১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জাতীয় পার্টি : বিরোধী দল না পার্লামেন্টারি গ্রুপ

-

গত ৩০ ডিসেম্বর শেষ হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একচেটিয়া এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বাধীন মহাজোট এক অভাবনীয় মহাবিজয় অর্জন করেছে। এই নির্বাচনে মহাজোট বিজয়ী হয়েছে ২৮৮টি আসনে। অপর দিকে প্রতিপক্ষ জাতীয় ঐক্যজোট বিজয়ী হয়েছে সাতটি আসনে। অন্যরা বিজয়ী হয়েছেন তিনটি আসনে। দলগতভাবে মহাজোটের আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ২৫৯টি আসনে, জাতীয় পার্টি ২২টি আসনে, আর বিএনপি পাঁচটি। বাকিগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বলা যায়, আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মহাবিজয় হয়েছে এই নির্বাচনে। অপর দিকে দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপির মহাপরাজয় ঘটেছে।

নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে সরকারি দল বলছে। ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি এবং বাম গণতান্ত্রিক জোট এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, নতুন নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। ইতোমধ্যেই নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের প্রায় সবাই শপথ নিয়েছেন। কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ীরা এখনো শপথ নেননি। তারা নির্বাচন বাতিল চেয়ে ইসিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তা ছাড়া তারা আদালতেও যাবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এ দিকে আজ সোমবার মন্ত্রিসভার শপথ নেয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচনের পর একটি সমালোচনা হচ্ছে, সরকার বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে বিএনপিকে বিদায় করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিএনপির চেয়ে জাতীয় পার্টিকে বেশি আসনে পাস করিয়ে এনেছে। উদ্দেশ্য বিএনপি যাতে বিরোধী দলের আসনেও বসতে না পারে। আর আওয়ামী লীগ সেই জায়গাটুকু পূরণ করতে চায় জাতীয় পার্টিকে দিয়ে। কিন্তু নতুন সরকারে জাতীয় পার্টি পূর্ববর্তী সংসদের মেয়াদের মতোই সরকারে ও বিরোধী দলে থেকে গাছেও খাবে ও তলায়ও কুড়াবে কি না, সে বিষয়টি এখনো বোঝা যায়নি। তবে গত ৩ জানুয়ারি সংসদ সচিবালয়ে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, এবার জাতীয় পার্টি সরকারে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, তারা মহাজোটের হয়ে নির্বাচন করেছেন বলে দলের বেশির ভাগ এমপিই সরকারে থাকতে চান।

তবে এ ব্যাপারে মহাজোট নেত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সে সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। মশিউর রহমান রাঙ্গার এ বক্তব্য থেকে এটুকু স্পষ্ট, জাতীয় পার্টি সরকারে না বিরোধী দলে থাকবে কিংবা সরকারে ও বিরোধী দলে থাকবে তা কার্যত ঠিক করে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অন্য কেউ নয়।

খবরে প্রকাশ, জাতীয় পার্টি নয়া সরকারের অংশ হতে চায়, এ সিদ্ধান্ত সংসদীয় দলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। তারা চায় না বিরোধী দলের আসনে বসতে। জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, যেহেতু তারা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের হয়ে নির্বাচন করেছেন তাই তারা সরকারে যোগ দিতে চান। কে বিরোধী দলে বসবে তা তাদের ভাবার বিষয় নয়। অপর দিকে খবরে প্রকাশ, ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী প্রার্থীরা শপথ নিচ্ছেন না। কারণ তারা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং নির্বাচন বাতিল চেয়ে এরই মধ্যে তারা নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এমন অবস্থায় জাতীয় পার্টি যদি সরকারে যোগ দিয়ে বিরোধী দলে না থাকে এবং ঐক্যজোটের প্রার্থীরা যদি শপথ না নেন, তবে কি বাংলাদেশের একাদশ সংসদ বিরোধী দলবিহীন থাকবে?

সে প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবেই আসে। তখন হয়তো প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পার্টিকে বলবেন বিরোধী দলের আসনে বসতে। তাহলে হয়তো জাতীয় পার্টির আবদার থাকবে, বিগত সংসদের মতো তাদেরকে সরকারে ও বিরোধী দলে যুগপৎভাবে রাখা হোক। এ অবস্থায় আমরা হয়তো এবারো পাবো বিগত সংসদের মতো জগাখিচুড়ি ধরনের একটি বিরোধী দল, যা সরকারের কথায় উঠবে ও বসবে। তবে জি এম কাদের একটি কথা বলেছেন, ‘আমরা যদি এখন মহাজোট ছেড়ে বিরোধী দলে বসি তবে আমার সন্দেহ হয়- জনগণ আমাদের বিরোধী দল হিসেবে মেনে নেবে কি না।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে একযোগে নির্বাচন করেছে। তাই আমরা এখন সরকারেই থাকতে চাই।’

এ দিকে গত শনিবারের কাগজে খবর বেরিয়েছে, নতুন সংসদে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে থাকবে। আর দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হবেন বিরোধী দলের নেতা। গত শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এরশাদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, তার দলের বেশির ভাগ সংসদ সদস্যই এর আগের দিন সরকারে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে নতুন সংসদে জাতীয় পার্টির অবস্থান কী হবে তা এখনো স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে জাতীয় পার্টির নেতারা যে যা-ই বলুন, জাতীয় পার্টির অবস্থান নির্ধারণের বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপরই। জাতীয় পার্টি তার নিজস্ব সিদ্ধান্তে নিজস্ব পথচিত্র ধরে পথচলার মতো অবস্থানে মোটেও ছিল না, এখনো নেই।

এবারের সংসদে কোন দল হবে বিরোধী দল, সে প্রসঙ্গে আমাদের আরেকটি বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হয়। অনেকেরই হয়তো মনে আছে, ৪৫ বছর আগের বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদে কোনো দলকেই সরকারিভাবে বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। কারণ তখন সংসদে বিরোধী সদস্যদের তেমন জোরালো কোনো উপস্থিতি ছিল না। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনী ফল দেখে মনে হয়, এবারো বুঝি সেই ৪৫ বছর আগের পরিস্থিতিরই সৃষ্টি হয়েছে। মনে হয়, সেই সংসদের মতো বিরোধী দল সৃষ্টির সুযোগ বুঝি এবারো হাতছাড়া হয়ে যাবে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের দখলে আছে সংসদের ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি। আওয়ামী লীগের একাই ২৫৯টি।

মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির ২২টি। ঐক্যজোটের সাতটি। স্মরণ করা যেতে পারে, ১৯৭৩ সালের ১২ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম পার্লামেন্টে মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে বলেছিলেন, জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে কোনো দলে ২৫ জন সংসদ সদস্য থাকতে হবে। কিন্তু এবার জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সংখ্যা ২২ জন। যদি তাই হয় তবে জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হওয়ার যোগ্যতা হারাবে। সরকারি দলের বাইরে আর কোনো দলও এই সুযোগ পাবে না। তবে কি আগামী সংসদ বিরোধীবিহীন থাকবে?

উল্লেখ্য প্রথম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। সেই সংসদে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছিল ২৯৩টি আসনে। জাসদ, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, ন্যাপ ও অন্যরা সবাই মিলে পেয়েছিল মাত্র সাতটি আসন। এরা সবাই জাতীয় লীগের নেতা আতাউর রহমানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দাবি জানিয়েছিলেন, আতাউর রহমানকে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হোক। বিরোধী দলের স্বীকৃতি প্রশ্নে এক বিতর্কে অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, বিরোধী দলের স্বীকৃতি পেতে হলে কমপক্ষে ২৫ জন এমপির সমর্থন লাগবে। একটি দলের এমপির সংখ্যা যদি ২৫-এর চেয়ে কম হয় এবং সদস্য সংখ্যা যদি ১০ জনের চেয়ে কম না হয় তবে এ দলটিকে বলা যেতে পারে পার্লামেন্টারি গ্রুপ, পার্লামেন্টারি পার্টি নয়।

বঙ্গবন্ধু তার ভাষণের মাধ্যমে এই যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সে কথাটির উল্লেখ আছে খন্দকার আবদুল হকের লেখা বই ‘পার্লামেন্টারি প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রসিজিউর’-এ। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ সচিবালয় এ বইটি প্রকাশ করে। যদি বঙ্গবন্ধুর এই নির্দেশনা বিবেচনায় নেয়া হয়, তবে জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল বলার সুযোগ থাকবে না। দলটিকে বলতে হবে পার্লামেন্টারি গ্রুপ। এমনকি জাতীয় পার্টিকে পার্লামেন্টারি পার্টিও বলা যাবে না। এমন অবস্থায় একাদশ জাতীয় সংসদটি হবে বিরোধী দলবিহীন একটি সংসদ।

এ দিকে গত বুধবার গণভবনে গিয়েছিলেন দেশের ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে তার এই নির্বাচনী বিজয়ের জন্য। সেখানে তিনি একটি যথার্থ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য হচ্ছে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল। আর প্রধানমন্ত্রী গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি শক্তিশালী বিরোধী দল কামনা করেছিলেন। কিন্তু তিনি নামোল্লেখ না করে বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, একটি দল তা নষ্ট করে দিলো নির্বাচনে মনোনয়ন-বাণিজ্য করে।

গণতন্ত্রের জন্য একটি দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য তেমনি অপরিহার্যভাবে অভিনন্দনযোগ্য ও প্রশংসার দাবিদার। সেই সাথে এটিও বলা দরকার, তার সরকার বা দল কিন্তু অস্বীকার করতে পারবে না, বিগত পাঁচ বছরে বিরোধী দলমতের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দমনপীড়ন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নানা কৌশলে তার সরকার বিরোধী দলকে নির্মূল করার কাজটিই করেছে। আর তার সরকার এ কাজটি করেছে, যাতে দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি কখনোই না দাঁড়াতে পারে। সে জন্য অভিযোগ উঠতে পেরেছে, এ দলটির নেতাকর্মীদের ওপর চলেছে হয়রানিমূলক নানা মামলা-হামলা।

এমনকি হয়েছে অনেক গায়েবি মামলাও। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনটি যেভাবে সমাপ্ত হলো তা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আর তা করতে গিয়ে প্রশাসন ও পুলিশও আজ নানা প্রশ্নের মুখোমুখি। নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা তো সীমাহীন। নির্বাচন কমিশন কি বিরোধী দলের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করেনি? মনোনয়ন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে তফসিল ঘোষণার পরও চলেছে নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনের নানামাত্রিক বৈষম্যমূলক আচরণ। সব দলের জন্য কি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করেছিল এই নির্বাচন কমিশন? নির্বাচন কমিশনের চোখের সামনে তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে পুলিশ নাশকতার গায়েবি মামলা করে বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়ে কি এই নির্বাচন চলেনি? এসব বন্ধে নির্বাচন কমিশনের কী ভূমিকা ছিল দেশবাসী তা জানে। এর পরও নির্বাচন কমিশনের চোখে এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু একটি নির্বাচন। তা ছাড়া এসব পরিস্থিতি কি এটি সমর্থন করে যে, সরকার পক্ষ চেয়েছিল এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল বেরিয়ে আসুক।

নির্বাচনের ফলাফলের প্যাটার্ন দেখলে অবাক বিস্ময়ে প্রশ্ন জাগে- কতটা সুষ্ঠু ছিল এই নির্বাচন। সরকারি দল কতটা আন্তরিক ছিল, এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল বেরিয়ে আসুক? একটি প্রথম শ্রেণীর ইংরেজি দৈনিক বরিশাল জেলার নির্বাচনী ফলাফলের যে বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে, তা এ ক্ষেত্রে খুবই প্রাসঙ্গিক। বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের ভোটিং প্যাটার্ন তুলে ধরে এ দৈনিকটি গত বৃহস্পতিবার একটি শীর্ষ খবর চাপে। এতে বলা হয়- ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের নির্বাচন একটি ‘ইনট্রিগুয়িং ভোটিং বিহেভিয়ার’ উদঘাটন করেছে। এ জেলার এসব আসনে বিএনপি প্রার্থীরা শুধু ব্যাপকভাবে পরাজিত হননি, এমনকি তাদের দু’জন প্রার্থী অনেক ভোটকেন্দ্রে একটি ভোটও পাননি।

পত্রিকাটি জানিয়েছে- গৌরনদী ও আগৈলঝরা নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬টিতে একটি ভোটও পাননি। ৯টি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন একটি করে ভোট। বিভিন্ন রিটার্নিং অফিসার স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শিট বিশ্লেষণ করে পত্রিকাটি এসব তথ্য জানতে পেরেছে। দৈনিকটি আরো জানিয়েছে, বিএনপি নেতা সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন ৪০টি ভোটকেন্দ্রে পেয়েছেন ১০টির চেয়ে কম করে ভোট। এই আসনের ১১৫টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ২১১৫০৭টি ভোট। এর মধ্যে স্বপন পেয়েছেন মাত্র ১৩০৫ ভোট। এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী পেয়েছেন তার চেয়ে বেশি। তিনি পেয়েছেন ১৪১৫ ভোট। অপর দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ পেয়েছেন ২০৫৫০২ ভোট। তিনি সাতটি কেন্দ্রে পেয়েছেন সবগুলো ভোট। তার প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা একটি ভোটও পাননি।

জহির উদ্দিন স্বপন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘ভোটের এই ফল প্রমাণ করে এটি হচ্ছে একটি জালিয়াতির ভোট। অন্যান্য আসনের নির্বাচনী ফলাফলও একই।’ অপর দিকে বরিশাল-১ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হারিসুল ইসলাম হারিস বলেছেন, ‘মানুষ সমর্থন জানিয়েছে এ সরকারের করা উন্নয়নকর্মের প্রতি। সেজন্য এরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে।’ কিছু সেন্টারে স্বপনের কেনো ভোট না পাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘মানুষ স্বপনকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তিনি প্রচারও চালাননি।’

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের নির্বাচনে হাসনাত আবদুল্লাহকে ১৪ হাজার ভোটে হারিয়েছিলেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি পেয়েছিলেন ৮১৭৯১ ভোট। আর হাসনাত আবদুল্লাহ পেয়েছিলেন ৬৭৭৬০ ভোট। ২০০৮ সালেও বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচন ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তখন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার মো: ইউনুস পান ৯৮২৪৫ ভোট। আর বিএনপি প্রার্থী আবদুস সোবহান পেয়েছিলেন ৭০৯৬৯ ভোট।

সদ্যসমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উজিরপুর ও বানারিপাড়া নিয়ে গঠিত বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহ আলম বিজয়ী হয়েছেন ২১২৩৪৪ ভোট পেয়ে। তার বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ পেয়ছেন ১১১৩৭ ভোট। তিনি ১৩৬টি কেন্দ্রের মধ্যে চারটিতে কোনো ভোট পাননি। ছয়টিতে পেয়েছেন ১০ ভোটেরও কম ভোট।

ভোটিং বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, এই জেলার ছয়টি আসনে ভোট পড়েছে মোট ১৩ লাখ ৩৪ হাজার। এর ৮২ শতাংশ পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বিএনপি পেয়েছে ৯ শতাংশ, আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ৫.৪০ শতাংশ।

এবারের নির্বাচনে এ ধরনের ভোটিং প্যাটার্ন নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এর মধ্যে একটি প্রশ্ন হচ্ছে, এই ভোটের ফল কি প্রমাণ করে আওয়ামী কামনা করেছিল, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল বেরিয়ে আসুক?


আরো সংবাদ

আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনালে জেলা জজ নিয়োগ দেয়া হবে : আইনমন্ত্রী ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপালের জামিন নাকচ খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে মৎস্যজীবী দলের মানববন্ধন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ অধিক সার ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর : কৃষি মন্ত্রী যথাযথ সেবা পেলে মানুষ কর দিতে উৎসাহিত হবে : এলজিআরডি মন্ত্রী নিরাপদ অভিবাসনের লক্ষ্য পূরণই আমাদের অঙ্গীকার প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা আইন ২০১৩ বাস্তবায়নের আবেদন সাইটসের্ভাসের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আ’লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন করার নির্দেশ হাসপাতালে নবজাতক কন্যা ফেলে বাবা-মা উধাও ঢাবিতে ‘ইয়ুথ ইমপ্যাক্ট : আনলিশিং দ্য পাওয়ার অব ইয়ুথ’ শীর্ষক সেমিনার শুরু

সকল