যাপারে আপনার কোনো পছন্দের সুযোগ নেই। কখন কী খাবেন কিংবা কখন কোথায় যাবেন, তা আপনার ইচ্ছেমতো হবে না। অসুখ-বিসুখে কোথায় কার কাছে চিকিৎসা নেবেন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আপনার নয়, অন্যের। সব সময় আপনার ওপর আঘাত হানছে সন্দেহের তীর। যখন-তখন পড়ছেন দুর্নীতির কালো থাবায়। সবখানে আপনি নানা হুমকির মুখে। আপনাকে যে বা যিনি ভালোবাসেন, এরা সবাই আপনার কাছ থেকে অনেক দূরে। পছন্দের কোনো জনের সান্নিধ্য পেতে চাইলেও পাবেন না। আপনি বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন- এর একটাই কারণ, আপনি একজন কারাবন্দী।

এই পরিবেশে একজন কারাবন্দীকে যদি বেঁচে থাকতে হয়, তবে তার জন্য একটাই পথ : নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলে মানিয়ে চলা। বিশেষত এ বিষয়টি তাদের বেলায় সত্য, যারা দীর্ঘমেয়াদি সাজা ভোগ করছেন। অপরাধ বিজ্ঞানের মতে, সাধারণত একটি কারাগারের প্রায় অর্ধেক বন্দীই দীর্ঘমেয়াদি সাজা ভোগ করে থাকেন। এদের ওপর এই সাজা এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রণীত একটি রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়, কারাজীবন বন্দীদের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে সে বিষয়ে। বন্দীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে সামাজিক মনস্তত্ত্ববিদ ক্র্যাগ হ্যানি প্রণীত এই প্রতিবেদনে তিনি খোলাখুলি বলেছেন : কারাজীবন কাটিয়ে কিছু লোক পুরোপুরি অপরিবর্তিত থাকে অথবা বলা যায় কারাজীবন তাদের জীবনে কোনো দাগ কাটে না। মোটা দাগে তার কথার অর্থ দাঁড়ায়, সাধারণত কারাগারগুলো এখনো সংশোধনাগার হয়ে উঠতে পারেনি। আমাদের এই বাংলাদেশে একটি কথা প্রচলিত আছে : চোর জেল থেকে ফিরে এসে হয় ডাকাত, একজন অপরাধী হয় আরো বড় মাপের অপরাধী। কারণ, কারাগারের পরিবেশ তাকে সংশোধনের সুযোগ দেয় না।

অথচ অপরাধীদের কারাগারে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য থাকে। সেসব লক্ষ্য প্রসঙ্গে পরে আসছি। তার আগে আলোচনার সুবিধার্থে বাংলাদেশের কারাভ্যন্তরে হালনাগাদ পরিবেশচিত্র প্রথমেই জেনে নেয়া যাক। এ কাজটি আপনার-আমার জন্য খুবই সহজ করে দিয়েছে এ দেশের সুপরিচিত জাতীয় দৈনিক ‘মানবজমিন’, গত ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত এর অনুসন্ধানী এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে। বলা বাহুল্য তথ্যবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিতে কারা কর্তৃপক্ষকে সজাগ হওয়ার মতো অনেক তাগিদই রয়েছে। অবশ্য এই তাগিদ তারা কতটুকু আমলে নেবেন, সে ব্যাপারে সন্দেহ পোষণের অবকাশ আছে। কারণ, এর আগেও মাঝে মধ্যে কারাগার পরিস্থিতি নিয়ে অনেক উদ্বেগজনক প্রতিবেদন এ দেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে দেখেছি। কিন্তু তাতে কারা কর্তৃপক্ষের টনক বিন্দুমাত্র নড়েনি। বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার তাগিদবোধ তাদের একেবারেই নেই।

যা হোক, সর্বসাম্প্রতিক প্রতিবেদনটিতে বেরিয়ে এসেছে কারাগারের ভেতরে বন্দীদের কী করে মানবেতর জীবন কাটে, কারাগারে এমন আসামি রয়েছেন যিনি জানেনও না তাদের বিরুদ্ধে মামলা কিসের, কিছু কারাবন্দীর জবানিতে তুলে আনা হয়েছে জেলজীবনের বিড়ম্বনা, গারদে খাবার ছাড়া বন্দীদের মানবেতর জীবনযাপনের কথা, কারাফটকের প্রতিদিনের চিত্রই বা কেমন এবং আছে এক প্রবাসী নারীর জেল অভিজ্ঞতার কথাও। সুদীর্ঘ এই প্রতিবেদনের চুম্বকাংশ ছাড়া পুরোপুরি তুলে ধারার কোনো সুযোগ নেই এ লেখায়। এই প্রতিবেদন সূত্রে পাওয়া কারাগারে বিদ্যমান চিত্রটি কিঞ্চিত তুলে ধরে এ লেখায় কিছু করণীয় নির্দেশের প্রয়াস পাবো।

প্রতিবেদনটির একটি অংশে তুলে ধরা হয়েছে কারাগারের ভেতরে কী করে বন্দীদের দিন কাটে। এতে বলা হয়েছে- ‘বন্দী আধিক্যের কারণে অমানবিক এক পরিবেশ বিরাজ করছে দেশের প্রতিটি কারাগারে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে লকআপ অবস্থায় দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে বন্দীদের। সকালের নাশতার পর কিছুক্ষণের জন্য কারাগারের ভেতরের আঙিনায় যাওয়া যায় পর্যায়ক্রমে। ঘণ্টা দুই মুক্ত হাঁটাচলার সুযোগ মেলে পড়ন্ত বিকেলে। রাতের খাবার সংগ্রহ করে সন্ধ্যার আগেই ফিরতে হয় লকআপে। ৫টার পর ওয়ার্ড বন্ধ করে দেয়া হয়। দিনে তিনবার বসতে হয় গুনতি ফাইলে। সান্ধ্যকালীন ফাইল গুনতির পর দ্রুত খাবারদাবার সেরে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যেই বাধ্যতামূলক শুয়ে পড়তে হয় বিছানায়। অন্যথায় হজম করতে হয় কটুকথা বা মারধর। এক কাত হয়ে ঘুমাতে হয় ইলিশ ফাইলে। বন্দীদের ঝগড়াবিবাদ, বাল্বের তীব্র আলো আর মশার উৎপাতে ঘুম ভেঙে যায় বারবার। বাথরুমে যাতায়াতের পথে একের পা পড়ে অন্যের শরীরে। কারাগারের দিনগুলো হয় নিয়ন্ত্রিত, রাতগুলো দীর্ঘ। নিম্নমানের খাবার, অপরিচ্ছন্ন বাথরুম, চিকিৎসা ও বিনোদনের অভাব, নতুনদের ওপর পুরনোদের এবং হাজতি কয়েদিদের সাথে কারারক্ষীদের দুর্ব্যবহার মিলিয়ে অমানবিক এক জগৎ প্রতিটি কারাগারে। রাজনৈতিক ও অন্যান্য মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত বেশ কয়েকজন পুরুষ ও নারী কারাগার সম্পর্কে এমনটিই জানিয়েছেন।

ব্যবসায়-সংক্রান্ত এক মামলায় কিছু দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পাওয়া এক ব্যবসায়ী জানান, কারাগারের আমদানি ওয়ার্ডেই প্রথম রাত কাটে বন্দীদের। এই ওয়ার্ডে সব সময় বিরাজ করে এক অমানবিক পরিবেশ। আমদানি ওয়ার্ডে নেয়ার পর রাতেই সওদা বসে সেখানে। যারা আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান তাদের ভালো থাকা ও ভালো খাওয়ার টোপ দিয়ে মক্কেল ওয়ার্ডে (কারাবন্দীদের ভাষায়) নেয়া হয়। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালীরা মেডিক্যাল বা নির্দিষ্ট সেলে। মক্কেল ওয়ার্ডে সিটের জন্য সোজা হয়ে শোয়ার জায়গা প্রথম সপ্তাহে পাঁচ হাজার ও পরে প্রতি সপ্তাহে আড়াই হাজার টাকা করে পরিশোধ করতে হয়। অন্য দিকে মেডিক্যালে প্রথম সপ্তাহে ১৫ হাজার ও পরে আলোচনা সাপেক্ষে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। আর যারা সাধারণভাবে কারা কর্তৃপক্ষের মর্জি অনুযায়ী যেকোনো ওয়ার্ডে যায়, তাদের প্রথমবার সিটের জন্য এক হাজার ও ওয়ার্ড পাস হিসেবে ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়। ওই ব্যবসায়ী জানান, কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাজপ্রাপ্ত ও প্রভাবশালী কয়েদি বা সামাজিকভাবে প্রভাবশালীরা ওয়ার্ডগুলোর আনুষ্ঠানিক ইজারা নেন। এর পর নির্দিষ্ট সময় ধরে তারা সাধারণ হাজতিদের কাছ থেকে এ অর্থ আদায় করেন। যারা নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে পারেন না, তাদের সাথে অমানবিক আচরণ করা হয়। বাথরুমের আশপাশে শুতে বাধ্য করার পাশাপাশি তাদের দিয়ে করানো হয় বাথরুম পরিষ্কারসহ নানা ধরনের কায়িক কাজকর্ম...।’

স্থানাভাবের কথা ভেবে সুদীর্ঘ প্রতিবেদনটির এই অংশের বর্ণনা এখানেই থামাতে হলো বাধ্য হয়ে। প্রতিবেদনটির আরেকটি অংশে ৯০ হাজার কারাবন্দীর মানবেতর জীবনযাপনের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে এতে বলা হয়েছেÑ “এক ব্যক্তির ঘুমানোর জায়গায় ঘুমাচ্ছে দুই থেকে তিনজন। শীতের রাত যেন এক-একটি বছর। কাঁথা নেই, কম্বল নেই, মশারি নেই। দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে কাটে প্রতিটি রাত। শৌচাগারে দীর্ঘ লাইন। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়েও অমানবিক দুর্ভোগ। মামলায় হাজিরা দিতে গেলে দিনভর থাকতে হয় না খেয়ে। ‘রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ’ স্লোগান নিয়ে চলা দেশের কারাগারগুলোর চিত্র এটি। কারণ, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দী নিয়ে চলা কারাগারগুলোতে যেন সমস্যা আর সঙ্কটের শেষ নেই। বাড়তি বন্দীর কারণে বাড়তি সমস্যা। অসুস্থ হলেও চিকিৎসা পেতে পোহাতে হয় ঝক্কি। হাসপাতালে নিতে গেলে প্রহর গুনতে হয়। অ্যাম্বুলেন্স সঙ্কট। কারাগারে থাকা বেশির ভাগ বন্দীই সাজাপ্রাপ্ত নন। এরা সত্যিকার অর্থে অপরাধী কি না, তাও প্রমাণ হয়নি। বন্দীদের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক মামলার আসামি। আর একক মামলা হিসেবে মাদকের মামলার আসামি মোট বন্দীর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। অনেকেই বন্দী হয়েছেন গায়েবি মামলায়...।”

গত পরশু নয়া দিগন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের দুর্নীতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পুলিশ সুপার এই কারাগারকে ‘এটি জেলখানা নয়, এটি একটি মডেল’ বলে উল্লেখ করলেও প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল- ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে ফ্রি স্টাইলে দুর্নীতি : বন্দী-স্বজনেরা জিম্মি’। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়- ‘সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও সেই ঘোষণা পৌঁছেনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে। শীর্ষ কারা কর্মকর্তাদের ইন্ধনে পুরনো ফ্রি স্টাইলে এখানে চলছে ব্যাপক অনিয়ম আর দুর্নীতির রামরাজত্ব। অভিযোগ রয়েছে- কারাবন্দী কারো সাথে তাদের স্বজনেরা দেখা করতে গেলেই লাগে টাকা, কথা বলতে গেলে লাগে টাকা। আরামে খেতে ও ঘুমাতে গেলেও লাগে টাকা। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করতে গেলে কারাবন্দী, বন্দীদের স্বজন ও কারাগারসংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে পাওয়া গেছে এসব অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগ সম্পর্কে জেল সুপার নূর-উন-নবী তার কারাগারে প্রকাশ্যে অনিয়ম, দুর্নীতি লুটপাটের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এখন তো মডেল জেলখানা।’

এমনটি বলা হলেও শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারই নয়, গোটা বাংলাদেশের প্রতিটি কারাগারের চিত্র যে কমবেশি একই, সেটি একটি ওপেন সিক্রেট। যদ্দিন কারাগারের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানা অপরাধকর্ম বন্ধ না করা যাবে, তদ্দিন কারাগারকে সংশোধনাগার বানানো কিছুতেই সম্ভব হবে নয়, সে কথা হলফ করে বলা যায়। অতএব, কারাগারে কর্তৃপক্ষীয় পর্যায়ের দুর্নীতি রোধ ছাড়া কারাগারের সংস্কারচিন্তা করে কোনো লাভ নেই।

আমাদের কারাগারগুলোতে এ দুঃখজনক পরিস্থিতি থাকার কথা নয়। কারণ, আমাদের কারাগার পরিচালনার আপ্তবাক্যটি হচ্ছে : ‘রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ’। এই আপ্তবাক্য বা স্লোগান নিয়ে যে কারাগারগুলো চালানোর কথা, সেসব কারাগারে বন্দীদের এ ধরনের জীবনযাপন চলতে পারে না। তা ছাড়া আমরা ভুলে গেছি, এই কারাবন্দীরাও মানুষ, যার আরেক নাম মানব। যেহেতু এরাও মানব, অতএব এদের আছে মানবাধিকার। সরকারকে কারাবন্দীদের মানবাধিকার নিশ্চিত করা অবশ্যকর্তব্য। এরা কখনোই মানবেতর জীবন যাপন করতে পারে না। তা ছাড়া, অপরাধ বিজ্ঞান বলে- কারাগারগুলোর থাকে চারটি প্রধান উদ্দেশ্য। এসব উদ্দেশ্য হচ্ছে : উচিত শাস্তি, কারাবরোধ, অপরাধ করায় নিরুৎসাহিতকরণ এবং পুনর্বাসন ((retribution, incapacitation, deterrence and rehabilitation)। উচিত শাস্তি বা রেট্রিবিউশনের অর্থ কেউ সমাজের বিরুদ্ধে অপরাধ করলে তাকে উচিত শাস্তি দিতে হবে। অপরাধের মাধ্যমে অপরাধীরা সমাজের কাছে যে ঋণী হয়েছে, তা থেকে তাকে মুক্ত করার একটি উপায় হচ্ছে তাদের স্বাধীনভাবে সমাজে চলাফেরা থেকে বঞ্চিত করা। কারাবরোধ বা ইনক্যাপাসিটেশনের অর্থ হচ্ছে, সমাজ থেকে অপরাধীদের বিদূরিত করা; যাতে করে এরা আর নিরপরাধ সাধারণ কোনো মানুষের ক্ষতি করতে না পারে। নিরুৎসাহিতকরণ বা ডিটারেন্সের অর্থ হচ্ছে- এরা যাতে ভবিষ্যতে অপরাধ না করে তা নিরুৎসাহিত করা। আশা করা হয়, কারাগারগুলো মানুষের কাছে এই সতর্কবার্তাটিই পাঠাবে: অপরাধ করলে কারাগারে যেতে হবে। অতএব কারাগার মানুষকে আইন মেনে চলায় উৎসাহিত করবে।

আর সবশেষ উদ্দেশ্য পুনর্বাসন বা রিহেবিলিটেশন হচ্ছে, কারাগার কর্তৃপক্ষ সুপরিকল্পিত এমন কিছু কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে, যার মাধ্যমে অপরাধীদের করে তোলা যায় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নাগরিক।

কারাগার থেকে সে ফিরে আসবে একজন পরিশুদ্ধ মানুষ হিসেবে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে আছে : কারাগারের ভেতর শিক্ষামূলক কর্মসূচি, কর্মদক্ষতা শেখানো এবং মনস্তত্ত্ববিদদের কিংবা সমাজকর্মীদের দিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দান। কিন্তু আমাদের দেশের কারাগারগুলোতে এ চারটি প্রধান উদ্দেশ্যের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছি না। ফলে আমরা আমাদের কারাগারগুলোকে সংশোধনের কেন্দ্র হিসেবে পরিণত করতে পারছি না। তা ছাড়া, এ চারটি লক্ষ্য অর্জনের জন্য কারাগারগুলোতে যে ধরনের পরিবেশ থাকার কথা, আমরা সে পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারিনি।

এ কথাও সত্য, আমাদের কারাগারগুলো যারা চালান সেসব স্টাফ ও কর্মকর্তা কারাবন্দীদের সাথে ভালো আচরণ করেন না। এরা নিজেরাই নানা অপাধের সাথে জড়িত থাকেন। কারাবন্দীদের কাছে এরা শোষক বই কেউ নন। আর এদের নানা দুর্নীতির কারণে কারাবন্দীরা হন সমূহ দুর্ভোগের শিকার। এর বদলে কারাবন্দীরা কারাগারে এসে যদি দেখতে পেতেন- এটি এমন এক জগৎ, যেখানে কেউ বিন্দুমাত্র অপরাধ করছেন না; তখন এই পরিবেশ নিশ্চিতভাবেই বন্দীদের মনে অন্য রকম ছাপ ফেলত। তখন এরা ভাবার সুযোগ পেতেন; অপরাধহীন জগৎ আসলেই সুন্দর! এ জগতে বসবাসই শ্রেয়। কিন্তু এর বদলে বন্দীরা যখন দেখেন কারাগারগুলো অপরাধের এক আড্ডাখানা, তখন এরা অপরাধহীন জগতের কথা ভাবার সুযোগ পান না। আর কারাগার যে একটি সংশোধনাগার, সেটি ভাবার অবকাশ এখানে থাকে না।

সবশেষে বলতে হয়, দেশের কারাগারগুলোকে সংশোধনাগার বানানোর এটিই চরম সময়। এই কারাগারে অপরাধী যেমন আছে, তেমনি আছেন অনেক নিরপরাধ মানুষ। দোষী-নির্দোষ সব কারাবন্দীই আমার-আপনার আপনজন। কারাবন্দী অপরাধী কিংবা মিথ্যে অভিযোগে কারাবন্দী নিরপরাধ মানুষ সবার অধিকার নিশ্চিত করা জাতি হিসেবে আমাদের সবার দায়িত্ব। অথচ আমাদের চোখের সামনে তাদের ওপর যে অন্যায়-অবিচার করা হচ্ছে, তা আর কত দিন চলবে? সে প্রশ্নের জবাব চাওয়ার সময় আজ সত্যিই এসেছে।


আরো সংবাদ

৭৫-এর পরিকল্পনাকারীদের বিচারে জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি রাজধানীতে জেএমবির চার সদস্য গ্রেফতার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে ফিরে না গেলে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানো হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদ সচিবালয়ের আবাসন সমস্যা দূর করতে আরো ৫০০ ফ্যাট কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদে ভেলায় সবজি চাষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে বিনিয়োগ করার আহ্বান অবশেষে রোহিঙ্গারা ফিরছেন আজ থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা ১৫ আগস্ট আর ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা : কাদের কাশ্মির নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে পাকিস্তান

সকল




mp3 indir bedava internet